ব্যাংকে চাকরি করতে চান? জেনে নিন ব্যাংক চাকরির আদ্যোপান্ত, পর্ব – ১

0
155

একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ব্যাংকের অবদান অপরিসীম। ইংরেজীতে একটা কথা আছে, ‘The economic structure of a country depends on the banking system of the country’- অর্থাৎ ব্যাংক-ব্যবস্থার ওপর একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ভর করে।। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন ‘বিশেষায়িত ব্যাংক’, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক’ ও ‘প্রাইভেট ব্যাংক’। প্রতিযোগিতার এই যুগে ব্যাংকসমূহের মোট সংখ্যা ৫৫ ছাড়িয়েছে, এবং প্রত্যেক বছরই ব্যাংকগুলোর শাখা বিস্তৃত হচ্ছে। ব্যাংকের চৌকস বেতন-ভাতাদি, সুযোগ-সুবিধা, চাকুরির নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা থাকার কারণে এ পেশার প্রতি তরুণদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

images ব্যাংকে চাকরি করতে চান? জেনে নিন ব্যাংক চাকরির আদ্যোপান্ত, পর্ব – ১

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ব্যাংকের কাজ

‘ব্যাংকের প্রধান কাজই হলো আমানত সংগ্রহ করা এবং সেই সংগৃহীত অর্থ ঋণস্বরূপ প্রদান করা’। এই সংজ্ঞা থেকে বোঝা যায় যে, একটি ব্যাংক মূলত আমানত গ্রহণ, ঋণ দান, এবং চেক প্রচলন করে থাকে। এছাড়া দেশি-বিদেশি বাণিজ্যের অর্থনৈতিক লেনদেন-এ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানও ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ব্যাংকে কাজের ক্ষেত্র

আধুনিক ব্যাংকে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে প্রধানত চারটি শাখা আছে। শাখাগুলোর কার্যপরিধি সংক্ষেপে এখানে উপস্থাপন করা হলো :
১. অপারেশন শাখা: সাধারণত এই শাখা আর্থিক প্রশাসন বিভাগ, অবকাঠামো বিভাগ, সফটওয়্যার বিভাগ, বিভিন্ন শাখা তদারকি বিভাগ, মানব সম্পদ বিভাগ,এবং মার্কেটিং বিভাগের কাজ সম্পাদন করে থাকে।

২. ইনভেস্টমেন্ট শাখা: ব্যাংকের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ভোক্তা বিভাগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিনিয়োগ নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগ এবং মনিটরিং বিভাগের কাজ এই শাখা সম্পাদন করে থাকে।

৩. ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং শাখার: এই শাখার উল্লেখযোগ্য বিভাগগুলো হলো বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা বিভাগ, গার্মেন্টস বিভাগ, রাজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বিভাগ।

৪. ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স শাখা: সাধারণত মনিটরিং বিভাগ, কমপ্লায়েন্স বিভাগ এবং অডিট ও তত্ত্বাবধান বিভাগের মাধ্যমে এই শাখার কাজ সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া
সরকারি ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাধারণত কিছু পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যখন সকল অনুষদের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে, তখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র ছাত্রীদেরকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয়।
সরকারী যে কোন ব্যাংকের চাকুরির বিজ্ঞাপন এর জন্য প্রধানত বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, জাতীয় পত্রিকা থেকে শুরু করে চাকরির ওয়েবসাইট এবং ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়ে থাকে।

সরকারি ব্যাংকে নিয়োগ প্রক্রিয়া
সরকারী ব্যাংকগুলোতে মূলত তিনটি পদের জন্য সদ্য স্নাতকদের নিয়োগ করা হয়-
১। সুপারভাইজার
২। অফিসার
৩। সিনিয়র অফিসার
এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন- IT (Information Technology), Accounting ইত্যাদি শাখায় নিয়োগ। একে ব্যাংকিং এর ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘Special Recruitment’। কিন্তু এ ধরনের নিয়োগ সচরাচর দেয়া হয়না। সাধারণত কোনো একটি বিষয়ে পারদর্শী এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকদেরকে এক্ষেত্রে নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া
সাধারণত বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ভর করে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব (নীতিমালার) উপর। কিছু ব্যাংক আছে যাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া অনেকটা একইরকম হয়ে থাকে, আবার কিছু কিছু ব্যাংক আছে, যারা নিজেদের মতো করে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সাজিয়ে নেয়।
মূলত চারটি এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এই এন্ট্রি পয়েন্ট গুলো হচ্ছে: Tailored Recruitment, General Banking Recruitment, Management Trainee Officer (M.T.O) or Probationary Officer (P.O) Recruitment, Lateral Recruitment।
Tailored Recruitment
বেসরকারী ব্যাংকের Tailored Recruitment এ সাধারনত নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কোনো একটি নির্দিষ্ট পদের জন্য নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
যেমন-কোনো একটি ব্যাংকে ক্যাশিয়ার পদ খালি থাকলে ব্যাংক তাদের চাকরির বিজ্ঞাপনে সেই কথাটি উল্লেখ করে দিবে। এই পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রাপ্তদের পুরো ব্যাংক ক্যারিয়ারটিই সাধারণত ক্যাশ শাখায় কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকবে। ব্যাংকিং এর ভাষায় একে ‘Tailored Recrutiment’ বলা হয়ে থাকে।

যোগ্যতা-
যে কোন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারীরা এ পদে আবেদন করতে পারে। তবে কিছু ব্যাংক নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের প্রাধান্য দিয়ে থাকে (যেমন-এম বি এম ডিগ্রি)। প্রত্যেক পরীক্ষায় কমপক্ষে ২য় শ্রেণী প্রাপ্ত হতে হবে।
General Banking Recruitment
জেনারেল ব্যাংকিং-এ নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার আলাদা আলাদা পদের জন্য কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

যোগ্যতা-
এক্ষেত্রেও আবেদনকারী সকল পরীজ্ঞায় কমপক্ষে ২য় শ্রেণীসহ স্নাতক।

চলবে…

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven + 16 =