ক্লায়েন্টের যে মিথ্যে থেকে ফ্রিল্যান্সারের সাবধান থাকা প্রয়োজন

8
361

 ক্লায়েন্টের যে মিথ্যে থেকে ফ্রিল্যান্সারের সাবধান থাকা প্রয়োজন

ফ্রিল্যান্সিং একধরনের ব্যবসা। আর ব্যবসায় ক্রেতা-বিক্রেতা একধরনের ঠকানোর প্রতিযোগিতা সবসময়ই চলে। দুজনেই দুজনের কাছে লাভবান হতে চেষ্টা করেন। কখনো কখনো এর মাত্রা এমন পর্যায়ে যায় যেখানে একজন অপরজনকে ঠগ মনে করেন।
দুঃখজনকভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজেও এটা ঘটতে পারে। ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারকে ঠকাতে পারেন। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার যা করার থাকে তা হচ্ছে সেবিষয়ে সাবধান থাকা। ক্লায়েন্ট ঠিক কিভাবে ঠকাতে পারেন, কি বলতে পারেন সেটা যদি জানা থাকে তাহলে সহজেই সাবধান হওয়া যায়।
ক্লায়েন্ট যে মিথ্যেগুলি সাধারনত বলে থাকেন সেগুলি জেনে নিন।
১.  আমি সন্তুষ্ট হলে টাকা দেবঃ
মনে হতে পারে কথাটি যুক্তিসংগত। ভালভাবে ভেবে দেখুন, আপনার পাওনা নির্ভর করছে তার সন্তুষ্টির ওপর, আপনার পরিশ্রম বা কাজের ওপর না। যদি আপনাকে ঠকানো ইচ্ছে থাকে তাহলে এটা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। আপনাকে আগেই বলা হয়েছে সন্তুষ্ট না হলে টাকা দেব না, কাজেই আমি সন্তুষ্ট হলাম না।
যে কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আইনগত বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান একটি হচ্ছে, অনির্ধারিত বিষয়ে চুক্তি হয় না। সন্তুষ্টি একটি অনির্ধারিত বিষয়। এর কোন মাপকাঠি নেই। কাজেই এধরনের চুক্তি হতে পারে না। এধরনের ক্লায়েন্ট থেকে সাবধান থাকুন।
২.  ভবিষ্যতে আরো অনেক কাজ করাবঃ
আপনি যখন কাজের বিনিময়ে টাকা আশা করেন তখন প্রতিটি কাজের জন্যই আনুপাতিক হারে টাকা পাবেন এটাই স্বাভবিক। বর্তমানে কাজের জন্য টাকা নেবেন না ভবিষ্যতের কাজের আশায়, তাহলে সাধারন প্রবাদটি মনে করুন। আগামীকাল সবসময়ই আগামীকাল। তিনি আপনার সামনে মুলো ঝুলিয়ে কাজ করাতে চেষ্টা করছেন।
৩. চেক পাঠানো হয়েছেঃ
ক্লায়েন্টের সাথে সামনা সামনি যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকলে একটি সাধারন সমস্যা হচ্ছে  অর্থ গ্রহন করা। অনলাইনে লেনদেন সাথেসাথে যাচাই করা যায়, অন্য পদ্ধতি যায় না। তেমনই একটি উদাহরন, আপনার নামে চেক পাঠানো হয়েছে।
তিনি চেক পাঠাননি একথা আপনি প্রমান করতে পারেন না, তিনি সেই সুযোগে বলতে পারেন মাঝপথে চেকের কিছু হয়েছে। যাই হোক না কেন, আপনার টাকা প্রয়োজন, ব্যাখায় কিছু যায় আসে না। অর্থপ্রদানের বিষয়ে নিশ্চিত পদ্ধতির বাইরে কিছু শোনা গেলে সন্দেহ করাই ভাল।
৪.  এরফলে আপনার প্রচার বাড়বেঃ
কাজ করলে প্রচার বাড়ে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার প্রচার প্রয়োজন নাকি টাকা। কখনো কখনো প্রচারের জন্য কাজ করতে হয় একথা ঠিক, সেই কারনে টাকা ছাড়া কাজ করে যেতে পারেন না।
বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে অনেক ক্লায়েন্ট একে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে বিনাটাকায় কাজ করিয়ে নেন।
৫. অন্যরা কম টাকায় কাজ করেঃ
ঠকানোর একটি সহজ পদ্ধতি। ক্রেতা যেমন দোকানে গিয়ে বলেন অমুক যায়গায় কম টাকায় বিক্রি করে ঠিক তেমনই। বরং তাকেই উল্টো প্রশ্ন করুন, যদি সেখানে কম টাকায় পাওয়া যায় তাহলে সেখানে না গিয়ে এখানে এলেন কেন ?
ফ্রিল্যান্সারের কাজের মুল্য অনেককিছুর ওপর নির্ভর করে। একজন অনভিজ্ঞ তার কাজের জন্য কম পারিশ্রমিক নিতেই পারেন। তিনি যদি কমমুল্যের কাজ চান তাহলে কাজটি অনভিজ্ঞকে দিয়ে করাতে হবে। আরেকজন কম টাকায় কাজ করে এই কারনে আপনাকেও কম নিতে হবে একথা শুনলে জানবেন তিনি আপনাকে ঠকাচ্ছেন।
৬. এটা সহজ কাজঃ
ফ্রিল্যান্সারকে ঠকানোর একটি সহজ পদ্ধতি কাজকে ছোট করে দেখানো। খুব সহজে, অল্প সময়ে করা যাবে, চাহিদা সামান্য ইত্যাদি বলা। বাস্তবে কাজ করার সময় দেখা যায় সেখানে অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এবং তিনিও সেই অল্পে সন্তুষ্ট নন।
কোন কাজ সহজ নাকি জটিল, অল্প সময়ের নাকি বেশি সময়ের সেটা বিচারের দায়িত্ব ক্লায়েন্টের ওপর ছেড়ে দেবেন না। নিজে পুরো কাজটি বুঝে নিজেই ঠিক করুন।
যারা দির্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন (অনলাইন অথবা স্থানীয়) তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে ঠকার নানাবিধ অভিজ্ঞতা। ঠকতে ঠকতে একসময় তারা বুঝে যান কিভাবে না ঠকে কাজ করা যায়।
আপনার যদি আগেই জানা থাকে আপনাকে ঠকানোর চেষ্টা করা হবে তাহলে আপনি ঠকার অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন |

 

Post a Comment

 

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

8 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − 9 =