জেনে নিন একটি ওয়েবসাইটে কী ধরনের অ্যানিমেশন ব্যবহার করা যায় এবং তা কিভাবে কাজ

0
469

বর্তমান সময়টা হচ্ছে অ্যানিমেশনের যুগ। এখন সবকিছুতেই অ্যানিমেশন এবং স্পেশাল ইফেক্ট চোখে পড়ার মতো। ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে সিনেমা, অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল ফোন সবকিছুই এখন অ্যানিমেটরদের স্বর্গরাজ্য। আর গেমগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম। কারণ অন্য সবকিছু অ্যানিমেশন ছাড়া চললেও গেম অ্যানিমেশন ছাড়া এককথায় অসম্ভব। তাই ভালো অ্যানিমেটরদের এখন অনেক চাহিদা। তবে সব প্লাটফর্মের অ্যানিমেশন কিন্তু একই ধরনের নয়।

একেক প্লাটফর্মের অ্যানিমেশন একেক ধরনের সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করতে হয়। যেমন ওয়েবসাইট তৈরিতে জাভা স্ক্রিপ্ট বা ফ্ল্যাশ দিয়ে অ্যানিমেশন বানানো হয়, তেমনি মুভির স্পেশাল ইফেক্ট বা হাই অ্যান্ড গেমের ক্ষেত্রে অ্যানিমেশন তৈরি করা হয় মায়া, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স বা ভি-রে দিয়ে। অ্যানিমেশন শুধু চলমান স্থির ছবির সমন্বয় ছাড়া আর কিছুই নয়। একের পর এক ছবির সমন্বয় ঘটিয়ে তৈরি করা হয় কাঙ্ক্ষিত অ্যানিমেশন। আজকাল ছোটখাটো ওয়েবসাইট ঘরে বসেই অনেকে তৈরি করে থাকেন। শুধু অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ না জানার কারণে অনেকেই নিজের তৈরি করা ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারছেন না। এ জন্য প্রথমেই দেখা যাক ওয়েবসাইটে কী ধরনের অ্যানিমেশন ব্যবহার করা যায় এবং তা কিভাবে কাজ করে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ওয়েবসাইটে আগে জিফ ইমেজ ব্যবহার করে অ্যানিমেশনের কাজ করা হতো। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে জিফ ইমেজ মানসম্পন্ন অ্যানিমেশন তৈরি করার ক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। জিফ ইমেজ ব্যবহার করার সুবিধা হচ্ছে এটি বেশ দ্রুত লোড হয়। তবে এখন সবাই দ্রুত লোড হওয়ার চেয়ে অ্যানিমেশনের কোয়ালিটি নিয়েই বেশি ভাবেন। এ জন্য এখনকার সময় ওয়েবসাইটে অ্যানিমেশনের জন্য প্রথম পছন্দ হচ্ছে জাভা স্ক্রিপ্ট বা ফ্ল্যাশ। ফ্ল্যাশ অ্যাডোবি সফটওয়্যার কিনে নেয়ার ফলে এখন নাম পরিবর্তিত হয়ে অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ নামেই বেশি পরিচিত। অ্যাডোবি ফ্ল্যাশে শুধুই ওয়েবসাইটের অ্যানিমেশন নয়, অন্য অনেক কাজের জন্যও অ্যানিমেশন তৈরি করা যায়।

জাভা স্ক্রিপ্ট

ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য জাভা স্ক্রিপ্ট জানা এখনকার সময়ে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাভা স্ক্রিপ্ট দিয়ে ওয়েবসাইটের জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা করা যায় না। তবে এখানে অ্যানিমেশনের অংশটুকু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অ্যানিমেশনের জন্য জাভা স্ক্রিপ্ট শুধু ইমেজ ব্যবহার করে। আলাদা আলাদা ইমেজ দিয়ে একের পর এক কোডিং অনুসারে অ্যানিমেশন তৈরি করে জাভা স্ক্রিপ্ট। জাভা স্ক্রিপ্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি কোনো প্লাটফর্মের ওপর নির্ভর করে না। স্বাধীন প্লাটফর্মের ওপর একে চালানো যায় বলে খুব দ্রুত অ্যানিমেশনের জন্য একে লোড করা যায়। তাই তুলনামূলক ধীরগতির ইন্টারনেট লাইনেও জাভা স্ক্রিপ্ট দিয়ে তৈরি করা অ্যানিমেশন সহজেই চালানো যায়।

অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ

ম্যাক্রোমিডিয়া ফ্ল্যাশ নামেই এই ডেভেলপিং টুল বেশি পরিচিত ছিল। কিন্তু সফটওয়্যার জায়ান্ট অ্যাডোবি একে কিনে নেয়ার পর এর নাম পরিবর্তিত হয়ে এখন অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ নামে পরিচিত হয়েছে। ফ্ল্যাশ দিয়েও যে শুধু অ্যানিমেশনের কাজ করা হয় ঠিক তা নয়। ফ্ল্যাশ দিয়ে অনেক অ্যাপ্লিকেশন বা প্রেজেন্টেশনও তৈরি করা যায়। তবে এর অ্যানিমেশন অংশটুকুই বেশি ব্যবহার হয়। বিশেষ করে স্ক্রিপ্টিং বা ওয়েবসাইটের কাজে। পুরোপুরি অ্যানিমেশন তৈরি করার পর কাজে লাগানো যায় বলে জাভা স্ক্রিপ্ট থেকে এটি কিছুটা ধীরগতির। তবে ফ্ল্যাশ দিয়ে অ্যানিমেশনের অনেক গভীরে যাওয়া যায়, যা জাভা স্ক্রিপ্ট দিয়ে সম্ভব নয়। আর জাভা স্ক্রিপ্টে যেমন কোড বিল্ট ইন হিসেবে রেখে দেয়া যায়, ওয়েবসাইটে ফ্ল্যাশের জন্য এমন ব্যবস্থা নেই।

অন্যান্য ডেভেলপিং টুল

জাভা স্ক্রিপ্ট বা ফ্ল্যাশ ছাড়া ওয়েবসাইটে অ্যানিমেশন ব্যবহার করা যায় না এমন ধারণা ভুল। অনেক সফটওয়্যার বা ডেভেলপিং টুল আছে যেগুলো দিয়ে ওয়েবসাইটের জন্য অ্যানিমেশন তৈরি করা যায়। তবে জাভা স্ক্রিপ্ট ও ফ্ল্যাশ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় এবং এ দুটি হচ্ছে ডেভেলপারদের প্রথম পছন্দ। মায়া, ভি-রে, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স, কামতাসিয়া স্টুডিও, কুল মুভস বা সুইস দিয়েও ওয়েবসাইটের জন্য অ্যানিমেশন তৈরি করা যায়। তবে শুধু ওয়েবসাইটের জন্য এগুলো দিয়ে তৈরি করা অ্যানিমেশনের সংখ্যা কম।

ওয়েবসাইট ও অ্যানিমেশন

ইদানীং ওয়েবসাইটে অ্যানিমেশনের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। এখন ওয়েবসাইটে অ্যানিমেশন ব্যবহার করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এমনকি যারা কোডিং জানেন না তাদের জন্যও ওয়েবসাইটে অ্যানিমেশন যোগ করা অনেক সহজ। এর কারণ হচ্ছে এখনকার প্রায় সব ওয়েবসাইট ডায়নামিক এবং কিছু ভালো মানের ফ্রি সিএমএসের (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সাথে অ্যানিমেশনের বিল্ট ইন ব্যবস্থা। এই ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ওয়েব ২.০ সমর্থন করে। সিএমএস না থাকলেও শুধু ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন দিয়ে সিএমএস তৈরি করা যায়। সিএমএস হচ্ছে ওয়েবসাইট ম্যানেজ করার একটি সিস্টেম। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে। ওয়েবসাইটে নতুন কোনো পেজ তৈরি করতে চাইলে পুরো ডিজাইন করে পেজ সাইটে বসাতে হয় না। কিছু ক্লিক করেই আর কনটেন্ট বসিয়ে দিলেই হলো। সিএমএসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে সরাসরি পেজে অ্যানিমেশন বসানো যায়।

ওয়েবসাইটে সাধারণত .swf ফাইল হিসেবে ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন চালানো যায়। জাভা স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো ফাইল এক্সটেনশন নেই। ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন ফাইল যে ধরনের প্ল্যাটফর্মের বা যেই ডেভেলপিং টুল দিয়ে তৈরি করা হোক না কেন, এই এক্সটেনশনে কনভার্ট করে নিলেই তা ওয়েবসাইটে চালানো যাবে। তবে তা দেখার জন্য ওয়েব ব্রাউজারে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার বা অ্যাডোবি প্লেয়ার ইনস্টল করা থাকতে হবে।

বেশির ভাগ ফ্রি সিএমএসে কতটুকু পিক্সেলে অ্যানিমেশন ব্রাউজারে দেখাবে তা নির্ধারণ করে দেয়া যায়। এর কিছু সুবিধা হচ্ছে- মূল অ্যানিমেশন ফাইল যত বড়ই হোক না কেন, ব্রাউজার ঠিক ততটুকুই দেখাবে যতটুকু নির্ধারণ করে দেয়া থাকবে।

জাভা স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে এমন ফাইল এক্সটেনশনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জাভা স্ক্রিপ্ট অ্যানিমেশনের মূল কাজ করে পুরোটাই ইমেজ ফাইল এবং কিছু কোডিং। তাই এখানে কোনো ফাইল এক্সটেনশনের ব্যাপার নেই। শুধু মনে রাখতে হবে ইমেজ ফাইলের কোয়ালিটির ওপর অ্যানিমেশনের কোয়ালিটি নির্ভর করবে। আবার কোয়ালিটি ভালো রাখতে গিয়ে ইমেজ ফাইলের সাইজ যাতে খুব বেশি না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে যে উদ্দেশ্যে জাভা স্ক্রিপ্ট দিয়ে অ্যানিমেশন তৈরি করা হবে সেই উদ্দেশ্য সফল হবে না।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 4 =