সর্বকালের স্মরণীয় গান কনটি? (বিজ্ঞানের চোখে)

By | 06/07/2015

গানের ক্ষেত্রে একেক জনের পছন্দ একেক রকম। কেউ একেবারে ধ্রুপদী ঘেঁষা, কেউ বা আবার রক গানের ভীষণ ভক্ত। এমন অবস্থায় বিজ্ঞান যদি কোনো একটি গানের ওপর সর্বকালের স্মরণীয় তকমা এঁটে দেয় তবে ব্যাপারটা কেমন হবে বলুন তো? আর সর্বকালের সবচাইতে স্মরণীয় সেই গানই বা কোনটি?

স্মরণীয় গান

ইউনিভার্সিটি অফ অ্যামস্টারডাম এবং ইংল্যান্ডের মিউজিয়াম অফ সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি একত্রে কাজ করে বের করার চেষ্টা করেন কেন মানুষ কিছু গান মনে রাখে আবার কিছু গান বেমালুম ভুলে যায়। ভেবে দেখুন তো, খুব সুন্দর একটি গান আপনি ভুলে যাচ্ছেন অথচ চটুল সুরের একটি সাধারণ গান মাথায় থেকে যাচ্ছে অনেক দিন, এমনটি কি হয়নি আপনার সাথেও? এমনকি অনেকবার শোনার পরেও কিছু গান মনে থাকে না, অন্যদিকে একবার শোনার পরেও কিছু গান মাথায় ঢুকে যায়, সময়ে অসময়ে তা মনে পড়ে যায়।

গানটা যেন কেউ আমাদের মাথার ভেতরে বাজাতে থাকে। একে বলা হয় “ইয়ারওয়ার্ম এফেক্ট”। যে গানের এই এফেক্ট বা প্রভাব যত বেশি, সেই গান তত বেশি স্মরণীয় বা “ক্যাচি”।

গবেষকেরা বের করার চেষ্টা করেন কোন গানটি সবচাইতে বেশি “ক্যাচি”। এর জন্য তারা একটি খেলা তৈরি করেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিকে কিছু গান শোনানো হয়। গান শুরুহবার পর যে মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন এটি কোন গান, তখনই একটি বাটন চেপে ধরেন তিনি। এতে বোঝা যাবে গানটি আপনি কত দ্রুত ও সহজে শনাক্ত করতে পারেন।

এই খেলায় গত ৭০ বছরের মাঝে প্রতি দশকের টপ লিস্টে থাকা ৪০টি করে গান রাখা হয়। এক বছর ধ্রএ চলতে থাকা এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন ১২ হাজার মানুষ। ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, সর্বকালের সবচাইতে “ক্যাচি” গান হলো স্পাইস গার্লসের ১৯৯৬ সালের হিট গান “Wannabe”। গড়ে ২.২৯ সেকেন্ডের মাঝে এই গানটি চিনে ফেলেন অংশগ্রহণকারীরা।

ঠিক কি কারণে এই গবেষণা করা হয়? নিছকই সবচাইতে স্মরণীয় গানটি খুঁজে বের করার লক্ষ্যে? না, বরং গবেষকেরা আশা করছেন ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার্স ডিজিজের গবেষণায় কোনোভাবে এসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *