Horror Tune 29: ।। অশুভ ।।

0
271
Horror Tune 29: ।। অশুভ ।।

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
Horror Tune 29: ।। অশুভ ।।

যিনি ঘটনাটি জানিয়েছেনঃ ধূসর সময় (Dhusor Somoy)

আজ আপনাদের সাথে যে গল্পটি শেয়ার করছি, তা আমি আমার এক ফ্রেন্ডের কাছ থেকে শুনেছি। গল্পের সত্য মিথ্যা যাচাই করার ব্যাপারে আমি কিছু বলতে রাজি নই। তবে আমি আমার সেই ফ্রেন্ডকে বিশ্বাস করি এবং সে মিথ্যা বলে না এতটুকু আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

………………………………………………………….1…………………………………………………………..

২০০৪ সালের ঘটনা। আমার ফ্রেন্ডের নাম জয়। সে দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতো। তো, ভার্সিটি বন্ধ থাকায় সে এবং তার কিছু বন্ধু মিলে তাদের এক ফ্রেন্ড বিনয়ের বাসায় যাবার সিদ্ধান্ত নিলো। নির্দিষ্ট দিনে তারা ট্রেনে চড়ে বসলো। বিনয়ের বাড়ি ছিল উত্তর প্রদেশ। প্রায় ৭ ঘণ্টার ভ্রমন শেষে তারা সবাই বিনয়ের বাড়ি গিয়ে পৌঁছল। এতো দীর্ঘ পথ ভ্রমন শেষে সবাই খুব ক্লান্ত ছিল। তাই সেদিন খাওয়া দাওয়া শেষ করে তারা সবাই একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লো।

পরদিন জয়, বিনয় এবং তাদের অন্য বন্ধুরা মিলে ঘুরতে বের হল। সারাদিন তারা নানা জায়গায় ঘুরোঘুরি করলো তাই বাসায় পৌছাতে দেরি হয়ে গেলো। ফেরার পথে তারা মেইন রোড দিয়ে না এসে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে শর্টকাট মারার প্ল্যান করলো। তাদের সাথে বাইক ছিল তিনটি। মাঝ রাস্তাতে এসে হটাত করে তিনটি বাইক একসাথে বন্ধ হয়ে যায়। চারিদিকে কেমন যেন জমাট বাধা নীরবতা। ঝি ঝি পোকার ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। হালকা করে বাতাস বইছিল। এই পরিবেশে তিনটি বাইক একসাথে বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তারা একটু ভয় পেয়ে গেলো। এর কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছিলো না। বাইক চেক করে দেখল বাইকের সবই ঠিক আছে। এই নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল। এমন সময় তারা হটাত লক্ষ্য করে কোনও এক ফাঁকে বিনয় তাদের মধ্য থেকে নেই হয়ে গেছে। কিছুটা এদিক ওদিক তাকানোর পর তারা লক্ষ্য করলো কাছে কোথাও থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। জয় খেয়াল করলো, বিনয় রাস্তা থেকে একটু দূরে একটা কুয়ার পাশে বসে হাত নাড়ছে এবং তাদের ডাকছে। সবাই একটু ভয় পেয়ে গেলো। তারা বিনয়কে ডাকল, কিন্তু বিনয় শুনল না, এমনকি উত্তর ও দিলো না। এরপর সাহস করে জয় এবং তাদের আরেক ফ্রেন্ড বিনয়ের কাছে গেলো এবং তাকে উঠার জন্য তাগাদা দিলো। কিন্তু বিনয় তাদের কথার পাত্তাই দিলো না। জয় সাহস করে বিনয়কে শক্ত করে ধরে ঝাকি দিলো এবং বলল, “আমাদের সাথে কথা বলছিস না কেন?” বিনয় তার পাশের কিছু একটাকে দেখিয়ে উত্তর দিলো, “দোস্ত দেখ, এতো রাতে এই মেয়েটা একা রাস্তার পাশে বসে কান্না করছে তাই একে সান্ত্বনা দিচ্ছি!” জয় সেখানে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না। পরিস্থিতি বুঝে জয় বলল, “এখন চল, আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে!” কিন্তু বিনয় বলল, “দোস্ত, আরেকটু থাকি। ও খুব একা। প্লিজ, আমাকে আরেকটু থাকতে দে!” জয় কিছু না বলে এক প্রকার জোর করে ওরা ২জন(জয় এবং ওদের আরেক ফ্রেন্ড) মিলে বিনয়কে টেনে নিয়ে সরিয়ে আনল। এইসময় বাইকের কাছে পৌঁছে তারা আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলো, তিনটি বাইকই ঠিক হয়ে গেছে। তারা দেরি না করে বাইকে চড়ে দ্রুত জঙ্গল ত্যাগ করলো।

………………………………………………………………2……………………………………………………

সেদিন রাতে আর কিছুই ঘটেনি। পরদিন সব স্বাভাবিক। তারা এদিনও ঘুরতে বের হল এবং সন্ধ্যার একটু পড়ে ফিরে এলো। খানিকক্ষণ গল্পগুজব করে তারা জলদি জলদি শুয়ে পড়লো। ভোর ৪ টার দিকে জয়ের ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং সে গেট লাগানোর আওয়াজ শুনতে পায়। একটু পর সে খেয়াল করে বিনয় ঘরে ঢুকে চুপচাপ শুয়ে পড়ছে। জয় কিছু বলে না। সকালে উঠে জয় বিনয়কে জিজ্ঞেস করে, “গতকাল রাতে তুই কোথায় গিয়েছিলি?” বিনয় উত্তর দেয়, “সেই মেয়েটার কাছে। সে আমাকে ডাকছিল। তাই আমি না গিয়ে থাকতে পারি নি। ও অনেক ভালো আর অনেক সুন্দর। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে ছাড়া আমি বাচব না।”

জয় কথাগুলো শুনে একটু ভয় পেয়ে গেলো। সে এটা তার অন্য বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলো এবং তারা সবাই বুঝতে পারলো যে বিনয় খারাপ কিছুর পাল্লায় পড়েছে। তারা সবাই মিলে বিনয়কে কথা বুঝাল এবং এও বুঝাল যে সে যেনও রাতে একা বাইরে না যায়। তারা এও বলল, মেয়েটা তাকে শুধু রাতেই কেন ডাকে? কেন সবার সামনে আসে না? বিনয় তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং বলল, “ঠিক আছে, আমি যাবো না।”

সে রাতে তারা সব বন্ধুরা মিলে পাহারা দিলো যাতে বিনয় বাইরে যেতে না পারে। মাঝরাতে তারা সবাই একটা অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পেলো এবং দেখল, সেই আওয়াজের সাথে সাথে বিনয় কেমন যেনও অদ্ভুত আচরণ শুরু করলো। যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বাইরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়ছে এবং বারবার বলতে লাগলো, “আমাকে যেতে দে প্লিজ। ও কাঁদছে, আমাকে ডাকছে। প্লিজ আমাকে যেতে দে।” কিন্তু তার অন্য বন্ধুরা তাকে যেতে দিলো না। এভাবে দুদিন পার হল। দুইরাত পরপর জেগে থেকে তারা সবাই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই তারা ক্লান্তির ফলে তৃতীয় রাতে ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন জয় ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারলো যে বিনয় গত রাতে যেভাবেই হোক বাইরে গিয়েছিলো। কারণ তার চেহারায় একটা খুশি খুশি ভাব স্পষ্ট। সব স্বাভাবিক। জয় এবং তার বন্ধুরা এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করলো এবং সিদ্ধান্ত নিলো যে আজ রাতে তারা সবাই বিনয়ের পিছে যাবে। তারা খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়ার ভান করলো। ১২ টার পর বিনয় বের হলে ওরা ৫ জন ফ্রেন্ড মিলে বিনয়ের পিছু নিলো। তারা সাথে করে লোহা নিলো, কারণ তারা শুনেছে লোহা থাকলে নাকি ভূত প্রেত কিছু কাছে আসে না। যাই হোক, বিনয় একটানা চলতে লাগলো যতক্ষণ না তারা সেই কুয়াটার পাশে পৌঁছল। নিলয় ঐদিনের মতই বসে পড়লো। বাকিরা আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখছিল কি হয়। একটু পর এক সাদা ড্রেস পড়া অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে এসে উপস্থিত। মেয়েটা এসেই বিনয়ের কলের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লো এবং বিনয়ের গলায় হাত রাখল। কিন্তু তার গলায় হাত রাখার ভঙ্গিটা একটু অদ্ভুত ছিল। এতক্ষণ বাকি ফ্রেন্ডরা মেয়েটির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ ছিল, কিন্তু যেইমাত্র মেয়েটি বিনয়ের গলায় হাত রাখল, তখনই তারা সামনে এগুনর সিদ্ধান্ত নিলো।

……………………………………………………………………….3………………………………………………………………

ওরা সাহস করে সামনে গেলো আর লোহাটাকে হাতে রাখল। জয় এবং তার অন্য বন্ধুরা গডের নাম নিচ্ছিল জোরে জোরে এবং পাশাপাশি বিনয়ের নাম ধরে ডাকছিল। ওদের দেখেই মেয়েটি চিৎকার করে উঠলো এবং বলল, “তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছো। তোমার বন্ধুদের এনেছ। এর ফল ভালো হবে না। এই বলে মেয়েটির চেহারা খুব দ্রুত বদলাতে লাগলো এবং এক সময় ভয়ঙ্কর এক কুৎসিত মুখে পরিণত হল। তারা বিনয়কে টেনে সরিয়ে নিলো এবং লোহাটা সামনে ধরে জোরে জোরে গডের নাম নিতে লাগলো। তাদের এই চেষ্টা দেখে মেয়েটি বলল, “এখন তো আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু তোদের বন্ধুকে আমি বাঁচতে দিবো না। আমি আবার ফিরে আসবো এবং তোদের বন্ধুকে নিয়ে যাবো।” এই বলে মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনা দেখার সাথে সাথে বিনয় জ্ঞান হারায়। তারা কোনমতে কষ্ট করে বিনয়কে বাসায় নিয়ে আসে। তাদের কাছে মেইন গেটের চাবি ছিল বলে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিনয়কে নিয়ে সরাসরি রুমে চলে আসে। এরপরে কয়েকদিন বিনয় খুব ছটফট করতো বের হবার জন্য, কিন্তু তারা বের হতে দেয়নি। আস্তে আস্তে বিনয় স্বাভাবিক হয়ে উঠে। এর কয়েকদিন পর ওদের ছুটি শেষ হয়ে গেলো। তাই তারা ফিরার জন্য রেডি হল। কিন্তু বিনয়ের বাবা জানালো যে বিনয়ের মার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। তাই তিনি বিনয়কে আরও কিছুদিন থেকে যেতে বললেন। জয় বিনয়কে বলল যে তার বাবা মাকে ব্যাপারটা জানাতে, কিন্তু বিনয় বলল, লাগবে না। আমি এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছি। বিনয়ের ভরসা পেয়ে তারা বিদায় জানিয়ে চলে এলো। ট্রেনে উঠার পর জয় একবার বিনয়কে ফোন করে খোঁজখবর জেনে নেয়। এরপর বিভিন্ন ঝামেলার কারণে ৩ দিন তাদের মধ্যে কথা হয় না। ৩ দিন পর বিনয়ের কথা মনে পড়ায় জয় একটু চিন্তিত হল এবং বিনয়কে ফোন দিলো। কিন্তু বিনয়ের নাম্বার বন্ধ ছিল। এরপর সে বিনয়ের বাবার নাম্বারে ফোন দিলো। নিজের পরিচয় জানানোর সাথে সাথে ঐ পাশ থেকে বিনয়ের বাবা চিৎকার করে বলে উঠলেন, “তোমরা যাবার পরদিন থেকে আমাদের ছেলে আর আমাদের মাঝে নেই। গত একদিন আগে ও মারা গেছে। ওর লাশ কুয়ার কাছে পাওয়া গেছে।”

জয় একথা শুনে স্থম্ভিত হয়ে যায়। বিনয়ের বাবা বলতে থাকেন, “তোমরা চলে যাওয়ার দিন রাতের কথা। হটাত বিনয় গভীর রাতে আমাদের ঘরে এসে কান্নাকাটি করতে থাকে। ভয়ে তার শরীর কাঁপছিল। স্বাভাবিক হবার কিছু সময় পর সে আমাদের পুরো ঘটনা খুলে বলে। আমি ওকে কালি মন্দিরে একদিন পর নিয়ে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। কিন্তু আমার ছেলে পরদিন রাতেই চলে যায়। আমরা টের পাইনি। পরদিন সকালে ওকে খুঁজে না পেয়ে লোক লাগালে কুয়ার পাশে ওর লাশ পাওয়া যায়। তোমরা যদি আমাকে আগে জানাতে তাহলে আমার ছেলে হয়তো প্রান হারাত না। তোমাদের আমি কখনো মাফ করবো না।

জয় কিছু বলতে পারে না। শুধু তার বুক থেকে বের হয়ে আসে একটা বন্ধু হারানোর কান্নাভরা চিৎকার।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − seven =