আদর্শ শ্রোতারা যে ৭টি কাজ করেন

0
139

মনোযোগ দিয়ে শোনার কাজটি বুদ্ধিমত্তা থেকে আসে। সবাই মনে করেন তারা খুব ভালো শ্রোতা, অন্তত গড়ের চেয়ে বেশি। আদর্শ শ্রোতা হয়ে ওঠা এমন এক গুণ চর্চার মাধ্যমে যাকে আয়ত্ত করতে হয়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বস্থানীয় মানুষের পারফরমেন্সের ৪০ শতাংশ অর্জিত হয় ভালো শ্রোতা হয়ে ওঠার মাধ্যমে।

কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপে কথা বলা যেমন হয়ে ওঠে না, তেমনি শোনার প্রয়োজনও পড়ে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারো বক্তব্য থেকে চোখ ও কান দূরে রাখার কারণে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। অধিকাংশই মনে করেন, এ কাজে তাদের যতটা দক্ষ থাকার প্রয়োজন ততটাই অর্জন করেছেন। রাইট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে বলা হয়, যে সকল মানুষ অন্যদের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা কর্মদক্ষতা প্রদর্শনে এগিয়ে। একই কাজ আদর্শ শ্রোতারা ভিন্নভাবে করে থাকেন। এ কারণে তারাই এগিয়ে যান সবার থেকে। এখানে দেখে নিন এমনই ৭টি বৈশিষ্ট্যের কথা যা সেরা শ্রোতারা ধারণ করেন।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

images38 আদর্শ শ্রোতারা যে ৭টি কাজ করেন

১. ফোকাস : সবচেয়ে বড় যে ভুলটা সবাই করেন তা হলো, বক্তা পরের শব্দটা কি বলছেন তাতে সব মনোযোগ ঢেলে দেন। এতে করে শুধু শব্দের প্রয়োগটাই তাদের কানে আসে। তার গোটা বাক্যের অর্থ আর পরিষ্কার হয় না। পুরো বক্তব্যে মনোযোগ দিতে হলে শুধু শব্দ শুনলে হবে না। তার অর্থতেও মনোযোগ দিতে হবে।

২. ফোনটা বন্ধ থাকে : শুনতে শুনতে যদি স্মার্টফোনের দিকে নজর দিতে থাকেন, তবে বক্তব্যের অর্থ বুঝবেন না। বক্তব্যের মাঝে ফোনে মনোযোগ দিলে বক্তা কি বলছিলেন তা আর বুঝতে পারবেন না। তাই আদর্শ শ্রোতারা এ সময় মোবাইলটি বন্ধ রাখেন। এতে করে গোটা বিষয়টা তাদের কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

৩. ভালো মানের প্রশ্ন করা : যারা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তারা আরো গভীরে যেতে ভালো প্রশ্ন করেন। বক্ত যখন এ ধরনের প্রশ্নে সম্মুখীন হন, তখন তিনি বোঝেন প্রশ্নকারী কতটা ভালো শ্রোতা। প্রশ্নকারীর প্রতি শ্রদ্ধবোধ চলে আসে বক্তার। প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে যেন তা বাকিটা জানার প্রসঙ্গে টেনে আনে। বক্তা কোনো বিষয় এড়িয়ে যেতে পারেন, তা ধরিয়ে দেন আদর্শ শ্রোতারা।

৪. বুঝে নেওয়ার চর্চা : মনোবিজ্ঞানী কার্ল রজারস বলেন ‘রিফ্লেক্টিভ লিসেনিং’-এর কথা। এর মাধ্যমে বক্তা অন্য ভাষাতে বক্তব্য দিলেও আপনি তার মর্মার্থ বুঝতে পারবেন। এ ছাড়া বক্তা আপনার ভাষাতেও কথা বললেও এ উপায় প্রয়োগ করা যায়। বক্তা যা বলছেন তা বুঝতে প্রয়োজনে নিজের ভাষার ব্যবহার করুন।

৫. ইতিবাচক অঙ্গভঙ্গি : বক্তব্যের সঙ্গে মিশে যেতে শ্রোতার ইতিবাচক অঙ্গভঙ্গি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। বক্তার মনোযোগ কাড়তেও এর ভূমিকা রয়েছে। বিনয়ী কণ্ঠ এবং হাত ও মুখের ইতিবাচক প্রকাশভঙ্গির মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ শ্রোতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। বক্তার সঙ্গে আই কনট্যাক্ট বড় বিষয়। আবার বক্তার কথার সঙ্গে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ানোতেও আপনার গভীর মনোযোগে চিহ্ন প্রকাশ করে।

৬. মতামত প্রকাশ নয় : বক্তার কথা শুনতে এসেছেন। আরো জানতে চান। কিন্তু তার কথার পৃষ্ঠে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করা অশোভন দেখায়। এটা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। উদার মনে তার কথা শুনতে থাকুন। তার কোনো কথার সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তা প্রকাশের প্লাটফর্ম নয় এটি। তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে আপনার একমত হওয়াটা বাধ্যতামূলক নয়। আপনি তার বক্তব্য থেকে নতুন কিছু জানতে বা শিখতে এসেছেন। কাজেই আদর্শ শ্রোতারা সে কাজটিই করতে থাকেন।

৭. মুখ বন্ধ রাখা : বক্তার কথা না বুঝলে প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু পাশের শ্রোতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে যাবেন না। বক্তা বলার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু এড়িয়ে যেতে পারেন যা আপনি বুঝেছেন। কিন্তু তা সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আপনার নয়। এমন পরিস্থিতিতে চুপ থাকুন। যদি এমন আচরণ করেন, তবে কেবল বক্তাই নন শ্রোতারাও বিরক্তবোধ করবেন। এগুলো আদর্শ শ্রোতাদের বৈশিষ্ট্য নয়।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × four =