ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ?  

By | 14/04/2018

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হল-

১৯৮১ সালে পিসি, ১৯৮৪ সালে মেকিনাটোস এবং সেই থেকে ১৯৯৬ সালে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ইন্টারনেট ইত্যাদির সোপানে পা দেয়ায় প্রতিটি মূহুর্ত তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের শুভক্ষণ । এই মূহুর্তগুলোতে জন্ম নিয়েছে যুগ পরিবর্তনের সে সব প্রযুক্তি, যা মানব সভ্যতার সকল ধারাকে পাল্টে দিচ্ছে ।

যে প্রযুক্তি ত্রিমাত্রিক বিশ্ব সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে কোন ঘটনা বা কল্পনাকে জীবন্ত করে দৃষ্টিগ্রাহ্য করে তোলে, তাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে । এটিতে মাল্টিসেন্সরি হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারফেসসমূহের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা মানব ব্যবহারকারীদেরকে কম্পিউটার-সিমূলেটেড অবজেক্ট, স্পেস, কার্যক্রম এবং বিশ্বকে একেবারে বাস্তবের মতো কাজ করে প্রদানে সক্ষম করে তোলে, ফলে দৃশ্যমানতা জীবন্ত বলে মনে হয় ।এটি উচ্চমাত্রায় তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে কাজ করে থাকে, ফলে কৃত্রিমভাবে বাস্তব দৃষ্টিগ্রাহ্য জগৎ তৈরি করা সম্ভব হয় । আর  ভার্চুয়াল রিয়েলিটি জগতে প্রবেশ করার জন্য মাথায় বিশেষ ধরনের হেডসেট বা হেমলেট, হাতে পরার জন্য বিশেষ গ্লোভস এবং পায়ে বিশেষ যন্ত্রপাতিসম্পন্ন জুতো ব্যবহার করতে হয় । হেডসেটটি চোখ ও কানকে ঢেকে রাখে এবং এটি দ্বারা কোন দৃশ্য দেখা ও শোনা যায় । আর হাতের সাথে সংযুক্ত গ্লোভস দ্বারা কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় কমান্ড দেয়া হয় এবং ফলে প্রয়োজনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয় ।

প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রভাবঃ

নিম্নে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব উল্লেখ করা হলো-

১ । এটি দ্বারা শিক্ষানবীশ ডাক্তারগণ সহজে ও সুবিধাজনক উপায়ে বাস্তবে অপরেশন থিয়েটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে ।

২ । এটি দ্বারা বন্দরের কন্টেইনার উঠা-নামার কাজ সহজে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা লাভ করা যায় ।

৩ । এটি দ্বারা হাই রাইজিং বিল্ডিং তৈরি করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় ।

৪ । এটি দ্বারা বড় বড় কৃষি খামার ও মত্স খামার পরিচালনা করা যায় ।

৫ । আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের ভায়োলেন্স দূরীকরণের কাজে ব্যবহার করা যায় ।

৬ । এটি দ্বারা শিক্ষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল সেতুবন্ধন তৈরি করে শ্রেনীকক্ষে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন করা যায় ।

৭ । এটি দ্বারা স্বল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে বিমান চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদার করা যায় ।

৮ । মহাশূন্যে খেয়াযান পরিচালনা সম্পর্কিত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায় ।

৯ । এটি দ্বারা চন্দ্র বিজয়ের স্মরণীয় মূহুর্তে নীল আর্ম ষ্ট্রং এর সেই গর্বিত উচ্চারণ “One small step…………………………………….” ইত্যাদি অবিকল তাঁর কন্ঠেই শোনা যায় ।

১০ । এটি দ্বারা হিলারি-তেনজিং কর্তৃক মাউন্ট এভারেষ্ট জয়ের সেই মূহুর্তকে জীবন্ত করে দেখা যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *