১০ বছরপর কী কী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে? ২০২৫ সালে কেমন হবে পৃথিবী?

0
446

বিবর্তনের মাধ্যমে ঘুরে চলে জীবনের চাকা। পৃথিবীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয় সভ্যতা, সমৃদ্ধ হয় সংস্কৃতি, অগ্রসর হয় বিজ্ঞান। ১০ বছরপর কী কী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে? মুরস ল’ অনুসারে, ২০২৫ সালে নিত্য জীবনযাপনে সম্ভাব্য এই ৮টি উল্লেখযোগ্য বদল হবে বলে পূর্বাভাস করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সালে কেমন হবে পৃথিবী ১০ বছরপর কী কী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে? ২০২৫ সালে কেমন হবে পৃথিবী?

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

১) হাজার ডলারে মিলবে মস্তিষ্কঃ

২০২৫ সালে মাত্র ১০০০ ডলার মূল্যে পাওয়া যাবে ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন অত্যাধুনিক কম্পিউটার। এই কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে ১০০০০০০০০০টি সাইকেল গুণে ফেলতে সক্ষম হবে, যা কিনা মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের বিশ্লেষক গতির সমান।

২) ১০০ কোটি-মুখী অর্থনীতিঃ

ডিভাইস, গ্রাহক, প্রসেসিং ও ডেটার মধ্যে যোগাযোগকারী নেটওয়ার্কের বিবরণ মেলে ‘ইন্টারনেট অফ এভরিথিং’-এ। ২০২৫ সালের মধ্যে এই নেটওয়ার্ক বেড়ে দাঁড়াবে ১০,০০০ কোটি ডিভাইসে। প্রতিটি ডিআইসে থাকবে কমপক্ষে ১২টি সেন্সর। এর জেরে তৈরি হবে ১০০ কোটি-মুখী অর্থনীতি যার মাধ্যমে এমন এক ডেটা-বিপ্লব ঘটবে যা বর্তমানের তুলনায় অকল্পনীয়। সিসকো-র সাম্প্রতিপ রিপোর্ট অনুসারে, ‘ইন্টারনেট অফ এভরিথিং’ থেকে ১৯০০ কোটি ডলার মূল্যের নতুন মূল্যাবধারণ সম্ভব হবে।

৩) নিখুঁত জ্ঞানঃ

আমরা নিখুঁত জ্ঞানার্জনের পথে এগিয়ে চলেছি। ১০০ কোটি সেন্সরের মাধ্যমে (এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, উপগ্রহ ব্যবস্থা, ড্রোন, ক্যামেরা এবং ওয়্যারেবলস) আহৃত তথ্য প্রতিনিয়ত, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে, এমনকি মহাকাশেও যে কোনও বিষয়ে এবং যে কোনও সময়ে সাম্প্রতিকতম খুঁটিনাটি তথ্য জোগাতে সক্ষম হবে।

৪) ৮০০ কোটি কানেক্টেড জনতাঃ

ফেসবুক (ইন্টারনেট ডট অর্জ), স্পেস এক্স, গুগল (প্রজেক্ট লুন), কুয়ালকম এবং ভার্জিন (ওয়ান ওয়েব) পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষকে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আঁওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে, যার গতি সেকেন্ডে এক মেগাবিটের বেশি হবে। এই পরিকল্পনা সফল হলে আগামী ১০ বছরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ৩০০ কোটি থেকে বেড়ে ৮০০ কোটিতে পৌঁছবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর জেরে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে। মনে রাখতে হবে, নয়া প্রজন্মের
ইউজাররা অনলাইনে যুক্ত হবেন ১ এমবিপিএস কানেকশনের মাধ্যমে এবং তাঁদের বিবিধ প্রশ্নের উত্তর মিলবে গুগল, ক্লাউড থ্রি-ডি প্রিন্টিং, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, ওয়াটসন-এর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউডফান্ডিং, ক্লাউডসোর্সিং-এর মতো অসংখ্য উত্‍স থেকে।

৫) প্রচলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতনঃ

আগামী এক দশকে চলতি চিকিত্‍সা ব্যবস্থা ক্রমে অবলুপ্ত হবে কারণ এক্ষেত্রে প্রচুর নয়া প্রকল্প আসবে যা উন্নত এবং গতিসম্পন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে। হাজার হাজার স্টার্টআপস এবং তার সঙ্গে বর্তমানের ডেটা ভাণ্ডার (গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফ্ট, স্যাপ, আইবিএম, ইত্যাদি) ৩৮০০ কোটি ডলার মূল্যের চিকিত্‍সা ব্যবসায় লগ্নি করতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে আজকের পৃথিবীতে উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে হলে যে লাল ফিতের ফাঁসের ঝক্কি প্রতিনিয়ত পোহাতে হয়, তার অবসান হবে। বায়োমেট্রিক সেন্সিং (যেমন গুগল গ্লাস) এবং আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স অর্থাত্‍ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আমরা প্রত্যেকে নিজের শরীর-কারখানার সিইও হিসেবে কাজ করব। অত্যাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যান্সার, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও স্নায়ুর বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ ও চিকিত্‍সা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য থাকবে আমাদের হাতের মুঠোয়। জটিল থেকে সাধারণ, সমস্ত সার্জারি নিখুঁত ভাবে সারবে রোবোট চিকিত্‍সকরা। ঝামেলা থাকবে না অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও। কারণ প্রত্যেক মানুষ নিজের বিকল্প হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার বা ফুসফুস দরকার হলে নিজেই তৈরি করে নিতে পারবেন।

৬) ভার্চুয়াল রিয়েলিটিঃ

এক্ষেত্রে ফেসবুক (Oculus), গুগল (Magic Leap), মাইক্রোসফ্ট (Hololens), সোনি, কুয়ালকম, এইচটিসি-র মতো বহুজাতিক সংস্থা এর মধ্যেই বিশাল মূল্যের অর্থ লগ্নি করে বসে আছে। ২০২৫ সাল নাগাদ ডিসপ্লে ও ইউজার ইন্টারফেস-এর জগতে তাই নয়া বিপ্লব ঘটতে চলেছে।

৭) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাহীন উন্নতি:

এ যুগে যদি মনে করেন Siri অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কীয় গবেষণা পরবর্তী দশকে Siri-কে এতটাই উন্নত করবে যা যে কোনও সমস্যা বুঝে ঝটিতি সমাধান করতে সক্ষম হবে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা গ্রাহকের সমস্ত মেসেজ, ই-মেল পড়তে ও জবাব দিতে পারবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক ডেটা স্ক্যান করে দিতে পারবে পলকে।

৮) ব্লকচেইন:

Blockchain সম্পর্কে না জানলে অবিলম্বে এই বিষয়ে পড়াশোনা করে রাখা দরকার। বিটকয়েন সম্পর্কে অনেকের কিছুটা ধারণা হয়তো আছে। আন্তর্জাতিক এই ক্রিপ্টোমুদ্রা আসলে ব্লকচেইনের উপর ভিত্তি করেই সৃষ্টি হয়েছে। ব্লকচেইন এমন এক প্রোটোকল যার সাহায্যে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নিরাপদ ও সরাসরি আদান-প্রদান সহজ হবে। এক কথায়, ডিজিটাল লেনদেনের গোটা সংজ্ঞাই পাল্টে যাবে এই এক দশকে। মার্ক অ্যান্ড্রিসেন-এর মতো সংস্থা এর মধ্যেই এই ক্ষেত্রে কয়েক লক্ষ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, এই মুহূর্তে আমরা এমন এক পরিবর্তনশীল সময়ে বাস করছি, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এক্ষেত্রে একমাত্র অনড় উপাদান পরিবর্তন স্বয়ং।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen + 20 =