ভাল লোগো তৈরীর কিছু নিয়ম

By | 26/03/2016

লোগো ডিজাইন গ্রাফিক ডিজাইনারদের একটি গুরুত্বপুর্ন কাজ। প্রায় প্রতিটি প্রতিস্ঠানই তাদের নিজস্ব লোগো ব্যবহার করে। এই লোগোগুলি তাদের পরিচিতি তুলে ধরে। কাজেই লোগো তৈরী সময় তাকে সুন্দর রাখা যেমন জরুরী তেমনি সেই প্রতিস্ঠানকে প্রকাশ করাটাও গুরুত্বপুর্ন। সেখানেই প্রশ্ন ওঠে, লোগো ডিজাইনের সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য করা উচিত। কিংবা ভাল এবং মন্দ লোগোর পার্থক্য বিচার হয় কিভাবে। এবিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এখানে।

index

লোগো তৈরী আগে কিছু বিষয় জেনে নেয়া জরুরী। সেগুলি হচ্ছে;

 

.          লোগোটি কি একেবারে নতুন তৈরী হচ্ছে নাকি আগের লোগোর বদলে ব্যবহার করা হবে।

.          লোগোটি ব্যবহার করবে কে। আপনি কোন প্রতিস্ঠানের হয়ে কাজ করতে পারেন, অথবা নিজের কোম্পানীর জন্য লোগো তৈরী করতে পারেন।

.          লোগো কোন ধরনের বক্তব্য তুলে ধরবে।

.          লোগোর পেছনের প্রতিস্ঠানের কাজ কি।

কোন প্রতিস্ঠানের কাজ করার সময় আপনার প্রথম কাজ, তারকাছে সেই কোম্পানী সম্পর্কে জেনে নেয়া। তারকাছে এমনকিছু শব্দ (Keyword) লিখে নিন যা কোম্পানীর পরিচিতি তুলে ধরে। যেমন Simple, Low cost, Young, Joyful, Inventive, Friendly, Experienced, Energetic, Aristocratic ইত্যাদি। তরুনদের জন্য যারা কাজ করে তাদের লোগো এবং পরিনত বয়সীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিস্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকে। তেমনি যারা কমদামে জিনিষপত্র বিক্রি করে এবং যারা অভিজাত জিনিষপত্র বিক্রি করে তাদের লোগোর ধরনও আলাদা।

কিওয়ার্ডের সাথে একবাক্যে কোম্পানীর পরিচিতি লিখে নিন। প্রতিস্ঠানের কাজ কি, এই প্রশ্নের উত্তরে যা পাওয়া যায় সেটা গুরুত্বপুর্ন।

লোগোর রং ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিন। লোগো কোথায় ব্যবহার করা হবে জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারনভাবে লোগো সবযায়গাতেই ব্যবহার হওয়ার কথা, যেমন বিজনেস কার্ড, লেটারহেড প্যাড, ওয়েবসাইট, পোষ্টার, টিসার্ট, ব্যানার, প্যাকেট, গাড়ি ইত্যাদিতে। সবগুলি বিবেচনায় এনে রং বাছাই করুন।

একাধিক রং ব্যবহার করলে এমন রং বাছাই করুন যেখানে সহজে একটি থেকে অপরটি পৃথকভাবে চেনা যায়। লোগো কখনো সাদাকালো হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। সেখানে এক রং থেকে আরেক রং পৃথকভাবে চেনার মত রং ব্যবহার করুন।

সবচেয়ে পরিচিত লোগোগুলি ভালভাবে দেখে নিন। সেগুলি একদিকে অত্যন্ত সরল, অন্যদিকে বক্তব্য প্রকাশে সমর্থ। এই শ্লোগানগুলি নিশ্চয়ই আপনার পরিচিত, Think Different, Just Do It, Finger-lickin’ good, Impossible is nothing ইত্যাদি। তাদের লোগো এই বক্তব্য প্রকাশ করে।

ফন্ট ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিন। মাইক্রোসফট, কোকাকোলা এই দুটি লোগোতে ব্যবহৃত ফন্টের দিকে দৃষ্টি দিলে সহজেই বোঝা যায় একটি প্রযুক্তি অপরটি তরল কিছু বুঝায়। প্রতিস্ঠানের কাজের সাথে মিল রেখে ফন্ট ব্যবহার করুন।

লোগো কেন প্রয়োজন ? লোগো একটি প্রতিস্ঠানকে পৃথকভাবে চিনতে সাহায্য করে। প্রতিস্ঠানের পরিচিতি অন্যদের কাছে তুলে ধরে। কাজেই সেটা একদিকে যেমন সরল হবে তেমনি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় বিষয়ই থাকবে। উদাহরনের ছবির লোগোগুলি দেখুন। বিশ্বখ্যাত এই লোগোগুলি একদিকে সরল অন্যদিকে বক্তব্যধর্মী।

ভাল লোগোর বৈশিষ্টগুলি একসাথে করলে সংক্ষেপে যা দাড়ায় তা হচ্ছে;

.          সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বক্তব্য তুলে ধরা একটি সরল ছবি।

.          ছবি প্রতিস্ঠানের কাজের ধরনের সাথে মানানসই।

.          প্রতিস্ঠানের নাম সেখানে রয়েছে।

.          ফন্ট সহজবোধ্য। লোগোতে কখনো একের অধিক ফন্ট ব্যবহার করবেন না। লোগোর ফন্ট যেন প্রতিককে ছাপিয়ে না যায়।

.          লোগোটি সাদাকালোতেও বোধগম্য।

লোগো তৈরীর সফটঅয়্যার

সহজে লোগো তৈরীর জন্য কিছু সফটঅয়্যার পাওয়া যায়। গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই তেমনকিছু ব্যবহার করতে যাচ্ছেন না। আপনার ক্রিয়েটিভ লোগো তৈরী করার কথা, তৈরী কিছু ব্যবহার করা না।

গ্রাফিক ডিজাইন ভেক্টর অথবা বিটম্যাপ দুধরনের হতে পারে। দুভাবেই সুন্দর লোগো তৈরী করা সম্ভব। বিটম্যাপের সমস্যা হচ্ছে যদি কখনো বড় (কিংবা ছোট) করা প্রয়োজন হয় তাহলে মান নষ্ট হয়। ভেক্টর সেদিক থেকে সুবিধেজনক।

কাজেই লোগো তৈরীর জন্য ফটোশপ ব্যবহার না করে ইলাষ্ট্রেটর কিংবা কোরেল ড্র এর মত কোন সফটঅয়্যার ব্যবহার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *