মোবাইল অ্যাপ হোক আপনার ব্যবসা সম্বৃদ্ধির হাতিয়ার

1
114

একটা সময় ছিল, যখন মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা শুধুমাত্র বড় কোম্পানির সামর্থ্যের মধ্যে ছিল। দিন পাল্টেছে। এখন মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা যেকোন কোম্পানির জন্যই সহজ। মোবাইল এখন আমাদের জীবনের এক অপরিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

এক গবেষণায় উঠে এসেছে, গড়ে একজন মানুষ প্রতিদিন ৫ ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করে কাটায়। এই সময়ের ৯২%-ই তারা ব্যায় করে মোবাইল অ্যাপ চালিয়ে। অর্থাৎ ৪ ঘন্টা ৩৬ মিনিট সময় অতিবাহিত হয় মোবাইল অ্যাপে এবং বাকি ৮% সময় অতিবাহিত হয় ব্রাউজার ব্যবহার করে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

অর্থাৎ, শুধুমাত্র মোবাইল-ফ্রেন্ডলি একটি ওয়েবসাইটই কোম্পানির মোবাইল স্ট্র্যাটেজির জন্য যথেষ্ট নয়। কোম্পানিগুলো এটা উনুধাবন করে এখন মোবাইল অ্যাপের  দিকে ঝুকে পড়ছে। এজন্যই দারাজ, পিকাবু ইত্যাদি কোম্পানির ওয়েবসাইট থাকা সত্বেও আলাদা মোবাইল অ্যাপ রয়েছে।

Clutch.co এর তথ্যানুযায়ী, ৪২% আমেরিকান কোম্পানির-ই মোবাইল অ্যাপ রয়েছে, এবং ৩০% কোম্পানি অ্যাপ ডেভেলপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৯০ কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে সারা বিশ্বে। অপরদিকে, ৩৪ লক্ষ মোবাইল অ্যাপ রয়েছে গোটা দুনিয়ায়। সফলভাবে একটি অ্যাপ তৈরি করে আপনি চাইলে এখনই আপনার প্রতিদ্বন্দী থেকে এগিয়ে থাকতে পারেন।

মোবাইল অ্যাপ হোক আপনার ব্যবসা সম্বৃদ্ধির হাতিয়ার

আপনার কোম্পানির সম্বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ সাহায্য করে। এতক্ষনে নিশ্চয় এটা বুঝে ফেলেছেন আপনি, এবং সেজন্যই আপনি এই ব্লগ পড়া শুরু করেছেন।

কিন্তু, সম্ভবত আপনি বুঝতে পারছেন না মোবাইল অ্যাপ ঠিক কিভাবে আপনার ব্যবসায় সাহায্য করতে পারে। যদি এটাই আপনার কনফিউশন হয় তবে, “রিল্যাক্স…”। শুধু আপনি না, এই কনফিউশন আরো শত শত মানুষের মাঝে আমি দেখেছি। শুধু এই ব্লগটি পুরো পড়ে যান।

ব্যবসার ক্ষেত্রে, আপনাকে কোন কিছু নতুন করে আবিষ্কার করার দরকার নেই। শুধুমাত্র, আপনার আগে যারা সাফল্য পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে উপদেশ নিয়ে সামনে এগিয়ে যান।

আজকে আমি আপনাদের বিভিন্ন কোম্পানির কিছু গল্প বলবো, যারা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের ব্যবসার চাকা আরো দ্রুত ঘুরিয়েছে। আপনি এসব গল্প বা কেস-স্টাডি থেকেই বুঝে নিতে পারবেন, আপনার ব্যবসা বা কোম্পানিতে কিভাবে অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

১. বিক্রি বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ

দারাজ তাদের ব্যবসা শুরু করেছিলো ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে। ২০১২ সালে তারা যখন ওয়েবসাইট দিয়ে তাদের অপারেশন শুরু করে, তখন প্রোডাক্ট অর্ডার করার জন্য তাদের ওয়েবসাইট ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

খুব দ্রুতই দারাজ এর প্রতিষ্ঠাতারা বুঝতে পারেন, তারা মোবাইল ইউজারদের অর্ডার হারাচ্ছেন। তাই তারা নতুন মোবাইল স্ট্র্যাটেজি গ্রহন করেন এবং মোবাইল অ্যাপ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেবছরই তারা অ্যাপ লঞ্চ করে এবং বিশাল এক গ্রোথ দেখেন। দারাজ এর অর্ডার সংখ্যা বছরে ৩০,৬০০ থেকে ১,৩১,০০০ তে পৌঁছে গিয়েছিল।

ধরে নেয়া যাক, দারাজের প্রতি অর্ডার মূল্য গড়ে ৫০০ টাকা। তাহলে তাদের আয় বেড়েছিল ৫,০২,০০,০০০ টাকা। বুঝুন তাহলে!

এখন দারাজের ৭০% অর্ডারই আসে মোবাইল ডিভাইস থেকে। এর মাঝে দুই-তৃতীয়াংশই আসে তাদের অ্যাপ থেকে।

প্রতি মাসেই তাদের অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর নতুন অ্যাপ ডাউনলোড মানেই নতুন সম্ভাব্য গ্রাহক। যে হারে তাদের বিক্রি বাড়ছে, ভবিষ্যতেও তাদের সম্বৃদ্ধির যাত্রা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারনা।

আপনি চাইলে আপনার ই-কমার্স এর জন্য এখনই অ্যাপ তৈরি করে নিতে পারেন এবং বিক্রি  বাড়াতে অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এই স্ট্র্যাটেজি কাজ করে কারন, মোবাইল অ্যাপে চেকআউটের সময় ফ্রিকশন কম কাজ করে, যেহেতু পেমেন্ট তথ্য এবং ডেলিভারি তথ্য খুব সহজেই অ্যাপে সংরক্ষন করা যায়।

এরকম অ্যাপ কিন্তু আপনার কোম্পানির জন্যও তৈরি করতে পারেন। 

২. কাস্টমার ধরে রাখতে মোবাইল অ্যাপ

মোবাইল অ্যাপ তৈরির মাধ্যমে খুব সহজেই কাস্টমার এর এক্সপেরিয়েন্স ভালো করে তুলতে পারেন। ফলাফল হিসেবে গ্রাহক ধরে রাখা সহজ হয়। স্টারবাকস নামক বিশ্বখ্যাত কপিশপের কথা নিশ্চয়ই আপনি জানেন, তাইনা? এরা কিন্তু অ্যাপ এর মাধ্যমে তাদের গ্রাহক ধরে রেখেছে এবং বিক্রি বাড়িয়ে তুলেছে।

এটা সম্ভব হয়েছে কারন তারা তাদের অ্যাপ এমনভাবে তৈরি করেছে, যেন সেটা তাদের গ্রাহকের সাথে মিশে যেতে পারে এবং অ্যাপ ব্যবহারে গ্রাহকদের কোন কষ্টই না হয়। টেকনিক্যাল ভাষায় যেটাকে বলা হয় ইউজার এক্সপেরিয়েন্স।

যে ফিচারটি স্টারবাক্সের অ্যাপকে করেছে অনন্য, সেটি হলোঃ অ্যাপের মাধ্যমেই বিল পরিশোধ। গ্রাহকেরা চাইলে পেমেন্ট তথ্য অ্যাপে সংরক্ষন করে রাখতে পারে। নগদ টাকা দিয়ে না করে মোবাইল অ্যাপ দিয়েই গ্রাহকেরা সহজেই বিল দিয়ে দিতে পারে, ভাংতির কোন ঝামেলাই নেই। এতে চেকআউট প্রসেস খুব সহজ হয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের অনেক রেস্টুরেন্টেই এখন অ্যাপের মাধ্যমেই বিল পরিশোধ হচ্ছে। বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে। এসব কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত করতে নানা রকম ক্যাশব্যাক অফারও প্রদান করছে। ফলশ্রুতিতে কম্পানিগুলো লেনদেন বাড়ছে, গ্রাহকসংখ্যা বাড়ছে, এবং বাজারে সুনাম বাড়ছে – অর্থাৎ ব্র্যান্ডিং হচ্ছে।

৩. কোম্পানির কর্মকান্ড সহায়তায় মোবাইল অ্যাপ

শুধুমাত্র গ্রাহকদের জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয় – ব্যাপারটা কিন্তু এমন না। চাইলেই আপনি আপনার কোম্পানির অভ্যন্তরিন কর্মকান্ডে সহায়ক অ্যাপ তৈরি করতে পারেন।

ঠিক এই কাজটিই করেছিল “প্রেফার্ড ম্যাটেরিয়ালস” নামক এক কোম্পানি। কোম্পানিটি তাদের অভ্যন্তরিন এক সমস্যায় ভুগছিলো। কিভাবে সমস্যা থেকে বের হতে পেরেছিলো তারা, এখন সেই গল্পই বলবো।

প্রেফার্ড ম্যাটেরিয়াস কোম্পানির কর্মীসংখ্যা ছিল প্রচুর। তাদের কর্মীদের ৮০% মাঠপর্যায়ে কাজ করতো, যাদের অফিসিয়াল কোন ইমেইল এড্রেস ছিল না। ফলে কোম্পানির সাথে সরাসরি তাদের কোন যোগাযোগ ছিল না।

কোম্পানির ইমেইল ছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কোম্পানির কোন ধরনের নোটিশ, বেতন, বেনেফিট এর খবরাখবর পেতো না। ফলাফলে এইচ,আর, কর্মীরা প্রতিদিন প্রচুর ফোনকল পেতো। এতে তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ ব্যহত হতো, প্রচুর সময় নষ্ট হতো।

কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে এক মোবাইল এ্যাপ ডেভেলপ করা হলো। এখন কর্মীরা মোবাইলেই সব নোটিশ পেত, কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অ্যাপের মাধ্যমেই জিজ্ঞাসা করতে পারতো।

ধরে নেই অযাচিত কলে মানসম্পদ বিভাগের কর্মীদের প্রতিদিন ২.৫ কর্মঘন্টা করে সময় নষ্ট হতো। গড়ে প্রতি ঘন্টার বেতন যদি ৩,০০০ টাকা করে হয়, তাহলে কোম্পানির বছরে ক্ষতি হতো ১৮ লক্ষ টাকা। এক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বছরে কত্ত ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়, বুঝুন এবার।

৪. ব্যবসায়িক অভ্যন্তরিন খরচ বাঁচাতে মোবাইল অ্যাপ

আরেকটি উদহারন দেয়া যাক, যেখানে গ্রাহক নয়, বরং কোম্পানির নিজের জন্যই মোবাইল অ্যাপ বানানো হয়েছিল। ঘটনাটা কাম্বারল্যান্ড নামক ওয়াশিংটনের এক গ্যাস স্টেশন এর।

কাম্বারল্যান্ডের ৫০০ গ্যাস স্টেশন এবং রিটেল স্টোর ছিলো। তাদের কর্মীসংখ্যা ছিলো ৬,০০০ এর বেশি। বছরে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা (১৬ বিলিয়ন ডলার) আয় করা কাম্বারল্যান্ডেরও উন্নতির সুযোগ ছিল।

কোম্পানির সকল রেকর্ড রাখা হতো কাগজে কলমে। ওয়ার্ক অর্ডার, ইনভেন্টরি, ইন্সপেকশন রিপোর্ট, আয়-ব্যায় (রেভেনিউ-এক্সপেন্স) – সবকিছুই কাগজে কলমে রেকর্ড করা হতো। এগুলো ট্র্যাক রাখা খুব কঠিন ছিল এবং প্রসেসিং-ও খুব ধীরগতির ছিল।

তারা এক মোবাইল অ্যাপ বানালো, যেখানে ২০ ধরনের ফর্ম ছিল। ফলে কোম্পানির ট্র্যাক রাখা খুব সহজ হয়ে গিয়েছিল, ৫০০ গ্যাস স্টেশনের রিপোর্ট একবারে বের করা সম্ভব ছিলো ম্যানেজমেন্টের জন্য।

শুধু কাগজ না কিনেই ১১,০০০ ডলার বা ৯ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা বাচিয়েছিলো কাম্বারল্যান্ড ১ বছরে। ৮৪৫ কর্মঘন্টার অপচয় রোধ হয়েছিলো এক বছরে। এভাবেই মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট তাদের ব্যবসাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে ৪ লক্ষ ডলারের রিটার্ন-অন-ইনভেস্টমেন্ট পেয়েছিলো তারা।

হয়তোবা আপনার কোম্পানিতে এত বেশি পরিমানে কাগজ ব্যবহার হয়না। কিন্তু যে খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যায় হয়, সেখানেই অ্যাপ তৈরি করে অটোমেশন সম্ভব।

এছাড়াও আরো অনেক ব্যবহার নিয়ে শিঘ্রই আসছে এই আর্টিকেল এর দ্বিতীয় পর্ব।

সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি আপনার ব্যবসাকে আরো সহজ করতে চান, নাকি সনাতন পদ্ধতিতেই এগিয়ে নিতে চান আপনার ব্যবসাকে।

আপনার যেকোন জিজ্ঞাসা আমাকে জানাতে পারেন কমেন্টে। 

ব্লগটি এর আগে প্রকাশিত হয়েছিল এডিএন ডিজিটাল এর ব্লগ পেইজে।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

  1. খুব সুন্দর একটি লিখা। আসলেই কোম্পানির অটোমেশনে অ্যাপ দরকার। চিন্তা করছি আমার কোম্পানির জন্য একটা অ্যাপ বানাবো। কোথা থেকে বানালে ভালো হয়? সাজেশন দিলে খুশি হবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − nine =