জানা অজানা হাজার তথ্য নিয়ে ফেসবুক নিয়ে একটি মেগা টিউন

0
567
কীভাবে ফেসবুকমুক্ত হবেন? ফেসবুক নিয়ে বিরক্ত? বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন এই সামাজিক যোগাযোগের জানালাটি? এ ভাবনা যে শুধু আপনার একার তা কিন্তু নয়, আপনার মতো হয়তো অনেকের মনে এমন ভাবনা জাগে। কিন্তু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কি সহজে বন্ধ করতে পারবেন? ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাটা যত সহজ মনে হয় আসলে বিষয়টি তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। গবেষকেরা বলেন, অনলাইনের কোনো তথ্যই চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় না। কোনো না কোনোভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তা আবারও কাজে লাগানো হয়, হাতবদল হয়। সম্প্রতি পুরোপুরি ফেসবুকমুক্ত হওয়ার উপায় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবল।সম্প্রতি ফেসবুকের এক আবেগ-সংক্রান্ত এক গবেষণা সমালোচনার মুখে পড়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করলেও প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে দিতে পারে ফেসবুক। মানুষের মেজাজ বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী নিউজ ফিড দেখিয়ে মানুষকে হাসাতে পারে, কাঁদাতে পারে। আসলে ফেসবুকের গিনিপিগ আমরা | ফেসবুকের ওপর বিরক্ত হয়ে যদি ফেসবুক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করেন, তবে আপনার মতো অনেককেই পাবেন।

গুগলে গিয়ে ‘ডিইএলই’ টাইপ করতে শুরু করুন দেখবেন গুগল আপনাকে ‘ডিলিট ইউর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট’ শীর্ষ অনুসন্ধান ফল হিসেবে দেখাচ্ছে। প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয়গুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে কিংবা ডিজিটাল উদ্বিগ্নতা দূর করতে অনেকেই ফেসবুক থেকে কীভাবে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়া সম্ভব সে বিষয়টির খোঁজ করছেন।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
যাঁরা পুরোপুরি ফেসবুক ছেড়ে দিতে চান, তাঁদের কাছে শুনে আশ্চর্য লাগতে পারে যে ফেসবুক থেকে নিজের অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি মুছে ফেলা অনেক জটিল। ফেসবুকের প্রাইভেসি নীতিমালা কারণে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে শুধু ডিলিট বাটনে চাপ দিলেই কাজ হবে না। চাই আরও বাড়তি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া।

একটা বিষয় মনে রাখতে হবে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা বা ‘ডিলিট’ করা মানে কিন্তু নিষ্ক্রিয় ‘ডিঅ্যাক্টিভেশন’ নয়। আপনি যেকোনো সময় আপনার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারেন যার অর্থ হচ্ছে আপনার টাইমলাইন ও তথ্য আপনি ফেসবুক পুনরায় চালু বা রিঅ্যাক্টিভেট করার আগ পর্যন্ত ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যাবে। সে তথ্য কেউ দেখবে না। আপনি অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করলে আবার তা দেখা যাবে। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা বা মুছে ফেলার অর্থ হচ্ছে আপনি আর কখনো সেই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না বা কখনো সেই অ্যাকাউন্টে আর যেতে পারবেন না। এই অ্যাকাউন্টে কোনো তথ্যও আপনি আর পাবেন না। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ই-মেইল, মেইল পাঠানোর ঠিকানা সব ফেসবুক থেকে মুছে যাবে কিন্তু মেসেজ বা বার্তা ও ছবির মতো বিষয়গুলো ফেসবুক সার্ভারে কারিগরি প্রয়োজনে থেকেই যাবে। ফেসবুক হেল্প সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরও যে তথ্যগুলো সার্ভারে থেকে যায় তা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তারপরও যদি ফেসবুকের তথ্য চিরতরে মুছে ফেলতে চান তবে আপনার বেশ কিছু করণীয় রয়েছে।

ফেসবুকের তথ্য ব্যাকআপ নিনফেসবুক তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন

ফেসবুক থেকে দূরে সরে যেতে বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার আগে প্রথম কাজ হবে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাকআপ রাখা। ফেসবুক তথ্যগুলো জিপ ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এ জন্য আপনাকে প্যাডলক আইকনে ক্লিক করে ‘সি মোর সেটিংস’ অপশনে যেতে হবে। এখান থেকে যেতে হবে ‘জেনারেল’ অপশনটিতে। এই অপশন ক্লিক করলে আপনাকে ‘ডাউনলোড আ কপি অব ইউর ফেসবুক ডেটা’ দেখাবে। এতে ক্লিক করলে ডেটা ডাউনলোড হবে। ‘স্টার্ট মাই আর্কাইভ’ ক্লিক করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই জিপ ফাইল ডাউনলোড হয়ে গেলে তা কম্পিউটারের নিরাপদ কোনো স্থান বা হার্ডড্রাইভে সংরক্ষণ করুন। আপনার ফেসবুক ডেটা কোথায় খুঁজে পাবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যেতে পারেন এই লিংকটিতে https://www.facebook.com/help/405183566203254

কোনো ছবি একটি একটি করে ডাউনলোড করতে ছবির নিচে অপশনে ক্লিক করুন এবং ডাউনলোড নির্বাচন করে তাতে ক্লিক করুন।

ফেসবুক ব্যবহারের নীতিমালা অনুযায়ী, কম্পিউটারে রিসাইকেল বিন যেভাবে কাজ করে ফেসবুকে ছবি বা ভিডিও (আইপি কনটেন্ট) বা আপনার অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি মুছে ফেলা হলে তাও একই ভাবে কাজ করে। মুছে দেওয়া এসব কনটেন্ট একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাকআপ কপি হিসেবে থেকে যায়। যদি আগে কখনো সেই ছবি বা ভিডিওর সরাসরি লিংকে অ্যাকসেস কোনো ব্যবহারকারীর কাছে থাকে তখনই কেবল এই কনটেন্ট দেখতে পাবে। মুছে ফেলা ছবি কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক কেসের মধ্যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থেকেই যাবে।

অ্যাপসের লিংক পরীক্ষা করুনফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপ্লিকেশনগুলো পরীক্ষা করুন

আমাদের ওয়েব কার্যক্রমের সঙ্গে এমনভাবে ফেসবুক মিশে গেছে যে আমরা বিভিন্ন থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন, গেম, ওয়েবসাইটে সাইন-আপ কিংবা লগইন করতেও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছি। সময় বাঁচাতে এবং নিজেদের মতো করে সাজাতে অ্যাপ্লিকেশনে লগইনের ক্ষেত্রে আমরা সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছি। কিন্তু আমরা অনেকেই বুঝতে পারছি না যে এর ফলে আমরা থার্ড পার্টি ডেভেলপারদের কাছে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহার, সংরক্ষণ ও আপডেট করার অনুমতি দিচ্ছি। প্রশ্ন থেকে যায়, ঠিক কী ধরনের তথ্য? তথ্য বলতে আমাদের বেসিক সব তথ্য যাতে ব্যবহারকারীর আইডি, পাবলিক তথ্য, বন্ধু তালিকা প্রভৃতি বিষয়গুলো পড়ে। কীভাবে ফেসবুকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অ্যাপস পরীক্ষা করে দেখবেন? ফেসবুকের ‘সেটিংস’ অপশনে যান। বাম দিকের সারিতে থাকা ‘অ্যাপস’ ক্লিক করুন। জনপ্রিয় অ্যাপস হিসেবে পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রাম, স্পটিফাই, প্যান্ডোরা—এই তালিকায় থাকতে পারে। টিন্ডারের মতো কিছু অ্যাপস পাবেন যাতে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলে তা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ধরনের ক্ষেত্রে আপনাকে ফেসবুকের পাশাপাশি এ ধরনের অ্যাপস ব্যবহারের চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি এই অ্যাপসগুলোতে ফেসবুক বাদে ই-মেইল অ্যাড্রেস বা টুইটার দিয়ে ঢুকতে পারেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখুন। পুরোপুরি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হলে আপনাকে যেকোনো উপায়ে ফেসবুকের সঙ্গে অ্যাপসের সংযোগ বন্ধ করতে হবে।

ফেসবুকের অ্যাপস বন্ধ করে দিনফেসবুকে অ্যাপস বন্ধ করা

কোনো অ্যাপ্লিকেশনে ফেসবুক ব্যবহার করে লগইন করার ধরনটি বদলিয়ে ফেলতে পারলে ফেসবুকের সেটিংস থেকে এই অ্যাপ্লিকেশন সরিয়ে ফেলা ও নিষ্ক্রিয় করে ফেলা ভালো। নিরাপদ থাকতে যা করতে পারেন তা হচ্ছে সেটিংস থেকে অ্যাপসে যান। এখান থেকে ক্রস বাটন চেপে প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন সরিয়ে দিতে পারেন। ক্রস বাটন চাপলে একটি পপ আপ উইন্ডোর মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলতে আপনার অনুমোদন চাওয়া হবে। রিমুভ বাটন চেপে সব অ্যাপস মুছে ফেলার পর ‘এডিট’ বাটনে ক্লিক করুন। এখান থেকে টার্ন অব দ্য প্ল্যাটফর্ম ক্লিক করে পুরোপুরি তথ্য মুছে দিতে পারবেন। এভাবে অ্যাপসের সব তথ্য মুছে দিলে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য আর পাবেন না আপনি। আপনার ইউজার আইডিও আর অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে শেয়ার হবে না।

ফেসবুকের হিস্টরি মুছে ফেলুনঅ্যাপসে কী তথ্য থেকে গেল তা যাচাই করা

অ্যাপসের সঙ্গে ফেসবুকের সম্পর্ক ভেঙে দিলেও আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুরোপুরি মুছে ফেলার ক্ষেত্রে কিছু কাজ তারপরও বাকি থেকে যায়। আপনার ব্যবহূত অ্যাপসগুলো ফেসবুক বাদেও অন্যান্য ডেভেলপারদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে বলে সেখানে আপনার তথ্যগুলো কাজে লাগাতে পারে। আপনি এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন থাকলে ফেসবুকের পরামর্শ হচ্ছে ওই অ্যাপ্লিকেশনের কাছে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনার তথ্য মুছে ফেলার জন্য। ওই অ্যাপ্লিকেশনটির প্রাইভেসি নীতিমালার বিষয়টি পড়ে দেখুন। ফেসবুক অবশ্য এক্ষেত্রে একটি ভালো নীতিমালা করে রেখেছে যার একটি শর্ত হচ্ছে ব্যবহারকারী যদি চান ডেভেলপার, অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট ফেসবুক থেকে নেওয়া তথ্য মুছে ফেলতে হবে।

থার্ড পার্টির কোনো অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে তাদের প্রাইভেসি নীতিমালা দেখে নিন। এসব অ্যাপ যেভাবে তথ্য সংগ্রহ, শেয়ার ব্যবহার করে তা জেনে-বুঝে নিন।

কয়েকটি অ্যাপসের প্রাইভেসি পলিসি—

ফার্মভিল

ইনস্টাগ্রাম

পিন্টারেস্ট

একটি বিশেষ বিষয় মনে রাখবেন, আপনার যদি ইনস্টাগ্রামে কোনো অ্যাকাউন্ট থাকে তবে ফেসবুক থেকে দূরে সরে থাকা বা ফেসবুক পুরোপুরি মুছে ফেলা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ইনস্টাগ্রামকে ফেসবুক কিনে নেওয়ার পর এই অ্যাপ্লিকেশনের প্রাইভেসি নীতিমালায় আপডেট এসেছে। ইনস্টাগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তথ্য বিনিময় করতে পারে। আপনি ইনস্টাগ্রামও মুছে ফেলতে পারেন কিন্তু সেখানেও কিছুদিনের জন্য তথ্য সংরক্ষিত থেকে যাবে।

ফেসবুকের হিস্টরি মুছে ফেলা

আপনি যখন মুছে দেবেন তখন আপনার ট্যাগ, কমেন্টস ও লাইকও অন্যদের পেজ থেকে উধাও হয়ে যাবে। অন্যদের কাছে তথ্য প্রদর্শিত না হলেও বিজ্ঞাপনদাতারা কী আপনার তথ্য ব্যবহার করতে পারবে? এই প্রশ্নটি মনে উঠতে পারে। ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী, আপনার অনুমতি না থাকলে ফেসবুক কাউকেই মুছে ফেলা তথ্য ব্যবহারে অনুমতি দেয় না।

আপনার ফেসবুক পাতার অ্যাক্টিভিটি লগ পেজটি থেকে ফেসবুকের সব কাজগুলো মুছে দিতে পারেন। আপনার লাইক দেওয়া পোস্ট, আপনার মন্তব্য সহজেই এখান থেকে মুছে দিতে পারবেন। এ ধরনের তথ্য মুছে ফেললে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পর খুব তথ্যই ওয়েবে থেকে যায়। প্রোফাইল পেজের ‘ভিউ অ্যাক্টিভিটি লগ’ থেকে পেনসিল আইকনে ক্লিক করে আপনার অতীতের কাজগুলো আনডু করে দিন। এখান থেকে ডিলিট বা আনলাইক করতে পারেন।

ফেসবুক ডিলিট করে দিনফেসবুক ডিলিট

অন্যান্য বিষয় ঠিকমতো করে থাকলে এখন ফেসবুক মুছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার জন্য অপশন খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন। এখানে ক্লিক করুন। এটাই ফেসবুক মুছে ফেলার লিংক (https://www.facebook.com/help/delete_account) । মুছে ফেলতে প্রয়োজনে আপনার লগইন তথ্য দিতে হবে। আপনার অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে আপনার মেইলে একটি বার্তা পাবেন। এখান থেকে ফেসবুক মুছে দেওয়ার বিষয়টির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। মেইল না পেলে স্প্যাম বা জাঙ্ক ফোল্ডার দেখুন।

ফেসবুক মুছে ফেলার এই প্রক্রিয়ায় ১৪ দিন আপনাকে ফেসবুক ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আশা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ, মুছে ফেলার পর আবার লগইন করলে ফেসবুক আবারও চালু হয়ে যাবে।

ফেসবুক তথ্য ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। কিন্তু কিছু তথ্য ব্যাকআপ কপি হিসেবে ফেসবুক সার্ভারে ৯০ দিন পর্যন্ত থেকে যায়।
টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মন্তব্য দিন আপনার