আজ জিতলেই স্বপ্নের দরজা!

7
297

আজ জিতলেই স্বপ্নের দরজা সাইদুজ্জামান

দুই দলই যেন অচেনা ভুবনে! এশিয়া কাপটা যে বাংলাদেশের কাছে আজন্মই দুঃসময়, সে দলটির সামনে এখন ফাইনালের হাতছানি। আর এশিয়া কাপের অন্তত একটি ট্রফি নিয়ম করে জেতা শ্রীলঙ্কার জন্য আজকেরটি স্রেফ একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিরাট কোহলির ব্যাটে পাকিস্তানি বোলারদের সঙ্গে যে উড়ে গেছে লঙ্কানদের ফাইনালের সবটুকু সম্ভাবনাও।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মাহেলা জয়াবর্ধনে বরাবরই সুশীল এবং সুবক্তা, ‘সবাই বলে আমাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ খারাপ খেলে। কিন্তু আমরা দুবার ওদের কাছে হেরেছি। এ মাঠেও একবার হেরেছি।’ ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সে জয়ের পর আবারও শ্রীলঙ্কাই ফাইনালে ওঠার একমাত্র সিঁড়ি বাংলাদেশের সামনে। তবে সে সময়ের সঙ্গে এ সময়ের যতটা না মিল, তার চেয়ে অমিলটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে বুকভরা আশার হাত ধরাধরি করে আছে পা হড়কানোর আশঙ্কা। প্রত্যাশার চাপটা যে সেদিন এমনভাবে ঘিরে ধরে ছিল না বাংলাদেশকে। ত্রিদেশীয় ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ফাইনাল দূরের কথা, পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে সাকিব আল হাসানরা কতটা হেনস্থা হন, সেটিই ছিল একমাত্র কৌতূহল।

আজ জিতলেই স্বপ্নের দরজা!
সাবাস! বাংলাদেশ!!

২০১২ সালের মার্চের আবহ পুরো ভিন্ন। পাকিস্তানের সঙ্গে জেতা ম্যাচের আফসোস ভুলিয়ে দেয় ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়। বাংলাদেশ ক্যাম্প থেকে সতর্কভাবে যে আত্মবিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে, তা বহু গুণে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আপামর ক্রিকেট সমর্থকদের মনে, ‘ভারতকে হারাতে পারলে কেন নয় শ্রীলঙ্কা?’ প্রত্যাশার বেলুনে যে আবেগে ফুঁ দিচ্ছেন সবাই, তাতে বিপদের আশঙ্কা আছে। আছে বলেই প্রত্যাশার ‘ব্যারোমিটারে’ নজরই দিতে চাচ্ছেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘টুর্নামেন্টের শুরুর দিন থেকেই ফাইনাল আমাদের লক্ষ্য ছিল না। বাকি তিনটা দলের সঙ্গে নিজেদের ব্যবধান তো আমরা জানি। লক্ষ্য ছিল যেন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’ সেটা খেলতে খেলতে আজ ফাইনালের দোরগোড়ায়। তাই নিশ্চিত করেই বলে দেওয়া যায় যে আজ ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ বলে গগনবিদারি গর্জন করবে মিরপুরের গ্যালারি। টুর্নামেন্টের শুরুতে যে ম্যাচটাকে মনে হচ্ছিল সবচেয়ে গুরুত্বহীন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিশ্চিতভাবেই তা টিআরপি’র নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে স্থানীয় দর্শকমহলে। তেরঙা কিংবা চাঁদ-তারা নয়, লাল-সবুজে ছেয়ে যাবে পুরো গ্যালারি।

দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তি দেখার অভিজ্ঞতা আছে মাহেলা জয়াবর্ধনের। দুই বছর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যার উচ্চকিত ‘সংস্করণ’ও দেখা আছে শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের। তবে গ্যালারির সম্ভাব্য এ রংবদল এবং উত্তাল সমর্থন যে আকাশ রাঙাবে এবং ছোঁবে, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই মাহেলার মনে, ‘সমর্থন তো অবশ্যই একটা ব্যাপার। গুরুত্বের কারণে সে সমর্থন আরো বাড়বে। আর সমর্থকরা সব সময়ই অনুপ্রেরণা জোগায়।’ চাপও কি সৃষ্টি করে না? ২০১১ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫৮ রানে গুঁড়িয়ে যাওয়া কিংবা এবারের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে জেতা ম্যাচ হারার প্রধান কারণ ‘ভড়কে যাওয়া’। স্বীকারোক্তিটা বাংলাদেশ দলের সহকারী অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর। বড় দলের বিপক্ষে জেতার অভ্যাস নেই। তাই কদাচিৎ ওরকম পরিস্থিতি সামনে এসে গেলে চমকে যায় বাংলাদেশ। তাহলে তো আজ আরো চাপ ঘিরে ধরবে বাংলাদেশকে। জিতলেই এশিয়া কাপের ফাইনাল_এমন নতুন অভিজ্ঞতায় কী যে প্রতিক্রিয়া হয় বাংলাদেশের!

প্রায় এক যুগের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জোরেই সব চাপ আড়াল করতে চাচ্ছেন মাশরাফি, ‘টুর্নামেন্টের বাকি তিনটি দলই ভালো। প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও শ্রীলঙ্কা অনেক ভালো দল। তাই ওদের হারাতে হলে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যের চেয়েও কিছু ভালো করতে হবে।’ অধিনায়ক নন, তবে দলের জ্যেষ্ঠতম ক্রিকেটার তিনি। সে ‘অধিকার’ থেকেই মাশরাফির ব্যক্তিগত উপলব্ধি, ‘ফাইনালে ওঠার জন্য অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই।’ কিন্তু বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা ‘অতিরিক্ত কিছু’তে ভরপুর! বাতাসে জোর গুঞ্জন, ভারত ম্যাচের একাদশ থেকে একাধিক পরিবর্তন ঘটিয়ে আজকের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামছে বাংলাদেশ। অবশ্য একটি পরিবর্তন অবধারিত। কাঁধে চোট পাওয়ায় পুরোপুরি বিশ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে শফিউল ইসলামকে। তাঁর পরিবর্তে নাজমুল হোসেনের খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। অবশ্য যদি তিন পেসার ফর্মুলায় শেষমেশ আস্থাশীল থাকে টিম ম্যানেজমেন্ট। সে চিন্তায় ব্যত্যয় ঘটলে দুই পেসারের বোলিং আক্রমণে ঢুকে যেতে পারেন ইলিয়াস সানি। সে কারণেই কি প্র্যাকটিসের পর অনেকটা সময় মাঠকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করেছেন এ বাঁহাতি স্পিনার?

নিতান্ত বাধ্য না হলে ক্রিকেটে জয়ের ধারায় থাকা একাদশে পরিবর্তনের রীতি নেই। তবে হারলে একাদশে পরিবর্তন ঘটে নিয়ম করেই। সে ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রত্যাশিত লঙ্কানদের আজকের একাদশে। দ্বীপ দেশটির সাংবাদিকদের পরিবর্তনের পক্ষে একজোট হওয়ার অন্য কারণও আছে, ‘দেশে ইংলিশরা অপেক্ষায় আছে। সে ক্ষেত্রে অর্থহীন হয়ে পড়া ম্যাচে অন্যদের সুযোগ কি দেওয়া যায় না?’ না, স্রেফ এ কারণে কাউকে ‘ম্যাচ’ দিতে নারাজ জয়াবর্ধনে, ‘আমরা সেরা ১১ জনকে নিয়েই মাঠে নামব।’ আর সবাই যত অর্থহীনই বলুক না কেন, আরেকটি জয়ের লক্ষ্যে অটুট জয়াবর্ধনে, ‘আগের দুইটা ম্যাচ ভালো করিনি। কালকের ম্যাচে ভালো কিছু চাচ্ছি।’

ধরুন সেরা একাদশ নিয়ে সেরা ক্রিকেট খেলল দুই দল। তাহলে ফল কী হতে পারে? ২৯ ম্যাচের ২৭টিতেই জয়ী শ্রীলঙ্কার সম্ভাবনার পাল্লাই ভারী। অবশ্য সামর্থ্যের উত্থান-পতন হয় বলেই দুটিতে জয়ী বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেখে মাশরাফিও আশাবাদী, ‘এ দুই ম্যাচে আমাদের এক-দুজন না চার-পাঁচজন পারফরম করেছে। পারফরমারের সংখ্যাটা নিয়মিত এমন হলে অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আমরা শুরু করব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা নিয়ে।’

অভিজ্ঞতা দিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছেন মাশরাফি। কিন্তু তাতে কি আর গ্যালারিতে আবেগের ভূমিকম্প থামবে? ফেসবুক থেকে টুইটার- স্যোশাল নেটওয়ার্কগুলো একযোগে ফাইনালে দেখতে চাচ্ছে বাংলাদেশকে। নিজের আবেগকে সামলাতে কিংবা আড়াল করতে পারেন মাশরাফি। সমর্থকের আবেগের এ স্রোত সামলাবেন কী করে? ২২ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে শচীন টেন্ডুলকারই কি পেরেছিলেন?

অবশ্য এ টুর্নামেন্টেই শতরানের ‘সেঞ্চুরি’ দিয়ে প্রত্যাশার সে চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন শচীন টেন্ডুলকার। ঘরের মাঠের এশিয়া কাপ তো হতে পারে অধারাবাহিকতার পুরনো অপবাদ থেকে বাংলাদেশের মুক্তির মঞ্চও।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

7 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen + 14 =