Digital Love Segment 30: ।। শেষটা এমন কেনো ।।

0
240
Digital Love Segment 30: ।। শেষটা এমন কেনো ।।

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
Digital Love Segment 30: ।। শেষটা এমন কেনো ।।

“সেই কখন থেকে ফোন করছি, আর তুমি নাক ডাকিয়ে আরামের ঘুম ঘুমাইতেস! আমার ক্লাস রেখে আমি তোমাকে ঘুম থেকে উঠাই, সেটার কোনও দাম নাই, না?”
“আরে ভাই, একটু ঘুমাইলে কী হয়? তুমি যে কী না!”
“কী হয় মানে কী? আপনি নামাজ পড়বেন না?”
“আচ্ছা বাবা এই যে উঠে গেলাম!”
“আপনি নামাজ পড়ে তারপর ক্লাসে যাবেন, টাটা!”
ছেলেটা ভেবে পায়না এই মেয়ে এমন করে খুট করে ফোন রেখে দেয় কেন? হুট করে এই ভোরে ফোন করে ঘুম থেকেই বা উঠানোর কী দরকার?
“থাক, তবু ওর জন্যে নামাজ তো পড়া হয়!” বিছানা থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়ে ও।

এদিকে মেয়েটার চরম ব্যস্ত আরেকটা দিন শুরু হয়ে যায়, কিন্তু তবুও এক মুহূর্তও মাথা থেকে ছেলেটার চিন্তা হারিয়ে যায়না, দুইজনের মাঝে অনেক দূরত্ব থাকলেও সেটাকে কোনও ভাবে জয় করে নিয়েছে ওরা।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

*******************

“আমি জানতাম আমার মা বাবা এইটা নিয়ে গেঞ্জাম করবেই, তোমাকে তো এই জন্যেই এক লাখ বার বলসি, এখন ঢং করতে যেও না, ভালো হইসে, আমি জানিনা এখন এসব আমি কীভাবে সামলাবো। তুমি এখন এইসব আজাইরা টেনশন না করে পড়াশোনা করগে যাও, আমাকে উনারা আর কোথাও বিয়ে দিতে পারবেনা।”
“আমি কি করবো বল, পরিস্থিতি এমন ছিল যে বলতে বাধ্য হইসিলাম, প্লিজ আমি সরি জান! আমাকে ক্ষমা করো!”
“আপনার এইসব ঢং আমি অনেক আগে থেকেই জানি,এখন যান, আমি রাগ করি নাই।”

“আম্মু, পাপা, শোন, এইটা আমার সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড,আমি এরেই বিয়ে করবো, মানলে মানো, না মানলে অন্য পথ দেখি!”
“মানে?”
“মানে কিছু না, গেলাম আমি, তোমরা ওর সাথে কথা বল তো, দেখো ভালো কিছু পাও নাকি? ”

“আম্মা, এটা আমার ফ্রেন্ড, ওর কথা তোমাকে অনেক বলসি। ”
“ও, হ্যাঁ হ্যাঁ, চিনেছি। ভালো আছো, মা?”
“জি, আপনি ভালো আছেন?”
“আল্লাহ্‌ ভালোই রেখেছে। বস বস।”
“না আমি ঠিক আছি।”

*******************

“এই ছেলে, কানে শুন না? বলসি তো এইসব মার্কামারা খ্যাত জিনিস পত্র আমার বাসায় থাকবেনা, ফেল ওসব!”
“কি হইসে, এইটা আমার স্টুডেন্ট লাইফের স্মৃতি। প্লিজ জান, এটা রাখতে দাও না!”
“উহুম, না!”
“প্লিজ মহারাণী, প্লিজ…”
“আচ্ছা বাবা, ঠিক আছে, রাখ ওটা। আম্মাকে আমাদের বাসায় থাকতে হবে, আমি আমার শাশুড়ি অন্য কারও সাথে শেয়ার করতে পারবোনা!”
“আচ্ছা, ঠিক আছে!”
“জলদি নিয়ে আসো আম্মাকে।”
“হুম হুম, ঠিক আছে, আনবো তো!”
“প্রমিজ?”
”জি, মহারাণী! প্রমিজ!”
“আই লাভ ইউ!”
“আই লাভ ইউ টু!”

********************

“এই যে,শোনেন।”
“জি, বলেন।”
“আপনাকে একটা কথা বলবো!”
“বলেন না !”
“আপনি এদিকে তাকান তো!”
“হুম তাকালাম, এইবার বল তো!”
“আচ্ছা, থাক, তাকিও না,লজ্জা লাগে!”
“তুমিই তো তাকাতে বলসো… কী যে করো না!!”
“আচ্ছা চোখ বন্ধ করো।”
“করলাম!”

*****************

“আমার ছেলে, আমি নাম রাখবো!”
“তো? এটা আমারও ছেলে! আমি নাম রাখবো!”
“আমি স্মার্ট আর সুন্দর নাম রাখবো! তুমি তো খ্যাত নাম রাখবা!”
“হুম, আপনাকে বলসে?”
“আচ্ছা ঠিক আছে, দুইজন মিলে রাখি?”
”আচ্ছা বাবা,আপনার আদেশ শিরোধার্য!

*****************

”এই পিচ্চি, তোর বাবার মতো এতো অধৈর্য হইসিস কেন? আমার কিছু গুণ তো তোর মাঝে থাকা উচিত ছিল, নাকি?”
“আমি তো তোমার মতোই চশমা পড়ি আম্মু!”
“হাহা, দেখলে আমার ছেলে আমার মতোই স্মার্ট!”
“সেটাই দেখছি, আপনার মতোই অলস। আপনি অফিসে যাবেন না?”
“জি, যাচ্ছি তো, আপনি তো খালি আমাকে বাসা থেকে তাড়াইতে পারলেই বাঁচেন, তাই না?”
“হুম, সেটাই, এবার যান দেখি, আমাকে তো ডিউটি তে যেতে হবে নাকি?”
“ও কে, আল্লাহ্‌ হাফিয।”
“হুম, আল্লাহ্‌ হাফিয, সাবধানে যেও কিন্তু! তুমি যেভাবে বাইক চালাও, বাবু যেন আবার পড়ে না যায়!”

***************

“কী? আপনার নিশ্চয়ই ভুল হয়েছে, এটা হতেই পারেনা!”
……………
“আমি আসছি, এখনই আসছি…”

***************

“কি হয়েছিলো মেয়েটার?”
“ওর স্বামী আর বাচ্চা একই সাথে মারা যায়…”
”কীভাবে?”
“বাইক উল্টে রাস্তার পাশের খালি জমিতে পড়ে গিয়েছিলো, এক্সিডেন্টের পরও ছেলেটা বেঁচে ছিল, কিন্তু হাসপাতালে আনার পর মারা যায়।”
“আর বাচ্চাটা?”
“স্পট ডেড।”
“আহারে, মেয়েটাকে কেউ দেখতে আসে না?”
“আগে আসতো, ইদানিং কাউকে সহ্য করতে পারেনা, জিনিস পত্র ছুঁড়ে মারে, চিৎকার করে কাঁদে, তাই আপাতত কাউকে আসতে দেই না। ”

*****************

ওরা বলে তোমরা আর আসবে না, আমিও জানি সেটা, কিন্তু মানতে পারিনা, বল না, কেন আসবে না তোমরা? এভাবে তো আমাকে একা ফেলে যাওয়ার কথা না তোমাদের। তাহলে? আমার যে কী কষ্ট হয়, জানো না? প্লিজ, কিছু করো, আমি আর পারছিনা তো…

আমি জানতাম তোমরা আসবেই…

এই তো ছুঁয়ে দিলাম হাতটা, আবার আমরা এক হয়ে যাচ্ছি…

হা হা হা হা হা…

……………………………

রাতের আঁধার ভেদ করে হাসপাতালের সমস্ত নীরবতা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, ভেঙ্গে পড়ে অনেকটা কাঁচের চুড়ির মতো…

আর পরদিন পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে আরেকটা লাশ জায়গা করে নেয়…

লিখেছেনঃ সুমাইয়াহ তাসনীম মোহনা

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 1 =