ইন্টারনেট নজরদারিতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

By | 12/03/2016

ইন্টারনেট নজরদারি করতে নয়া উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবস্থা (আইপি অ্যাড্রেস) কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এরই অংশ হিসেবে আইপি অ্যাড্রেস বিতরণ, তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য আলাদা একটি সংস্থাও গঠন করা হবে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো যন্ত্রকে যুক্ত করতে প্রতিটি যন্ত্রেরই একটা পরিচয় নম্বর থাকে। এ নম্বরটিই হচ্ছে ইন্টারনেট প্রটোকল, যা সংক্ষেপে আইপি নামে পরিচিত। এ প্রটোকলের মাধ্যমে ব্যবহৃত ডিভাইসটি স্বতন্ত্রভাবে চেনা যায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৪৬ লাখ।

download (10)

সরকারের এ উদ্যোগ কার্যকর করা হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো অপরাধ করলে দ্রুত তা ধরা সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বিটিআরসিতে। জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) পরামর্শে মন্ত্রণালয় ওই চিঠি পাঠায়। এনটিএমসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। আইপি নজরদারি প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদ গতকাল মানবজমিনকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কতদিনের মধ্যে এটা করা সম্ভব তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

 

বিটিআরসি জানিয়েছে, ৫ কোটি গ্রাহকের জন্য মাত্র ৯ লাখ ২৪ হাজার আইপি অ্যাড্রেস বরাদ্দ রয়েছে। তাই একটি আইপি অ্যাড্রেস হাজারেরও ওপরে গ্রাহক ব্যবহার করছেন। এতে সাইবার অপরাধী শনাক্তে জটিলতায় পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে আইপি অ্যাড্রেসের পাশাপাশি ইন্টারনেট ফিল্টারিংয়ের সিদ্ধান্ত শিগগিরই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে ইন্টারনেটে আপত্তিকর বিষয় যাচাই-বাছাই করা হবে। বিশেষ করে অশ্লীল ভিডিও, বার্তা, বিকৃত ও উসকানিমূলক মন্তব্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা ফিল্টার করা হবে। এতে অপরাধমূলক কার্যক্রম কমবে বলে মনে করছে সরকার।

 

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম মানবজমিনকে বলেন, যারা ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে, তাদের এ কাজ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। বিভিন্নভাবে সাইবার অপরাধ হয়। ইন্টারনেটে উত্ত্যক্ত করার অনেক পদ্ধতি আছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তরুণীরা। ৭৩ শতাংশ নারী সাইবার অপরাধের শিকার হন। এদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ অভিযোগ করেন। ৩৫ শতাংশ নারী কোনো অভিযোগই করতে চান না।

 

তিনি বলেন, আমরা একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি, যাতে দেশের বাইরে থেকে কোনো আপত্তিকর বিষয় ইন্টারনেটে যাচাই-বাছাই হয়ে আসে। লাইসেন্সধারী ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের তথ্য আমাদের কাছে আছে। ইন্টারনেট সেবা দিতে হলে অন্যদের লাইসেন্স নিতে হবে। সেবা প্রদানকারীদের তথ্য তাদের রাখতে হবে। ফলে সবকিছু একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য মাধ্যমটি দিন দিন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার বন্ধ বা কমাতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। গত অক্টোবরে আইটিইউ ও ইউনেসকো প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ব্রডব্যান্ড ২০১৫’ শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিটিআরসি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯।

 

অন্যদিকে ভারতের ১৫৫ ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৬তম। বাংলাদেশ প্রতি ১০০ জনে তারযুক্ত ফিক্সড বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারে গত বছরের চেয়ে ৪ ধাপ এগিয়ে ১৩২ অবস্থানে উঠে এসেছে। এ সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান (১৩৫), নেপাল (১৩৯), মিয়ানমার (১৫১), আফগানিস্তানসহ (১৮৫) ৫৭টি দেশের চেয়ে এগিয়ে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *