তৈরি হলো দেশের প্রথম রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার

0
348

রফিকুল ইসলাম কামাল, সিলেট: সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের আকাশে প্রথমবারের মতো উড়েছিল মনুষ্যবিহীন ড্রোন। শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালীন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের তত্ত্বাবধানে এবং সহযোগিতায় নাবিল ও আরো কয়েকজন তৈরি করেছিলেন মনুষ্যবিহীন ড্রোন।

 এরপর নাবিলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী তৈরি করেন মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন। এমনকি নাবিলের হাত ধরেই দেশে প্রথমবারের মতো হেক্সা ও অক্টোকপ্টার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেসব এখন অতীত! রেজওয়ানুল হক নাবিল এসেছেন নতুন চমক নিয়ে! দেশের প্রথম রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরি করেছেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন আরো কয়েকজন উদ্যমী তরুণ।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

 হলো দেশের প্রথম রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরি হলো দেশের প্রথম রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার

রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার: বর্তমান বিশে^ রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার খুবই জনপ্রিয়। রাসবেরি পাই হচ্ছে সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার। এ ধরনের কম্পিউটার দ্র“ত কাজ করতে সক্ষম এবং কাজ করার ক্ষমতা অনেক বেশি। এটি হচ্ছে অনেকগুলো কম্পিউটারের সমন্বিত রূপ। তবে এই কম্পিউটার অনেক ব্যয়বহুল।

 এসব দিক বিবেচনা করেই রাসবেরি পাই দিয়ে ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরির চিন্তা মাথায় আসে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ও ছাত্রদের। যেই ভাবা, সেই কাজ! ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিলের তত্ত্বাবধানে ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সেই চিন্তার বাস্তব রূপ দিয়েছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্বজন দেবনাথ, ইনতেজাম আহমেদ প্রিনন, লুৎফুর রহমান শাকিল, জয় রয় ও আখলাকুজ্জামান আশিক।

 সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল বলেন, ‘বাংলাদেশে এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের তত্ত্বাবধানে ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার দেশে এই প্রথমবারের মতো তৈরি হলো। ক্লাস্টার কম্পিউটার হচ্ছে সুপার কম্পিউটারের ছোট রূপ। গবেষণার কাজে এ ধরনের কম্পিউটারের প্রয়োজন অনেক বেশি। কিন্তু ক্লাস্টার কম্পিউটার অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের দেশে এ ধরনের কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কেউই ব্যবহার করতে পারে না।’ আর ঠিক এ চিন্তা থেকেই রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরির প্রকল্প হাতে নেন নাবিলরা।

 যেভাবে শুরু: সৈয়দ নাবিল যখন শাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী ছিলেন তখন ড. জাফর ইকবালের বানানো একটি বিশালাকারের ক্লাস্টার কম্পিউটার দেখেছিলেন। তখনো এর কিছুই বুঝতেন না নাবিল! এতো বড় এবং ভিন্ন প্রকৃতির কম্পিউটার ব্যবহার করার সাহসও হয়নি তার। কিন্তু যে কম্পিউটার ব্যবহার করারই সাহস হয়নি নাবিলের, সেই কম্পিউটার বানানোর স্বপ্ন মাস তিনেক আগে ঢুকে পড়ে তার মাথায়! কিন্তু ক্লাস্টার কম্পিউটার বানাতে তো অনেক টাকার ব্যাপার! কি করা যায় তাহলে?

 সুড়ঙ্গের মুখে আলোর দেখা পেয়ে গেলেন নাবিল। খোঁজ পেলেন রাসবেরি পাই-এর। শুরু করলেন ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি। রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটারের উপর ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের এক প্রফেসরের রিসার্চ পেপার পড়লেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। কীভাবে কি করতে হবে বুঝে গেলেন নাবিল। কয়েকজন উদ্যমী তারুণকে নিয়ে নেমে পড়লেন কাজে। প্রথম দিকে সবাইকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করলেন। তারপর সবাই মিলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও কম্পিউটার সামগ্রী সংগ্রহ করলেন। এরপর নতুন উদ্যমে সঙ্গীদের নিয়ে নেমে পড়লেন কাজে।

 কদিনের টানা খাটাখাটুনির পর মোট ৪টি রাসবেরি পাই দিয়ে একটি ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরির কাজ শেষ করলেন। স্বজন-প্রিননরা বাংলাদেশের পতাকার আদলে লাল-সবুজ ফাইবার গ্লাস দিয়ে কম্পিউটারের কেস বানিয়ে ফেলেন। পরে যুক্ত করা হয় কুলিং সিস্টেম। তৈরি হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার। এই একটি ক্লাস্টার কম্পিউটার ৩২টি কম্পিউটারে সমানতালে কাজ করতে সক্ষম। প্যারালাল কম্পিউটিংকে জনপ্রিয় করতেই নাবিলদের এই প্রচেষ্টা।

 মূলত এই রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়েছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অর্থায়নে। নাবিল জানালেন, ৪টি রাসবেরি দিয়ে একটি ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এক্ষেত্রে প্যারালাল কম্পিউটিং ক্ষমতা থাকে ৩২টি কম্পিউটারের। কেউ চাইলে এর বেশি প্যারালাল কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্পন্ন রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটারও তৈরি করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে খরচটাও বাড়বে।’

 নাবিলদের তৈরি করা রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটারটি বর্তমানে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন ল্যাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখানেই থামছেন না তারা। বর্তমানে একটি পোর্টেবল রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরির কাজ করছেন তারা। এটি তৈরি হলে যে কেউ ট্যাবের মতো হাতে নিয়ে ঘুরতে পারবে, ব্যবহার করতে পারবে।

 নাবিলদের এই প্রজেক্টেও পরামর্শ দিয়েছেন শাবির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

 স্বপ্ন পূরণের গল্প শোনাতে গিয়ে নাবিল বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে এই রাসবেরি পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে- এটা আমাদের বিশ^াস। তাতে করে আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষায় এবং গবেষণার কাজে সহজলভ্য হয়ে ওঠবে এই কম্পিউটার। আমরাও বিশে^র উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর সঙ্গে তখন সমানভাবে লড়ে যেতে পারব। সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।

 স্বপ্ন অনেক বড় : একেকটা সাফল্য ধরা দেয় নাবিলদের হাতের মুঠোয়, তারা ভাসেন উচ্ছ্বাসে। কিন্তু থেমে যান না। সাফল্যের আনন্দকে আরো অনেকগুণ বাড়িয়ে নিতে নেমে পড়েন নতুন কোনো প্রজেক্ট হাতে নিয়ে। অজানা-অচেনাকে জয় করার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সঙ্গী হয় নাবিলদের। তাদের স্বপ্নের আকাশটা অনেক বড়। বাংলাদেশে সুপার কম্পিউটিংকে জনপ্রিয় করতে, ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা চলছে তাদের। নিজেরা শিখছেন, শেখানোর চেষ্টা করছেন। অদূর ভবিষ্যতে নতুন কোনো চমক নিয়ে হয়তো ফের দৃশ্যপটে আগমন ঘটবে নাবিলদের!

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + six =