ব্লু হোয়েল গেম আতঙ্ক ছড়িয়ে পরছে বাংলাদেশে। মানুষকে বোকা বানাচ্ছে কিছু অসাধু

By | 16/10/2017

গতকাল ১২ অক্টোবর থেকে ফেইসবুক ম্যসেঞ্জারে পাঠানো ভাইরাল এ ম্যসেজে বলা হয়, ‘ব্লু হোয়েল গেম’ টি অক্টোবর ১৩ তারিখ রাত ৯-১০ এর ভিতরে বাংলাদেশের সকল এন্ড্রয়েড ফোনে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। বার্তাটিতে বলা হয় যে এটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) থেকে প্রচারিত হয়েছে। বিটিআরসি বাস্তবে এমন কোন সতর্কতা দেয় নি। বাংলাদেশে চলমান ব্লু হোয়েল আতঙ্ককে কেন্দ্র করে প্রচারিত বানোয়াট ভাইরাল ম্যাসেজগুলোর অন্যতম সংস্করণ এটি।

বার্তাটিতে স্বচ্ছ না কারা এই অ্যাপ ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছে। তবে স্বাভাবিকভাবে যে কেউ যে কোন এন্ড্রয়েড ফোনে ব্লু হোয়েল গেম বা অন্য দে কোন মোবাইল অ্যাপ ঢুকিয়ে দিতে পারবে না। ক্ষেত্রবিশেষে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে কোন অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢুকিয়ে দিতে পারে যারা তারা হলো―

১। গুগল কর্তৃপক্ষ:
অধিকাংশ এন্ড্রয়েড মোবাইলে ইন্সটল করা অ্যাপগুলো অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে গুগলের প্লে স্টোর (Google Play Store) নামক একটি অ্যাপ। তবে সাধারণত আপনার সম্মতি ব্যতীত জোরপূর্বক কোন পরিবর্তন গুগল কর্তৃপক্ষ করবে না। বিশেষত, আপনার ক্ষতিকর কোন পরিবর্তন আপনার মোবাইলে কার্যকর করলে সেটি হবে গুগলের প্রাইভেসি পলিসির বিপরীত।
২। মোবাইল ডিভাইস নির্মাতারা:
স্যামসাং, শাওমি কিংবা মটোরলার মত মোবাইল ডিভাইস নির্মাতারা তাদের মোবাইলগুলোতে ইন্সটল করা এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসে রিমোটলি পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে। তবে সেটিও করতে হলে আইনত আপনার সম্মতি নিতে তারা বাধ্য। অন্যথায় তাদের চরম আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে।
৩। আপনার মোবাইল ইন্সটল করা আছে এমন অ্যাপগুলো:
আপনার মোবাইলে যদি সন্দেহজনক বা ক্ষতিকর কোন অ্যাপ ইতিমধ্যে ইন্সটল করা থাকে, বিশেষত যেটি ইন্সটল হওয়ার সময় আপনার মোবাইলে বড় ধরণের নিয়ন্ত্রণ আনার অনুমতি নিয়ে ফেলেছে, সেটির মাধ্যমে হ্যাকাররা আপনার মোবাইলে ক্ষতিসাধন করতে পারবে। আপনি যদি এমন কোন অ্যাপ ইতিমধ্যে আপনার মোবাইল ইন্সটল না করে থাকেন তবে আপনার শঙ্কার কোন কারণ নেই।
তবে কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দ্বারা সামগ্রিকভাবে নির্দিষ্ট কোন অঞ্চলের সকল এন্ড্রয়েড ডিভাইসে নিয়ন্ত্রণ আনা প্রায় অসম্ভব। এছাড়াও ব্লু হোয়েল মূলত কোন মোবাইল গেম না।
এই ধরণের সতর্ক ম্যাসেজ আপনার ইনবক্সে কখনো পেয়ে থাকলে কোনভাবেই ফরওয়ার্ড করা উচিৎ না। কেননা, যদি এমন আসলেই হয় যে দুষ্কৃতিকারীরা এমন ক্ষতিকর কিছু নির্দিষ্ট একটি সময়ে সাধন করার পরিকল্পনা করছে, তবে সম্ভাবনা রয়েছে এরকম ভাইরাল সতর্ক ম্যাসেজ ইতিমধ্যে তাদের কাছেও পৌঁছেছে। ফলে তারা চাইলে তাদের সময় পরিবর্তন করে ফেলতেই পারে। এই ধরণের ম্যাসেজগুলো সাধারণত বোকা বানানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় তৈরি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *