পেপ্যালের বিকল্প হতে পারে আইপে

By | 07/03/2018

 পেপ্যাল একটি অনলাইন ভিত্তিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান যারা ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেন সেবা দিয়ে থাকে। অনলাইন লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত মানি-অর্ডার বা চেকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আমরা যারা ফ্রিল্যান্স বা অনলাইন লেনদেন দুনিয়ার সাথে জড়িত তারা কমবেশী সবাই পেপ্যালকে চিনি এবং পেপ্যাল না থাকার কারণে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের অনেক কাঠখড়া পোহাতে হয়। কিছু দিন আগে বিডিনিউজ২৪, ডেউলি ষ্টার সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো বলেছিল পেপ্যাল বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা শুরু করবে খুব অচিরেই।

পেপ্যালের সেবা চালু করতে সোনালী ব্যাংককে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক কাজ করছে। আসলে কবে নাগাদ পেপ্যাল বাংলাদেশে আসবে তার কোন ধারণা সরকার কিংবা তথ্য প্রযুক্তি-তে জড়িত কোনো ব্যক্তিবর্গের-ই নাই। কিন্ত  গত কয়েক বছর ধরে পেপ্যাল আসা নিয়ে প্রতিবার আশ্বাস আসছে সরকার কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে থেকে। কিন্তু

পেপ্যালের বিকল্প? বাংলাদেশে এই মহুর্তে যদি অনলাইন কিংবা পেপ্যালের মত প্রতিষ্ঠানের কথা আসে তাহলে গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান ছাড়া পেপ্যাল সেবা দিতে পারে এমন প্রতিষ্ঠান নেই।

আইপে বাংলাদেশ (ipay.com.bd) অথবা পেয়েজা (payza.com) বাংলাদেশ যারা ইতোমধ্যে সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু আগ্রহের ব্যাপার হল বাংলাদেশেও তৈরী হচ্ছে বিশ্বমানের ডিজিটাল ওয়ালেট। যেমন আইপে বাংলাদেশ যারা স্থানীয় বা দেশীয় ব্যাংকের সাথে অনলাইনে টাকা স্থানান্তর করতে পারে। শোনা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই নাকি আইপে একাউন্টের ব্যবহারকারীরা পেপালের টাকা আইপে-তে স্থানান্তরিত করতে পারবে সেইসাথে পেপ্যাল ভেরীফিকেশন করতে পারবে। কিন্তু নিঃসন্দেহে আইপে কিংবা পেয়েজা পেপ্যালের বিকল্প নয়।

বর্তমানে আমরা যারা ফ্রিল্যান্স কিংবা অনলাইন আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত তারা আসলে বুঝি পেপ্যালের মর্ম কি। পেয়েজা অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে পেয়েজা আমাদের কোনো কাজে আসে না। একমাত্র পেওনিয়ার ও আইপে ছাড়া এই মহুর্তে বাংলাদেশে ভাল কোনো ডিজিটাল ওয়ালেট পদ্ধতি নাই। কিন্তু পেওনিয়ারে অনেক চার্জ থাকায় ব্যবহারকারীরা সন্তুষ্ট নয়। তাছাড়া পেওনিয়ারের গ্রাহক সেবা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

অনলাইন ভিত্তিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা পেপ্যালের আসার জন্য ভূমিকা রাখে না। কেননা শুধুমাত্র নীতিমালা দিয়ে অনলাইন পেমেন্ট চালু করা সম্ভব নয় কারন এই নীতিমালাগুলোকে সংক্রিয় কিংবা অটোমেশন করতে হবে।

যাইহোক, পেপ্যাল আসলে হয়তো অনলাইন লেনদেনের সাথে জড়িত সকলই একটু স্বস্থির নিশ্বাস ফেলতে পারতো। আপাতত পেওনিয়ার, আইপে, পেয়েজা এগুলো নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *