Incoming ভুত ইন টিউনারপেজ (Sense Of Humer+)

5
338

টেকি পরতে পরতে মাথা গরম হইয়া গেছে রাইত এর বেলা???
তাইলে এইডা পইরা হাল্কা হাল্কা ভয় ফাইয়া কাথা মুড়ি দিয়া ঘুম দেন :D সকালে উডি আবার নতুন পোস্ট করিয়েন \x/
P.S এইডা আমার ভাই ব্রাদার এর লাইফ এর ঘটনা… 

 

৩১ ডিসেম্বর তারিখে আমরা সবাই মিলে নতুন বছর উদযাপন করার জন্য বিকাল থেকে সবাই মিলে এক সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। রাত ১০ টার দিকে আমরা মোটামুটি সবাই যে যার বাসায় চলে যাই। কিন্তু আমার ৫ বন্ধু মুন্না, বাপ্পি, শাহাবুদ্দিন, ইমন আর অনিক। ওরা ৫ জন ঠিক করে যে আজকের রাতটা ৫জন মিলে ওদেরই কারো বাসার ছাদে মজা করে আর গল্প করে কাটাবে। কথা মতো ৫ জন ই খাওয়া-দাওয়া করে ১১.৪৫ এর মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় একত্র হয় এবং ছাদে উঠে পরে। ওই বাসাটার বেপারে একটু ধারনা দিয়ে রাখা ভালো। আমাদের এই মিরপুর-১ এর টোলারবাগ আবাসিক এলাকাটা অনেক পুরানো, সেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় থেকে এখানে মানুষ বসবাস করছে এবং যেই বাসার কথা বলছি সেটাও পুরানো একটা বাড়ি। আসলে এখানে দুটি বাড়ি একসাথে রয়েছে যার সিড়ি কেবল একটি। এবং পুরান আমলের বাড়ির ডিজাইন অনুযায়ী সিড়িতে দুপুর বেলাতেও আলো প্রবেশ করেনা বললেই চলে।

তো ওরা ৫ জন ছাদে যাওয়ার পর বেশ খানিকটা সময় বসে গল্প করে কাটায়। আনুমানিক রাত ৩.৩০ এর পরে আমার এক বন্ধু বাপ্পি ছাদের এক পাশে চলে যায় ফোনে কথা বলতে। বাকি ৪ জন আগের মতোই বসে থাকে ও গল্প করতে থাকে। বাপ্পি কথা বলতে বলতে হাটাহাটি করছিল, এক সময় ও খেয়াল করে দেখে যে একেবারে পাশেই আরেকটা বাড়ির ছাদে একটা মহিলা ওর দিকে পিছন ফিরে বিল্ডিং এর কলাম এর সাথে হেলান দিয়ে দারিয়ে চুল আঁচড়াচ্ছে। ও তেমন আমলে আনে না বেপারটা। বেশ কয়েকবার দেখার পর, কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে ওর খেয়াল হয় যে, পাশের বিল্ডিংটা কেবলমাত্র নির্মাণ হচ্ছে এবং রাতে নিচতলায় দারোয়ান ছাড়া ওই বিল্ডিং এ কেউ থাকে না। বেপারটা খটকা লাগায় ও যখন ভালো করে মহিলাটিকে দেখতে ওইদিকে তাকায় এবং দেখতে পায় যে অইখানে কেউ নেই। ও বেপারটাকে স্বাভাবিকভাবেই নেয়, তারপরও ফোন রেখে দিয়ে বাকি ৪ জন এর সাথে এসে বসে পড়ে এবং বেপারটা আর কাউকেই বলে না। রাত তখন আনুমানিক ৪.০০টা বাজে, আর ১ঘন্টা পর ফজরের আজান দিবে। আর ঘটনার শুরু এখান থেকে।

বাপ্পি এসে বসার একটু পর থেকেই একসাথে ৫ জনই কেমন একটু অন্যরকম কিছু একটা অনুভব করতে থাকে। একই সাথে ৫জনের মনে হতে থাকে যে এখন ছাদ এ থাকা ঠিক হচ্ছেনা, কিছু একটা ভুল হচ্ছে, কিন্তু কেউ কাউকে কিছু না বলে গল্প চালিয়ে যেতে থাকে। এর ঠিক কয়েক মিনিট পরেই ৫ জন এ একসাথে শুনতে পারে যে সিঁড়িতে কারো পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, উপরে উথে আসার শব্দ। ওরা একটু অবাক হয় যে এতো রাতে কে আসবে ছাদে, তাই গল্প থামিয়ে ওরা সিঁড়িঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। একটু পরে পায়ের শব্দ থেমে যায় ঠিক দরজার ৮-১০টি ধাপ আগেই। অনিক আর মুন্না আধো-অন্ধকারে বিড়ালের ছায়ার মতো কিছু একটা দেখে, ওরা মনে করে যে বিড়াল হয়তো উঠেছে যেহেতু নিচে বাড়ির মেইনগেট খোলাই থাকে। ওরা আবার কথা বলতে থাকে। একটু সময় না যেতেই ওরা শুনতে পারে যে পাশের যে বাড়িটা নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে, সেখান থেকে খুব নিচু স্বরে আজব একধরনের শব্দ ভেসে আসছে। একটু একটু করে শব্দটা বাড়তে থাকে এবং ওরা পরিষ্কার শুনতে পায় শব্দটা।

ওদের বর্ণনানুযায়ী, কোনো মহিলার করুণ আর্তনাদ এর সাথে নানা ধরনের শব্দকে যদি মিশিয়ে দেয়া যায়, তবে অনেকটা এরুকম শব্দ হবে। ওরা এবার একটু চিন্তায় পরে কেননা এতো রাতে  মজা করার উদ্দেশ্যেও কারো আসার প্রশ্ন আসে না ওই ছাদে। ২-৩ মিনিট এই অশরিরী শব্দ বেড়ে গিয়ে অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যায়। হটাত করে পাশের ছাদ থেকে শব্দ কমে যেতে থাকে একই সময়ে আরেকটি নতুন শব্দ যোগ হয়, এবার সেটা সিঁড়িঘরের ভেতর থেকে। সিঁড়িঘরের ভিতর থেকে খুব জোরে জোরে যেন একই সাথে কয়েকটি বিড়াল ডেকে ওঠে। বিড়াল এর ডাক না বলে বিড়াল রেগে গেলে ঘড়ঘড় করে একধরনের যেই শব্দ করে, সেটা বললেই ঠিক হবে। এই পর্যায়ে এসে সবাই বেশ ভয়ই পেয়ে যায়। হয়তো এই ভয়ের আচ্ছন্নভাবটা ঝেড়ে ফেলার জন্যই মুন্না হটাত করে উঠে দাঁড়ায় এবং বাকিদের বলে যে যে এখানেই বসে অপেক্ষা করতে, ও বিড়ালগুলোকে তাড়াতে যাচ্ছে। কেননা হয়তো বিড়াল এর ডাক শুনে ছাদ এর নিচের ফ্ল্যাট এর লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে যাবে এবং তারা উপরে এসে পরবে। মুন্না একথা বলার পর অনিকও বলে যে সেটাই করতে হবে এবং সেও মুন্নার পিছন পিছন সিঁড়িঘরের দিকে যায়। মুন্না ঠিক সিঁড়িঘরের দরজায় এসে থমকে দাঁড়ায়, কেননা বিড়ালগুলোর রাগী গলার চিৎকার পরিষ্কার শুনা গেলেও অন্ধকারে তাদের কাউকেই দেখা যাচ্ছিলো না। অনিক মুন্নার থেকে ৩-৪ কদম পিছনে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাছিলো, ওর হাতে একটা ম্যাচবক্স ছিলো। মুন্না অনিকের থেকে ম্যাচবক্স টা চেয়ে নেয়, যে ম্যাচ জ্বালিয়ে ওই আলোতে বিড়ালগুলো দেখবে। ম্যাচ এর একটি কাঠি জ্বালিয়ে সেই আলোতে সামনের দৃশ্য দেখে মুন্না স্থির হয়ে যায়। অনিক যেহেতু মুন্নার ঠিক পিছেই দাঁড়িয়ে ছিলো, মুন্নার পরিবর্তন ও খেয়াল করে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে করতে ও মুন্নার কাধের উপর দিয়ে উঁকি মারে। এরই মধ্যে আরেকটি কাঠি জ্বালায় মুন্না।

ওই আবছা আলোতে অনিক দেখে যে ৩টা বিড়াল এর মতো আকৃতি সিঁড়ির ৮-১০ধাপ নিচে হেটে বেড়াচ্ছে। এটা দেখে অনিক ভেবে পাচ্ছিলোনা যে মুন্না কি দেখে এরুকম চুপ হয়ে গেলো হটাত। এবার ভালো করে বিড়াল ৩টার দিকে তাকায় অনিক, এবং যা দেখতে পায় তাতে ও নিজেও হতবাক হয়ে যায়। অবাক হয়ে অনিক দেখে যে ওই বিড়াল এর মতো আকৃতিগুলো যেগুলো ওদের কয়েক ধাপ নিচে হেটে বেড়াচ্ছে, তাদের একটিরও ধড়ের উপর থেকে মাথা ও পিছনে লেজ নেই! হতবাক হয়ে অনিক আর মুন্না একই সাথে দেখছিলো এই অসম্ভব বেপারটা, মাথা ও লেজবিহীন ৩টি বিড়াল কি সাবলীল ভাবে অনেকটা চক্রাকারে হাটছে। অনিক কোনোমতে মুন্না কে টেনে নিয়ে আসে বাকি ৩জন এর কাছে, ২জন এ বসে পরে। ওদের মুখ দেখেই কিছু একটা হয়েছে বলে আঁচ করে বাকি ৩জন। ইমন জিজ্ঞাসা করে যে কি হয়েছে… মুন্নার মুখ দিয়ে কোনো কথা আসেনা, আর অনিক কিছু বলেনা ওদের।

এইভাবে কিছুক্ষণ কেটে যায়, বাকিদের কিছু বুঝতে আর বাকি থাকে না। এক পর্যায়ে মুন্না খেপে যায়, সিঁড়ি ঘরের দরজার দিকে ছুটে যায় এবং হাত এর ম্যাচ থেকে একটার পর একটা কাঠি জ্বালিয়ে ছুড়ে মারতে থাকে বিড়াল তিনটার দিকে। কিন্তু প্রত্যেকবারই কাঠিগুলো সিঁড়ির ২-৩ ধাপ যাওয়ার পরই নিভে পরে নিভে যায়। কাঠি শেষের পথে প্রায়, অনিক দৌড়ে আসে মুন্নাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এবং এইবার ঘটে সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাটি। মুন্না এবং অনিক এক সাথে দেখেযে, এবার বিড়াল তিনটার জায়গায় একটি মাঝবয়সি লোক এবং তার ২পাশে অল্প বয়সী ২টি মেয়ে। মেয়েদুটি মাথা নিচু করে করুন সুরে বিলাপ করছে, আর লোকটি দুই হাত ওদের ২জনের দিকে বাড়িয়ে কেমন একটা গলায় ডাকছিল “আয়, আয়, আয়…”।

এই দৃশ্য দেখার পর একটু যা মনোবল টিকে ছিলো, সেটাও উধাও হয়ে যায়। একছুটে ওরা চলে আসে ওরা বাকি ৩ জনের কাছে। অনিক জোরে জোরে আয়াতুল কুরসি পরতে থাকে, বাকিরাও আল্লাহ’র নাম নিতে থাকে। আর ভোর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। সিঁড়ির ভিতর থেকে ওই ক্রমাগত কাছে আসার জন্য ডাকাডাকি চলছিলোই। সময় তখন ওদের কাছে যেন থেমে গিয়েছিলো।

ঠিক যে কতক্ষণ পর, ওরা খেয়াল করেনি, পাখির ডাক শুনতে পায় ওরা। ঠিক যেই মুহূর্তে ১টা-২টা করে পাখির ডাকাডাকি শুনা শুরু করলো ওরা, খেয়াল করলো সেই ডাক আস্তে আস্তে আরো বিকট আকার ধারন করে, এবং আস্তে আস্তে ক্ষীণ হতে থাকে সাথে সাথে। যেন আস্তে আস্তে করে ওই ডাকাডাকির আওয়াজটা নিচে নেমে যাচ্ছে সিঁড়ি দিয়ে। শেষবারের মতো ওরা আবার শুনতে পায় ওই বিকট স্বরের ডাক, তবে এবার আর তা সিঁড়িঘরের থেকে শুনা যায়না, এবার তা আসে ছাদ এর কিনারা থেকে, যেন কেউ বাড়ির প্রধান দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ডাকলো, তা বাড়ির বাহিরের দিক দিয়ে কানে আসলো। এরপর ডাকটিও থেমে যায়, সাথে সাথে এলাকার মসজিদ থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসে। সমাপ্তি হয় রাতের এই অবিশ্বাস্য ঘটনার। ভালো মতো সকালের আলো ফুটলে ওরা নিচে নেমে যায় ছাদ থেকে, এসে এলাকার একটি চা-এর দোকানে এসে বসে। বেশ কিছুটা সময় কেউ কোন কথা বলেনা, মুন্না প্রথম কথা বলে ওঠে। জিজ্ঞাসা করে যে ও আজ যা দেখলো যা শুনলো, তা কি বাকিরাও দেখেছে…

আরেকটা বেপার হলো, ২-১টা কথা বাদে ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকে চা-এর দোকানে এসে বসার আগ পর্যন্ত কেউ কারো সাথে কি দেখছে বা শুনছে, এ নিয়ে কোন কথাই বলেনি। তখনি ইমন নাম এর বন্ধুটা আমাকে এবং রায়হান নামের আরেকটা বন্ধুকে ফোন দিয়ে ডেকে আনে। এবং আমরা আসার পরেই পুরো ঘটনাটি নিয়ে কথা বলে। আমি আর রায়হান ওদের কথা শুনে হাসতে থাকি, মনে করি যে আমাদের বোকা বানানোর জন্য বলছে এসব। কিন্তু ওদের কথা আরো শুনার পর আমি আর রায়হান সাথে সাথেই ঠিক করি এখন দিনের বেলায় একবার ছাদটা দেখে আসি যে ওরা ঠিক বলছে না ভুল। ওদের সাথে আসতে বলি, কিন্তু কেউ আর রাজি হয়না, আমি আর রায়হানই যাই। ছাদে উঠার পর আমরা প্রথমেই যেটা দেখতে পাই সেটা হলো, সিঁড়িঘরের যেখানে ওরা ওই বিড়াল ৩টি আর লোকটাকে দেখতে পেয়েছে বললো একটু আগে, সেখানে বিড়ালের বড় বড় কালো লোম পরে আছে অনেকটা জায়গা নিয়ে। এবং মুন্না যে ম্যাচ এর কাঠিগুলোর কথা বলেছিল, সেগুলোও আমরা ছাদ এর দরজার পর থেকে ৩ ধাপ পর্যন্ত দেখলাম। এবং আশ্চর্যের বেপার এইযে, এতগুলো কাঠি, প্রত্যেকটাই শুধু বারুদ-এর অংশটুকু পর্যন্ত জ্বলে নিভে গেছে। ৩০-৪০ কাঠি দেখলাম, একটাও জ্বলে বারুদ থেকে উপরে উঠেনি। এরপর আমরা নেমে যাই ছাদ থেকে।

এই ছিলো ঘটনা। :D 

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

5 মন্তব্য

  1. ভাই ভালই সাজাইছেন । এখন তাহলে সত্যি ঘটনাটা ফাঁস করে দিই – শব্দটা ছিল আমার মোবাইলের টিউন । আর লোম গুলো ছিল আমার পোষা বিড়ালের । হা হা হা ……………………………………

    • ইনশাল্লাহ শুনতে পারবেন কাইলকা রাইতে… রাসেল ভাই অলরেডি ফোন দিয়া কাহিনী হুইনা নিছে ডিটেইলস এ… ;]

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 1 =