Digital Love Segment 38

2
329
Digital Love Segment 38

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
Digital Love Segment 38

জীবনের প্রথম টিউশনীর টাকা হাতে।অন্যরকম ভাল লাগছে।এতোদিন অর্থসঙ্কটে ছিলাম প্রচন্ড।অনেকটা বড়লোক বাবার গরীব সন্তান যাকে বলে আর কি!ক্ষুদার রাজ্যে না থাকলেও মোবাইলের ব্যালেন্স ও মেগাবাইটহীনতায় ভুগছিলাম যার কারণে পৃথিবী গদ্যময়,পদ্যময় দূরে থাক জাহান্নামের স্বাদ ভোগ করতে শুরু করেছিলাম।পৃথিবী যে কত মধুর তা স্মৃতির ডায়েরী থেকে বিদীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল।
অবশেষে গুনে গুনে ৫০০০টাকা! পেলাম সারা মাসের খা্টুনি হিসেবে।খুব একটা খারাপ বলা যায় না।এত বেশি উত্তেজিত হয়েছিলাম যে আরেকটু হলে আন্টির সামনে লাফিয়ে উঠতাম।যাক শেষমেষ নিজেকে সামলে নিলাম বলে রক্ষা।

ছাত্রীর বাসা খিঁলগাও।ওর বাসা থেকে বেড়িয়ে মোড়ে একটি ভঙ্গুর প্রায় দোকানের সামনে এসে দাড়ালাম।আশপাশ তাকিয়ে দোকানদারকে বললাম,”মামা এক প্যাকেট বেনসন দাওতো।“নিলাম বেনসন।অনেকদিন সুখটান দিয়ে উদাস হওয়া হয় না।আজকে মনটা খুব ভালো।তাই ইচ্ছে হচ্ছে।যদিও আমার ছাত্রীর নিষেধ আছে!এমন সময় পাশে দেখি একটা পিচ্চি টোকাই টাইপ একটা মেয়ে এসে দোকানদারকে বলছে “এই যে চিপসটা কত?”কি মধুর তার স্বর।কি আদূরে।দোকানদারের উতর “১৫ টাকা”।মেয়েটি দেখি মাথা নামিয়ে হাটা দিয়েছে।সারাদিন বোধহয় খাটুনির পর যা টাকা পেয়েছে তা দিয়ে একটা চিপস কিনার সাধ্যও নেই বেচারীর।হাতে ১০টাকার একটা জীর্ন নোট দেখেছিলাম।আহারে!…………পিছন্ থেকে ডাক দিলাম।
এই বাবু তোমার নাম কি?
আমাকে স্তম্ভিত করে দিয়ে তার পরিস্কার গলার চটপটে উত্তরঃনীহারিকা।
এত সুন্দর নাম একটা টোকাই মেয়ের?রীতিমত টাস্কি খেলাম
-কে রেখেছে এই নাম?
-আমার বাবা।
-তোমার বাবা কি করেন?
-আমার বাবা আর নেই।
বুকের ভেতর হঠাৎ কি একটা জানি ভর করে উঠলো।সাথে খারাপ লাগা।আশ্চর্যের সাথে খেয়াল করলাম শুধুমাত্র নাম জানা একটা মেয়ের জন্যে এত আবেগ এলো কোথা থেকে!!!

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাড়ালাম।এক বক্স চকলেট আর দুটো চিপস কিনে দিই।মেয়েটির হাতে আরও ৩০০টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলি, “তোমার মাকে দিবে”মেয়েটি খুশি হয়ে দৌড় দিল।চোখের পলকেই আমার দৃষ্টিসীমা থেকে হারিয়ে গেল।

খিঁলগাও থেকে মতিঝিল হেটেও যাওয়া যায়।অন্যান্য দিন খরচ বাঁচাতে হেটেই যেতাম।কিন্তু আজ ইচ্ছে করছেনা।টাকার ভারে অলসতা চেপে বসেছে।একটা দাঁড়িয়ে থাকা রিকশায় দরদাম না করেই উঠে পড়লাম।অনেকখানি যাওয়ার পড় বুঝলাম রিকশাওয়ালার টানতে কষ্ট হচ্ছে।পরে জানলাম সে অসুস্থ।রিকশা থেকে তাই নেমে পড়লাম মতিঝিলের একটু আগেই।রিকশাওয়ালাকে ৩০০টাকা ধরিয়ে বললাম, “কিছু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিতে।রিকশাওয়ালা দেখি হাসছে।কারণ জানতে চাইলাম।“আন্নেগো মত মানুষ দুন্নিয়ায় এহনো আছে জাইনতাম না।স্যার”আমি মুচকি হাসি দিয়ে হাঁটা দিলাম।আরামবাগের মোরে আসতেই দেখা হল সরোজের সাথে।আমি বললাম, “দোস্ত,চল। অনেকদিন হলো আরামবাগের মোড়ে দাঁড়িয়ে চা খাই না”।একসাথে রাস্তার ধারে বসে চা খেলাম।মোবাইলে VIBRATION এমনসময়।ধুর দেখার টাইম নেই।
অনেক্ষন আড্ডা দিলাম।এক ঝালমুড়িওয়ালা কে দেখে ডাক দিলাম।
-মামা ঝালমুড়ি দাও।
-মামা,৫টাকার না ১০টাকার।
-মামা ২টা ৫টাকার।
-ঝালমুড়িওয়ালা একটু ইতস্তত করে বললো মামা ২টা ১০টাকার দিই?
-আচ্ছা দাও মামা।ঝাল বাড়ায় দিও।
তারপর দুজনে গল্প চালিয়ে যেতে লাগলাম।

ঝালমুড়িওয়ালা ঝালমুড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “মামা,আপনারা কলেজে পড়েন?”আমরা একসাথেই বলে উঠলাম “হ্যাঁ”।সরোজ একটু বেশি বলে সবসময়।ও বললো মামা আমরা এই নটরডেমেই পড়ি।ঝালমুড়িওয়ালা সরোজের কথার আপেক্ষিকগুরুত্ব বুঝলো বলে মনে হয় না।জিজ্ঞেস করলো ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের পুরো সেট বইয়ের দাম কত?আমি আর সরোজ হিসেব করতে লাগলাম।সরোজ ২০০ বললে আমি ৩০০বলি।সরোজ ২৫০ বললে আমি ২০০।দুজনের বাড়াবাড়ি চলতে থাকে।ঝালমুড়িওয়ালা বলে তাকে আরো অনেক টাকা রোজগার করতে হবে।বেশী তাড়া তার।বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল লোকটা।আমাদের দুজনের বাড়াবাড়ি থামিয়ে সে বললো তার মেয়ে ইন্টারে পড়ে।বাংলা বইটা ছাড়া আর কোন বই নেই মেয়ের।অর্থাভাবে কিনে দিতে পারছেনা।আমরা তাকে আমাদের মেসে নিয়ে গেলাম।আম্মু কলেজের শিক্ষক বলে আমার ফার্স্ট ইয়ারে ২সেট বই ছিল।একসেট দিয়ে দিলাম।সাথে মেয়েকে খাতা কলম কিনার জন্যে সরোজ ১০০টাকা দেয়।আমি আরো ২০০টাকা দিই।

সরোজকে বিদায় জানিয়ে বাথরুমে ঢুকে গোসলটা সেরে নিই।তখন সোয়া ১টা।একটা সংক্ষিপ্ত ঘুম দিই।কানে এয়ারফোন বাজছে সমানতালে।এমনসময় অনীকের ফোন।“ওই বেটা,কতক্ষণ ধরে কলিংবেল দিচ্ছি তোর খবর আছে?দৌড়ে গিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে দরজা খুলে দিলাম।সাথে সাথে অনীকের একটা কিল।অন্যান্য দিন হলে ছাড় পেতো না।সাথে সাথে রিটার্ণ দেওয়ার কাজটা আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করি।কিন্তু আজকে মন ভীষণ ভালো।

অনীককে নিয়ে DVD কিনতে বের হব।ভাত খেয়ে বের হলাম।তখন বরাবর ২টা বেজে ৫মিনিট।যাওয়ার সময় নীলাদ্রির পাওনা ২৫০০টাকা ফেরত দিলাম।দুজনে রিকশা ঠিক করে উঠে পড়লাম।গন্তব্য বেইলীস্টার।রিকশায় যেতে যেতে সারাদিনের ঘটনা বিস্তারিত বললাম।বেইলীস্টারে পৌছে DVD এর দোকানে ঢুকলাম।অনেক ঘাটাঘাটি করে দুটো DVD কিনলাম।“Blair Witch Project” আর “The Usual Suspects”।তারপর বের হয়ে রিকশায় উঠে পড়লাম।চলন্ত রিকশায় কাকে জানি দেখলাম।মেয়েটাকে চেনা চেনা মনে হলো।

বাসায় পৌছে হাতমুখ ধুয়ে মোবাইল হাতে নিলাম।দেখি 11 missed calls,3messages।১১টিই অনন্যার দেওয়া।তখন ৪টা বেজে ২৫মিনিট।যে মেয়েটিকে দেখেছিলাম সেটি অনন্যাই ছিল।কল ব্যাক করলাম দেখি অনন্যার রাগী কন্ঠ।“ভাইয়া,পৌনে ১ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি,আপনি কি ভুলে গেছেন?টিউশনীর টাকা পেলে আমাকে চাইনিজ রেস্ট্রুরেন্ট এ খাওয়াবেন বলেছিলেন না?আমি পৌনে ৩টা থেকে অপেক্ষা করছি।
অনন্যা আমার ছাত্রী।আজকে টাকাটা ওর আম্মুর থেকেই পেয়েছি।কিন্তু কথা ছিল টাকা পেলে ট্রিট দিব।কিন্তু আমার মাথায়ই ছিলনা।
হুটহাট করে রেডী হয়ে দৌড় দিই।অনীক জিজ্ঞেস করে, “কিরে কই যাস?”প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় পাইনি।
একসাথে রেস্ট্রুরেন্টে ঢুকলাম।সবকিছুর অর্ডার দিলাম।তখন মাথায় আসলো মানিব্যাগে মাত্র ১২০০টাকা আছে।তাই খাওয়ার সময় হাত পা কাঁপছিল।কে জানতো আজকে অনন্যার সামনেই এতোবড় বিপদে পড়বো।
মনে মনে চাইছিলাম এই রেস্ট্রুরেন্টেই যেন আজকে 3rd WORLD WAR শুরু হয়।নাহয় ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে।

খাওয়া শেষ।অনেকক্ষন নীরবতা।আমি তখনো ঘামছি।অনন্যা কিছু বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।এমনসময় ওয়েটার বিল আনছিল।তখন আমার বুকের কলিজা পুরা Brand New ব্ল্যান্ডার থেকে সদ্য বের করা জুস।অনন্যা হঠাৎ আমাকে বলে, “ভাইয়া,আপনাকে ভালবাসি!!!” কথাটি আমার দুই কানের কোনটিতেই ঢুকেছে বলে মনে হয় না।মাথায় ঢুকা দূরে থাক।খুব ইচ্ছে করছে উঠে দৌড় দিতে।পড়ে যা হবে হওয়ার!!!
দেখি বিল আসলো ১৪৬৫টাকা।আমার মনের সকল আশংকা সত্যি হল।খুব বেশি ইচ্ছে করছে ওয়েটারকে বলতে ২৬৫টাকা ছাড় দেওয়া যায় না? মানিব্যাগ খুলে অসহায়ের মত হয়েছিলাম।এমন সময় অনন্যা বলে “জানেন ভাইয়া?আজ আপনাকে কি সুন্দর লাগছে?”কথাটা সরোজও বলেছিল।টাকা পেলে মানুষের চেহারা সুন্দর হয়ে যায় ধারণাটা ভুল হল।এখন আমার যে চরম বিপদের মূহুর্ত!!!

এক্ষুনি মনে হয় কেঁদে দিব।অনন্যা একটু পরি তার মন ভোলানো মিষ্টি হাসি দিল।আমার ঘামের বেগ আরও দ্বিগুণ হল।
-স্যার,টাকা শর্ট?
-আমি মাথা চুলকাতে চুলকাতে “হ্যাঁ” সূচক উত্তর দিলাম।
অনন্যা নিজের ব্যাগ হাতড়ে টাকা বের করে পুরো টাকাটাই দিয়ে দিল।আমাকে বললো চলেন উঠি।সেখানেও সেই মিষ্টি হাসি।আমি ততক্ষণে লজ্জায় লাল!!
-এই যে মিস্টার টাকাটা আমি দিই নি।নেক্সট মাসে আপনার ফি ত্থেকে কেটে নেওয়া হবে।এই বলে বের হয়ে অনন্যা রিকশা ঠিক করে আমাকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।

বাসায় এসে তখন অনীককে সব খুলে বলি।লজ্জায় লাল তখনো।এমন সময় অনন্যার মেসেজ।“ভাইয়া আমার Answerটা?”তখন মাথায় আসলো অনন্যা ভালবাসি টাইপ কিছু একটা বলেছিল।অনীক বললো, “বাহ!টিউশনীর ফার্স্ট মাসেই ৬৪৬৫টাকা”!!!আমি তখন অনন্যাকে Reply দিতে ব্যাস্ত।আমি বলি “কিসের Answer?” অনন্যা রেগে মেসেজ পাঠায়, “বীজগণিত ২.৩ চ্যাপ্টারের ৫নং ম্যাথটার”

অনীককে সব খুলে বলি।তারপর মেসেজ পাঠিয়ে দিই, “Less Than Three”।অনন্যার Reply, “মানে?”
আমি বলি মানে “
“আই লাভ ইউ টু”

সেই রেস্ট্রুরেন্টের একটা টেবিলে বসে ঐসব কথা ভাবতে ভাবতে চোখে পানি এসে যায়।আজকে আমাদের Relation এর 1year anniversary।মানিব্যাগটা চেক করতে ভুলি না।টাকা এনেছিতো!!!

অনন্যা আসলো এমন সময়।সেই বিখ্যাত হাসি।কিছু নীরবতা।তারপর প্রথম নীরবতা ভেঙে অনন্যা, “ভাইয়া,আজকে টাকা এনেছেনতো?নাকি আমিই দিব?:P”
দুজন মিলে হাসি প্রাণ খুলে। আমি বলে উঠি, “না,কিছু শর্ট আছে”

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − 2 =