প্রতারণার ফাঁদ, চুরি হচ্ছে গ্রাহকের মোবাইলের সব তথ্য

0
428

মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাস্টমার সেন্টারের কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে প্রতারক চক্র। গ্রাহককে ফোন দিয়ে বা এসএমএস দিয়ে আকর্ষণীয় পুরস্কারের কথা বলছে। অনেকেই এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অর্থও খোয়াচ্ছেন অনেকে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা গ্রাহকের অতিগোপনীয় আই টোকেন নম্বর কৌশলে জেনে নিয়ে মোবাইলের সব তথ্য নিয়ে নিচ্ছে। একইভাবে কাউকে কাউকে অফারে গিফট পেয়েছেন বলে ফোন দিয়ে আর্থিক প্রতারণাও করছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি অফিসে কর্মরত জনৈক মাহবুব রহমানকে (ছদ্মনাম) ফোন দেন ওই প্রতারক চক্রের এক সদস্য।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মাহবুব দ্য রিপোর্টকে জানান, গুলশান আলাউদ্দিন টাওয়ারে বাংলালিঙ্কের হেড অফিসের সার্ভিস সেন্টার থেকে সুমন চৌধুরী পরিচয়ে ফোন দেন ওই প্রতারক। ০১৯১১১১২০০৪ নম্বর থেকে ফোন থেকে ফোন দিয়ে প্রতারক চক্রের ওই সদস্য কাস্টমার সেন্টার থেকে যেভাবে সাধারণ কোনো কাস্টমারকে কল দেওয়া হয় সেই চিরচারিত কণ্ঠেই ফোন দেন মাহবুবকে। সুমন চৌধুরী পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তির ফোন রিসিভের পরেই মাহবুব শুনতে পান ‘‘হ্যালো-আসসালামু আলাইকুম।বাংলালিঙ্ক সার্ভিস সেন্টার থেকে সুমন চৌধুরী বলছিলাম। স্যার, আপনাকে ম্যানি ম্যানি থ্যাঙ্কস। বাংলালিঙ্কের পক্ষ থেকে আপনাকে কংগ্রেচ্যুলেশনস। যে নম্বরে কথা বলছি, এটার মালিক কি আপনি…? হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে মাহবুবকে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘……বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন উপলক্ষে কোটি টাকার অফার দেওয়া হয়েছিল এবং সেটা টিভি ও পত্রিকায় এ্যাডও দেওয়া হয়েছিল স্যার, এটি কি দেখেছিলেন আপনি?’’

মাহবুব রহমানের না সূচক জবাবে বাংলালিঙ্ক কাস্টমার কেয়ারের কথিত ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘…আপনি যে সিমটি ব্যবহার করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে বিজয়ী হয়েছেন। আপনি যে বিজয়ী হয়েছেন তার একটি সিরিয়াল নম্বর আপনার মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৪ ডিজিটের আই টোকেন নম্বর। নম্বরটি আমাদের কনফার্ম করলেই আমরা বলে দিতে পারবো আপনি কোন গিফটা পেয়েছেন।’’

পুরস্কারের বিষয়টি নিয়ে মাহবুবের সন্দেহ হলেও তিনি ওই ব্যক্তি আরো কী বলে তাই শোনার জন্য তার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে পাঠানো আই টোকেন নম্বরটি জানিয়ে দেন। অবশ্য প্রতারক চক্রের ওই সদস্য নিজেই দ্বিতীয়বার ফোন দিয়ে মাহবুবের কাছ থেকে আই টোকেন নম্বরটি জেনে নেন। banglalink থেকে যেভাবে নিয়মিত গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন এসএমএস আসে, ঠিকই একইভাবে এসএমএস এসেছে তার মোবাইলে। এতে লেখা-Thank you. your iToken number is ….।

চার ডিজিটের ওই আই টোকেন নম্বরটি জানানোর পর ওই ব্যক্তি মাহবুব রহমানকে বলেন, ‘‘তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। আপনি লাকিম্যান। কোম্পানির তরফ থেকে আপনি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। এ টাকার মধ্যে মোবাইলে কথা বলার জন্য ২৫ হাজার টাকা পাবেন। এটা ৫ বছর আনলিমিটেড ব্যবহার করতে পারবেন। বাকী ২ লাখ টাকা হ্যান্ডক্যাশ হিসেবে পাবেন। যেকোনো বিকাশ নম্বর থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।’’

মোবাইল কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের অফার নিয়ে অতীতে নানা প্রতারণার তথ্য রয়েছে মাহবুব রহমানের কাছে। কিন্তু, শনিবারের ঘটনাটিকে একটু ভিন্নই মনে হলো তার। সন্দেহ নিয়েই ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলেন কীভাবে অফারের টাকাটা উত্তোলন করবেন। জবাবে সুমন নামের ওই ব্যক্তি বলেন, ‘নরম্যালি যেভাবে টাকা তোলেন সেভাবে। ৫০ হাজার টাকা করে ৪ দোকান থেকে এ টাকা তুলতে পারবেন। এ টাকাটা তুলতে পারবেন খুব সীমিত সময়ের মধ্যে। আজকে না তুললে পাবেন না।’

প্রতারণার বিষয়টি মাহবুবের কাছে আরো তীব্র হলো। এরপর কথিত ওই সুমন চৌধুরীকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন মাহবুব। এরপর লাইন কেটে দেন তিনি।

মোবাইল কোম্পানির কাস্টমার সেন্টার থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির প্রতারণা মূলক কথাবার্তাগুলো পাশের লোকজনের সঙ্গেই শেয়ার করছিলেন মাহবুব। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন তার মতো আরো অনেককেই এভাবে প্রতারণামূলক অফার দেওয়া হয়েছে। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে বাসা থেকে ফোন দিলেন মাহবুবের স্ত্রী। একই নম্বর থেকে মাহবুবের মতো তিনিও কথিত বাংলালিঙ্ক কাস্টমার সেন্টারের ফোন পেয়েছেন। স্ত্রীর মোবাইল নম্বরটিও মাহবুব তার ন্যাশনাল আইডি কার্ড (এনআইডি) দিয়েই বায়োমেট্রিক করেছেন। মাহবুবের স্ত্রীকে সেই একই কণ্ঠস্বরে একই অফার দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছে তিনি কোথায় কতটুকু লেখাপড়া করেছেন। কোথায় থাকেন। আরো অনেক প্রশ্ন…। এসব প্রশ্নে অনেকটা ভড়কে যান তিনি।

কথিত বাংলালিঙ্ক কাস্টমার সেন্টার থেকে এমন প্রতারণার জাল বহুদিন থেকেই হয়ে আসছে। এসব প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ রাখার স্বার্থেই সরকার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে নতুন করে সব মোবাইল অপারেটরের সিম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু, এরপরেও প্রতারক চক্র থেমে নেই। তাদের জাল ছড়িয়ে দিচ্ছে চারিদিকে।

রবিবার অফিসে গিয়ে মাহবুবের সব কথা শুনে তার এক সহকর্মী বলেন, আই টোকেন নম্বরটি অতিগোপনীয়। আপনি দ্রুতই বাংলালিঙ্ক সার্ভিস কেয়ারে যোগাযোগ করেন।

সহকর্মীর পরামর্শে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেন মাহবুব। মাহবুবের কথা শুনে কাস্টমার কেয়ারের এক ব্যক্তি তাকে জানান, প্রতারক চক্র আই টোকেন নিয়ে ওই সিম বা ব্যবহৃত মোবাইলের সব তথ্য নিতে পারেন। এমন কি এটা দিয়ে ওই প্রতারক এই মোবাইলের সব তথ্য হ্যাকড বা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এছাড়া ওই নম্বর ব্যবহার করে কাউকে ভুল বা চক্রান্তমূলক এসএমএস দিয়েও নানাভাবে হয়রানি করতে পারে। আপনি দ্রুতই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বাংলালিঙ্কের পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে শনিবার রাতেই দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। সব সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে। তাই অভিযুক্ত নম্বরের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে পরের দিন রবিবার জানাবেন বলে আশ্বস্থ করেন তিনি। তবে রবিবার দুপুরে পাবলিক রিলেশনের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবারের আগে তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান। একইসঙ্গে যে নম্বর থেকে প্রতারণা করা হয়েছে সে নম্বর ও অভিযোগগুলো বিস্তারিত লিখে একটি মেইলে পাঠাতে বলেন এই কর্মকর্তা। রবিবার দুপুরে সব তথ্য তার দেওয়া ই-মেইলে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে বলে এই প্রতিবেদককে আশ্বস্থ করা হয়।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen + 2 =