গ্রামীণফোন আইটির ৩৩ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

0
249

অবৈধ কর রেয়াত নিয়ে, নির্ধারিত ভ্যাটের চাইতে কম পরিশোধ করে গ্রামীণফোনের সহযোগী সংগঠন আইটি লিমিটেড ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ফাঁকি দিয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ ভ্যাট আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিপরীতে দাবিনামা নোটিশ জারি করেছে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।সম্প্রতি উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের নিরীক্ষায় ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উদঘাটিত হয়। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ সেবা বিক্রি করেছে এর বিপরীতে সঠিকভাবে ভ্যাট দেয়নি। এছাড়া অবৈধভাবে কর রেয়াত, স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

দাবিনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্রামীণফোন আইটি ‘কনসালটেন্সি এন্ড সুপারভাইজারী ফার্ম’ হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ‘তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সেবা’ বিক্রি করে। ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত উক্ত সেবার বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। আবার ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ওই সেবার বিপরীতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

সে হিসেবে, প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত যে পরিমাণ সেবা বিক্রি করেছে তার বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়যোগ্য ছিল। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ২৯৮ কোটি ৩২ লাখ টাকার সেবা বিক্রি করে। এর বিপরীতে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ভ্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও সব মিলিয়ে ২০ কোটি ৯৬ লাখ পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ নির্ধারিত ভ্যাটের চাইতে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা কম ভ্যাট দিয়েছে।

এরপর ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের সেবা দেয় ওইসব সেবার বিপরীতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে। ফলে ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সেবামূল্যের ওপর সাড়ে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট দেওয়ার কথা। এ সময় ৩৮৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সেবা বিক্রি করে। এর বিপরীতে ১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ভ্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও সব মিলিয়ে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ভ্যাট দেয় প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ এখানেও নির্ধারিত ভ্যাটের চাইতে ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা কম ভ্যাট দিয়েছে।
আলোচ্য সময়ে সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে সেবা দিলেও ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার রেয়াত গ্রহণ করে, যা আইন অনুযায়ী অবৈধ। ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে রেয়াত নিয়েছিল বলে ধারণা করছে ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ভ্যাট কর্মকর্তারা দেখতে পান, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার উপর কোন ভ্যাট দেয়নি। এ সময় স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। অর্থাৎ ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত ভ্যাটের চাইতে কম ভ্যাট দিয়ে, অবৈধ রেয়াত নিয়ে এবং স্থান ও স্থাপনার ওপর ভ্যাট পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানটি ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ভ্যাট দিয়েছে। এ পাওনা আদায়ে ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে ১ মার্চ দাবিনামা জারি করা হয়।
এ বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে একসেঞ্চারের মতামত চাওয়া হয়। এর উত্তরে একসেঞ্চারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শবনম খান পাল্টা ই-মেইলের মাধ্যমে জানান, যেসব দেশে একসেঞ্চার তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে সে দেশের আইন মেনেই তারা কর পরিশোধ করে। দাবিনামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাধীন থাকায় এ বিষয় মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 2 =