গুগল এডসেন্স: পাবার সবচেয়ে সহজ উপায় কি? জানুন।

0
592

গুগল এডসেন্স: পাবার সবচেয়ে সহজ উপায় কি? জানুন।

গুগল এডসেন্স ঠিক কি?

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

গুগল এডসেন্স গুগল কোম্পানির একটি এড ইউনিট। সহজ ভাষায় বললে, আপনার যদি
একটি ওয়েবসাইট বা ইউটিউব ভিডিও থাকে, আপনি গুগল কে বলতে পারেন যে আমার এই
ওয়েবসাইট বা ভিডিও আছে, আমি এড দিতে চাই। তখন গুগল আপনাকে আপনার সাইট বা
ভিডিওর সাথে যায় এমন কিছু এড দেবে এবং সেগুলো বসানোর পরে সেসবে যখন মানুষ
ক্লিক করবে বা দেখবে, আপনাকে গুগল টাকা দেবে।

গুগল এই টাকা টা নেয় এড গুলোর আসল মালিক বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে। তো
আমরা কোম্পানির তরফ থেকে চিন্তা করি। তাহলে ব্যপারটা আরো সহজ হবে বোঝা।

ধরুন আমি একটা ইলেকট্রিক ঘুড়ি আবিষ্কার করেছি। এখন আমি ঠিক করলাম এই
ইলেকট্রিক ঘুড়ি বেচবো আমি। এখন মানুষ কে কিভাবে জানাবো? হ্যা, টিভি তে এড
দিতে পারি কিন্তু খরচ অনেক। বিলবোর্ড বসাতে পারি, রেডিও তে এড দিতে পারি,
পেপারে এড দিতে পারি অথবা গুগলে এড দিতে পারি। আমি গুগল কে বলবো, আমি এমন
সব ওয়েবসাইটে এড দিতে চাই যেসব ওয়েবসাইট টেক প্রোডাক্ট রিলেটেড। কারণ এই সব
ওয়েবসাইটে যারা যায়, তারাই তো আমার ইলেকট্রিক ঘুড়ি কিনতে চাইতে পারে তাই
না? এখন অন্যদিকে, এরকম টেক ওয়েবসাইট গুলোও কিন্তু গুগল কে বলে রেখেছে ওদের
টপিক এর মত এড দিতে চায় ওরা, তাই না? গুগল এই ২ পক্ষের কথা শুনে আমার এড
ওরকম ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে এবং মানুষ যখন ওসব সাইট বা ভিডিও তে যেয়ে আমার এড
দেখবে বা ক্লিক করবে, আমি ঐ সাইট এর মালিক কে প্রতি ক্লিকের জন্য কিছু
টাকা দেবো।

সংক্ষেপে বললে, এটাই হল গুগল এডসেন্স।
আমার এডসেন্স ব্লগটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কিভাবে এটা শুরু করবো?

এতদূর পড়লে আপনি অলরেডি বুঝতে পেরেছেন যে আপনার হয় একটি ভিডিও চ্যানেল
(ইউনিক এবং ইন্টারেস্টিং ভিডিও সহ) অথবা একটা ওয়েবসাইট থাকতে হবে গুগল
এডসেন্স এর জন্য। আমরা ওয়েবসাইট নিয়েই কথা বলবো যেহেতু এটাই বেশি পপুলার।

তো ধরুন আমি আজকে ঠিক করলাম আমি গুগল এডসেন্স দিয়ে আয় করতে চাই। আমার
প্রথম কাজ হবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে কম্পিটিশন কম কিন্তু সার্চ ভাল এমন
একটা নিশ সিলেক্ট করা। এই নিশ টা একটু বড় হলে ভাল হয় কারণ আপনার ওয়েবসাইটে
যত মানুষ আসবে ততই আপনার লাভ। তো ধরুন আমি সিলেক্ট করলাম Gaming. এখন আমার
কাজ হবে গেমিং নিয়ে একটা ওয়েবসাইট বানানো। এডসেন্স স্টাইল ওয়েবসাইট গুলোতে
সবসময়ই প্রচুর আর্টিকেল দিতে হয় এবং সেকারণে একটা ব্লগ স্টাইল ওয়েবসাইট ই
আপনার জন্য ভাল হবে। তো আমি ওয়েবসাইট টি বানালাম। এখন কাজ কি?

এখন কাজ হল ভাল কিছু আর্টিকেল দেয়া। অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে ২৫ থেকে ৪০
টি ভাল ইউনিক, রিসার্চড আর্টিকেল দেয়ার পরে এবং ওয়েবসাইটের বয়স ৩ মাস হবার
পরে আপনি গুগল এডসেন্স এ এপ্লাই করতে পারবেন। এর আগে করলে রিজেক্ট হয়ে
যাবেন। রিজেক্ট হলেও আবার এপ্লাই করা যায়।

তো আমি আর্টিকেল দেয়া শুরু করবো। এছাড়া সব সোশাল মিডিয়া তে গেম নিয়ে পেজ
খুলবো, বিভিন্ন গেম এর গ্রুপে জয়েন করবো এবং সেখানেও সবার সাথে আলাপ করবো
এবং আমার সাইট দেখাবো সবাইকে। এভাবে আস্তে আস্তে আমার সাইট পপুলার হওয়া
শুরু হবে।

এছাড়া এসইও এর বিভিন্ন টেকনিক ইউজ করে আমার সাইট কে আমি সার্চ ইঞ্জিন এ উপরে আনার চেষ্টা করতে থাকবো।

একসময় যখন এনাফ আর্টিকেল এবং ওয়েবসাইটের বয়স ৩ মাস হয়ে যাবে, আমি গুগল এডসেন্স এ এপ্লাই করব।
গুগল এডসেন্স এ এপ্লাই করার জন্য কি প্রয়োজন ?

আপনার জিমেইল একাউন্ট দিয়েই আপনি গুগল এডসেন্স এ এপ্লাই করতে পারবেন। পুরো প্রোসেস টা খুবই সহজ। প্রথমে এখানে
আপনাকে সাইন আপ এ ক্লিক করতে হবে। এরপর গুগল আপনার কাছে আপনার সাইটের কিছু
বেসিক ইনফর্মেশন জানতে চাবে এবং সেগুলো ফিলাপ করে সাবমিট দিলেই আপনার গুগল
এডসেন্স এ এপ্লাই করা হয়ে গেল। বাংলাদেশিদের যেসব ব্যপার মাথায় রাখতে হবে
তা হলঃ-

বয়স ১৮ (অফিশিয়ালি) হতে হবে গুগল এডসেন্স এ এপ্লাই করতে। আপনার বয়স যদি
এর কম হয় তাহলে আপনি আপনার বাবা-মা বা অন্য কারো যার ন্যাশলাল আইডি বা
পাসপোর্ট আছে তার নাম এ করতে পারেন।
ঠিকানা দেয়ার সময় খুবই যত্ন করে ঠিকানা টি দেবেন কারণ গুগল এই ঠিকানায় আপনার একাউন্টে ১০ ডলার হবার পরে একটা পিন কোড পাঠাবে।
আপনার সাইটের কনটেন্ট যদি আন-এথিকাল হ্যাকিং, এডাল্ট, পাইরেটেড মুভি,
সফটওয়্যার এরকম বিষয় নিয়ে হয় তাহলে এডসেন্স এপ্রুভাল দেবে না আপনাকে।
নিজের এড এ যদি নিজে ক্লিক করেন বা বন্ধুদের দিয়ে করান, গুগল খুব একটা বোকা না এবং আপনার এডসেন্স একাউন্ট ডলার সহই বাতিল হয়ে যাবে।

বলা হয়, গুগল এডসেন্স পাওয়া সহজ কিন্তু ধরে রাখা কঠিন :p কথা টা অনেক
ক্ষেত্রেই সত্যি। তবে আপনি যদি এই ব্যাসিক ব্যপারগুলো ঠিক রাখেন, আপনার
একাউন্ট কখনোই ব্যান হবে না।
আমি এটা থেকে কত আয় করতে পারবো?

বাংলাদেশে ইন্টারনেট মার্কেটার দের একটা বড় অংশ এখনো (২০১৬ সালে) গুগল
এডসেন্স থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ৫ হাজার ডলার খুব সহজেই আয় করছে। গুগল
এডসেন্স এর আয়ের একটা বড় সুবিধা হল এটা প্যাসিভ ইনকাম। একবার সাইট দাঁড়িয়ে
গেলে খুব বেশি কাজ থাকে না আর। গুগল এডসেন্স থেকে কত আয় করা যায় তার একটা
অঙ্ক আছে।

এই অঙ্ক টার মত কাজ করলে আপনি প্রতিদিন খুব সহজেই ১০০ ডলার টাচ করতে
পারবেন। অঙ্ক টাতে যাওয়ার আগে আপনার কিছু পপুলার টার্ম বুঝতে হবে।

CTR: এটা হল ক্লিক থ্রু রেট। কত মানুষ এড দেখে আপনার ওয়েবসাইটে এবং তার
মধ্যে কতজন ক্লিক করে তা হিসেব করা হয় এটা দিয়ে। তো আপনার ওয়েবসাইটের একটা
পেজ এ যদি ৫০০ জন আসে এবং ৫ জন ক্লিক করে তাহলে আপনার CTR হল ১%।

CPC: কস্ট পার ক্লিক। প্রতি ক্লিকে আপনি কত টাকা পাচ্ছেন তা হল এটি। এটা
ইন্ডাস্ট্রি থেকে ইন্ডাস্ট্রি ভ্যারি করে অনেক। ঐ ইলেকট্রিক ঘুড়ির জন্য
হয়তো আমার অনেক বেশি দিতে হবে টাকা গুগল কে কোম্পানি হিসেবে, আবার কোন
সাধারণ কোম্পানির হয়তো অনেক কম দিতে হচ্ছে।

CPM: কস্ট পার ইম্প্রেশন। প্রতি ১০০ জনের থেকে আপনার আয় কত হচ্ছে তার হিসাব এটি। CTR এর মতই হিসেব করা হয়।

এখন যেহেতু আপনি জেনে গেলেন বেসিক টার্ম গুলো, আসুন দেখি কিভাবে প্রতি দিন ১০০ ডলার টাচ করা যায়ঃ

তো আমরা  ধরে নেই আপনার CTR ১%। প্রতি ১০০ জনের ১ জন ক্লিক করে কোন
এড এ। এটা খুব কম করে ধরা। সাধারণত আরো বেশি হয়। এর সাথে আমরা ধরি আপনার
CPC হল .25 সেন্ট। এটাও আমরা কম করে ধরছি। এটাও সাধারণত আরো বেশি হবে।

এখন আপনি যদি প্রতি দিন ১০০ ডলার আয় করতে চান, আপনার পেজভিউ হতে হবে এই
হিসেব অনুযায়ী ৪০,০০০। এখন ৪০,০০০ পেজ ভিউ মানেই কিন্তু ৪০,০০০ ভিসিটর
লাগবে আপনার তা নয় কারণ একটা ভিজিটর তো আর আপনার সাইটের একটা পেজ ই দেখবে
না, তাই না? তো ধরে নেই একটা ভিজিটর ২ পেজ দেখবে (মিনিমাম)। তাহলে আপনার
লাগছে ২০,০০০ ভিসিটর।

এখন ধরি আপনার ওয়েবসাইটে ২৫০ আর্টিকেল আছে। শুনতে একটু বড় লাগছে কিন্তু
পোস্ট করতে থাকলে কবে আপনার ২৫০ আর্টিকেল হয়ে যাবে আপনি নিজেও টের পাবেন
না।  প্রতিটা আর্টিকেল যদি দিনে ৮০ জন ও পড়ে, তাহলে আপনার প্রতিদিন
আসছে ২০,০০০ ভিজিটর। এই ২০ হাজার ভিজিটর যেই আর্টিকেল এর জন্য এসেছে সেটা
পড়ে অন্য জিনিস ও পড়বে সাইটের। সো আপনার আসল আয় আরো বেশি হবে। এভাবে এই
২০,০০০ ভিজিটর থেকে খুব কম করে হলেও প্রতি মাসে ৪০০ ক্লিক আসবে আপনার এবং
৪০০ ক্লিক থেকে খুব সহজেই ৫ হাজার ডলার আয় সম্ভব এডসেন্স এ।

এখন, ব্যপারটা এমন না যে শুধু ক্লিক করলেই আপনার আয় হবে। এড দেখার
জন্যেও এডসেন্স একটা অংশ দেয় যদিও তা অনেক কম। আমরা ধরে নেই প্রতি ১০০০
ভিজিটরের জন্য আপনাকে এডসেন্স এক্ষেত্রে ২ ডলার দেবে। তাহলে প্রতিদিন আসছে
আরো ৪০ ডলার বা মাসে আরো এক্সট্রা ১২০০ ডলার।

এভাবে হিসেব করলে বছরে আপনার একটা ওয়েবসাইট থেকে আসছে প্রায় ৭৫ হাজার ডলার।

এখন আপনার ওয়েবসাইটে কি আপনি শুদু এডসেন্স ই ব্যবহার করবেন? ওয়েবসাইট টা
বড় হলে সাইটেই আপনি ইবুক বেচতে পারবেন আপনার টপিক রিলেটেড, কোর্স লঞ্চ
করতে পারবেন, এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন এবং এই লিস্টের কোন শেষ নেই।
আবার আপনার একটা ওয়েবসাইট ই থাকতে হবে এটা কে বলেছে? আরেকটা ওয়েবসাইট
বানিয়ে ডাবল করে ফেলুন সব ইনকাম! হ্যা, এগুলো সবই সম্ভব কিন্তু আমরা কষ্ট
করতে চাই না বা ভাবি আমাদের দিয়ে হবে না। এজন্য আসলেই হয় না বেশিরভাগ সময়ে।

আপনি যদি আজ থেকে (যেদিনই আপনি আর্টিকেল টা দেখছেন) শুরু করেন কাজ করা,
এই দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে আপনি এই গোল এ পৌঁছাতে পারবেন যদি ঠিকমত কোন
অজুহাত ছাড়া কাজ করেন।

ধন্যবাদ
আমার এডসেন্স ব্লগটি থেকে একটু ঘুড়ে আসুন-এখানে

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 5 =