জানুন সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকারক প্রভাব গুলো কী!

0
107

বর্তমান সময়ে পৃথিবীকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে যে প্রযুক্তি তার নাম দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া।এই সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের পুরোনো সেই দিন গুলোর কথা ভুলিয়ে দিয়েছে, যে কোন এককালে আমরা চাইলেই আমাদের প্রিয় জনের খোজ নিতে পারতাম না।

আজ আর সেই সব দিন গুলো নেই। মানুষ সেই দিন গুলোকে মনেও করে না খুব একটা কারণ নিত্য নতুন প্রযুক্তি আমাদের সব কিছু কেই আপন করে দিয়েছে। আর এ কারনেই এই পর্বে সেই সকল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এর ফলে আমাদের যুবকদের মাঝে যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে তা তুলে ধরলাম।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

জানুন সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকারক প্রভাব গুলো কী!

আমরা জেনে নেই সোশ্যাল মিডিয়া কি?

আমরা যাকে ফেইসবুক নামে চিনি এটাই একটি এই সোশ্যাল মিডিয়া।এ রকম আরো অনেক সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে যেমনঃ টুইটার,মাইস্পেস,গুগল প্লাস, ইন্সটাগ্রাম,ইউ টিউব ইত্যাদি।

কিন্তু কোন কিছু যতোই জনপ্রিয় হোক না কেন,তার কিছু নেগেটিভ দিক তো থাকবেই!এবং ব্যবহারকারীরা যদি সে সব দিক সম্পর্কে সতর্ক না থাকে,তাহলে জনপ্রিয় মাধ্যম গুলো জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে খুব সহজে ,এছাড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে নিজের সাজানো জীবন! তাই সব ক্ষেত্রে সতর্ক হোন…

নানা রকম অ্যাপস,সময় নষ্ট ব্যাস!
সোশ্যাল সাইট মানেই হল অসংখ্য অ্যাপসের ছড়াছড়ি। আর এই অ্যাপস গুলোর বেশির ভাগ ই অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর! এক গবেষণায় দেখা গেছে,সোশ্যাল সাইট ব্যবহারকারীদের বিশাল একটা সংখ্যা তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করেন,শুধু মাত্র অ্যাপস চেক করতে গিয়ে,এদের মধ্যে অধিকাংশ তার পিসির কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলেন অ্যাপস এর দ্বারা এবং আরেক অংশের আইডি হ্যাক হয়ে যায় শুধুমাত্র অতিরিক্ত নানান রকমের অ্যাপস ব্যাবহারে ।

সোশ্যাল পরিবারের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে!
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে,যারা অনেক বেশি সোশ্যাল সাইট গুলোতে সময় দেন,ব্যক্তিগত জীবনে তাদের সাথে পরিবারের বেশ দূরত্ব সৃষ্টি হয়! দেখা যায়,তারা দিন শেষে বাড়ি ফিরে অথবা সাপ্তাহিক ছুটির দিন গুলোতেও পরিবার কে সময় না দিয়ে সময় দেয় সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে যার ফলে মানুসিক থেকে শুরু করে বাহ্যিক পর্যন্ত সব দিক থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হয় পরিবার এর সাথে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিত্তিহীন-ভূয়া খবর তৈরি হয়।
বিখ্যাত নিউজ চ্যানেল সিএনএন এর সোশ্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী,বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হয় সোশ্যাল সাইট গুলোতে,যা মিডিয়া সম্পর্কে সমাজে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করছে!
বিশেষজ্ঞদের মতে,ভুয়া ও বানানো খবর প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াকে।

দেখা গেছে, শুধু টুইটার ফেসবুক, লিঙ্কডইন, মাইস্পেস, হাইফাইভ, বাদু, নিং ইত্যাদি সহ, বাংলাদেশীদের উপস্থিতি রয়েছে এমন সাইটগুলোও অনর্থক আর আজেবাজে প্রচুর ম্নতব্যে ভরা। এসব সাইটের প্রচুর পরিমানে অপব্যবহার হচ্ছে। অনেক ব্লগের লেখা খুব বেশি সম্পাদনা করা হয় না সেসব ব্লগে যার যা খুশি তা-ই লিখে দিচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হয়। অনেক সময় সফলতাও হচ্ছে তারা। গুজব তৈরির জন্য তারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডটান,গুগল প্লাস ইত্যাদির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্রশাসনিক বিপর্যয়েরও একটি মাধ্যম!
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ এ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে,সোশ্যাল সাইট গুলোতে প্রশ্ন ফাঁসের উৎসব চলছে! সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে এই মাধ্যম গুলোতে,ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শিক্ষা ক্ষেত্র সহ সব রকমের প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর অতিরিক্ত ব্যবহার এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল ও পরবর্তীতেও নিজেদের ক্যারিয়ারের উপর যেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ঠিক তেমনি এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া কর্মক্ষেত্রের জন্য সমস্যা তৈরি করে!
অতিরিক্ত সোশ্যাল সাইটের প্রতি আসক্তি এবং এর অপব্যবহার শুধু মাত্র পরিবার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের জন্যই যে ক্ষতিকর তা না,এটা সমস্যা তৈরি করতে পারে আপনার কর্মক্ষেত্রেও!

সোশ্যাল মিডিয়া তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে জীবনযাপন বিষয়ক এক ওয়েবসাইট।

সময় নির্ধারণ: নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর ই-মেইল, সোশাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন, গেইমস এসবের দিকে নজর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, এই সিদ্ধান্তগুলোতে অটুট থাকতে হবে।

পরিবার এর সদস্যদের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে:
আপনার সাথী কিংবা পরিবার এর কোনো সদস্য আশপাশে থাকলে মোবাইল ফোনে মুখ গুজে না থেকে তাদের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। পাশাপাশি কথা বলতে হবে। না হলে বিষয়টি গুরুজন, সমবয়সি, স্নেহভাজন, সঙ্গী সবার চোখেই বেয়াদবই, তাচ্ছিল্য কিংবা অসামাজিকতার প্রকাশ করে।

মোবাইল ফোন দূরে রাখা:
সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটানোর মধ্যই ফোনের দিকে মনোযোগী হওয়ার বিষয়টা সংসার ভাঙার কারণও হয়ে যেতে পারে।  তাই নিজেদের মধ্যে সময় কাটানোর সময় ফোন আশেপাশে রাখা উচিত না।

ইন্টারনেটের সংযোগ বন্ধ রাখা:
পরিবার, বন্ধুমহলে সময় কাটানোর সময় ফোনে এর ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা যেতে পারে। যার ফলে ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আপনার মনোযোগ নষ্ট করতে পারবে না।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × three =