আধ মিমি’র টার্ডিগ্রেডের ৩০ বছর পর ঘুম ভাঙল

0
187

বেশ কয়েক বছর আগে সন্ধান পাওয়া গেলে হয়তো সুকুমার রায়ের ‘খিচুড়ি ‘তে এদের স্থান হতো৷ হাফ মিলিমিটারেরও ছোট প্রাণীটি৷ গঠন শুঁয়োপোকার মতো হলেও মুখের সঙ্গে জলহস্তির মিল রয়েছে৷ ১৯৮৩ সালে আন্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ছোট্ট এই প্রাণী, টার্ডিগ্রেডকে খুঁজে পেয়েছিলেন জাপানি গবেষকরা৷ তাদের বরফের বাক্সে ভরে নিয়ে এসেছিলেন জাপানে৷ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ল্যাবরেটরিতে প্রায়-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকার পর ২০১৪ সালে গবেষকদের শুশ্রূষায় সেই ছোট্ট প্রাণীগুলির মধ্যে দু’টি ফের জেগে উঠেছে৷

download (44) আধ মিমি’র টার্ডিগ্রেডের ৩০ বছর পর ঘুম ভাঙল

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

শুধু তাই নয়, তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা ডিম ফুটে ছানা টার্ডিগ্রেডও জন্মলাভ করেছে৷ আর তার সঙ্গেই উন্মোচিত হয়েছে অনেক রহস্য৷ সম্প্রতি ‘ক্রায়োবায়োলজি ‘ জার্নালে সেই গবেষণার কথাই লেখা হয়েছে৷ সুন্ত দু’টি টার্ডিগ্রেডকে ‘স্লিপিং বিউটি ১ ও ২’ নাম দিয়েছিলেন গবেষকরা৷
তবে , ‘ওয়াটার বেয়ার ‘ (জলের ভালুক) হিসেবেই এর পরিচিতি বেশি৷ ছোট্ট এই প্রাণীটির বিশেষত্ব , বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে , যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতেও এরা বেঁচে থাকতে পারে৷ হিমালয়ের শীর্ষ শৃঙ্গ হোক বা আন্টার্কটিকার বরফ ঢাকা এলাকা , গভীর সমুদ্রতল বা ধুলোমাখা রাস্তা – সর্বত্রই এদের অবাধ বিচরণ৷ ক্ষুদ্র এই প্রাণীটিকে ধ্বংস করাও সহজ নয়৷ না খাইয়ে রেখে, হাতে দলে, পুড়িয়ে, রেডিয়েশনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে-কোনোভাবেই টার্ডিগ্রেডকে মারতে সক্ষম হননি বৈজ্ঞানিকরা৷ গবেষকরা বলছেন, ইচ্ছেমতো নিজেদের ‘ক্রিপটোবায়োসিস’ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে টার্ডিগ্রেড, আর সেটাই তাদের দীর্ঘআয়ুর মূল রহস্য৷ এদের ছোট্ট শরীরের চারপাশে সব সময়ই জলের একটা আস্তরণ প্রয়োজন হয়৷ খুব শুকনো আবহাওয়ায় এদের শরীর ৯৭ শতাংশ আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে, আর তখন এদের দেহের আকার ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়ে যায়৷ এই ‘ক্রিপটোবায়োটিক ‘ অবস্থায় প্রাণীটি যে কোনও পরিবেশেই বেঁচে থাকতে পারে৷ তাদের কোষ গরম, ঠান্ডা, তেজস্ক্রিয়তা – সবকিছুরই প্রতিরোধক হয়ে ওঠে৷ এই অবস্থায় তারা প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে৷ প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে যথাযথ আর্দ্রতা পেলে টার্ডিগ্রেড ফের পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে৷ জাপানি গবেষকদের নিয়ে আসা টার্ডিগ্রেডদের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছিল৷ সব মিলিয়ে টার্ডিগ্রেডের আয়ু প্রায় ৩১ বছর৷
তবে জাপানি গবেষকদের নিয়ে আসা ‘স্লিপিং বিউটি ২’ পূর্বাবস্থায় ফেরার পরও দু’সন্তাহের বেশি বাঁচেনি৷ তবে ‘স্লিপিং বিউটি ১ ‘কে বেশ অনেক দিন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা৷ তার ১৪টি ডিম ফুটে শিশু টার্ডিগ্রেডও জন্মেছে৷ তাদের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে টার্ডিগ্রেডের ডিএনএ ও কোষ বিভাজন রহস্যের কিনারা করার চেষ্টা করছেন গবেষকরা৷ তবে, থেবড়া মুখের, আট পায়ের এই ছোট্ট প্রাণী নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাছে খুবই আদর পাচ্ছে৷ নিউ ইয়র্কের ‘আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচেরাল হিস্ট্রি ‘ তো ইতিমধ্যে টার্ডিগ্রেডের একটা ১০ ফুটের প্রতিকৃতিও বানিয়ে ফেলেছে৷ এক কথায় হাঁসজারুর মতোই এই হিপোপোকা এক্কেবারে হিট! ওয়াশিংটন পোস্টআধ মিমি-র টার্ডিগ্রেডেরএই সেই অদ্ভুতদর্শন খুদে প্রাণী-নিউ ইয়র্ক টাইমস৷

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

six + fourteen =