দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যাত্রা শুরু হচ্ছে ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) প্রযুক্তির

By | 12/03/2016

আজ যাত্রা শুরু করছে ডিরেক্ট টু হোম প্রযুক্তি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যাত্রা শুরু হচ্ছে ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) প্রযুক্তির। বৃহস্পতিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড এ সেবা চালু করতে যাচ্ছে। ডিটিএইচের মাধ্যমে কেবল অপারেটরের সংযোগ ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দেখা সম্ভব।

সেটটপ বক্স, এলএনবি ও ক্ষুদ্রাকৃতির একটি অ্যান্টেনার সমন্বয়ে সরাসরি বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখতে পাবেন গ্রাহকরা। ডিটিএইচ প্রযুক্তিতে চ্যানেলগুলোর ছবি ও শব্দ আসে কেবল সংযোগের চেয়ে দ্রুত। এছাড়া সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে ডাউনলিংকের মাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি চ্যানেলের ছবি ও শব্দের মান থাকে একই রকম।

download (1)

এদিকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু ১’ -এর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী স্যাটেলাইটের আয়ের অন্যতম প্রধান খাত নির্ধারণ করা হয়েছে ডিটিএইচ সেবা। তবে স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই ডিটিএইচ লাইসেন্স দেয়ায় এ খাত থেকে প্রাক্কলিত আয়ের বিষয়টি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছে বিটিআরসি। এ জন্য নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ডিটিএইচ সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের যন্ত্রাংশের বিষয়ে অপারেটরদের প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে কমিশন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব যন্ত্রাংশের মূল্য সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে। আর নির্দিষ্ট সময়ের পর এ যন্ত্রাংশ চাইলে ফেরত দিতে পারবেন গ্রাহকরা।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ. রহমান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো বৈধ ডিটিএইচ অপারেটর নেই। টিভি দর্শকদের কয়েকটি ক্যাবল অপারেটর ও টিরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশি দর্শকদের কোনো স্থানীয় টিভি অনুষ্ঠান উপহার না দিয়ে ভারতীয় ডিটিএইচ অপারেটররা অবৈধভাবে ডিটিএইচ সিগন্যাল ব্রডকাস্ট করছে।

তিনি জানান, মানসম্মত বৈধ টিভি সার্ভিস নিয়ে যদিও তেমন কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু ১৬ কোটির বেশি মানুষের দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক পাবে বলে প্রত্যাশা করছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

জিএস গ্রুপের বিদেশি প্রকল্প পরিচালক সের্গেই দোলগোপোলস্কি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডিটিএইচ চালুর পথ মসৃণ করতে ২০১৪ সালে ‘হেড অ্যান্ড’ ও ‘আপ-লিঙ্ক’ ইন্সটল করা হয়। পুরো বাংলাদেশেই আমাদের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ডিটিএইচ সেবা চালু করতে ২০১৩ সালের নভেম্বরে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড ও বায়ার মিডিয়া লিমিটেডকে লাইসেন্স দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। পরের বছরের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স। প্রতিষ্ঠানটিতে বেক্সিমকোর সঙ্গে অংশীদার হিসেবে রয়েছে রাশিয়ার বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান জিএস গ্রুপ। গত বছর সেবাটি চালুর উদ্যোগ নেয় ডিটিএইচ লাইসেন্স পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠান। তবে নানা জটিলতায় সেবাটি চালু করতে পারেনি তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *