দুষ্টু মিষ্টি সংবাদ : পর্ব ০৫

2
355

দুষ্টু মিষ্টি সংবাদ : পর্ব ০৫  Media Fire বা অন্যকোনো Upload সংস্থা কি আপনার আপলোড করা ফাইল ডিলিট করে দিচ্ছে‘ File   Removed for Violation ‘ -এর কারণ দেখিয়ে ?    আসুন একটা  বোকা বোকা ট্রিকস  শিখি।

 

ভোরবেলাতে বিছানায় শুয়ে শুয়েই শুনতে পাচ্ছি বাইরে বেশ ভালো বৃষ্টি হচ্ছে। কম্বলটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠেই আমার গরম গরম চা চাই। না হলে মাথাটা গরম হয়ে যায়। তাই বাড়ির সকলে এ বষয়ে খুব সচেতন।

ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়েই গরম গরম চা পেলাম। গরম চায়ে চুমুক দিয়ে মেজাজটা ফুরফুরে হয়ে গেল।

বারান্দায় বেরিয়ে দেখি আমার মেজাজটা ফুরফুরে হলেও আকাশের মেজাজটা খুব খারাপ আছে। অবিশ্রান্ত ঝরেই চলেছে। ঠিক করে ফেললাম স্কুলে আজ যাব না।

 

স্বাতীকে জানিয়ে দিলাম আজ স্কুলে যাচ্ছি না। ও ওঠে অনেক সকালে। স্কুলে যাবার জন্য রান্নাবান্না গোছগাছ করতে হয়। আজও খুব সকালেই উঠেছে। তারপর আকাশের অবস্থা দেখে স্কুলে যাবার পরিকল্পনা ত্যাগ করেছে। ওকে দুটো নদী নৌকায় পেরোতে হয়। এসব সময়ে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। তারপর ও আবার সাঁতার পারে না।

দোতলায় গেলাম। গিয়ে দেখি দুষ্টু কী একটা বই পড়ছে। এত মন দিয়ে পড়ছে যে তাতে বুঝতে পারলাম পড়ার বই নয়। জিজ্ঞাসা করলাম –কী পড়ছিস রে ?

– আরব্য-রজনী । মানে হিন্দিতে যাকে বলে আলিফ-লায়লা। –দুষ্টু বলল।

– পড়ার বই বাদ দিয়ে গল্পের বই পড়ছিস !

– ইস্ , ভোরবেলা উঠেছি। পড়া কমপ্লিট করে তবে পড়ছি।

ওরা খুব ভোরবেলাতে উঠে পড়তে বসে এটা আমি জানি। ওকে আর ডিসটার্ব করলাম না।

নেট ওপেন করলাম। কিছু Pro software মানে টাকা দিয়ে কিনতে হয় এমন কিছু software ডাউনলোড করব ভাবলাম। সব software তো পয়সা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। সেই হিসাবে আমিও চোর। কি আর করা যাবে ? চোরেরাও তো চুরি করে জীবন বাঁচিয়ে রাখে।

খুঁজে খুঁজে মিডিয়াফায়ারের কয়েকটা লিঙ্ক পেলাম। একটা লিঙ্ক খুললাম। ডাউনলোডের জন্য দিলাম। বসে আছি , ভাবছি ডাউনলোড ম্যানেজারে খুলে যাবে। খুলল না। ভালো করে তাকিয়ে দেখি কী একটা মেসেজ দিয়েছে। পড়লাম – টার্মস & কন্ডিশন ভঙ্গের জন্য ফাইলটা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটা খুললাম। একই অবস্থা। Hot file , File serve এর কয়েকটা লিঙ্ক ধরেও চেষ্টা করে দেখলাম। না , সবাই দেখায় টার্মস , কন্ডিশন ভঙ্গের জন্য অপসারণ।

 

 

– শুনছিস দুষ্টু , এদিকে আয় না একটু। – দুষ্টুকে ডাকলাম।

কোনো সাঁড়া নেই। তাকিয়ে দেখি খুব মন দিয়ে ও আরব্যরজনী পড়ছে। আবার ডাকলাম। অনেক অনিচ্ছা নিয়ে ও এল। দেখলাম মন ওর ও দিকে।
বললাম–টার্মস & কন্ডিশন ভঙ্গের জন্য মিডিয়াফায়ার বা হটফাইল বা ফাইলসার্ভ কিছু ফাইল ডিলিট করে দিয়েছে , ও গুলো কি অন্যভাবে ডাউনলোড করা যাবে ?

– ওটা যখন ডিলিটই করে দিয়েছে , তখন ওটা ডাউনলোড করা যাবে কী করে ! ডাউনলোড করা যাবে না।

– ইস্ , আমার খুব দরকার ছিলরে জিনিসটা ! আচ্ছা ওদের ডিলিট করে দেওয়াটা আটকানো যায় না দুষ্টু।

– দেখ আলাদিন যখন গরীব ছিল তখন ঐ বাদশার দরবারে আলাদিনকে কিন্তু কেউ ঢুকতেই দিতে চাইছিল না। তখন প্রদীপের ঐ জিন কী করেছিল বলতো ?

সেই কবে আরব্য-রজনী পড়েছি ছেলেবেলায় ; অত মনে থাকে নাকি ! মাথা নাড়লাম-জানি না।

– ঐ জিন আলাদিনকে একটা রাজপ্রাসাদ বানিয়ে দিল। আর আলাদিনকে এক বাদশার সাজে সাজিয়ে দিল।

– আমি তোকে একটা সমস্যার কথা বলছি , আর তুই আমাকে আলিফ-লায়লার গল্প শোনাচ্ছিস। বুঝতে পেরেছি তোর মন ঐ দিকে রয়েছে ; যা তুই গিয়ে ওটাই পড়। –খানিকটা বিরক্তি নিয়ে আমি বললাম।

দুষ্টু আমার বিরক্তি বুঝতে পারল। খানিকটা মিনতি করেই বলল -শোনো না বাবা। ঐ জিন আলাদিনকে বাদশার সাজে সাজিয়ে দিল। এটাকে আধুনিক ভাবে দেখলে কী বলতে পারি বলতো ?

চুপ করে রইলাম।

দুষ্টু আবার বলল -ওটাকে বলতে পারি জিন আলাদিনকে ছদ্মবেশ পরিয়ে দিল। টার্মস & কন্ডিশন ভঙ্গ করতে পারে এমন software তুমি যখন আপলোড করবে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য , তখন তুমিও তোমার software গুলোকে ছদ্মবেশ পরিয়ে দাও।

বললাম -বুঝতে পারলাম নাতো !

– বুঝতে পারলে না  ?  তাহলে আরও পরিষ্কার করে বলি। তোমার যে ফাইল তুমি আপলোড করবে অথচ ভাবছ টার্মস –কন্ডিশন ভাঙার দায়ে তোমার ঐ ফাইল আপলোড সংস্থা ডিলিট করে দেবে সেটাকে তুমি তোমার বোঝার মতো করে Rename করে দাও। যাদের সঙ্গে তুমি এটা শেয়ার করছ তাদের বলে দাও যে নাম অন্যরকম দেওয়া থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। যেমন আমি তোমার Internet Download Manager আপলোড করার সময়ে ওটার নাম করে দিয়েছিলাম ‘Ma.Do.In’ মানে Internet Download Manager টাকে উল্টোপাল্টা করে নিয়েছিলাম যাতে তুমি বুঝতে পারো ওটা কোন ফাইল । আপলোড সংস্থা যাতে বুঝতে না পারে কোন ফাইল বা সফটওয়্যার । আর বুঝতে বা ধরতে না পারলে ডিলিট করে দেবারও কোনো ব্যাপার নেই । অনেকটা যুদ্ধের সময় ক্যামেফ্লেজ করার মতো । শত্রুর চোখকে ফাঁকি দেওয়া আর কি !

– এতেই হয়ে যাবে ? তোরা এটা করে দেখেছিস ?

– করে দেখেছি বলেই তো তোমাকে বললাম । যদিও জানিনা এই ট্রিকসটা কতদিন কাজ করবে । তবে কাজ না করারও কোনো কারণ আপাতত দেখছি না ।
এরপর একটু চুপ করে দুষ্টু জিজ্ঞাসা করল- আচ্ছা বাবা আমি কি তবে গিয়ে এখন আরব্য-রজনীটা পড়তে পারি ?

বললাম – হ্যাঁ , যা । আর হ্যাঁ শোন , ভালো করে পড়বি আমি তোর কাছে পরে গল্পগুলো শুনবো কিন্তু  !

 

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

    • নয়ন ভাইয়ের চোখ এড়ানোর উপায় আছে নাকি !

      আপনার থাম্বনেইলটা সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ ।

      ভালো থাকবেন।

মন্তব্য দিন আপনার