গুরুত্ব কতটা অ্যাপল-স্যামসাং নতুন রায়ের

0
254
গুরুত্ব কতটা অ্যাপল-স্যামসাং নতুন রায়ের

মুত্তাকিন অভি™

আমি Arts নিয়ে পড়েছি কিন্তু সায়েন্স নিয়ে ব্যাপক / সিরাম কিউরিসিটি আছে । তাই বিজ্ঞান অনেক ভালবাসি । পোস্টে কোন সমস্যা বা অভিমত জানাতে ভুলবেন না । আর টিপির সঙ্গেই থাকুন ভালো ভালো পোস্ট উপভোগ করুন । ধন্যবাদ ।
গুরুত্ব কতটা অ্যাপল-স্যামসাং নতুন রায়ের

২০১২ সালের মতো এবারও জয়ী অ্যাপল। তবে আগেরবারের মতো ১০৫ কোটি ডলার নয়, ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্যামসাংয়ের কাছ মার্কিন টেকজায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি পাবে ১১.৯৬ কোটি ডলার। কেবল আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে এবার অল্পের উপর দিয়েই বেঁচে গেছে অ্যাপলের ভাষায় ‘কোরিয়ান কপিক্যাট’।

কিন্তু এবারের রায়ের ব্যপ্তিটা শুধু ডলারের হিসেবে মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জীবদ্দশায় প্রয়োজনে অ্যান্ড্রয়েডের বিরুদ্ধে ‘থার্মোনিউক্লিয়ার’ যুদ্ধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন অ্যাপল গুরু স্টিভ জবস।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ম্যাশএবলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমশই যেন গতি হারাচ্ছে সেই যুদ্ধ।

২০১২ সালে অ্যাপল বনাম স্যামসাং লড়াইকে বলা হচ্ছিল ‘ট্রায়াল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০৫ কোটি ডলার জরিমানার রায় জিতেছিল অ্যাপল। পরে আপিলে জরিমানার পরিমাণটা কমে আসলেও প্রযুক্তিজগতের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল ওই রায়। রায়ের আগ থেকে পরেও বেশ কিছুদিন সংবাদমাধ্যম, প্রযুক্তিবোদ্ধা আর সাধারণ ব্যবহারকারীদের আলোচনার ইস্যু ছিল অ্যাপল বনাম স্যামসাংয়ের ওই লড়াই।

কিন্তু ২ বছরের ব্যবধানে সেই দৃশ্যপট যেন পাল্টে গেছে অনেকটাই। আদালতে বারবার একই তর্কবিতর্ক অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষেত্রবিশেষে। আর লড়াইয়ের মোড় যে ঘুরে যাচ্ছে তার প্রমাণ অ্যাপলের বিরুদ্ধে স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক জয়। পেটেন্ট করা ডিজাইন অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অ্যাপলের বিরুদ্ধে জরিমানা হিসেবে স্যামসাং জিতেছে দেড় লাখ ডলার। অংকের হিসেবে দেড় লাখ ডলার হয়ত একশ’ কোটি ডলারের কাছে কিছুই নয়, তবে স্যামসাং যে ক্রমশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে তার প্রমাণ ওই রায়।

অ্যাপল বনাম স্যামসাংয়ের লড়াই স্তিমিত হয়ে আসার বড় একটা কারণ অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ক্রমাগত বিবর্তন।

২০০১ সালে অ্যাপল যখন প্রথম মামলা করা শুরু করে তখন বাজারের স্মার্টফোনগুলো চলছিল অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ জেলি বিন অপারেটিং সিস্টেমে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ আইসক্রিম স্যান্ডউইচ ওএস দিয়ে আইওএসের সঙ্গে অনেকখানি দূরত্ব সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে গুগল। জেলিবিনে এসে সেই দূরত্ব বেড়েছে আরও। আইওএসের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করে ক্রমশ নিজস্ব ফিচার দিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম।

সেই দূরত্বটা এখন এতটাই বেশি অ্যান্ড্রয়েড জেলিবিন বা কিটক্যাট ওএসগুলোকে আইওএসের সরাসরি নকল বললে ভুল হবে সেটা।  

তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বশেষ রায়টির গুরুত্ব অন্যাখানে। স্মার্টফোনের ডিজাইন, ফিচার সবকিছু মিলিয়ে নিজের পছন্দসই একটা স্মার্টফোন কেনার জন্য একজন ক্রেতার স্বাধীনতাই যেন বাড়ল ওই রায়ে। বারবার মামলায় একাধিক স্যামসাং ডিভাইস নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে অ্যাপল। ক্ষতিপূরণ মিললেও সাড়া মেলেনি সেই দাবিতে।

আইফোন ৫এস আর গ্যালাক্সি এস৫, বর্তমান বাজারে দুই টেক জায়ান্টের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। ডিভাইস দুটির শেকড় হয়ত একই, কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির আর বিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি আলাদা দুটি ডিভাইসে পরিণত হয়েছে ৫এস এবং জিএস৫। বারবার চেষ্টা করেও স্যামসাং ডিভাইস নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ অ্যাপল, ফলে ক্রেতাদেরও বাধ্য হয়ে কিনতে হবে না একই প্রতিষ্ঠানের পণ্য।

প্রযুক্তি বাজারে ভবিষ্যতে কোনদিকে মোড় নেবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় অ্যাপল বনাম স্যামসাংয়ের আইনি লড়াই নিয়ে নিশ্চিত হয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা। হয়তো ধীরে ধীরে প্রযুক্তিপ্রেমীরা ভুলে যাবেন এই দু্ই টেক জায়ান্টের চলতি লড়াইয়ের কথা। হয়তোবা আবারও পুরনো দম্ভ আর উত্তেজনা নিয়ে ফিরে আসবে স্তিমিত প্রায় ‘ট্রায়াল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। তবে আপাতত একটা জিনিস পরিষ্কার, অ্যাপলের আক্রমণে টলছে না স্যামসাং। উল্টো প্রযুক্তিজগতে নিজেদের অবস্থানটা শক্ত করছে প্রতিদিন। প্রযুক্তির লাগামছাড়া অগ্রগতির সঙ্গে যে পেটেন্টগুলো নিয়ে এত হইচই, একের পর এক মামলা; সেই পেটেন্টগুলোর কথাই হয়ত প্রযুক্তিজগৎ ভুলে যাবে অদূর ভবিষ্যতে।

বি : দ্র: কমেন্ট করতে ভুলবেন না

c8kPr ৫০ বছরে বেসিক প্রোগ্রামিং গুরুত্ব কতটা অ্যাপল-স্যামসাং নতুন রায়ের

t5 ৫০ বছরে বেসিক প্রোগ্রামিং গুরুত্ব কতটা অ্যাপল-স্যামসাং নতুন রায়ের

Like My FB Page 4 FB Updates Plz

আমার ফেসবুক

Google +

আমাকে ফলো করুন

একটি উত্তর ত্যাগ