Horror Tune 42: ।। প্রতিশোধ ।।

0
213

লিখেছেনঃ রোদশীঁ

” নাহ! ওদের হাত থেকে আমরা বোধহয় কখনোই বাচঁবো না”

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

এভাবেই নিজের রাগ প্রকাশ করছিলো আনিকা হোস্টেলে নতুন আসা মেয়ে নিতুর কাছে।

আনিকা পড়ে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার এ। কলেজের হোস্টেলে থাকে ও।হঠাৎ করে বাসার সবাইকে ছেড়ে এখানে একা একা থাকতে ওর প্রথম প্রথম বেশ খারাপ লাগতো।এখন সবার সাথে মানিয়ে নিয়েছে ও নিজেকে।বাসার কথা খুব বেশি মনে পড়ে না এখন।আর তাছাড়া এখানে সবাই ওর মতো একা থাকে,কারোর বাবা মাই সাথে থাকে না।তাই ওরা থাকতে পারলে ও কেন পারবে না।

এভাবেই নিজেকে দিনের পর স্বান্তনা দিয়েছে আনিকা।হোস্টেলে থাকতে ভালোই লাগে এখন।সকালে সবাই একসাথে কলেজে যায়।ক্লাস শেষে রুমে ফিরেই আড্ডা।আবার মাঝে মাঝে সবাই মিলে ঘুরতে যায় বিকালে।এভাবেই প্রতিটা দিন কেটে যাচ্ছে আনিকা ও তার বান্ধবীদের।ওদের হোস্টেল জীবনটা পুরোপুরি সুখের হতো যদি হোস্টেলে শুধু ওরা,কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েরা থাকতো।

কলেজের হোস্টেল ১টা হওয়ায় ফার্স্ট ও সেকেন্ড ইয়ার একসাথে থাকে।সেকেন্ড ইয়ারের মেয়েরা ফার্স্ট ইয়ার কে কখনোই বেশি পাত্তা দিতে চায় না এবং যখন-তখন অপমান করে বসে।বিশেষ করে হোস্টেলের দোতালার ২৩০ নং রুমে থাকা সেকেন্ড ইয়ারের রুমকি,কনক ও মিতুল খুব বেশি জ্বালায় ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদের।আর যদি হোস্টেলে নতুন কোন মেয়ে আসে তাহলে তো কথাই নাই।অন্ততঃ ১ সপ্তাহ তার পিছনে লেগে থাকে ওরা।আনিকারা মাঝে মাঝে ভাবে ১টা মেয়ে কিভাবে অন্য মেয়েদের এতো বিরক্ত করে।

মাত্র ২ দিন হলো নীতু হোস্টেলে এসেছে আর ওরাও যথারীতি নীতুকে নাজেহাল করে ছাড়ছে।১ম দিন ডাইনিং এ যে অপমান করলো ওরা নীতুকে;বেচারী শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো আনিকার দিকে আর আনিকা দাঁত কিড়মিড় করে বলল “ওদের হাত থেকে আমরা বোধহয় আর কখনোই বাচঁবো না।” ওদের কটুক্তি থেকে বাচঁতে তাড়াতাড়ি খাওয়া সেরে রুমে এসে দরজা লক করলো ওরা ৪জন-শ্রাবণ,সৌমি,আনিকা ও নীতু।

কিন্তু একটু পরেই দরজায় নক করা শুনে বুঝলো বজ্জাত ৩টা এসেছে।অনিচ্ছা স্বত্তেও দরজা খুলল শ্রাবণ।রমে ঢুকেই কনক বলল “ইহ!গন্ধে তোদের রুমে ঢোকা যাচ্ছে না,তোরা কি বিছানায় হাগু করিস নাকি? “রাগে শ্রাবণ কিছু বলতে পারলো না।তবে সৌমি বেশ রাগেই বলল “কনক আপু আমাদের পরীক্ষা কাল,আমরা এখন পড়বো।”এক ধমকে সৌমিকে চুপ করিয়ে দিলো কনক তারপর কিছুক্ষণ নীতুকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে চলে গেলো।নীতুর হোস্টেলের ১ম রাতটা কাটলো কান্না কাটি করে।

এধরনের যন্ত্রণা তবুও মেয়েরা সহজে মেনে নিতো,কিন্তু কনকদের ভয় দেখানো টাইপ জ্বালাতন হজম করতে মেয়েদের বেশ কষ্ট হতো।।

কনক কলেজের ১ ম্যাডামের কাছ থেকে জেনেছিলো যে অনেক বছর আগে হোস্টেলের ছাদ থেকে পড়ে ১টা মেয়ে মারা গিয়েছিলো;হোস্টেলের সিঁড়িতে মেয়েটির রক্তাক্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিলো।এটা স্রেফ ১টা দূর্ঘটনা ছিলো কিন্তু কনকরা হোস্টেলের মেয়েদের বলতো যে ঐ মেয়েটির আত্মা নাকি রাতে হোস্টেলের করিডর ধরে হাটাহাটি করে।যদিও কেউ কোনদিন এমন কিছুই দেখেনি কিন্তু কনকদের মুখে এই কথা শুনে ভয় সবাই ঠিকই পেতো।আর মাঝে মাঝে তো কনকরা কোন কোন মেয়েকে করিডরে দাড় করিয়ে রাখতো।।

কোন ১ সন্ধায় রুমকি ও মিতুল এমন কিছু করে মজা লোটার হামলা চালায় আনিকাদের রুমে।রুমে ঢুকেই আনিকাকে বলল “যা করিডরে গিয়ে দাড়িয়ে থাক,যতক্ষণ না আমরা তোকে ভিতরে আসতে বলি”।

বুকের ভিতর শুরু হওয়া সাইক্লোনকে পাত্তা না দিয়ে আনিকা করিডরে চলে এলো।হোস্টেলটা অনেক আগের বলে করিডরটা চওড়ায় অনেক বড়।করিডরের এক মাথায় নিচে নামার সিঁড়ি আর অন্য মাথায় সারি দিয়ে বাথরুম।হেমন্তের হালকা শীতে সন্ধা হলেও হোস্টেলের মেয়েরা যে যার রুমে দরজা লক করে হয়ত পড়ছে বা গল্প করছে।আর বাইরে নিস্তব্ধ পরিবেশে নিরেট অন্ধকারে একা দাড়িয়ে আছে আনিকা।অন্ধকার এতো গাড়ো কেন তা ভাবতেই আনিকার মনে পড়লো আজ অমাবস্যা।।

হঠাৎ এক ঝটকা ঠান্ডা হাওয়া বয়ে গেলো করিডরে।আনিকা দাড়িয়ে আছে ঠিক ওদের রুমের সামনে,করিডরের মাঝামাঝি।মনে হলো হাওয়াটা আসলো আনিকার ডানদিক অর্থাৎ সিঁড়ির দিক থেকে।আচমকা বয়ে যাওয়া হাওয়ার দিকে তাকিয়ে প্রায় আত্‌কে উঠলো আনিকা।অমাবস্যার রাত তবুও ষ্পস্ট দেখলো সিঁড়িতে কেউ দাড়িয়ে আছে।কে ওখানে ভবতেই একটুখানি আলো জ্বলে আবার নিভে গেলো।সেই আলোতে যা দেখল আনিকা তাতে তার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা ভয়ের স্রোত বয়ে গেলো এবং কান ফাটানো চিৎকার দিয়ে সে পড়ে গেলো মেঝেতে।

ওদিকে সিঁড়িতে দাড়িয়ে থাকা কনক জোরে হাসতে যেয়ে থেমে গেলো।মুখে সস মেখে একটা ছোটো টর্চ ঠিক মুখের সামনে রেখে একবার অন করেই অফ করে দিয়েছিলো সে।রক্তাক্ত ১টা মুখ দেখেছে ভেবে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে করিডরে পড়ে আছে আনিকা।এতটা করতে চায়নি কনক।দৌড়ে আনিকার কাছে গেলো সে।অন্য দিকে হোস্টেলের প্রায় সব মেয়ে করিডরে এসে হাজির।

রুমে নিয়ে গিয়ে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানো হলো আনিকার।হোস্টেল সুপারের ঝাঁড়ি খেয়ে চুপচাপ এক কোণায় দাড়িয়ে আছে কনক,মিতুল ও রুমকি।এতে অবশ্য ওদের কিছুই হয়নি।তবে কনককে দেখে মনে হচ্ছে সে কিছুটা লজ্জিত।সে নিজে থেকেই আনিকাকে সরি বলে আসল ঘটনা খুলে বলল এবং ওরা ৩জনই বলল এ ধরনের ফাজলামি তারা আর করবে না।আনিকা স্বাভাবিক হওয়ার পর যে যার রুমে চলে গেলো।

কনকরা রুমে গিয়ে ঢুকলো তখন প্রায় রাত ১১টা বেজে গেছে।এত তাড়াতাড়ি ওরা ঘুমায় না তাই ৩জনে আড্ডা দিতে বসলো।গল্পে গল্পে যে কখন রাত ১টা বেজে গেছে ওরা টেরই পায়নি ।

ঘড়ির দিকে চোখ পড়া মাত্রই শুয়ে পড়লো মিতুল ও রুমকি আর বাথরুমে যাবে বলে বের হলো।পুরা হোস্টল তখন ঘুমিয়ে পড়েছে।কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা বাথরুমে এসে ঢুকলো কনক।হাসি ঠাট্টায় এতক্ষণ মনে ছিলো না সন্ধার কথা;এখন মনে পড়লো এবং মনে মনে অনুতপ্ত হলো কনক।

হঠাৎই মৃদু শব্দ করে বাথরুমের লাইটটা নিভে গেলো।কনক এতটা ভীতু না হলেও এত রাতে হঠাৎ আলো নিভে যাওয়ার গাঁ ছমছম করে উঠলো ওর।হাতড়ে পাতড়ে বাথরুমের দেয়াল ধরে ধরে দরজা খুঁজতে লাগলো কনক।কারো নিঃশ্বাস ওর ঘাড়ে অনুভব করা মাত্রই পিছনে তাকালো কনক।কিন্তু তাকিয়ে লাভ কি;ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছুই দেখতে পেলো না ও।অথচ নিজের ঘাড়ে কারো নিঃস্বাশ ফেলার মত গরম হাওয়া সে অনুভব করেছে;কিন্তু বাথরুমে তো আর কেউ নেই।

দৌড়ে ওখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছা হলো কনকের।আরো দ্রুত দরজা খুঁজতে লাগলো সে।দরজার ছিটকানিতে হাত ঠেকা মাত্রই দরজা খুলে দৌড়ানো শুরু করলো কনক।দৌড়ে ৪-৫ কদম আসার পর কিছুতে ধাক্কা খেয়ে দাড়িয়ে যাওয়ার মত থামলো কনক।

স্পষ্ট দেখলো কেউ দাড়িয়ে আছে সিঁড়িতে।শুধু দাড়িয়েই আছে না আস্তে আস্তে সামনে আসতে শুরু করেছে।আর তখনি হঠাৎ কোথা থেকে একটুখানি আলো জ্বলে আবার নিভে গেলো।সেই আলোতে কনক দেখলো রক্তাক্ত বীভৎস একটা মেয়ের মুখ।তীব্র চিৎকার দিতে চাইলো কনক কিন্তু মুখ হা করলেও গলা দিয়ে কোন শব্দই বের হলো না।

এবার সে অনুভব করলো ঠিক তার পিছনেই কেউ দাড়িয়ে আছে।চিন্তাটা মাথায় আসায় পিছনে তাকাতেই আবারো আত্‌কে উঠলো কনক।ঠিক তার পিছনেই দাড়িয়ে আছে একটু আগে সিঁড়িতে দেখা রক্তাক্ত মেয়েটি,যার বীভৎস পঁচা গলা মুখটি কনকের ঠিক ১হাত সামনে।পঁচা মাংসের গন্ধে বমি এসে গেলো কনকের।তখনি মেয়েটি ১হাত বাড়িয়ে দিলো কনকের দিকে।এবার কনকের মুখ দিয়ে বিকট শব্দ বের হলো এবং সে জ্ঞান হারালো।

আর্শ্চয্যজনকভাবে তখনি বাথরুমের লাইটটা জ্বলে উঠলো। ।

কনকের জ্ঞান ফেরেনি আর কখনো,তাই সেদিন কি ঘটেছিলো কেউ জ্বানলো না কখনো।আনিকার সাথে কনক যা করেছিলো সেদিন সন্ধায়,ঠিক ১২ বছর আগে কোন এক সন্ধায় একই ঘটনা ঘটেছিলো ফার্স্ট ইয়ারের মেয়ে তাহিয়ার সাথে।আনিকা স্বাভাবিক হলেও তাহিয়া স্বাভাবিক হতে পারে নাই তাই অন্যমনষ্ক হয়ে ছাদে হাটাহাটি করার সময় নিচে পড়ে মারা যায় সে।হয়ত ১২ বছর পর প্রতিশোধ নিতে ফিরে এসেছিলো সে।।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine − four =