[রিভিউ] শাওমি রেডমি থ্রি প্রো

By | 04/09/2016

কমদামে উন্নত কনফিগারেশন এর স্মার্টফোন বাজারজাত করা মধ্য দিয়ে চীনা কোম্পানি শাওমি ইতোমধ্যে সারা বিশ্বে বেশ ভাল বাজার দখল করে নিয়েছে । বাংলাদেশের বাজারেও ব্রান্ডটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শাওমি রেডমি থ্রি প্রো। ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর বিশিষ্ট ৩ জিবি র‍্যামের এই ফোনটি দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪,০০০-১৪,৫০০ টাকায়। এই ফোনটি মূলত তাদের পূর্ববর্তী হ্যান্ডসেট রেডমি থ্রি এর আপডেটেড সংস্করণ।

নতুন এই ফোনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আজকের এই আয়োজন।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক, কী কী থাকছে এই ডিভাইসে-

  • ৭২০পি ৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে।
  • ফোরজি সু হাইব্রিড ডুয়াল সিম।
  • স্নাপড্রাগন ৬১৬ প্রসেসর।
  • আন্ড্রিনো ৩০৬ জিপিইউ।
  • ৩ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ৩২ জিবি ইন্টারনাল মেমরি।
  • ১৩ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা ।
  • ৫ মেগাপিক্সেলে ফ্রন্ট ক্যামেরা।
  • ৪,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি।
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর।

আনবক্সিংঃ

হ্যান্ডসেটটি আনবক্স করলে আপনি যা যা পাবেনঃ

11

  • একটি হ্যান্ডসেট।
  • একটি চার্জিং এডাপটর।
  • একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল।
  • ইউজার ম্যানুয়াল ও
  • ওয়ারেন্টি কার্ড ।

ডিজাইনঃ

এ্যালুমিনিয়াম মেটাল ডিজাইনের এই ফোনটি দেখতে প্রিমিয়াম লাগে। তবে মেটালিক এ ডিজাইনের কারণে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে এটি কিছুটা গরম হয়ে যায়।
এ ছাড়া ৫ ইঞ্চির এ ডিভাইস অনেকটা হালকা গড়নের ও এক হাতে ধরে ব্যবহার করা যাবে। এটির ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ও প্রক্সিমিটি সেন্সর।

a12

ডিসপ্লের একেবারে নিচে রয়েছে তিনটি টাচ ক্যাপাসিটিভ বাটন। এতে কোনো হার্ডওয়্যার বাটন ব্যবহার করা হয় নি।

ফোনের ডান পাশে রিমুভএবল সিম ট্রেতে একই সঙ্গে মাইক্রো সিম ও ন্যানো সিম অথবা মাইক্রো সিম ও এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ এতে একই সাথে ডুয়াল সিম ও এক্সটার্নাল মেমরি কার্ড সুবিধা উপভোগ করা যাবে না ।

ফোনটির একেবারে ব্যাক প্যানেলে থাকছে ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর।

ডিসপ্লেঃ
ফোনটিতে ৫ ইঞ্চির ৭২০ পিক্সেল আইপিএস ডিসপ্লেব্যবহার করা হয়েছে। পিপিআই ২৯৪। আমার কাছে ডিসপ্লে টিকে বেশ ভাল মানের মনে হয়েছে । তবে হাই গ্রাফিক্স গেম গুলোতে কিছুটা সমস্যা হয়।

ইউজার ইন্টারফেসঃ
শাওমির নিজস্ব কাস্টমাইজড অপারেটিং সিস্টেম মিইউআই সেভেনে চলবে এ ফোন। এটি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপের একটি কাস্টমাইজড ভার্সন। এ কারণে ব্যবহারকারী ললিপপের পাশাপাশি নতুন ফিচারের সুবিধা পাবেন। আর শাওমির নিয়মিত আপডেট এর ফলে নিত্যনিতুন সব সুবিধা পাওয়া যাবে।

asss

পারফরমেন্সঃ
শাওমি রেডমি থ্রি তে মাত্র ২ জিবি র‍্যাম ব্যবহারের কারনে পারফরমেন্স কিছুটা স্লো ছিল, এই সমস্যা সমাধানে এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম।
পাশাপাশাই এই ফোনে চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্নাপড্রাগন ৬১৬ চিপসেট, যা স্নাপড্রাগন ৬১৫-এর উন্নত ভার্সন।

অক্টাকোর প্রসেসরের এ ডিভাইসে কর্টেক্স এ৫৩ আর্কিটেক্সারের ১.৫ গিগারহার্জের চারটি ও ১.২ গিগাহার্জের চারটি প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য রয়েছে অ্যান্ড্রিনো ৪০৫ জিপিউ।

প্রসেসর ও র‍্যাম এর দারুন সমন্বয় ঘটায় এই ফোনটি খুব ভাল পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। পাশাপাশি ঝামেলা বিহীন গেইমিং অভিজ্ঞতাও দিবে ফোনটি ।

পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর ব্যবহার করে বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচার ব্যবহারে দৃশ্যমান কোন সমস্যা পাওয়া যায় নি।

মাল্টিমিডিয়াঃ
মিউজিক লাভারদের কাছে শাওমি অনেক আগে থেকেই এক আস্থার ব্র্যান্ড। এটিতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় আছে। অডিও আউটপুট কোয়ালিটি বেশ ভালো। কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়।

ক্যামেরাঃ
১৩ মেগাপিক্সেলের সামনের ও ৫ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা দিয়ে বেশ ভালো ছবি তোলা যাবে।  চলুন দেখে নেই কিছু ক্যামেরা স্যাম্পল

assdd

এ ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যায় ।

ব্যাটারিঃ  
৪,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভএবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কারণে ব্যাক-আপ অসাধারণ বলতেই হবে। একবার ফুল চার্জে টানা দুই বা তিন দিনও চলবে। ফার্স্ট চার্জিং সুবিধা থাকায় অল্প সময়েই ফুল চার্জ হবে।

কানেক্টিভিটিঃ
ফোনটি সেভেন ব্যান্ডের ফোরজি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। তবে সুবিধাটি দুটি সিমের যে কোনো একটিতে ব্যবহার করা যাবে।

এ ছাড়াও ওয়াই-ফাই,ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও, ইউএসবি ২.০ প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

 

আজ এ পর্যন্তই । কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে ।

নিত্যনতুন সব স্মার্টফোন এর হ্যান্ড-অন-রিভিউ পেতে চোখ রাখুন টিউনারপেজ এ।

আবার দেখা হবে :)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *