Digital Love Segment 6

1
254
Digital Love Segment 6

ফুসকাওয়ালী

World Wide Web পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
টিউনারপেজে আমি শিখছি দিবারাত্র,
চেনে আমায় কেউ, বোঝেনা কেউ,
তবুও . . . . . .
টিউন করে যাই,
আপন মনে,
Digital Love Segment 6

দুরে তুমি দাড়িয়ে

সাগরের পাড়ে পা বাড়িয়ে

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

কাছে ডাকতে পারিনা

বলতে আর পারিনা,

তুমি আমার এখনও……………….

প্রদীপ এর কানে এম ডাব্লিউ ৬০০ হেডসেট লাগানো আর তাতে তাহসানের গানটা বাজছে কিন্তু তার গানের দিকে কোন মনোযোগ নেই সে অস্থির হয়ে তাদের অফিসের গাড়ীতে বসে এদিক ওদিক চাইছে। ঐতো সামনের ঐ মেয়েটাই হবে, নতুন জয়েন করেছে তার বিষয়ে খোজ নিতে হবে।

হুম, তার পাশের সীটটা ফাঁকা আছে।

-বসতে পারি?

-শিওর (মেয়েটা একটু সরে বসল)

-আমি প্রদীপ গ্রাফিক্স এ আছি।

-আমি মুন্নী কল সেন্টার ডিপার্টমেন্টে লাস্ট মান্থে জয়েন করেছি।

-ও

প্রদীপ আড় চোখে চেয়ে আছে তার হাতের মোবাইলের দিকে। হুম একটা মেসেজ দেইতো!

-।।এই গানটা ভাল লাগছে না আরেকটা ছাড়ো।।

কই না তো ওর মোবাইলে মেসেজের কোন আলামত পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হয় ব্যাগে আছে আরেকটা মোবাইল।

-।।কি ব্যাপার? আমি কিন্তু হেডসেট অফ করে দিব! এল্টন জনের “স্যাক্রিফাইস” গানটা ছাড়ো।।

সুক্ষ দৃষ্টিতে প্রদীপ মুন্নী নামের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে। সামান্যতম প্রতিক্রিয়াও যেন চোখ এড়িয়ে না যায়। অপেক্ষা করছে। সময় যেন অনন্ত। অবশেষে দীর্ঘ দুই মিনিট পর “স্যাক্রিফাইস” গানটা বেজে উঠল আর মেসেজটাও এলো।

-।। স্যাক্রিফাস গানটা ছিল না, ডাউনলোড করে তবেই ছাড়লাম, কালতো ছুটি কি করবে?।।

-।।তোমার ভগবানের দোহাই প্লিজ একবার বল তুমি কে! চিন্তায় আমার অফিসের সব কাজ জমে যাচ্ছে। সামনে “রবি” একটা বড় বিলবোর্ড বানাবে, আমার কতো কাজ কিন্তু কোন কাজেই মন বসছে না। প্লিজ!

-।।তোমাকে নিজেই বের করতে হবে আমি কে! এন্ড।।

এখন আর যতোই মেসেজ দেওয়া হোক না কেন আজ আর কোন রিপ্লাই আসবে না। মন খারাপ করে বসে আছে প্রদীপ।

এক মাস আগের কথা,

মালিবাগ এসে অফিসের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে হঠাৎ একটা মেসেজ আসল,

।। গাড়ীতে উঠে হেটসেট টা পেয়ার করতে দিও।।

ছোট্ট মেসেজ। প্রদীপ হতবম্ব হয়ে আন নোন নাম্বার থেকে আশা মেসেজ টা অনুধাবন করার চেষ্টা করল। কিছুই বুঝল না। অবশেষে কল দিল। কিন্তু তিন বার কল করার পরেও ওপাশ থেকে রিসিভ করল না। অবশেষে “ধুর শালা” গালি গিয়ে মোবাইল পকেটে রেখে দিল। গাড়ীতে ওঠার পর মনে পরে গেল মেসেজটার কথা। দোটানার মধ্যে পড়ে গেল। অবশেষে ব্যাগ থেকে হেড ফোন টা বের করে পেয়ার বাটনে চাপ দিল। কুট করে শব্দ হয়ে কোন এক আন নোন ডিভাইসের সাথে কানেক্ট হয়ে গেল। বুক দিয়ে একটা হিম শীতল ধারা প্রবাহিত হয়ে গেল, নিঃশব্দে অপেক্ষা করতে লাগল। হঠাৎ মোবাইলটা ভাইব্রেট করে কেঁপে উঠল, প্রদীপ নিজেও সেই সাথে কেঁপে উঠল। আবার মেসেজ? ধিরে ধিরে কাপা হাতে মোবাইলের লক খুল্ল,

-।।পেয়ার করেছো তাহলে! গুড। এবার বল কোন গান শুনবে?।।

প্রদীপ কাপা হাতে মেসেজ দিল,

-।।প্লিজ বলুন কে আপনি?।।

-।।আমি কে, তা তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে। এন্ড।।

প্রদীপ আরো মেসেজ দিল কিন্তু আর কোন প্রতিউত্তর এলো না। তার হেডফোনে অনেক পুরন একটা গান বাজিয়ে দিল অদৃশ্য সেই রহস্যময় নাকি রহস্যময়ী তা আজও বুঝতে পারেনি প্রদীপ, কানে বেজেই চল্লঃ

“তোমার মনের আয়নায়,

এখনো কি তেমনি করে জোস্না ঝরায় আলো

এখনো কি তারার পানে, চেয়ে থাকো আনমনে,

তুমি কি আমায় আগের মতো বাস ভাল”

ঠিক গাড়ী থেকে নেমে যাওয়ার পর গান থেমে যায়। অফিসে ঢুকে কিছুই আর ভাল লাগে না। কাওকে কিছু বলতেও পারছে না। কাকে কি বলে হাসির পাত্র হবে, এই ভেবে। দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেল। এখন অনেকটা স্বাভাবিক প্রদীপ। ভালোইতো যদি বিনা পরিশ্রমে ভাল ভাল গান শোনা যায় মন্দ কি! মাঝে মাঝে কোন নির্দিষ্ট গান শুনতে ইচ্ছে হলে মেসেজ দেয় প্রদীপ আর ওমনি তা বেজে ওঠে তার হেড ফোনে। তবে আজ খুব চেষ্টা করছে এই রহস্যময় ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করতে। তাই এই নতুন মেয়েটির পাশে বসা, কিন্তু মনে হচ্ছে না এই মেয়েটা কিছু করছে। অযথা নিপরাধ মেয়েটিকে না ঘাটিয়ে স্বাভাবিক আলাপন চালিয়ে গেল।

-আগে কোথায় ছিলেন?

-রহীম আফরোজে

-ওহ, মহাখালিতে?

-জ্বী

-কেমন লাগছে নতুন কর্মক্ষেত্র?

-ভালোই

-“ই” প্রত্যয় যুক্ত করলেন যে? মনে হয় অতোটা ভাল লাগছে না!

-নাহ মানে নতুনতো, ঠিক হয়ে যাবে

-কে বলেছে আপনি নতুন? ভাব্বেন আপনি এখানের প্রথম দিকের একজন, এই যে আমরা আছি না?

পাশের সীটে চেয়ে প্রদীপ বলে উঠল

-ঐ ক্যান্দু আপায় কয় সে নতুন বৈলা তোরা তার লগে মিসছ না

-কি কয়? (ক্যান্দু উঠে এলো)

-শুনেন আগে বলি ওর নাম এমন বিদ ঘুটে কেন! লাস্ট ইয়ারে আমরা যখন পিকনিকে গেলাম ঐ ব্যাটা বাস থেকে নামতে যেয়ে গেল পড়ে আর ওর পা টা গেল মোচকে। যদি দেখতেন এতো বড় ব্যাটা ছোট্ট বাবুর মতো কেঁদে দিল। এর পর থেকে ওর নাম হচ্ছে ক্যান্দু!

ক্যান্দু লাজুক হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, বলে উঠল,

-ম্যাডাম ওর কথা শুনবেন না, ও হইতাছে আস্ত একটা বদমাইস, মানুষরে উলটা পালটা নাম দেয় আর একটা কাহিনী বানায় বইলা দেয়।

মুন্নী মেয়েটা হেসে দিল, কখন যে ওয়েস্ট লাইফের “ফুল এগেইন” গানটা বাজতে শুরু করেছে খেয়াল করেনি প্রদীপ। অফিস এর কাছে এসে গেল তাদের গাড়ী, আর নামার সঙ্গে সঙ্গেই গান অফ।

-আজব। উফ। দেখি মোবাইল অপারেটরের কাছে কমপ্লেইন দিতে হবে।

ভাবতে ভাবতে অফিসে ঢুকে গেল প্রদীপ, অনেক কাজের চাপে কোন কূল পাচ্ছিল না প্রদীপ, অনেক গুলো স্কেচ আঁকতে হবে। সামনের মাসেই কোম্পানির বিশাল প্লান। লাঞ্চের সময় কেন যেন মুন্নী নামের মেয়েটার কথা মনে পড়ে যাওয়াতে থার্টিন্থ ফ্লরে গেল, মুন্নী সবে বের হচ্ছিল তখন।

-আরে আপনার কাছেই আসছিলাম! কোথায় যান?

-ক্যান্টিনে খুব ক্ষুধা পেয়েছে।

-আমারও, চলেন

-হুম, চলুন

-কি খাবেন বলেন, আজ আপনারর সাথে আমার ফার্স্ট দিন, সিনিয়র ইমপ্লয়ি হিসেবে আমি আজ আপনাকে খায়াবো।

-না না, কি করছেন

-উহু, মামু মেনুটা দিয়া যাও

-কোথায় থাকেন আপনি

-নাখাল পাড়া, আপনি?

-খিলগাঁ।

খেতে খেতে তাদের মধ্যে আলোচনা অনেকদুর গড়িয়ে গেল, নিজেদেরকে ভাল করে জেনে নিল, অবশেষে লাঞ্চের পর প্রদীপ আবিষ্কার করল তার কর্মক্ষেত্র এইটথ ফ্লোরে তার আর যেতে ইচ্ছে করছে না। ইচ্ছে করছে মুন্নীর সাথে বসে আরো কিছুক্ষন গল্প করতে।

-আচ্ছা আজ যাই, বিলটা দিয়ে ঠিক করলেন না। আপনারো পাওনা থাকল একটা। (মুন্নী উঠে গেল)

-ঠিক আছে দেখা যাবে একদিন (কালতো অফিসটাও বন্ধ, ধু্র)

অফিস শেষে দুর্ভাগ্যবশত মুন্নীর পাশের সীটে প্রদীপ স্থান পেল না। গাড়ী থেকে আগে মুন্নী নামল, আর প্রদীপের আশাকে সে পুর পুরি ব্যার্থ হতে দিল না। রস্তায় নেমে মুন্নী যখন প্রদীপ কে উদেশ্য করে হাত নাড়ল ওমনি প্রদীপ খুশিতে আটখানা হয়ে গেল। শুক্র শনি অনেক কষ্টে পার করে রবি বারে উতফুল্ল চিত্তে অফিসের গাড়ীর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ী এলো গানও বেজে উঠল,

“বিন্দু আমি, তুমি আমায় ঘিরে

বৃত্যের ভেতোর শুধু তুমি আছ

মাতাল আমি তোমার প্রেমে

তাই অর্থহীন সব কিছু যে লাগে”

প্রদীপের সেদিকে কোন মনোযোগই নেই। কারন আজ সে মুন্নীর জন্য সীট সংরক্ষন করে রেখেছিল তার পাশে, আর এখন মুন্নী সেখানে বসে। কতো গুলো গান পরিবর্তিত হয়ে গেল আর কতো মিনিট নিমিষে শেষ হয়ে গেল প্রদীপ তা বুঝতেও পারল না। হঠাৎ অফিসের কাছে চলে এসেছে দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। (ধুর) একসাথে গাড়ী থেকে নেমে যখন মুন্নী আর প্রদীপ একসাথে “রবি” র বিল্ডিঙ্গে ঢুকছিল আর মুন্নী বাই বলে তাদের জন্য নির্দিষ্ট লিফটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই মুহুর্তে মেসেজটা এলো,

।। দাঁড়াও।।

প্রদীপ স্তব্ধ হয়ে গেল। জমে গেল যেন।

।। অফিস থেকে বের হও, হোটেল ওয়াসিংটনের ওখানে দাঁড়াও।।

খুব চিন্তায় পড়ে গেল প্রদীপ। এভাবে যাওয়া কি ঠিক হবে? যাই রাস্তাতেই তো থাকব আর অনেক মানুষও আছে। ওয়াসিংটন হোটেলের গার্ড টার কাছ ঘেসে দাঁড়িয়ে আছে প্রদীপ। সরু রাস্তা দিয়ে একটা গাড়ী ঢুকতে যেয়ে রিক্সার সাথে গিট্টু বাধিয়ে আটকে আছে।

-কি করি এক কাপ চা খাওয়া যাক, চায়ের দোকানের দিকে যেতে গিয়ে থেমে গেল, পেছন থেকে অপরিচিত কোন মেয়ের খুব পরিচিত স্টাইলের ডাক শুনে। “প্রদীপ”

সঙ্গে সঙ্গে নব্বই ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরে গেল প্রদীপ। ফ্রক পড়া এক সুদর্শনা তরুণী তার দিকে এগিয়ে আসছে।

-কোথায় যাচ্ছিলে, দেখ না আমার গাড়ী আটকা পরেছে?

-দুঃখিত, আমি ঠিক!

-হুম চিনতে না পারার শাস্তি পরে হবে আগে অন্য মেয়ের সাথে মাখামাখির শাস্তি টা দিয়ে নেই।

-তুত তুমি মিথিলা!

চিৎকার করে উঠল প্রদীপ। আসে পাশের কিছু মানুষ ফিরে তাকাল। কয়েক সেকেন্ডের ভেতরে প্রদীপ পেছনের সব স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।

তখন এইটে পড়ে প্রদীপ আর মিথিলা ক্লাস সিক্সে। প্রদীপ রা বাসা পালটিয়ে মিথিলাদের বাসায় ভাড়া উঠল। বাবা মার কড়া শাসনে এলাকার ছেলেপেলেদের সাথে মিশতে পারত না প্রদীপ। ফলে বাড়ীওয়ালার মেয়ে মিথিলাই ছিল একমাত্র খেলার সাথি। দেখতে দেখতে প্রদীপ মিথিলাদের বাসায় প্রায় চার পাঁচ বছর কাটিয়ে দিল। প্রদীপ তখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে, তাদের দুজনের সম্পর্ক ছিল এমন যে একদিনও কেও কাওকে না দেখে থাকতে পারত না, তা তারা জানতো না এই জন্য যে প্রতিদিনই তাদের দেখা হতো। এতো কাছা কাছি তারা থাকত যে তাদের মনের কোন কথা, এক জন আরেকজনকে বলার প্রয়োজন ছিল না। মনের ভাষা ঠিক তারা বুঝে যেত। তারা ভেবেই নিয়েছিল তাদের সম্পর্ক স্থায়ী এবং মনের না বলা কথা এমনিতেই বেড়িয়ে আসবে খুব দ্রুত। আর দুজনেই যখন জানে তাদের মনের খবর। ভাষায় প্রকাশ করার তা খুব প্রয়জনও ছিল না। কিন্তু মিথিলার বাবার অনেক দিনের চেষ্টা সফল করে “ইউ এস এ” থেকে যখন মিথিলাদের পুর পরিবারের অ্যামেরিকাতে যাওয়ার সব কাগজ পত্র চলে এলো। তখন সেই কিশোর প্রদীপের বোবা চোখে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। আর কিছু করার জন্য মিথিলাও খুব পটু ছিল না। কিছু দিন মন খারাপ থাকার পর ঠিক প্রদীপ স্বাভাবিক হয়ে গেল। কিন্তু কিশোর মনের শক্ত সেই অনুভূতি যে মনের কোন এক কোনে এখনও বিদ্যমান তা প্রদীপ আজ বুঝতে পারল।

-আমার ফোন নম্বর পেয়েছ কিভাবে?

-তোমার অফিস থেকে

-আমার অফিস চিনলে কিভাবে?

-মনে পড়ে গতো বছর বৃষ্টি নিয়ে একটা গ্রফিক্সের কাজ করেছিলে আর তা প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছিল।

-ওরে দুষ্ট আমাকে ট্র্যাক করে ফেলেছো?

-হুম

-আংকেল কেমন আছেন?

-তিন বছর হলো বাবা মারা গিয়েছেন।

-ওহ সরি

-আন্টিও এসেছেন দেশে?

-না মাকে রেখে এসেছি

-তুমি কোথায় উঠেছ?

-তোমার পাশে?

-মানে?

-হোটেল ওয়াশিংটনে। তোমার অফিসের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আজ যাও।

-নাহ আমি আজ অফিস করব না। একটু দাঁড়াও আমি আমার ইমিডেয়েট বস কে একটু জানিয়ে আসি।

-যাও আমি ফ্রেশ হয়ে নিচ্ছি, জুস কর্নারে এসে ফোন দিও

-হুম, আমি যাব আর আসব

-আচ্ছা মিথিলা, তুমি যে এভাবে আমার সাথে খেল্লে, বলতো ঠিক হলো? আমি কেমন মানুষিক চাপে ছিলাম জানো?

-চান্দু আমি আরো খেলতাম কিন্তু ইদানিং ঐ মেয়ের সাথে বেশি ঘসাঘসি করে ফেলছিলে তাই আগে ধরা দিলাম।

-হু, হিংসে করেছ? এই গাড়ী কার?

-হোটেল থেকে নিয়েছি।

-ও এই গাড়ীতে করেই রোজ আমাকে ফলো করতে?

-হুম

-মিথিলা

-কি

-যে কথা কোন দিন বলতে পারিনি তা আর বলে কি হবে!

-তার মানে আমি এমনিতেই সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে এতো দুর এলাম!? তোমার এখন আর আমার প্রতি ইন্টারেস্ট নেই? (ফুপিয়ে উঠল মিথিলা)

-না মানে ঐ কথা এতো দিন পর বলে কি হবে, আসো আমরা বিয়ে করে ফেলি!

বুকে ঝাপিয়ে পড়ল মিথিলা,

-এই জন্যেইতো এসেছি। শোন বিয়ের পর আমরা ইউ এস এ তে মুভ করব কিন্তু।

-সে দেখা যাবে পরে, আগে বিয়েটাতো করে নেই

গাড়ীর জানালা দিয়ে চেয়ে আছে প্রদীপ, কেমন প্রেমের গল্পের মতো লাগছে নিজের জীবনে দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনাটা। পার্থক্য এতটুকুই, বেশির ভাগ প্রেমের গল্প শেষ হয় বিয়োগাত্নক ভাবে। আর তার বাস্তব গল্পেটা মিলনাত্নক ভাবে হলো। বাইরে তাকিয়ে অশ্রু লুকানোর চেষ্টা করছে প্রদীপ আর হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছে মিথিলার সেই হাত, যে হাত প্রায় দশ বছর আগে শেষ ধরেছিল।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + three =