প্রফেশনালদের জন্য লিঙ্কডইন ব্যবহার করার কৌশল

0
178

লিঙ্কডইন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রোফেশনাল (পেশাজীবি) নেটওয়ার্ক যার সদস্য সংখ্যা ১২ কোটিরও বেশি এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। লিঙ্কডইনের সবচেয়ে বড় ভুমিকা হলো পেশাজীবিদের সাথে সংযোগ ঘটানো। তাই ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, কর্পোরেট কর্মী সবার কাছেই লিঙ্কডইন খুব উপকারী একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। যেখানে ফেইসবুক মূলত হালকা মেজাজের, সামাজিক যোগাযোগ ও তথ্যের জন্য, তার বিপরীতে লিঙ্কডইন হলো সম্পূর্ণূভাবে পেশাজীবিদের ক্লাবের মতো যেখানে একজন আরেকজনের সাথে তাদের পেশা ও কাজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ও সিরিয়াস তথ্য আদানপ্রদান করে থাকে।

বতর্মান সময়ে অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর জন্য নির্বাচিত হলে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট প্রথমেই হয়তো আপনার নামটি গুগলে সার্চ করে দেখে নিতে চাইবে। আপনার যদি প্রোফেশনাল মানের লিঙ্কডইন প্রোফাইল থাকে তবে খুব সম্ভবত সেটিই আপনার নামের গুগল সার্চে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেবে। এর ফলে চটুল ও আন প্রোফেশনাল কোন তথ্য উঠে এসে আপনার হবু বসের সামনে আপনাকে বিব্রত হতে হবে না।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

কাজ খুঁজতে ও নিজেকে আবিস্কার করাতে লিঙ্কডইন ব্যবহার করতে পারেন। ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ খুঁজছেন আপনি সেক্ষেত্রেও লিঙ্কডইন আপনাকে সাহায্য করতে পারে প্রোফেশনাল হিসেবে নিজেকে প্রেজেন্ট করার মাধ্যম হিসেবে। গবেষণায় দেখা গেছে যাদের লিঙ্কডইনে ২০টিরও বেশি কানেকশন আছে তারা, ৫টিরও কম কানেকশন ওয়ালাদের চাইতে ৩৪গুন বেশি সম্ভাবনা রাখে উপযোগী চাকুরীর জন্য ডাক পড়ার ক্ষেত্রে। গুগুলে যারা চাকুরী করে তাদের গড় লিঙ্কডইন কানেকশনের সংখ্যা সাতচল্লিশ। ফরচুন ৫০০ কোম্পানীর সবগুলোই ডাইরেক্টর বা সেই পদের উপরের দিকের মানুষদের মাধ্যমে লিঙ্কডইনে সংযুক্ত।

index20 প্রফেশনালদের জন্য লিঙ্কডইন ব্যবহার করার কৌশল

আমাদের মধ্যে অনেকের হয়তো লিঙ্কডইনের একাউন্ট আছে কিন্তু সেটার প্রোফাইল হয়তো ঠিকমতো পূর্ণ করা হয়নি অথবা সেটার ব্যবহার ঠিক কিভাবে করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন। তাদের জন্য এই লেখাটি।

আসুন দেখা যাক কিভাবে আপনি লিঙ্কডইনের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং আপনার পেশাজীবি প্রোফাইলটিকে আপটুডেট করতে পারবেন:

১. ভিজিবিলিটি (দৃশ্যমান করুন নিজেকে):
আপনার লিঙ্কডইন কানেকশনে যত বেশি মানুষ থাকবে, যখন অন্য কেউ কোন পদ বা পেশার জন্য কাউকে খুঁজবে তখন আপনার প্রোফাইলটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাটি বেশি হবে। শীর্ষ সার্চে আপনাকে খুঁজে পাওয়া ছাড়াও মানুষের সহজাত প্রবণতা থাকে তেমন কাউকে বিশ্বাস করা এবং অবশেষে হায়ার করা যাকে তার পরিচিত মানুষজনও চেনে ও জানে। তাই আপনি যে ইন্ড্রাস্ট্রিতে আছেন সেই ইন্ডাস্ট্রির চেনাশোনা / বিশেষ করে যারা আপনাকে চিনে থাকে আপনার কাজে মাধ্যমে তাদেরকে আপনার কানেকশনে যুক্ত করে নিন।

২. কানেক্টিবিলিটি (যতভাবে যুক্ত হতে পারেন):
অনেক নতুন ইউজার কেবলমাত্র তাদের বর্তমানে কাজের ক্ষেত্র বা কোম্পানীটিকেই প্রোফাইলে দিয়ে থাকেন যা তাদের কানেক্টিবিলিটিকে সীমিত করে দেয়। এ জন্য আপনাকে আপনার প্রোফাইলটিকে একটি সংক্ষিপ্ত কাজের জীবনীতে (ঊীবপঁঃরাব ইরড়) পরিণত করতে হবে। কাজেই আগের কোম্পানী, শিক্ষা, কোথায় কোথায় যুক্ত আছেন, আর কোন অর্গানাইজেশনের সদস্য কি না ইত্যাদি কর্মকান্ডকেও আপনার প্রোফাইলে আপডেট করতে ভুলবেন না।

ইচ্ছা করলে আপনার এই প্রোফাইলটিকে আপনার ইমেইল সিগনেচারেও যুক্ত করতে পারে। এতে সুবিধা হলো যাদের সাথে যোগাযোগ করবেন তারা প্রত্যেকেই আপনার যোগ্যতা জেনে নিতে পারবে।

৩. আপনার গুগল পেইজ র‌্যাংক বাড়িয়ে নিন:
লিঙ্কডইনের একটা বড় সুবিধা হলো যে এর মাধ্যমে আপনার প্রোফাইলটি গুগল সার্চ ইঞ্জিনের সংযুক্ত হয়ে যাবে। যেহেতু গুগল সার্চ ইঞ্জিনে লিঙ্কডইন প্রোফাইলের অবস্থান বেশ উচুতে তাই আপনার নাম ধরে কেউ যদি গুগলে সার্চ করে তবে স্বাভাবিকভাবেই লিঙ্কডইন প্রোফাইলটি তাদের কাছে দৃশ্যমান হবে।

সার্চের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ লিঙ্কডইনে আপনার প্রোফাইল। আর সেটা করার জন্য একটি পাবলিক প্রোফাইল তৈরী করুন এবং ”ফুল ভিউ” সিলেক্ট করুন। ডিফল্ট ইউআরএল বা ওয়েব ঠিকানার বদলে আপনার মূল নাম দিয়ে কাস্টোম ইউআরএল করে নিন। যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে তবে এই প্রোফাইলটি লিঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই ইমেইলের সিগনেচারেও ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

৪. সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলকে আরো উন্নত করুন:
আপনার নামের সাথে সাথে আপনার কোম্পানী, ওয়েবসাইট বা ব্লগকেও আপনি চাইলে প্রোমোট করতে পারেন। লিঙ্কডইন প্রোফাইল ওয়েবসাইট যুক্ত করার সুবিধা আছে। কিছু প্রি সিলেক্টেড ক্যাটাগরী যেমন: ”মাই ওয়েবসাইট”, ”মাই কোম্পানী” ইত্যাদি। যদি আপনি ”আদার” বা অন্যান্য সিলেক্ট করেন তাহলে লিঙ্কের নামটিও নিজের মতো করে দিতে পারবেন। আপনার সাইটের জন্য এরচেয়ে ভালো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আর হতে পারে না। এর সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য অবশ্য আপনাকে পাবলিক প্রোফাইলের সেটিংস ফুল ভিউ হিসেবে সেট করতে হবে।

৫. সম্ভাব্য বস এবং কোম্পানী সম্পর্কে জানুন:
লিঙ্কডইন রেফারেন্স চেক টুলসটি ব্যবহার করে কোন ব্যক্তির নাম, বছর আর কোম্পানী দিয়ে কোন কোম্পানীতি একজন মানুষ কাজ করেছে কি না তার রেফারেন্স চেক করা যায়। যারা আধুনিক আপডেটেড রিক্রুটার তারা এখন এটা ব্যবহার করে থাকেন রেফারেন্সের জন্য। কিন্তু আপনি যেটা করতে পারেন তা হলো কোন কোম্পানীতে ডাক পেলে কোম্পানীর ম্যানেজার / ইন্টারভিউ যিনি নিবেন তার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে নিতে পারেন, এমনকি আপনার পদটিতে আগে কে ছিলো তার সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন রিভার্স সার্চ করে। এর ফলে পদটি সম্পর্কে আপনার ধারনা আরো পরিস্কার হবে। এমনকি যারা চাকুরীর রেজুমিতে ভুয়া বা মিথ্যা তথ্য দেয় তাদের দিন শেষ হয়ে আসবে দ্রুতই লিঙ্কডইনের বহৃল ব্যবহারের সাথে সাথে।

৬. কোথায় চাকুরী খুঁজবেন তা জানতে:
লিঙ্কডইনের এ্যাডভান্সড সার্চে গিয়ে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কাজের এক্সপেরিন্সের মানুষজন কোথায় কাজ করছে জানতে পারেন। যেমন একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হয়তো চঐচ৫, ঔধাধ, চুঃযড়হ, ঈগঝ, ইত্যাদি কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্চ করে দেখতে পারে তার যোগ্যতার মানুষগুলো কোথায় আছে এবং সেইসব কোম্পানীতে আরো লোকজন নিচ্ছে কি না। হলেও হতে পারে সেখানে হয়তো শূণ্য পদে ঠিক আপনাকেই খুঁজছে।

৭. চাকুরীর ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি হিসেবে:
লিঙ্কডইনকে ব্যবহার করে যে অপরিচিত চেহারার মানুষটিকে আপনি একটি নতুন চাকুরীর জন্য প্রথমবারের মতো দেখা করতে যাচ্ছেন তার সম্পর্কে জেনে নিয়ে গেলে আপনার ইন্টারভিউ ভালোই হবে। কারন দেখা যায় ইন্টারভিউ নার্ভাসনেসের মূল কারনটাই থাকে অজানা ফ্যাক্টরগুলো যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভয়টি হয় যে ইন্টারভিউ নেবে তার সম্পর্কে কোন আইডিয়া না থাকা। আবার যদি দেখা যায় আপনি এবং আপনার হবু বস একই স্কুলে পড়েছেন বা আপনার হবি তার হবির সাথে মিয়ে যায় তখন নার্ভাস হয়ে কি বলবেন বুঝতে পারছি না টাইপের চেহারা না বানিয়ে ইন্টারভিউয়ে স্মার্ট আলাপচারিতার জন্য সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন ।

৮. কোম্পানীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে:
যে কোম্পানী সম্পর্কে জানতে চান তার নাম ধরে এ্যাডভান্সড সার্চ করুন এবং ”কারেন্ট কোম্পানীজ অনলি” বক্সটি উঠিয়ে দিন। এর ফলে কোম্পানীতে কোন মুখ্য লোক চলে গিয়ে থাকলে, কোম্পানীটি কেমন করছে তা বুঝতে পারবেন। মনে রাখা উচিত যে একটি কোম্পানীর প্রাক্তন কর্মচারীরা কোম্পানী সম্পর্কে বেশি ধারনা দিতে পারে, বর্তমান কর্মচারীদের চাইতে।

৯. ইন্ডাস্ট্রির হালচাল জানতে:
মনে করুন আপনি নতুন ব্যবসায় নামবেন বা বিশেষ কোন কাজে ইনভেস্ট করতে চাইছেন, সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিদের সম্পর্কে জানতে এবং আরো ভালো হয় যদি এই ব্যাবসা বা কাজে আগে কাজ করে ব্যর্থ হয়েছে এমন মানুষদের আপনি খুঁজে পান। এরা আপনাকে খুব ভালো টিপসও দিতে পারে।

১০. স্টার্টআপদের চোখে রাখতে:
আপনার নেটওয়ার্কের ভিতরে কেউ নতুন কোন স্টার্টআপ শুরু করতে যাচ্ছে কি না তা জানতে এ্যাভান্সড সার্চে গিয়ে ”নিউ স্টার্টআপ” ধরনের কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করতে পারেন। সার্চ রেজাল্টকে সর্টবাই ফিল্টারে ”ডিগ্রিজ এ্যাওয়ে ফ্রম ইউ” সিলেক্ট করলে যারা আপনার সবচেয়ে কাছের (কানেকশনের দিক থেকে) তাদের আগে দেখতে পাবেন।

১১. উপদেশ গ্রহনের জন্য:
লিঙ্কডইন এর খুব ফলপ্রসু একটি ফিচার হলো ”লিঙ্কডইন এন্সারস” যা যেকোন প্রফেশন সংক্রান্ত প্রশ্ন করার জন্য চমৎকার। সাধারনত এখানে অন্য যেকোন ফোরামের চাইতে বেশি প্র্যাক্টিকাল ও উপযোগী উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

one + 14 =