বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপ

By | 19/03/2016

একুশ শতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগর হতে চলেছে ভারত। ভিন গ্রহে প্রাণ খুঁজতে সহায়ক হবে যন্ত্রটি। টেলিস্কোপটি তৈরি আর বসানোর জন্য ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মেধা ও প্রযুক্তি-প্রকৌশলকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাকি চার দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও জাপান। যুগান্তকারী এ প্রকল্পের কর্ণধারদের আশা, ২০২৩-২৪ সালের মধ্যেই টেলিস্কোপটি চালু হয়ে যাবে। এর ফলে, ভিন গ্রহে প্রাণের সন্ধানে বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপকে এবার স্বাধীনভাবেই ব্যবহার করতে পারবেন ভারতীয় জোতির্বিজ্ঞানীরা।

index25

বছরে অন্তত ৩৫টি রাত। মহাকাশ গবেষণার কাজে। ১০০ বছর পর ভারতের জোতির্বিজ্ঞান গবেষণা এভাবেই সমাদৃত হল গোটা বিশ্বে। ভারতের বিজ্ঞান-চর্চার ইতিহাসে যা আক্ষরিক অর্থেই, একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে হাওয়াই দ্বীপের মওনাকোয়ায় পাহাড়-চূড়ায় বসানো হচ্ছে ২০ তলা বাড়ির মতো উঁচু আর একটা ফুটবল মাঠের মতো চেহারার টেলিস্কোপটি। যার লেন্সের ব্যাস ৩০ মিটার। অর্থাৎ, গ্রামের একটা পুকুরকে ওপর থেকে দেখলে যেমন লাগে, প্রায় সেই রকমই। লেন্সের ব্যাস ৩০ মিটার বলেই তার নাম দেয়া হয়েছে ‘থার্টি মিটার টেলিস্কোপ’ বা টিএমটি। ভারতে ‘টিএমটি কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বচম ঈশ্বর রেড্ডি একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেছেন, ‘গোটা বিশ্বে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী যে টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়, তার ব্যাস বড়জোড় আট বা দশ মিটার। তার তুলনায় টিএমটি হবে তিনগুণ বেশি শক্তিশালী। রেড্ডি জানান, ওই বৃহত্তম টেলিস্কোপের ৪৯২টি ‘হেক্সাগোনাল সেগমেন্টে’র মধ্যে ৯০টি সেগমেন্ট যে শুধু ভারতে বানানো হচ্ছে, তা নয়, তার প্রযুক্তি-প্রকৌশলও পুরোপুরি ভারতীয়। টেলিস্কোপটির জন্য একটি ‘কমপ্লিট সেগমেন্ট সাপোর্ট সিস্টেম’ বা ‘সিএসএসএ’-ও বানিয়ে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *