Horror Tune Special : মৃত্যুর হাতছানি ।।

1
394

কেমন আছেন টিজে রা? আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি হরর টিউন এর বিশেষ কাহিনী। গত বারের বিশাল কাহিনী “অন্ধকারের বাসিন্ধা”র মতই আজকের পোষ্টটি বিশাল এবং অ-নে-ক ভৌতিক।

যা হোক গল্পে আসা যাকঃ

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

(গল্পটি পড়ে আপনার রাতের ঘুম হারাম হলে আমরা দায়ী নই)
আজকের গল্পটি লিখে পাঠিয়েছেন “আহনাফ সানভি”। ইদানিং আপনারা গল্প পাঠানোর সময় আপনাদের বিস্তারিত ঠিকানা পাঠান না। শুধু নাম টা লিখে পাঠান। এগুলো ঠিক নয়। পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সহ গল্প পাঠাবেন দয়া করে।

মৃত্যুর হাতছানি ।।
1………………………….

আকাবাকা পাহাড়ী রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে একটা বাস । অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য চারপাশে । বিধাতা যেনো নিজ হাতে বানিয়েছেন জায়গাটা । মুগ্ধ হয়ে জানালা দিয়ে অপূর্ব সুন্দর দৃশ্যগুলো দেখছে সানি । চোখ ফিরিয়ে জানালার পাশের সিটে বসে থাকা সায়মার দিকে । এখনো ঘুমিয়ে আছে সায়মা । অবশ্য ঘুমানোটাই স্বাভাবিক । মাত্রই ভোর হয়েছে । চারিদিকে সবেমাত্র আলো ফুটতে শুরু করেছে । জানালার কাচের মধ্যে দিয়ে একফালি সূর্যের আলো এসে পরছে সায়মার মুখের একপাশে । অপূর্ব সুন্দর লাগছে সায়মাকে । ছয় মাস হলো তাদের বিয়েটা হয়েছে । সানি একটু গম্ভীর আর শান্ত স্বভাবের । আর্মি অফিসার সে । ছয় মাস আগে জাতিসংঘের একটা মিশন শেষ করে বাংলাদেশে ফেরার সাথে সাথেই বাবা মা চাপাচাপি করতে থাকে বিয়ের জন্য । বাবা-মায়ের কথা কখনই অমান্য করেনি সানি । তাই এ ব্যাপারেও তার কোন আপত্তি ছিলো না । এমনকি বাবা-মায়ের পছন্দ করা মেয়েকেই বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত ছিলো সে । তার বিশ্বাস আল্লাহতালা হয়তো তার ভাগ্যে অনেক ভালো কিছু রেখেছিলেন । এবং তারই পরিপেক্ষিতে হয়তো সায়মার মতো মিষ্টি একটা মেয়েকে সে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছে । প্রথম যেদিন সায়মাকে দেখতে গিয়েছিলো সে , সায়মা একহাত লম্বা ঘোমটা দিয়ে তার সামনে আসে । ঘোমটার আড়ালে সানির দিকে চেয়ে মুচকি হাসছিলো সে । মেয়েটা অদ্ভুত সুন্দর করে হাসতে । হাসলে গালে টোল পরে তার । তখন আরো বেশি সুন্দর লাগে তাকে । প্রথম দেখাতেই সায়মাকে অসম্ভব ভাল লাগে সায়েমের । বাবা-মাকে জানিয়ে দিতে তাই দেরি করে নি যে এই মেয়েকেই বিয়ে করবে সে । ছয় মাস আগের স্মৃতিগুলো মনে পরাতে একটু মুচকি হাসি খেলা করে গেলো সানির ঠোটে । সকালের মিষ্টি রোদ এখন সায়মার কপাল আর ডানচোখের উপর পরছে । সায়মা একটু নড়েচড়ে উঠলো । সানি আস্তে করে ডাক দিলো তাকে “সায়মা । উঠো । দেখো সকাল হয়ে গেছে ।” সানির কন্ঠ শুনে সায়মা চোখ মিট মিট করে উঠলো । আড়মোড়া ভাঙ্গলো । ঘুমজড়ানো চোখে সানির দিকে চেয়ে মিষ্টি করে হাসলো । সানি মৃদু কন্ঠে বলল “good morning . . টেমা বেগম ।” সায়মা হাসি মুখে উত্তর দিলো “same to u. . টেমি সাহেব ।” সায়মার মুখের উপর এখনো খেলা করছে মিষ্টি রোদ । বাসের জানালাটা খুলে দিলো সানি । সায়মাকে ইশারা করলো বাইরের অপূর্ব দৃশ্যটুকু দেখার জন্য । সায়মা মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলো অপূর্ব সুন্দর দৃশ্যটুকু । তার চোখে তখন অপার মুগ্ধতা । বাসটা এখন বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে । ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেই বান্দরবান রওনা দিয়ে সানি আর সায়মা । সায়মাকে নিয়ে একটু ঘুরাঘুরি করার ইচ্ছাটা অনেক দিনের । তাই যখন মেজর শাহরিয়ার তাকে বান্দরবান যাওয়ার জন্য আমন্ত্রন করেছিলো , তখন আর মানা করেনি । মিশন থেকে ফিরে প্রায় ৬ মাস পর একটা লম্বা ছুটি পেয়েছে সে । সায়মাকে নিয়ে তাই বান্দরবান যাওয়ার সিদ্ধান্তটা নিতে বেশি দেরি করেনি সে । শাহরিয়ার , সানির বাল্যকালের বন্ধু । ক্যাডেট এ একসাথে পড়ার পর একই সাথে BMA তে ঢুকে তারা । একই সাথে ARMY তে জয়েন করে । শাহারিয়ার বর্তমানে বান্দরবান আর্মি বেইস ক্যার্ম্পের ইনচার্জ । নিরাপত্তা নিয়ে তাই তেমন কোন চিন্তা নেই সানির । (২) বাসটা থামলো । বাস থেকে নেমে আড়মোড়া ভাঙ্গলো সানি । তারপর একহাতে লাগেজ আর এক হাতে সায়মার হাত ধরে হাটতে থাকলো সে । “আমরা কোথায় যাচ্ছি ?” জিজ্ঞেস করলো সায়মা । “আপাতত চান্দের গাড়ির খোঁজে । চান্দের গাড়িতে করেই গন্তব্যে পৌছানো যাবে ।” বলল সানি । “হাঃ হাঃ ! ! চান্দের গাড়ি ! ! অদ্ভুত নাম ।” হাসতে হাসতে বলল সায়মা । মুচকি হেসে সানি বলল “হমম । এখানকার বেশিরভাগ জায়গা অথবা জিনিসের নাম এমনই । স্থানীয় আদিবাসীদের দেয়া নাম । তাই একটু হাস্যকর শোনায় ।” চান্দের গাড়িতে গাদাগাদি অবস্থা । ধাক্কাধাক্কি চলছে । সায়মাকে কোনমতে এককোনে বসিয়ে তার পাশে ধপ্ করে বসে বসে গেলো সানি । চলতে থাকলো গাড়িটা । এটা চিম্বুক রেঞ্জের বুক চিরে ওয়াই জংশন হয়ে যাবে গ্যারিসন নামে এক স্থানে । ওখানে আর্মি ক্যাম্পে নাম-ঠিকানা (নিরাপত্তার খাতিরে) দিয়ে সামনেই সদরঘাট বলে এক স্থানে সাঙ্গু নদী পার হতে হবে । সানি যতদূর জানতে পেরেছে নদীটা দিয়ে গ্রীষ্মকালে গাড়ি যেতে পারে । তবে বর্ষাকালে নৌকা অথবা হেটে পার হতে হয় । বর্ষাকাল মাত্রই শেষ হয়েছে । তাই এখন নদীতে পানি থাকবে । নদীটা পেরিয়ে একটু দূরে গেলেই একটা আর্মি ক্যাম্প । সেখানেই থাকবে শাহারিয়ার । এমনটাই চিঠি লিখে জানিয়েছিলো শাহারিয়ার । বান্দরবানে মোবাইলের নেটওর্য়াক নেই । তাই চিঠিই ভরষা । সায়মার দিকে তাকালো সানি । মেয়েটার মুখে ক্লান্তির ছাপ । এতোদূর এর আগে কখনো জার্নি করেনি সে । আবার ঘুমিয়ে পরেছে সে । ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে মায়া লাগলো সানির । পরম মমতায় সায়মার মাথাটা বুকের কাছে চেপে ধরলো সানি । যাতে গাড়ির ঝাকি লেগে মাথায় বাড়ি না খায় সে । — চান্দের গাড়ি সদরঘাটে পৌছে গেলো । সবাই তাড়াহুড়া করে নামতে লাগলো । সানি আস্তে করে ডাক দিলো সায়মাকে । সায়মা উঠলো । লজ্জ্বা পেলো আবার ঘুমিয়ে পরাতে । সানি ,সায়মার মনের কথা বুঝে একটু মুচকি হাসলো । সদরঘাটে কিছু নৌকা দেখা গেলো । নৌকা না বলে সেগুলোকে ডিঙ্গি বলাটাই ভালো । নদীতে স্রোত তেমন বেশি না । স্থানীয় লোকজন হেটেই পার হতে লাগলো নদী । একটা ডিঙ্গি ভাড়া করলো সানি । ডিঙ্গির মাঝি একজন মুরং আদিবাসী । বাংলা তেমন ভালো বলতে পারে না । ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা শুনে সানি বুঝতে পারলো নদী পার হবার পর এক দেড় কিঃমিঃ হাটলেই রুমা বাজারে পৌছানো যাবে । সেখানে আর্মির আরেকটা ক্যাম্প আছে । ঐ ক্যাম্পে নাম ঠিকানা দিতে আবার জমা দিতে হবে । ডিঙ্গিটা পাড়ে ভিড়লো । সায়মাকে হাত ধরে নৌকা থেকে নামালো সানি । তারপর নৌকার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে হাটা ধরলো । বাজার সদরে পৌছাতে ১৫-২০ মিনিটের মতো লাগলো । স্থানীয় কিছু লোককে জিজ্ঞেস করতেই আর্মি ক্যাম্পটা দেখিয়ে দিলো । হাটতে হাটতে আর্মি ক্যাম্পের কাছে এগিয়ে গেলো । দূর থেকে দেখেই সানি বুঝলো শাহারিয়ার দাড়িয়ে আছে । শাহারিয়ারও সানিদেরকে দেখতে পেলো । হেটে আসতে লাগলো তাদের দিকে । কাছাকাছি এসে হাত নাড়লো সানিদের উদ্দেশ্যে ।

…………………………………………………..2……………………………………………………………….

শাহারিয়ার কাছাকাছি এসে বলল “সানি । দোস্ত । বান্দরবানে তোকে স্বাগতম । ভাবি আসসালামুআলাইকুম ।” “ওয়ালাইকুম আসসালাম ভাইয়া ।” মিষ্টি হেসে উত্তর দিলো সায়মা । “তুই তো ব্যাটা বিয়েতে আসলি না । কত করে বললাম তোকে ।”বলল সানি । “আরে দোস্ত বুঝসই তো আর্মির চাকরি । ছুটিছাটা কম । তারপরও চেষ্টা করেছিলাম । দেয়নি ।” বলল শাহারিয়ার । “হমম । তা অবশ্য ঠিক ।” বলে মাথা ঝাকালো সানি । “যাই হোক । আসতে কোন কষ্ট হয় নাই তো ? চল তোদেরকে হোটেলে দিয়ে আসি ।” বলল শাহারিয়ার । শাহারিয়ারের সাথে হাটতে লাগলো সানি আর সায়মা । হোটেলটা রুমা বাজার থেকে সামন্য একটু দূরে । বাজার থেকে বের হওয়ার সময় শাহারিয়ার একটা দোকানের শার্টারে ঠেস দিয়ে থাকা এক কিশোরকে ডাক দিলো । “এই সান্টু । এখানে আসো ।” ছেলেটা হাসিমুখে এগিয়ে এলো । বয়স বড়জোড় ১২-১৩ হবে । এসেই সবাইকে সালাম দিলো সে । সালামের উত্তর দিয়ে শাহারিয়ার তাকে বলল “দেখো সান্টু , এরা আমার বন্ধু । তুমি ওদেরকে হোটেলে নিয়ে যাও । পারবা না ?” জবাবে মাথাটা একদিকে কাত করলো সান্টু । সানির দিকে ফিরে শাহারিয়ার বলল “ছেলেটা বাঙ্গালি । এখানে ছোটবেলা থেকে আছে । এখানের পাহাড় পর্বত সবই তার চেনা । অনেক ভাল গাইড । ও তোদেরকে হোটেলে নিয়ে যাবে ।” “তুই কোথায় যাচ্ছিস ?” প্রশ্ন করলো সানি । “আমার কিছু কাজ আছে । যেতে হবে । বিকালে তোদেরকে নিয়ে বের হব ।” বলেই সান্টুকে ইশারা করলো শাহারিয়ার । ছেলেটা হাসিমুখে বলল “আসেন স্যার । আমার সাথে আসেন ।” বলেই হাটতে থাকলো সে । সানি আর সায়মা তাকে অনুসরন করলো । “সান্টু তোমার পরিবারে কে কে আছে ?” প্রশ্ন করলো সায়মা । “আমি আর আমার মা । বাপ নাই । মইরা গেছে । আমি যহন খুব ছুডু তহন নাকি আদিবাসীগো লগে ঝগড়া অইছিলো । রাইতের বেলা কোপ দিয়া মাইরা ফালাইছে ।” বলল সান্টু । শিওড়ে উঠলো সায়মা । সানি তাকে জিজ্ঞেস করলো “লেখাপড়া করো ? সংসার কিভাবে চলে ?” “আগে করতাম । অহন করি না । মায়ে বাজারে একটা দোকান চালায় । আর আমি গাইড । টুরিস্টগো গাইড হিসেবে চাকরি করি ।” বলল সান্টু । ছেলেটার সাবলীল কথার ভঙ্গিমা আর সরল অভিব্যাক্তি ভালো লাগলো সায়মা আর সানির । হোটেলে পৌছে গেলো তারা । সানি পকেট থেকে একটা ৫০ টাকার নোট বের করে সান্টুর দিকে বাড়িয়ে ধরলো । “না স্যার । লাগদো না । টেকা নিলে মেজর সাব (শাহারিয়ার) রাগ করবো ।” বলল সান্টু । সানি মুচকি হেসে বলল “করবে না । নাও এটা । কিছু কিনে খেয়ো ।” টাকাটা নিলো সান্টু । তারপর একটা সালাম দিয়ে দৌড় দিলো । মুচকি হেসে সায়মাকে নিয়ে হোটেলে ঢুকলো সানি । (৪) হোটেলে ঢুকে গোসল করে , খাওয়া দাওয়া সেরে নিলো সানি আর সায়মা । বিকাল ৪.৩০ এর দিকে শাহারিয়ার আসলো । সায়মা আর সানিকে নিয়ে বের হলো ঘুরতে । “কোথায় যাচ্ছি আমরা ?” প্রশ্ন করলো সায়মা । “আমরা যাচ্ছি এ এলাকার প্রধান আকর্ষন বগা লেক দেখতে ।” হাসিমুখে বলল শাহরিয়ার । হোটেল থেকে বের হতেই কোথা থেকে যেনো দৌড়ে আসলো সান্টু । সবাইকে সালাম দিলো । তারপর তাদের সাথে হাটা ধরলো । একটু পর তারা পৌছালো লেকটার পারে । অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য । পানি একদম নীল । আকাশের ম্লান সূর্যের আলোয় আরো অপরূপ লাগছে লেকটাকে । বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো সানি আর সায়মা । শাহরিয়ার আর সান্টু খুব মজা পাচ্ছে তাদের এই অবাক হওয়া দেখে । শাহরিয়ার বললো “লেকটা মাটি থেকে প্রায় ২৫০০ হাজার ফুট উপরে অবস্থিত । পাহাড়িদের মধ্যে প্রচলিত একটা লোককথায় ড্রাগন তথা আগুনের মিথের কাহিনি শুনে অনেকেই একে মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বলে সন্দেহ করেন । সরকারিভাবে স্থাপিত সাইনবোর্ডও সে ধারণাকেই উস্কে দেয় ।” “লেকটার গভীরতা কত হবে ?”জিজ্ঞেস করলো সানি । “বগা লেকের সঠিক গভীরতা বের করা যায়নি । স্থানীয়ভাবে দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ ফুট বলা হলেও সোনার মেশিনে ১৫১ ফুট পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে ।” বলল শাহারিয়ার । “তার মানে এটার সঠিক গভীরতা কারো জানা নেই ?” প্রশ্ন করলো সানি । ” না । আরো মজার কথা হলো বগা লেকের পানির রঙ অণুজীব কিংবা প্ল্যাঙ্কটনের কারণে পরিবর্তন হয় বছরে কয়েক মাস । আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, একই সময় পরিবর্তিত হয় আশপাশ অন্যান্য জলাশয়ের পানির রঙও । স্থানীয়দের ধারণা , বগা লেক থেকে বগা লেক থেকে এক বা একাধিক আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার তৈরি হয়ে থাকতে পারে ।” বলল শাহারিয়ার । “দোস্ত । আমার ভিষন লোভ হচ্ছে । সাতার কাটতে ইচ্ছে করছে ।” বলল সানি । “না । সেটা সম্ভব না ।” একটু রুক্ষ স্বরে বললো শাহারিয়ার । “কেনো ? কোন সমস্যা ?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো সানি । যেনো একটা ধাক্কা খেলো শাহারিয়ার । তারপর অনেকটা কৈফিয়তের সুরে বলল “না মানে । লেকে জলজ আগাছা অনেক । তাছাড়া আলগা পাথর আছে । আর এটার পাড় একথম খাড়া ।” “তাতে কি হয়েছে ? তুই তো এমনভাবে বলছিস যেনো আমি ডুবে যাব । আরে ভাই আমি একজন আর্মি অফিসার । আর এধরনের জায়গায় সাতার কেটে অভ্যাস আছে ।” বলল সানি । “দেখ সানি । উল্টা পাল্টা কথা বলিস না । আমি এখানের ইনচার্জ । এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব । আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না । সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে । চল হোটেলে ফিরতে হবে ।” রাগত স্বরে কথাগুলো বলেই হাটা শুরু করলো শাহরিয়ার । সান্টু ভয় পেয়েছে । মুখ কালো করে দাড়িয়ে আছে সে । শাহরিয়ার একটু দূরে গিয়ে ডাক দিলো তাকে । দৌড়ে শাহরিয়ারের কাছে গেলো সে । শাহরিয়ার তাকে কি যেনো বলছে । ছেলেটা মাথা ঝাকাচ্ছে তার প্রতিটা কথার সাথে সাথে । অবাক হয়ে দাড়িয়ে আছে সানি । বন্ধুর এধরনের আচড়ন সে মোটেই আশা করেনি । আলতো করে সানির একটা হাত ধরলো সায়মা । মৃদু কন্ঠে বলল “শাহরিয়ার ভাইয়া যেহেতু মানা করেছেন । তাহলে মনে হয় লেকটাতে সাতার কাটা নিষিদ্ধ ।” “না । যতটুকু জানি । এখানে সাতার কাটা যায় । পানির তাপমাত্রাও বেশ আরামদায়ক ।”বলল সানি । “তাহলে শাহরিয়ার ভাই কেনো বললেন এখানে সাতার কাটা যাবে না ?”প্রশ্ন করলো সায়মা । “জানি না । শাহরিয়ার হটাত্ এরকম কেনো করলো বুঝলাম না । আমার মনে হয় সে আমাদের কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছে । এখন চলো হোটেলে ফিরে যাই । পরে দেখা যাবে ।” বলল সানি । দুজনে একসাথে হোটেলের দিকে হাটতে লাগলো ।

…………………………………………………..3……………………………………………………………….

নিঝুম রাত । জোত্সার আলোয় চারিদিক উদ্ভাসিতো । ঝিঁঝিঁ পোকা একটানা ঢেকে যাচ্ছে । সানি আর সায়মা ঘুমিয়ে আছে । হটাত্ একটানা ব্রাশ ফায়ারের শব্দে ধড়মড়িয়ে উঠলো সানি । পাগলের মতো নিজের walther ppk .9 ক্যালিবার সেমি অটোমেটিক পিস্তলটা খুজতে লাগলো বালিসের কাছে । আস্তে আস্তে মনে পরলো যে সে এখন কোন মিশনে নেই । সে এখন রান্দরবানে আছে । আর পিস্তলটা ক্যান্টেনম্যান্টে জমা দিয়ে ছুটি কাটাতে এসেছে । পাশ ফিরে দেখলো সায়মাও জেগে গেছে । ভীত চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে । “কি হচ্ছে সানি ?” ভয়ার্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো সায়মা । “বুঝতে পারছি না । আমার মনে হয়েছে আমি গুলি. . . . . ” সানি এতটুক বলার পর পরই ফরফর করে একটানা কাপড় ছেড়ার মতো গুলির আওয়াজ ভেসে এলো । সানি আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলো অস্ত্রটা একটা Heckler & koch G3 । একটা সেমি অটোমেটিক assult rifle . এটা 7.62 ক্যালিবার । অস্ত্রটা বাংলাদেশ আর্মির ইনফ্রেন্ট্রি রেজিমেন্ট ব্যাবহার করে । একটানা ব্রাশ ফায়ার করা হচ্ছে । সায়মা ভয়ে কুকড়ে গেছে । বড় বড় মায়াময় চোখগুলোতে নিখাদ আতংক তার । “তুমি এখানে থাকো । আমি দেখে আসি কি হচ্ছে ।” সায়মাকে বলল সানি । “না । না । আমিও যাব তোমার সাথে ।” বলল সায়মা । “আহহা তুমি শুধু শুধুই জেদ করছো । ওখানে গোলাগুলি হচ্ছে । যেকোন কিছু হতে পারে ।” একটু রাগত কন্ঠে বলল সানি । “তুমি গেলে আমিও যাব । ব্যাস ।” বলল সায়মা । হাল ছেড়ে দিলো সানি । সায়মাকে তার অনেকখানিই চিনা হয়ে গেছে এতোদিনে । মেয়েটা একরোখা । একটা শার্ট গায়ে দিয়ে সায়মাকে নিয়ে বেরিয়ে এলো সে হোটেল থেকে । মানুষ দৌড়াদৌড়ি করছে । অবাক হলো তারা । হটাত্ তারা দেখলো কয়েকজন আর্মি মেডিক একটা ফিল্ড স্ট্রেচার নিয়ে দৌড়ে গেলো সামনে । বগা লেকের দিকে প্রচন্ড ভীড় । প্রচুর মানুষ । অনেকের হাতেই মশাল । সেদিকে এগিয়ে গেলো সানি আর সায়মা । লোকগুলো সব আদিবাসী । ভয়ার্ত কন্ঠে কি যেনো বলাবলি করছে নিজেদের মধ্যে । লেকের পাড়ের কাছাকাছি এলাকাটা সশস্ত্র আর্মিরা ঘিরে রেখেছে । সবার রাইফেল লেকের দিকে তাক করা । শাহরিয়ারকে দেখতে পেলো সানি । আর্মি ট্রুপসটাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে সে । তাকে ডাক দিলো সানি । ঘাড় ঘুড়িয়ে সানির দিকে দেখলো শাহরিয়ার । ঠিক এসময় লেকের পানিতে আলোড়ন উঠলো । অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে কি যেনো ভেসে আসছে পাড়ের দিকে । শাহারিয়ার সাথে সাথে নিদের্শ দিলো “ফায়ার” । একসাথে গর্জে উঠলো অনেকগুলো অটোমেটিক রাইফেল । প্রচন্ড আয়োয়াজে কানে তালা লেগে গেলো সায়মার । কয়েক মিনিট পর গোলাগুলি থেমে গেলো । লেকের পাড়ের কাছাকাছি কি যেনো ভেসে উঠেছে । শাহরিয়ার দুজন সৈনিককে ইশারা করলো । রাইফেল তাক করে জিনিসটার দিকে এগিয়ে গেলো তারা । জিনিসটার কাছাকাছি গিয়ে কিছুক্ষন পরিক্ষা করলো কি যেনো । তারপর শাহরিয়ারকে ডাক দিলো তারা । শাহরিয়ার এগিয়ে গেলো । তার সাথে এগিয়ে গেলো সানি আর সায়মা । আদিবাসীদেরকে আটকিয়ে রেখেছে আর্মিরা । জিনিসটাকে ডাঙ্গায় তোলা হলো । জিনিসটা থেকে মাংস পচাঁ দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে । দেখে মনে হচ্ছে জিনিসটা কোন প্রানীদেহ । বিকৃত হয়ে আছে । আকৃতি বিহীন । এক সৈনিক বুট দিয়ে লাথি দিয়ে জিনিসটাকে ঘুরিয়ে দিলো । আতংকে চিত্কার করে উঠলো সায়মা । সানি আর শাহরিয়ারও শিউড়ে উঠলো । একটা পচাঁ গলা লাস , বিকৃত । মুখের মাংস গলে গলে পরছে । চোখের কোটর একটা খালি , আরেকটাতে বিভত্স অবস্থায় একটা মনির অংশবিশেষ । মুখটা হা করে আছে । সেটার মধ্যে দলা পাকিয়ে আছে কাদা আর পচা শামুক । লাসটার বুক ক্ষতবিক্ষত । মনে হচ্ছে প্রচন্ড ধারালো কোন জিনিস দিয়ে অনাবরত , খোচানো হয়েছে জায়গাটা । পেট একদম ফুটো হয়ে আছে । সেখানে প্রায় ফুটবল সাইজের একটা গর্ত । সেখান দিয়ে পচাঁ গলা নাড়ি ভুড়িগুলো চুইয়ে চুইয়ে পরছে । প্রচন্ড দুর্গন্ধ । হড়হড় করে বমি করে দিলো সায়মা । তারাতারি গিয়ে তাকে ধরলো সানি । (৬) “কি ব্যাপার শাহারিয়ার ? তুই কিছু বলছিস না কেনো ? কি হচ্ছে এখানে ?” রাগত গলায় জিজ্ঞেস করলো সানি । শাহরিয়ার , সায়মা আর সানি এখন আছে শাহারিয়ারের ফিল্ড ক্যাম্পের তাবুতে । “ভাইয়া আমি একজন ডাক্তার । অনেক লাস দেখেছি । তবে এতো বিভত্স লাস এই প্রথম দেখেছি । উফ্ মারাত্মক ভয়ঙ্কর ।” শাহারিয়ারকে উদ্দেশ্য করে বলল সায়মা । “কি ব্যাপার । তুই জবাব দিচ্ছিস না কেনো ?” রাগত গলায় জিজ্ঞেস করলো সানি । চুপ করে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে শাহারিয়ার । আস্তে আস্তে বলতে শুরু করলো “কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝতেছি না । আজকের লাসটাই প্রথম না । এর আগেও আরো ৬ টা লাস পাওয়া গেছে । সব গুলোই পচাঁ গলা । এর মধ্যে ২ জন আর্মিও আছে । গত একমাস থেকেই এঅবস্থা । অস্বাভাবিকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় মানুষ । তারপর পাওয়া যায় তার লাস । বগা লেকের কাছাকাছি যারাই রাতের বেলা যাচ্ছে তাদের মধ্য থেকেই কয়েকজনে এরকম হচ্ছে । কিছুদিন আগে এক আদিবাসী লেকে সাতার কাটতে নেমেছিলো । তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি । আমার ধারনা লাসটা ঐ লোকটার । এ জন্যই তোকে সাতার কাটতে মানা করেছিলাম” “তুই এটা নিয়ে রিপোর্ট করিস নাই ?” জিজ্ঞেস করলো সানি । “করেছি । কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে সঠিক কারনটা তদন্ত করে বের করে তাদেরকে বলতে । জায়গাটা একটা টুরিস্ট স্পট । এখানে এধরনে কান্ড হচ্ছে জানলে টুরিস্ট আর আসবে না । তাই ব্যাপারটা চেপে রাখা হচ্ছে । আদিবাসীদেরকেও বলে রাখা হয়েছে যাতে ঘটনাটা না ছড়ায় । তারা ছড়াবে না । কারন টুরিস্টদের কাছ থেকেই তাদের আয় হয় ।”বলল শাহারিয়ার । “তোর কি মনে হয় ? কে করছে খুন গুলো ?” প্রশ্ন করলো সানি । “জানি না । কিছুই বুঝতেছি না । মাঝে মাঝে মনে হয় কোন মাছ অথবা জন্তু । কিন্তু আবার মনে হয় । যদি মাছই হয় তাহলে লাসগুলোকে খায় না কেনো ? লাসগুলো পচে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে । তারপর আবার নিজ থেকেই দিয়ে যায় ।” বলল শাহারিয়ার । “এখন পর্যন্ত নিখোজ হয়েছে কজন ?” জিজ্ঞেস করলো সানি । -“১৩ জন । লাস পেয়েছি মোট ৬ জনের । বাকি পাচঁটা লাসের অবস্থাও আজকেরটার মতো ।” –“এখন তাহলে কি করবি ?” -“দেখি । কালকে নৌবাহিনী থেকে একটা ডুবুরি দল আসছে । তাদেরকে দিয়ে লেকটা ভাল করে খোজাঁবো ।” …………………………………………………..4……………………………………………………………….

বাকি রাতটা ঘুমাতে পারলো না সানি । সায়মাকে জোড় করে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দিয়েছে সে । মেয়েটা অসুস্থ হয়ে গেছে বিভত্স দৃশ্যটা দেখে । ওর বিশ্রাম প্রয়োজন । সানি ভাবছে এই অদ্ভুত ঘটনার কারনটা কি হতে পারে তা নিয়ে । ভোরের দিকে দরজায় মৃদু টোকা পরলো । বিছানা থেকে নেমে আস্তে করে দরজা খুলল সানি । সান্টু দাড়িয়ে আছে । ছেলেটাকে কেমন যেনো ভীত মনে হচ্ছে । ঠোটে তর্জনী রেখে সান্টুকে আওয়াজ করতে নিষেধ করলো সে । ছেলেটা ঘাড় কাত করলো । তারমানে সে বুঝতে পেরেছে । দরজাটা লক করে , চাবিটা পকেটে রেখে আস্তে করে বেড়িয়ে এলো সানি । সান্টু সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল “মেজর সাব আপনারে যাইতে কইছে ।” সানি কিছু বলল না । নিরবে সান্টুর সাথে ক্যাম্পের দিকে যেতে লাগল । তাবুর কাছে পৌছে তাবুর কোনা সরিয়ে উকি দিলো সানি । ভিতরে শাহারিয়ার ছাড়াও আরো দুজন সামরিক কর্মকর্তা আছেন । কাধের প্রতিকগুলো দেখে বোঝা যায় একজন আর্মির কর্নেল আর একজন নৌবাহিনীর কমান্ডার । সানি তাবুর ভিতরে ঢুকে স্যালুট করলো তাদেরকে । “আয় । তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম । পরিচয় করিয়ে দিই । ইনি কর্নেল আফসার , চট্রগাম ক্যান্টেনম্যান্ট এর ইনচার্জ এবং ইনি কমান্ডার জাওয়াদ । তিনি বর্তমানে একটা সামরিক যুদ্ধজাহাজে আছেন ।” বলল শাহারিয়ার । তাদের সাথে হ্যান্ডশেক করলো সানি । “মেজর । তোমার কি মনে হয় ? কেনো হচ্ছে এসব ?” শাহারিয়ারকে জিজ্ঞেস করলেন কর্নেল । “জানি না স্যার । কেনো এরকম হচ্ছে এর কোন ব্যাখ্যা পাইনি । সবচেয়ে বড় কথা , যারা নিখোঁজ হয়েছে তাদেরকে কি যে লেকের মধ্যে টেনে নিয়ে যায় তাও জানা যায়নি । তবে যারাই রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের লাস লেকে পাওয়ার কারন ধারনা করা হচ্ছে এই লেকটার সাথে তাদের মৃত্যুর কোন যোগাযোগ আছে ।” বলল শাহারিয়ার । “লাসগুলোর পোস্টমর্টেম করা হয়নি ?” জিজ্ঞেস করলো কর্নেল । “হয়েছে স্যার । তবে কোন ফিঙ্গার প্রিন্ট পাওয়া যায়নি । একে তো পানিতে ছিলো , তার উপর একদম পচে গেছে । ডাক্তারের ধারনা লাসগুলো প্রায় ১৫-২০ দিন পানির নিচে ছিলো । তাছাড়া লাসগুলো প্রত্যেকটার হাড়ে ধারালো কোন কিছুর আচড় দেখা গেছে । যাতে সন্দেহ হয় যে সম্ভবত কোন জলজ প্রানীর কাজ এটা ।” বলল শাহারিয়ার । “হমম । এখন তাহলে কি করতে চাও ?” কর্নেল প্রশ্ন করলেন । “লেকের মধ্যে একটা সার্চ করা উচিত । এছাড়া আর কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না ।” বলল শাহারিয়ার । “আমার সাথে ৬ জন অভিজ্ঞ স্কুবা ডাইভার আছে । তারা এধরনের সার্চ এন্ড ডেসট্রয় মিশন করার জন্য ট্রেনিং করা । আমারও মনে হয় লেকটাতে একটা সার্চ করা উচিত ।” কর্নেলকে উদ্দেশ্য করে বললেন কমান্ডার জাওয়াদ । “স্যার । আমার মনে হয় এখানকার আদিবাসীরা কিছু জানে ব্যাপারটা সর্ম্পকে । কাল রাতে লাসটা যখন পাওয়া যায় তখন তাদের কথা শুনেছি । কথার অর্থ যদিও বুঝতে পারিনি । তবে আমার ধারনা তারা কিছু একটা অবশ্যই জানে । এবং যেটা তাদেরকে ভীত করে তুলছে ।” বলল সানি । “তাহলে একটা কাজ করো । তুমি একজন দোভাষীকে নিয়ে আজকে বিকালেই কাছের গ্রামটায় যাও । আর আমরা লেকটা সার্চ করবো ১০ টার দিকে । অল ক্লিয়ার ?” কর্নেল বললেন । সবাই সায় জানালো । সানি তাবু থেকে বেড়িয়ে এলো । হোটেলে ফিরে যেতে লাগলো । পথে একজায়গায় দেখলো সান্টু একটা পরিবারের সাথে হাটছে । বাবা , মা , আর দুটো ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে পরিবারটা । হয়তো কোন পর্যটক হবে । ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামালো না আর । (৮) হোটেলে পৌছে , লবি থেকে একটা পত্রিকা নিয়ে নিজের রুমে গেলো সানি । দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখলো সায়মা জেগে গেছে । মুখ ধুচ্ছে মেয়েটা । কিছু না বলে চুপচাপ ছোফায় বসে পত্রিকাটা পড়তে লাগলো সানি । “কোথায় গিয়েছিলে ?” সায়মা প্রশ্ন করলো । “শাহারিয়ারের কাছে । কাজ ছিলো ।” জবাব দিলো সানি । -কেনো গিয়েছিলে ? –লেকটা আজকে সার্চ করা হবে । ঐ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েছিলাম । – ও আচ্ছা । পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে সায়মার দিকে চেয়ে সানি বলল “টেমা । তোমার খুব বিরক্ত লাগছে তাই না ? ছুটি কাটাতে এসেই এভাবে একটা আজব ঘটনার সাথে জড়িয়ে গেলাম !” ড্রেসিং টেবিলের সামনে আয়নায় দেখে মাথা আচড়াচ্ছিলো সায়মা । সানির কথা শুনে মিষ্টি হাসি দিয়ে ফিরে তাকিয়ে বলল “জ্বি না টেমি সাহেব । আপনি আমার পাশে আছেন । এতেই আমি খুশি । আপনাকে তো কাছে পাওয়াই যায় না ।” তার কথা শুনে হাসলো সানি । হটাত্ চোখ পড়লো দেয়াল ঘড়ির দিকে । ৯.১৫ বাজে । “চলো চলো । নাস্তা করতে যাই । না হয় ১০ টার দিকে সার্চ পার্টিতে যেতে দেরি হয়ে যাবে ।” তাড়া দিলো সানি । চুল বাধা দ্রুত শেষ করে সায়মা উঠে দাড়ালো । দরজা লক করে দুজনে হোটেলের নিচতলায় নেমে এলো । খাওয়ার জায়গা এটাই । দক্ষিন দিকের একটা টেবিলে বসলো তারা । পাশের টেবিলে তাকিয়ে সকাল বেলার পরিবারটাকে দেখতে পেলো সানি । সায়মাকে নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গেলো সে । “Excuse me . . আপনারা কি এখানে আজই এসেছেন ?” জিজ্ঞেস করলো । “জ্বি । আমার নাম রিফাত আহমেদ । আর এই যে আমার ওয়াইফ শায়লা আহমেদ । আর এরা হলো নিয়াজ , নাফা ।” হাসিখুশি ভাবে নিজেদের পরিচর দিলো লোকটা । “আমি আরাফাত সানি । আর ও আমার ওয়াইফ সায়মা চৌধুরি । আপনারা কি ঢাকা থেকে এসেছেন ?” বলল সানি । “জ্বি । ঘুড়তে এসেছি । ছেলেমেয়ে দুটো স্কুলে পড়ে । আর আমিও ব্যাবসা নিয়ে ব্যাস্ত । তাই একটু সময় করে চলে এলাম । আর আপনারা ?” বলল রিফাত আহমেদ । “জ্বি আমরাও ঢাকা থেকে এসেছি । কেমন লাগছে এখানে ?” প্রশ্ন করলো সানি । “জায়গাটা সুন্দরই । তবে আদিবাসীদের ভাষা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে । তাছাড়া mainly যে জন্য আসা , বগা লেক দেখার জন্য সেটা হচ্ছে না । আর্মিরা যেতে দিচ্ছে না । কি যেনো সমস্যা আছে ।” বললেন ভদ্রলোক । সানি বুঝলো জায়গাটা সিল করে দেওয়া হয়েছে । “আপনারা এক কাজ করতে পারেন । এখানে আশে পাশেই অনেক সুন্দর ঝড়না আছে । সেগুলো দেখতে পারেন ।” বলল সানি । লোকটা হাসিমুখে জানালো যে তাদেরও এই পরিকল্পনাই ছিলো । কথা ওখানেই শেষ করে , নাস্তা খেয়ে সায়মাকে নিয়ে হোটেল থেকে বের হয়ে এলো সানি । সরাসরি বগা লেকের দিকে এগোলো । সবাই ওখানেই থাকার কথা ।

…………………………………………………..5……………………………………………………………….

লেকের পাড়ের কাছাকাছি তিনটি আর্মির ট্রাক দাড়িয়ে আছে । পুরো এলাকাটা ঘিড়ে রেখেছে সসস্ত্র আর্মি । লেকের পাড়ে দাড়িয়ে আছে শাহরিয়ার , কর্নেল আফসার , কমান্ডার জাওয়াদ আর ৬ জন ডুবুরি । নিজের পরিচয় দিয়ে সায়মা কে নিয়ে তাদের দিকে এগোলো সানি । ডুবুরিরা স্কুবা ইকুইপমেন্ট পরে নিচ্ছে । “রাসেল । খুব সর্তক থাকবে । মনে রেখো এখানে ১১ জন নিখোঁজ হয়েছে । ৬ জনের লাস পাওয়া গেছে । তারমানে এখানে কিছু একটা আছে ।” ডুবুরিদের ক্যাপ্টেনকে উদ্দেশ্য করে বললেন কমান্ডার । “yes sir . .” বলে বাকি ডুবুরিদেরকে কিছু নির্দেশ দিয়ে পানিতে ডাইভ দিলো ক্যাপ্টেন । সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে । ডুবুরিরা ডুব দিয়েছে । তাদেরকে আর দেখা যাচ্ছে না । আধ ঘন্টা পর ক্যাপ্টেন মাথা তুলল পানি থেকে । চিত্কার করে বলল “স্যার পানিতে প্রচুর আগাছা । সাতার কাটতে কষ্ট হচ্ছে , পায়ের ফ্লিপার আটকে যায় । ৭০ ফিট পর্যন্ত দেখতে পেরেছি । কিছুই পাই নি ।” সবাই বুঝলো ঐ ৭০ ফিটের নিচে নামা অসম্ভব । কর্নেলের সাথে কি যেনো কথা বললেন কমান্ডার । তারপর ডুবুরিদের অর্ডার দিলেন উঠে আসতে । ক্যাপ্টেন আশে পাশে ফিরে দেখলেন বাকি ৫ জন ডুবুরিও পানির সারফেসে উঠে এসেছে । সবাইকে তীরে পৌছানোর অর্ডার দিলো সে । হটাত্ লেকের একদম মাঝখানে একটা ঘন বুদবুদ উঠতে লাগলো । অনেকটা জলহস্তী যেভাবে বুদবুদ সৃষ্টি করে সেভাবে । শেষ ডুবুরির কাছাকাছি উঠেছে বুদবুদটা । অস্থির কন্ঠে তাকে সর্তক করলো কমান্ডার । লোকটা দ্রুত সাতার কাঁটতে শুরু করলো । কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কি যেনো তাকে পানির নিচ থেকে টান দিলো । লোকটার গগন বিদারী আর্তনাদ ভেসে আসলো । ঐ দিকের পানি মূহুর্তেই হয়ে উঠলো রক্তলাল । বাকি ডুবুরিরা ভয়ে আরো জোড়ে সাতার কাটঁতে থাকলো । ততক্ষনে শাহরিয়ার আর্মিদেরকে লেকের পাড়ে জড়ো করেছে । সবাই রাইফেল তাক করে আছে লেকের দিকে । ডুবুরিরা পাড় থেকে এখনো কয়েক মিটার দূরে । ঠিক তখনই আরেকবার হামলা চালালো জিনিসটা । ডলফিনের মতো পানি থেকে লাফ দিয়ে কয়েক সেকেন্ড শূন্যে ভাসলো তারপর ঝাপিয়ে পড়লো এক ডুবুরির উপর । জিনিসটার মুখ একদম মানুষের মতো , তবে মানুষের স্বাভাবিক মুখের তিনগুন বড় । দাতঁগুলো কুকুরের দাতের মতো , জিহবা গিরগিটির মতো লম্বা । সারা গায়ে পিচ্ছিল আঁশ । হাত এর কনুই পর্যন্ত মানুষের মতো বাকিটুকু থাবা । সীল মাছের থাবার মতো । পা মানুষের মতো কিন্তু কোমড় থেকে কুমিরের মতো খাঁজকাটা একটা লেজ আছে । দৃশ্যটা দেখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো সবাই । ঘোড় ভাঙ্গতেই শাহরিয়ার চিত্কার করে গুলি করার নিদের্শ দিলো । একসাথে গর্জে উঠলো অনেকগুলো G3 আর AK47 . . . প্রচন্ড শব্দে অসহ্য লাগছে সায়মার । কানে হাতচাপা দিয়ে মাটিতে বসে গেলো । সানি এগিয়ে গিয়ে শাহরিয়ারের কোমরের হোলস্টার থেকে একটা ফাইভ স্টার নিলো । তাক করলো লেকের দিকে । জন্তুটার গায়ে বোধহয় গুলি লেগেছে । চিত্কার করে উঠলো সেটা । চিত্কারটাও ভয়ঙ্কর । যেনো কেউ তীক্ষ বাঁশির শিস্ দিলো । রাইফেলের গুলির আওয়াজকে ছাপিয়ে গেলো সেই শিস্ । সবাই গুলি করা থামিয়ে কানে হাতচাপা দিলো । জন্তুটা পানি থেকে মাথা তুললো । সরাসরি জন্তুটার মুখ দেখতে পেলো সানি । মানুষের মতোই মুখটা । চুলের জায়গায় রয়েছে আঁশ । কপালটা ঠেলে বেড়িয়ে এসেছে বাইরে । নাকটা কুকুরের নাকের মতো । চোখগুলো ভয়াভয় । একদম সাদা , মনিহীন । হটাত্ বিদ্যুত্ বেগে জীহবাটা বের করলো জন্তুটা । কি যেনো ছুড়ে দিলো । তারপর ঝপ্ করে ডুব দিলো । ছুড়ে দেয়া জিনিসটা উঠে এসে ডাঙ্গায় পড়লো । গড়াতে গড়াতে গিয়ে থামলো একটা পাথরের গোড়ায় । এগিয়ে গিয়ে একজন সৈনিক জিনিসাকে বেয়নেট দিয়ে খোঁচা দিয়ে সোজা করলো । একটা মুন্ডু । গলাটা অসমানভাবে কাটাঁ । বুঝাই যায় কিছু একটা কামড় দিয়ে শরীর থেকে ছিড়ে নিয়েছে । এক ডুবুরির মুন্ডু । চোখগুলো খোলা , মনিতে মৃত্যুর আগে ভয়াভয় স্মৃতির আতংক এখনো যেনো বোঝা যায় । বিস্ফোরিত হয়ে আছে মনি । সায়মা সহ্য করতে পারলো না । অজ্ঞান হয়ে গেলো । দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরলো সানি । (১০) সায়মা চোখ মেললো । পিট্ পিট্ করে তাকালো চারিদিকে । হোটেলে নিজেদের রুমে আছে সে । দেখলো উদ্বিগ্ন মুখে তার দিকে চেয়ে আছে সানি । লজ্জ্বা পেলো সায়মা । বার বার ছেলেটাকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে ভেবে । “তুমি ঠিক আছো ?” জিজ্ঞেস করলো সানি । “হমম । তবে মাথাটা ব্যাথা করছে ।” বলল সায়মা । “তাহলে একটা প্যারাসিটামল আর একটা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুম দাও ।” বলল সানি । -“তুমি কোথায় যাবা ?” — পাশের আদিবাসী গ্রামটাতে । কিছু কাজ আছে । – আচ্ছা ঠিক আছে । সাবধানে থেকো । ঝুকে সায়মার কপালে একটা চুমো খেলো সানি । হাসিমুখে বলল “ঠিক আছে ।” দরজা খুলে বের হয়ে গেলো সানি । — বগা লেকের কাছেই আছে সাইকতপাড়া নামক একটা গ্রাম । এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে উচুঁ গ্রাম । সেদিকেই হাটছে সানি । সান্টুকে দেখতে পেলো । পাহাড়ি ছেলেদের সাথে খেলছে । ডাক দিলো না আর । সাইকতপাড়া গ্রামটা খুব বেশি বড় না । গ্রামে পাহাড়িরা একপাশে , বাঙ্গালিরা একপাশে থাকে । প্রধানত জুম চাষ এবং পর্যটকদের গাইড হিসেবে চাকরি করেই পেট চলে তাদের । প্রথমে পাহাড়িদের এলাকায় ঢুকলো সানি । কিন্তু কেউই তার সাথে কথা বলতে রাজি নয় । বগা লেকের নাম শুনলেই ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছে তারা । সানি বুঝলো , এখান থেকে কোন কিছু জানা যাবে না । বাংঙ্গালি পাড়ার দিকে এগোলো সে । কিন্তু ঐ একই অবস্থা । হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলো সানি । হটাত্ একজন ডাক দিলো পিছন থেকে । পিছনে ঘুরে সানি দেখলো বৃদ্ধ একজন লোক দাড়িয়ে আছে একটা লাঠিতে ভর করে । লোকটার বয়স আনুমানিক ৭০-৮০ হবে । “চাচা কি আমাকে কিছু বলছেন ?” জিজ্ঞেস করলো সানি । ” হ বাইজি । আফনারেই কইতেআছি । আফনে বগার কাহিনী জানতে চাইছিলেন না ? ” বলল বৃদ্ধ । “জ্বি । কিছু জানেন আপনি ?” প্রশ্ন করলো সানি । – হ বাইজি । মেলা কথাই তো জানি । — কি জানেন ? – কেডা এই খুনডি করতেআছে উগ্গা জানি । বাইজি আফনারে একটা কথা কই । আফনে আফামনিরে লইয়া এখান থুন চলি যান।
…………………………………………………..6……………………………………………………………….

– চাচা কি বলছেন এসব ? — হ বাইজি । এইখানে আত্মা আছে । সবাইরে মাইরা ফালাইবো সেইটা । লোকটার চোখে স্পষ্ট আতংক দেখতে পেলো সানি । – কিসের আত্মা ? — সম্ভু । সম্ভুর আত্মা । – সম্ভু কে ? — সম্ভু একটা বাঙ্গালি পোলা আছিলো । ৯-১০ বছর আগে এইহানে আইছিলো । পোলাডার লগে তার বউ আর ৫ বছরের একটা ছাওয়াল আছিলো । সবই ঠিক আছিলো । কিন্তুক সমস্যা একখানই , সম্ভু শয়তানের পূজা করতো । পোলাডার লগে সবসময় একটা গিরগিট থাইকো আর পিছে পিছে ঘুরতো একটা কুত্তা । – হমম । তারপর ? — আগে কুনু সমইস্যা আছিলো না । হটাত্ কইরা দেখা গেলো মানুষ নিখোঁজ হইতাছে । সবার লাসডি পাওয়া যাইতো লেকে । পচাঁ গলা । যেইডি পচঁতো না , হেইডিরে কেডা জানি খাইয়া রাখতো । মানুষ পরথমে ভাবছিলো কোন জন্তুর কাজ । কিন্তুক একরাইতে যহন একটা ৮ বছরের মাইয়া হারান গেলো ঐ দিনকা লেকের পাড়ে গিয়া সবাই দেখলো সম্ভু মাইয়াটারে মাইরা মাইয়াটার মাংস খাইতাছে । – তারপর ? — লোকজন তারে বাইন্দা লেকের ভিতরে চুবাইয়া মারছিলো । মরনে আগে সম্ভু সবাইরে কইছিলো যে তে আবার ফিরা আইবো । আবার মারবো হগ্গলরে । – সম্ভুর বউ আর ছেলেটা কোথায় ? — তারা এহানেই. . . . . হটাত্ করেই বৃদ্ধ চুপ হয়ে গেলো । তার চোখগুলোতে নগ্ন আতংক দেখলো সানি । বৃদ্ধ কিছু একটা দেখে ভয় পেয়েছে । ঝট্ করে মাথা ঘুরালো সে । একটা দরজার আড়াল থেকে একটা ছায়া সরে যেতে দেখলো । দৌড় দিলো সেখানে । কিন্তু কাওকে দেখতে পেলো না । আবার ফিরে এলো বৃদ্ধের কাছে । কিন্তু বৃদ্ধ আর কিছু বলতে রাজি হলো না । (১১) বৃদ্ধের কথাগুলো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে । কিন্তু লাসগুলোর অবস্থা দেখে আবার বৃদ্ধের কথা বিশ্বাস করতে মন চাচ্ছে । অনেকগুলো প্রশ্ন তার মনে । কোনটারই সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না । তাছাড়া সম্ভুর বউ আর ছেলেটা কে ? সেটাও জানা দরকার । মনে হচ্ছে তাদের কাছ থেকেই জানা যাবে । হাটতে হাটতে লেকের কাছাকাছি এসে গেলো সানি । হটাত্ নারীকন্ঠের একটা চিত্কার শুনতে পেলো সে । দৌড়ে গেলো শব্দের উত্স লক্ষ্য করে । গিয়ে এক বিভত্স দৃশ্য দেখতে পেলো । সে দেখলো লেক থেকে প্রায় ১০ হাত দূরে একটা অগ্নিকুন্ড । মিসেস আহমেদ আর ছোট মেয়েটা দাড়িয়ে আছে সেখানে । মিসেস আহমেদ চিত্কার করছেন । লেকের কাছাকাছি একটা জন্তু । হেটে যাচ্ছে সেটা । হাতের এক থাবায় মিস্টার আহমেদ এর নিথর দেহটা ধরা আর এক থাবায় মিস্টার আহমেদ এর ছেলে নিয়াজকে উল্টো করে ধরা । ছেলেটা বৃথা আস্ফোলন করছে ছাড়া পাওয়ার । একদম মানুষের মত হাটছে । লেজটা দেখা গেলো না । পানির কাছাকাছি পৌছে গেছে জন্তুটা , মিস্টার আহমেদকে ছুড়ে দিলো লেকের প্রায় মাঝখানে , আর নিয়াজকে এবার দু থাবায় ধরলো সেটা । সানি বুঝতে পারছে তারপর নিয়াজকে খাবে জন্তুটা । মাথায় রক্ত উঠে গেলো সানির । মাটিতে পরে থাকা একটা মোটা গাছে ডাল হাতে নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে দৌড় দিলো জন্তুটাকে লক্ষ্য করে । জন্তুটা নিয়াজকে খাওয়া বাদ দিয়ে পিছনে ফিরলো । সানি এবার স্পষ্ট দেখতে পারলো জন্তুটার মুখ । পুরোপুরি একটা মানুষের মুখই , কোটরে জ্বলজ্বল করছে চোখের মনি । ঐ দিন যখন দেখেছিলো তখন কোন মনিই ছিলো না , এখন চোখে শ্বাপদের চোখের মতো মনি দেখতে পেলো সানি । জন্তুটার মুখের মাংস পচাঁ । গলে গলে পরছে । জন্তুটার উচ্চতা প্রায় ৭ ফুট হবে । কাছাকাছি পৌছে গেলো সানি । জন্তুটা নিয়াজেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো । নিয়াজ কাগজের মতো উড়ে গিয়ে ধপ্ করে শক্ত মাটিতে আছাড় খেলো । মিসেস আহমেদ দৌড়ে গেলেন ছেলের কাছে । সানি ডালটা মাথার উপরে তুলল সজোরে নামিয়ে আনতে চাইলো জন্তুটার বুক বরাবর , কিন্তু তার আগেই একটা থাবা বাড়িয়ে ডালটা ধরে ফেলল জন্তুটা । আরেক থাবা দিয়ে গলা চিপ দিয়ে ধরলো সানির । প্রচন্ড শক্তিতে সানিকে মাটি থেকে কয়েকফুট উপরে উঠিয়ে ফেলল জন্তুটা । সানি বাতাসের জন্য ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো খাবি খেতে লাগলো । ঠিক এই সময় লেক থেকে পানিতে দাপাদাপির শব্দ ভেসে আসলো । জন্তুটা ঝট্ করে সেদিকে দেখলো , সানিকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো । তারপর পানিতে নেমে গেলো । সানি উড়ে গিয়ে বারি খেলো একটা পাথরের সাথে । সানির দাড়াতে কষ্ট হচ্ছে । অসহায়ভাবে দেখলো জন্তুটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মিস্টার আহমেদের দিকে । দৌড় দিয়ে পানিতে নামতে চাইলো সানি , কিন্তু শক্তি পাচ্ছে না সে । পৌছে গেলো জন্তুটা । গগন বিদারী মরন আর্তনাদ ভেসে এলো লেক থেকে । মিসেস আহমেদও চিত্কার করে উঠলেন । হতাশায় , রাগে মুষরে পরলো সানি । চিত্কার করে উঠতে ইচ্ছা করলো । গলা দিয়ে কোন স্বরই বের হলো না । তার চোখের সামনের পৃথিবিটা যেনো হটাত্ মুছে গেলো । ধূসর একটা পর্দা ডেকে দিলো তার দৃষ্টিশক্তি । সানি বুঝতে পারলো যে সে জ্ঞান হারাচ্ছে । জ্ঞান হারানোর আগমূহুর্তে যেনো শুনতে পেলো অনেকগুলো বুটের শব্দ । — সপ্ন দেখছে সানি । দেখলো তার মা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে । মায়ের কথা মনে পরছে তার । মনে হচ্ছে মাকে অনেকদিন দেখা হয়নি তার । সায়মাকে দেখলো । মেয়েটা বৃষ্টিতে ভিজছে । আর তাকে ডাকছে । “সানি , এই সানি ।” . . . চোখ পিট্ পিট্ করে দেখলো সানি । সামনে সায়মাকে দেখতে পেলো সে । উদ্বিগ্ন চোখে দেখছে সানিকে । ধড়মড় করে উঠে বসতে গেলো সানি , পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা ! “আহ্ এভাবে উঠতে যেও না , তোমার মেরুদন্ডের উপর অনেক বড় একটা প্রেসার গিয়েছে , ভাগ্য ভালো যে হাড্ডি ভাঙ্গেনি । তবে এভাবে মুভ করলে সমস্যা হতে পারে ।” বলল সায়মা । সানির মুখ ব্যাথায় বিকৃত হয়ে গেছে । আধশোয়া হলো সে । সে একটা সাদা বেডে শোয়া , অনেক বড় একটা তাবুর ভিতরে আছে সে । বুঝতে পারলো সে এখন আর্মির অস্থায়ী হাসপাতালে আছে । হটাত্ তার মিসেস আহমেদের কথা আর বাচ্চা দুটোর কথা মনে হলো । সায়মাকে জিজ্ঞেস করলো তাদের কথা । সায়মা বিমর্ষ কন্ঠে বলল “মিসেস আহমেদ সেন্সলেস । নিয়াজকে বাচাতে পারি নি । তার ফুসফুস আর পাকস্থলি ফুঁটো হয়ে গেছে । নাফা চুপচাপ বসে আছে । একদম পাথর হয়ে গেছে । আর. . ” এতটুকু বলে থেমে গেলো সায়মা । “আর কি ?” প্রশ্ন করলো সানি । “আর মিস্টার রহমানে লাস পাওয়া গেছে । কোমর থেকে নিচের অংশ টেনে ছিড়ে ফেলা হয়েছে তার ।” ভয়ার্ত গলায় বলল সায়মা
…………………………………………………..7……………………………………………………………….
পরদিন সন্ধ্যা । শুয়ে আছে সানি । পিঠের ব্যাথাটা এখন অনেক কম । সোজা হয়ে বসতে পারছে , হাটতেও পারছে । সারাটা দিন শুয়েই ছিলো । সায়মার কড়া নিদের্শ । আর এভাবে থাকতে ভালো লাগছে না । তাবুতে ঢুকলো শাহরিয়ার । মুখে শুকনো হাসি ফুটিয়ে বলল “কিরে দোস্ত এখন কেমন আছিস ?” সানিও একটু হেসে বলল “দানবের সাথে যুদ্ধ করে যেমন থাকা যায় তেমনই আছি ।” “sorry দোস্ত । তোর এই অবস্থায় জন্য আমিই দায়ি ।” বলল শাহরিয়ার । “আরে ধূর বেকুব । কেনো যে নিজেকে দোষ দিচ্ছিস ! আমাদের লাইফটাই এমন । জীবনটা হাতে নিয়ে ঘুরতে হয় । জানিস দোস্ত । মাঝে মাঝে মনে হয় সায়মাকে বিয়ে করে ওর জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছি আমি । মেয়েটা মাঝে মাঝে অনেক কষ্ট পায় । আমাকে বলে না ।” বলল সানি । “ভাবি তোকে অনেক ভালবাসে রে ।” হেসে বলল শাহরিয়ার । মুচকি হেসে সানি বলল “হমম জানি । সে জন্যই ভয় হয় । আমার জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই । কখন যে মরে যাব ঠুস্ করে ! ও তখন কি করবে আল্লাহই জানে ।” সায়মাকে আসতে দেখে চুপ হয়ে গেলো সানি । কাছাকাছি এসে সায়মা জিজ্ঞেস করলো “কি ব্যাপার , কি কথা হচ্ছে দুই বন্ধুতে ?” “না কিছু না । এমনিতেই কথা হচ্ছিলো ।” বলল সানি । “আরে নাহ্ । সানি আমাকে আপনাদের love story নিয়ে একটা ধারনা দিচ্ছিলো ।” হাসতে হাসতে বলল শাহরিয়ার । চোখ পাকিয়ে শাহরিয়ারের দিকে তাকালো সানি । সায়মা লাজুকভাবে হাসছে । ঠিক তখনই তাবুর বাইরে থেকে জোড়ে একটা চিত্কার ভেসে আসলো “মেজর সাব , মেজর সাব ।” শাহরিয়ার তাবুর কানাটা উচুঁ করে ধরলো । সান্টু দাড়িয়ে আছে । ছেলেটাকে ভীত মনে হচ্ছে । কাদঁছে সে । “কি হয়েছে সান্টু ?” জিজ্ঞেস করলো শাহরিয়ার । “স্যার , স্যার বাজান আমার মায়েরে লইয়া যাইতেআছে । চলেন স্যার , দয়া কইরা বাঁচান আমার মায়েরে ।” কান্না জড়ানো গলায় বলল সান্টু । শাহরিয়ার অবাক হলো । সান্টুর তো বাবা নেই ! ! তাহলে সে কাকে বাজান বলছে ! সানির দিকে ফিরলো সে । সানিও বিমূঢ় দৃষ্টিতে চেয়ে আছে । চোখের ইশারায় কথা হয়ে গেলো । বেড থেকে নামলো সানি । টেবিল থেকে ছোঁ দিয়ে উঠিয়ে নিলো দুটো রাইফেল । একটা ঢিল দিলো শাহরিয়ারের দিকে । আরেকটা নিজে নিয়ে , সায়মা কিছু বলার আগেই তাবু থেকে বের হয়ে গেলো সে । সান্টু দৌড়াচ্ছে । তার পিছন পিছন ছুটছে শাহরিয়ার আর সানি । বাক ঘুড়লেই লেকটা পাওয়া যাবে । ঠিক ঐসময়ই জন্তুটাকে দেখতে পেলো তারা । চাঁদের আলোয় চকচক করছে জন্তুটার গায়ের আশঁগুলো । একটা থাবা দিয়ে ধরে রেখেছে একটা মহিলার গলা । মহিলা হাসফাস করছে বাতাসের জন্য । সান্টুকে বাধা দেওয়ার আগেই দৌড় দিয়ে পৌছে গেলো জন্তুটার কাছে । জন্তুটার পিঠে হাত দিয়ে ঘুষি মারছে সে । আর চিত্কার করছে সে “মায়েরে ছাড় । ছাড় আমার মারে ।” শাহরিয়ার আর সানি গুলি করতে পারছে না সান্টু আর তার মায়ের গায়ে লেগে যাবার ভয়ে । জন্তুটা ঘুড়ে সান্টুকে একটা থাবা দিয়ে বারি দিলো । সান্টু উড়ে গিয়ে একটা গাছের ডালে বারি খেলো । আবার হাটা ধরলো জন্তুটা । আর অপেক্ষা করলো না শাহরিয়ার আর সানি । গুলি করতে শুরু করলো । তারা অবাক হয়ে দেখলো প্রত্যেকটা গুলি জন্তুটার দেহ এফোঁড় ওফোঁড় করে বের হয়ে যাচ্ছে । তবুও জন্তুটার কিছু হচ্ছে না । ক্ষতস্থানগুলো আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে । জন্তুটা ততক্ষনে লেকের পানিতে নেমে গেছে । দৌড়ে সেদিকে এগোলো শাহরিয়ার আর সানি । কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে । পানিতে অনেক দূর চলে গেছে সেটা । মহিলাটা শেষ মূহুর্তে আর্তনাদ করে উঠলো । তারপর সবকিছু একদম নিরব । হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলো শাহরিয়ার আর সানি । সান্টুর মাথা ফেটে গেছে । ওকে নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে যেতে লাগলো শাহরিয়ার আর সানি । সানির মনে একটা সম্ভাবনা খোচাঁ দিচ্ছে বারবার । (১৩) সান্টুর মাথায় ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে সায়মা । ছেলেটা এখনো অজ্ঞান । “কিরে ? কি ভাবছিস এতো ? সানিকে জিজ্ঞেস করলো শাহরিয়ার । “হমম । আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি ।” বলল সানি । “কি ব্যাপার ?” জিজ্ঞেস করলো শাহরিয়ার । “জন্তুটার চোখ দেখছিস ?” বলল সানি । “না খেয়াল করি নাই ।” জবাব দিলো শাহরিয়ার । “দোস্ত । আমাকে পাগল ভাবিস না । তবে আমার মনে হয় ওটা অশরীর কিছু । জন্তুটার চোখ দেখেছি আমি । এই পর্যন্ত তিনবার দেখছি । প্রথমবার চোখের কোন মনি ছিলো না , দ্বিতিয়বার চোখের মনি ছিলো এবং তা শ্বাপদের মতো । আর আজকে . . ” এতটুকু বলে থেমে গেলো সানি । “হমম বল ।” শাহরিয়ার বলল । “আর আজকে একদম মানুষের চোখের মনির মতো । আমার ধারনা ঐ চোখের মনিটাই তার দুর্বলতম অংশ ” বলল সানি । “খেয়াল করি নি । তবে আমারও মনে হয় যে ওটা স্বাভাবিক কোন জিনিস না । দেখেছিস ? বুলেট ঢোকার পর আবার কিভাবে বুজে গেলো ফুঁটোগুলো ?” বলল শাহরিয়ার । “হমম । যেভাবেই হোক জিনিসটাকে থামাতে হবে । না হয় আরো অনেক মানুষের বলি দিতে হবে ।” বলল সানি । “উফ্ ! ! আর ভাল লাগে না । চল্ চা খেয়ে আসি ।” বলল শাহরিয়ার । “হমম চল্ ।” বলল সানি । শাহরিয়ার তাবুর কানা উঠিয়ে বাইরে গেলো । সায়মাকে বলে সানিও বাইরে বেড়িয়ে এলো । একটু দূরেই আর্মি ক্যান্টিন । সেখানেই হাটছে তারা । হটাত্ পিছনে চিত্কার শুনলো । ঝট্ করে পিছনে ফিরলো । দেখলো তাবু থেকে বেরিয়েই লেকের দিকে দৌড় দিলো সান্টু । সান্টুর পিছনে দৌড়াচ্ছে সায়মা । বুকটা ধক্ করে উঠলো সানির । তাদেরকে ধরার জন্য সেও দৌড় দিলো । সায়মা একনাগাড়ে ডেকে যাচ্ছে সান্টুকে । বার বার থামতে বলছে । কিন্তু ছেলেটা দৌড়েই যাচ্ছে । চোখ দিয়ে পানি পরছে তার । দৌড়াতে দৌড়াতে লেকের কাছাকাছি পৌছে গেলো সে । চিত্কার করে ডাকতে লাগলো তার মা কে । দৌড়ে সায়মার কাছাকাছি পৌছাতে চাইছে সানি । সায়মাকে ডাকছে একনাগাড়ে । কিন্তু সায়মা যেনো শুনছেই না । সান্টুর প্রায় কাছাকাছি পৌছে গেছে সায়মা । ঠিক এইসময় পানি থেকে যমদূতের মতো উঠে এলো জন্তুটা । জিনিসটা সান্টুকে এক থাবায় ফেলে দিলো মাটিতে । আর সায়মার গলা আরেক থাবা দিয়ে চেপে ধরলো জন্তুটা । দৌড়ে এসে জন্তুটার মুখে ঘুষি চালালো সানি । হাতের সাথে লেগে আছে পচাঁ মাংস । অবাক হয়ে সানি দেখলো জন্তুটার মুখের মাংস আবার আগের মতো হয়ে গেলো । সায়মাকে লেকের দিকে ছুড়ে দিলো সেটা ।
…………………………………………………..8……………………………………………………………….

সায়মাকে ছুড়ে দেওয়ার পর সানির দিকে ফিরলো দানবটা । ওটার চোখ দুটোতে কোন মনি দেখতে পেলো না সানি । হটাত্ দুথাবায় ধরে একটানে সানিকে শূন্যে তুলে ফেললো জন্তুটা । তারপর বিশাল হাঁ করলো । সানি বৃথা আস্ফোলন করতে লাগলো ছাড়া পাবার । চোখের সামনে ক্ষুরধার দাতগুলোকে তার মুখ বরাবর আসতে দেখলো সে । ঠিক এই সময় দানবটা চিত্কার করে উঠলো । তীখ্ন শিষ্ বেড়িয়ে এলো ওটার গলা দিয়ে । সানিকে ছুড়ে ফেলে দিলো জন্তুটা । সানি উড়ে গিয়ে ধাক্কা খেলো একটা গাছের ডালের সাথে । প্রচন্ড জোড়ে মাথা ঠুকে গেলো গাছের সাথে লেগে । কিছুক্ষনের জন্য চোখে অন্ধকার দেখলো সে । চোখের কোন দিয়ে দেখতে পেলো সান্টু দানবটার পায়ে কি যেনো গেঁথে দিয়েছে । ব্যাথায় চিত্কার করছে দানবটা । সান্টু একটা পাথর দিয়ে অনাবড়ত বারি মারছে জন্তুটার গায়ে । সায়মার চিত্কার শুনতে পেলো সানি । মেয়েটা লেকের পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে । বহু কষ্টে নিজের শরীরটাকে টেনে নিয়ে পানিতে ফেললো সানি । সাতরে যেতে লাগলো সায়মার দিকে । মেয়েটা এখনো হাবুডুবু খাচ্ছে । সায়মাকে জড়িয়ে ধরলো সানি । অভয় দিলো তাকে । তারপর সায়মার পেটে হাতের চাপ বারিয়ে টেনে আনতে লাগলো ডাঙ্গার দিকে । ডাঙ্গায় তখন আরেক দৃশ্য । দানবটা সান্টুকে দু থাবায় ধরে রেখেছে । সান্টু চিত্কার করছে । লাথি মারছে জন্তুটাকে লক্ষ্য করে । কিছুই হচ্ছে না ওটার । হটাত্ সান্টুকে ঘুরিয়ে সান্টুর মাথা এক থাবায় আর পা আরেক থাবায় ধরে টান দিলো দানবটা । সাথে সাথে দু টুকরো হয়ে গেলো সান্টুর দেহ । ততক্ষনে পাড়ে পৌছে গেছে সানি আর সায়মা । সায়মা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে । সানিও আর তেমন সুস্থ বোধ করছে না । দানবটা এগিয়ে আসছে তাদের দিকে । সানি অসহায়ভাবে চেয়ে আছে । তাদের সামনে নিশ্চিত মৃত্যু । দানবটা মাত্র আর কয়েকফুট দূরে , ঠিক এসময় একসাথে অনেকগুলো রাইফেল গর্জে উঠলো । ঝাজরা হয়ে গেলো দানবটার শরীর । তবুও ওটা এগোচ্ছেই । হটাত্ তীখ্ন একটা শীষ্ দিয়ে উঠলো দানবটা । সানি দেখতে পেলো দানবটার চোখের কাছাকাছি একটা বুলেট লেগেছে । বুঝতে পারলো চোখ আর পায়ের পাতাই দানবটার দুর্বল অংশ । চিত্কার করে সানি বলল “চোখ লক্ষ্য করে গুলি করো . . .. . . ” গুলির দিক বদলে গেলো । দানবটার চোখ সই করে গুলি করা হচ্ছে । গগন বিদারী আর্তনাদ করে উঠলো সেটা । আরো একটু আগালো । হটাত্ বিদ্যুত্ বেগে দানবটার জিহবাটা বের হলো , জড়িয়ে ধরলো সায়মার পা । সানি প্রানপনে আঘাত করতে চাইলো সেটাকে । থাবার এক ধাক্কায় লেকের পাড়ের কাছাকাছি উড়ে গিয়ে একটা পাথরের উপর পরলো সে । ডান পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেলো তার । জন্তুটা এখন পা টেনে টেনে হাটছে । সায়মাকে এখন থাবার মধ্যে ধরে রেখেছে । সায়মার দেহ নিথর । অসহায় ভাবে উপুর হয়ে ঝুলছে তার দেহটা । সানি মরিয়া হয়ে উঠেছে । হটাত্ পাশেই কি যেনো চকচক করে উঠলো , হাতে নিয়ে দেখলো ওটা একটা সার্জিক্যাল নাইফ । সে বুঝলো এটা দিয়েই দানবটাকে আঘাত করেছিলো সান্টু । ছুড়িটাকে ডানহাতের তর্জনি আর মধ্যমার মধ্যে চেপে ধরলো সে । কমান্ডো ট্রেনিং এর সময় নাইফ থ্রোয়িং শিখেছিলো সে । নিশানা ঠিক করে ছুড়ে দিলো ছুড়িটাকে । নিখুঁত নিশানা , দানবটার বাম চোখে গেঁথে গেলো ছুড়িটা । আর্তনাদ করে উঠলো সেটা । সায়মাকে ছেড়ে দিলো । ততক্ষনে আর্মিরা কাছাকাছি এসে গেছে । দানবটাকে লক্ষ্য করে প্রচন্ড গুলি করছে । দানবটা তীখ্ন একটা শিষ্ দিয়ে ঝাপিয়ে পরলো পানিতে । (১৪) লেকের পাড়ে দাড়িয়ে আছে মেজর শাহরিয়ার , সানি আর সায়মা । ঐ রাতের পর সানি আর সায়মাকে চট্ট্রোগ্রাম পাঠানো হয় দ্রুত । প্রায় দুমাস লেগেছে সানির পা ঠিক হতে । সানির পা ঠিক হবার পর আবার ফিরে আসে তারা বান্দরবানে । “জানিস সানি ? ঐ দিনের পর থেকে আর কোন মানুষ মারা যায়নি ।” বলল শাহরিয়ার । “হমম । সান্টুর লাসটা কবর দিয়েছিলি ?” বলল সানি । “হ্যা । কিন্তু . . ” বলে থেমে গেলো শাহরিয়ার । “কিন্তু তার লাসটা কয়েকদিন পর মাটি খুড়েঁ কেউ নিয়ে গেছে তাই তো ?” প্রশ্ন করলো সানি । “হ্যা । কিন্তু তুই কিভাবে জানলি ?” অবাক হয়ে বলল শাহরিয়ার । “দানবটা আর কেউ নয় , সান্টুর বাবা সম্ভু ছিলো । লোকটা প্রেতসাধনা করতো । হয়তো ঐ প্রেতসাধনার কারনেই এই অস্বাভাবিক জন্তুতে পরিনত হতে পেরেছে সে । সে এতো বছর পর আবার ফিরে এসেছিলো তার উপর অত্যাচারকারীদের শাস্তি দিতে আর তার পরিবারকে নিয়ে যেতে ।” বলল সানি । অবাক হয়ে সানির দিকে চেয়ে রইলো সায়মা আর শাহরিয়ার । পিছন থেকে এক সৈনিক বলে উঠলো “স্যার চলেন । গাড়ি তৈরি ।” শাহরিয়ার বলল “চল্ । তোদের ঢাকা যাওয়ার গাড়ি ready ।” সবাই হাটতে লাগলো গাড়ি লক্ষ্য করে । হটাত্ কি যেনো মনে হওয়ায় লেকের দিকে ফিরলো সানি । পানিতে একটা মৃদু আলোড়ন । যেনো এইমাত্র কেউ ডুব দিয়েছে । সানির মনে হলো , লেকটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে । মৃত্যুর হাতছানি ।
(সমাপ্ত)
(কিছু না বলা তথ্য) : বগা লেকের বাস্তবে এমন কোন কাহিনি নেই । এটা সম্পূর্ন কাল্পনিক । তবে এটা নিয়ে দেওয়া তথ্যগুলো সত্য । আরেকটা মজার তথ্য হলো বগা লেকের পানির রঙ পরিবর্তন হয় বছরে কয়েক মাস । ধারনা করা হয় এমনটা হয় অণুজীব কিংবা প্ল্যাঙ্কটনের কারণে । তবে আর্শ্চযের ব্যাপার হলো, একই সময় পরিবর্তিত হয় আশপাশ অন্যান্য জলাশয়ের পানির রঙও । স্থানীয়রা ধারণা করেন, বগা লেক থেকে এক বা একাধিক আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার তৈরি হতে পারে ।

THE END

Send Your Story at: littlejimmy555@gmail.com
or
send story via Facebook: www.facebook.com/phusaka

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + fifteen =