Digital Love Segment 7

2
302
Digital Love Segment 7

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
Digital Love Segment 7

।। ইয়াহু ।।

“স্বপ্ন দেখতে অনেক সাহস লাগে। আমার আগে সে সাহস ছিলও। কিন্তু হঠাৎ কি থেকে যে কি হয়ে গেল? স্বপ্ন দেখার সাহসটাই হারিয়ে ফেললাম। এক সময় মনে হতো জীবনটাকে রাখছি কেন? শেষ করে দিলেই তো পারি। তাতে তো কারো ক্ষতি হবে না। বরং কেউবা আপদ থেকে বাঁচবে। কিন্তু পারি নাই। বিশ্বাস করেন পারি নাই। তা যদি মহা পাপ না হতো তাহলে ঠিকই করে ফেলতাম। আপনি স্বপ্ন দেখাতে পারেন, আপনার সাথে আর কথা হবে না. এই একাউন্টটা আজই ডি একটিভ করে দিচ্ছি, আর কোন দিন এই মেইল এড্রেস ওপেন করবো না। আপনি কারণ জানতে চাইতে পারেন, বলছি, আপনার সাথে কথা বললে দেখা যাবে আমি দুঃখ গুলো ভুলে যাচ্ছি, আমার দুঃখগুলো আমারই থাক। সেগুলো ভুলতে চাই না, এখন তো সেগুলোই আমার সম্পদ। অনেক বড় সম্পদ। সেগুলো ভুলব কেন? আমি ধন্যবাদ দিতে পারি না, পারলে দিতাম। ”

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

অফলাইনে লেখাগুলো পায় রাসেল। অশ্রুকণা আইডি থেকে এসেছে। প্রথম পরিচয়ের দিন হাই হ্যালোর পর নাম জিজ্ঞেস করেছে। তখন বলেছিল নীরা। তা দেখে রাসেল বলেছিল, সুন্দর নাম তো।

ঐ পাশ থেকে অনেক গুলো হাসি। আশ্চর্য ব্যাপারতো। নাম সুন্দর বললে এভাবে পাগলের মত হাসতে আগে কখনো কাউকে দেখে নাই। মনে মনে চিন্তা করে মেয়েটার মাথা ঠিক আছে তো? লিখে পাঠায়, সুন্দর বলছি এখানে হাসার কি আছে?

হাসার কি কিচ্ছুই নাই? উল্টা প্রশ্ন করে বসে মেয়েটি।

না ।

ঠিক আছে না থাকলে নেই। আমার হাসতে ইচ্ছা করলো তাই হাসলাম। তবে মজার ব্যাপার কি জানেন আমি যদি আমার নাম ঘষেটি বেগমও বলতাম সেটা শুনেও আপনি বলতেন সুন্দর নামতো। এই যে প্রচলিত ভদ্রতা গুলো আমার কেন জানি ভাল লাগে না। কৃত্রিম কৃত্রিম প্রশংসা চারদিকে। আন্তরিকতা ছাড়া ভদ্রতা আমার একটুও ভাল লাগে না।

-হুম ঠিক বলছেন। তবে ভদ্রতারও তো দরকার আছে। আর আপনি তো আপনার নাম ঘষেটি বেগম বলেন নাই। বললে আমি হয়ত বলতাম, এই নাম পেলেন কিভাবে? সুন্দর বলতাম কিনা জানি না। তবে এই প্রশ্ন নির্ঘাত করতাম।

-ভদ্রতা করেন সমস্যা নেই। তবে আপনার সাথে আমার কতদিন কথা হবে জানি না। আগেই একটা কথা বলে রাখি আমি কখনো আপনাকে থ্যাংকস ওয়েলকাম এগুলো বলব না। অসহ্য। ইচ্ছা করে না পোশাকী ভদ্রতা দেখাতে।

রাসেল লিখে পাঠায়, ঠিক আছে সমস্যা নেই। আপনি না বললে আমিও বলব না। কিন্তু কতদিন কথা হবে জানেন না মানে?

হুম জানি না। আমি আইডি চেঞ্জ করি বেশি। এজন্য দেখা যায় পার্সওয়ার্ড ভুলে বসে আছি। পার্সওয়ার্ড ভুলার কারণে অনেক বন্ধু হারিয়েছি।

-পার্সওয়ার্ড রিকোভার করবেন। তাহলেই তো হলো।

-ভাল লাগে না এত ঝামেলা করতে। নতুন আইডি খুলে নতুন বন্ধু খুঁজি।

-এটা ভাল না। নতুন বন্ধু খোঁজার চেয়ে পুরাতন বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখাই বেশি জুরুরী আমার মনে হয়।

-আচ্ছা ঠিক আছে বন্ধুত্ব বিষয়ে কথা বলতে ভাল লাগছে না। আমি অফলাইনে চলে যাচ্ছি।

-ওকে।

-ও আরেকটা কথা বলে যাই, আমি আমার যে নাম বলছি ঐইটা আমার নাম না। আমার নাম অন্য। সত্য নাম বলি নাই।

-ভাল করছেন। ইয়াহুতে সত্য নাম বলা উচিত না। ইয়াহু কর্তৃপক্ষই সাবধান করে দিয়েছে। বলেছে ব্যক্তিগত তথ্যাদি যাতে শেয়ার করা না হয়। ইয়াহুর সতর্ক বার্তা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য ধন্যবাদ।

-আপনি মজার তো।

-হুম কিছুটা মজার। যদিও সামনা সামনি বন্ধুরা বলে আমার মতো নিরামিষ নাকি পৃথিবীতে নাই।

হা হা হা। ঐ প্রান্ত থেকে হাসির অনেক ইমো আসে। যেন হাসির বৃষ্টি ঝরছে। একসাথে অনেক গুলো।

দুইটা হাসি দিলেই হয়। এত গুলো হাসি দেওয়ার কোন মানে হয় না। মেয়েটা যে কি?

রাসেল লিখে পাঠায়, আপনি বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন।

-মানে?

-আপনি যদি এভাবে বাস্তবে ক্রমাগত হাসতেন তবে নির্ঘাত ধরে নিত আপনার মাথায় সমস্যা আছে। ইয়াহুতে হাসছেন বিধায় রক্ষা পেয়েছেন।

-তার মানে আমাকে পাগল মনে হচ্ছে না? বাঁচালেন। আমি তবে ভেবে নিয়েছিলাম আপনি আমাকে এরই মধ্যে পাগল ভাবা শুরু করেছেন। এইযে প্রথম দিন এত কথা বলছি।

-এক্কেবারে যে মনে হচ্ছে না তা না।

-মানে?

-একটু একটু …….. না থাক বলব না। আপনি আরো আগে চলে যেতে চেয়েছিলেন। এখনও অনলাইনে আছেন যে। ওহ সরি আমার একটু বাহিরে যেতে হবে। মেসের বাজার করতে। আজ বাজারের দায়িত্ব আমার। তাই এখন চলে যেতে হবে।

– আপনি বাজার করতে পারেন? ঠকেন না?

-হুম বাজার করতে পারি। তবে ঠকি নাকি তা দেখতে যাই না। দেখতে গেলে যদি বুঝতে পারি ঠকছি, তবে কষ্ট লাগবে। তার চেয়ে কি দরকার ঠকছি নাকি তা পরীক্ষা করতে যাওয়ার।

-সুন্দর বলেছেন তো।

-আচ্ছা আমি যাচ্ছি। অন্যদের ক্ষেত্রে হলে বলতাম, আপনার সাথে কথা বলে ভাল লেগেছে। ভাল থাকুন। কিন্তু আপনি যেহেতু এসব ধরা বাঁধা কথা পছন্দ করেন না তাই এসব কিছু বলছি না। যাওয়ার আগে বলে যাই, খারাপ থাকবেন না।

সাথে সাথে লগ আউট করে দেয় রাসেল। ওর এই একটা বাজে অভ্যাস। অন্যদের কাছ থেকে বিদায় নেয় নিজে। কিন্তু অন্যদের তার প্রতিউত্তরে কিছু বলার সুযোগ দেয় না। লগ আউট করে দেয়।

তা সে মেয়ের সাথে অনেক দিন চ্যাট হয় না। এক সপ্তাহ পর আবার অন লাইনে দেখে। রাসেলই পি এম পাঠায় কেমন আছেন?

সাথে সাথে উত্তর আসে, হুম ভালো। আমি আপনার প্রতি একটু রাগ করছি।

-কেন কেন?

-সেদিন আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে চলে গেলেন। ভেবেছিলাম অফলাইনে একটা ম্যাসেজ দিবেন। আমি প্রতিদিনই আসছি। কিন্তু আপনাকে অফলাইনে রেখেছিলাম। ভাবছিলাম আপনার অফলাইন মেসেজ পাওয়ার পর কথা বলব। যদিও কথা বলতে ইচ্ছা করছিল।

-আজ অনলাইন দেখালেন যে।

-ইচ্ছা হলো তাই। দাঁড়ান আমি অফলাইনে যাচ্ছি। আপনি একটা মেসেজ দেন। অল্প হলেও আমার আশা পূরণ হবে।

খুব হাসি আসে রাসেলের। পুরা ছেলেমানুষী কাজ কারবার। তবে ভাল লাগে।

সে একটা ম্যাসেজ লিখে, ব্যস্ততার কারণে আপনার খবর নিতে না পারার জন্য আমি অতিশয় ব্যথিত হওয়ার চেষ্টা করেতেছি। জানি না কতটুকু সফল হইয়াছি। সফলতার পরিমাপ ব্যক্ত করা আমার পক্ষে সম্ভবপর নহে। তবে আপনাকে এতটুকু বলিতে পারি আমি অবিরত চেষ্টা করিয়া যাইতেছি।

মেসেজটা পড়ে সাথে সাথে অনলাইন হয়।

আমি আপনার চেষ্টা দেখে মুগ্ধ। তবে দয়া করে এবার আপনার চেষ্টা থামান।

এভাবেই কথা চলে। আরো কিছুদিন।

নিজের নাম না বললেও অনেক ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে নীরা। নিজের জীবনের ঘটনা গুলো। যে ছেলেটার সাথে রিলেশন ছিল সে এখন লন্ডনে পড়ালেখা করছে। ঐ ছেলের সাথে অনেক গভীর সম্পর্ক ছিল। জীবনে বিয়ের আগে যা করার কথা ছিল না, আবেগে একদিন সে কাজটাও করে বসে। কিন্তু এখন আর ঐ ছেলে ফোন দেয় না। লন্ডনের অন্য একজনের কাছ থেকে খবর পায় ঐ ছেলে নাকি এখন অন্য একটা বিদেশী মেয়ের সাথে রিলেশন গড়ে তুলেছে। ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে বিদেশী নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে।

এরপরও যোগাযোগের চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে কথা বলে। মাঝে মাঝে ফোন ধরে না। কখনো বা করুণা করে কথা বলে কিছুক্ষণ।

-এখন কি আপনাদের মধ্যে যোগাযোগ আছে?

-নাহ। যেদিন দেখলাম ওর ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে আমার নাম রিমুভ করে দিয়েছে সেদিন থেকে আমি আর যোগাযোগের চেষ্টা করি নাই। কি হবে? আমাকে বিয়ে করলে তো আর বিদেশী নাগরিত্ব পাবে না। যাকে ইচ্ছা তাকেই করুক।

রাসেলের খারাপ লাগে। সম্পর্ক গুলো যে কেন ভেঙে যায়। মানুষের লোভই কি সব কিছু। ভালোবাসা কি কিছু না। এ বিষয়ে কথা বলতে ভাল লাগে না ওর।

-আচ্ছা এ বিষয় বাদ।

-কেন?

-আমার ভাল লাগে না। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া ব্যাপারগুলো কেন যেন সহ্য হয় না।

-ঠিক আছে বাদ দিলাম।

মনটা এখন প্রায়ই সময় অনেক খারাপ হয়ে থাকে।

-আপনি স্বপ্ন দেখেন। সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন। যে স্বপ্নে আপনিই রাণী। যে স্বপ্নে কোন দুঃখ আপনাকে ছুঁতে পারছে না। যে স্বপ্নে স্বপ্নের রাজকুমার আপনার সাথে সময় কাটায়।

আমি যে স্বপ্ন দেখতেই ভুলে গিয়েছি। এটা বলে সাথে সাথে অফলাইন হয়ে যায়। রাসেল আরো অনেকক্ষণ ছিল। বার বার নক করেছে কিন্তু আসে নাই।

দুইদিন পর এই মেসেজটা পেল।

রাসেল প্রতীক্ষা করে। বছর পার হয়। নাহ ওই মেয়ে আর আসে নি।

…………………………………………………………..

এর তিন বছর পর রাসেল আর যুথি গল্প করছে।

যুথি বলছে, আচ্ছা কোন মেয়ের প্রতি তুমি দুর্বল হও নাই?

হইছি।

তাই? যুথি অবিশ্বাসের চোখে তাকায়। সবাই যে বলে তুমি মেয়েদের পাত্তাই দেও না।

-হুম, একটা মেয়ে নীরা। যদিও সে মেয়ের আসল নাম এটা না।

-ঘটনা খুলে বলো তো।

-ইচ্ছা করছে না। চলো ফিরে যাই।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

  1. আহ……কি করুন মহূর্ত ……..উদ্দেস্যহীন বিদায় বেলা……
    কতটা কঠিন তা কেবল ভুক্তভুগীরাই জানে………
    অনেক সুন্দর হইছে….ধন্য++++++++++++

  2. বরাবরের মতোই চমৎকার লাগল এই লেখাটিও। আমি স্বপ্ন দেখি। যেখানে আমিই সবকিছু। কারণ কাউকে সাথে নিলে সে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তাই কাউকে নিতে চাই না আমার সাথে।
    আর আমার জীবনের সবচেয়ে যেট বড় দুঃখ, সেটা হল……… থাক বলার দরকার নাই। সুন্দর হয়েছে পোষ্টটি। চালিয়ে যাও

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 + three =