প্রোগ্রামার তৈরিতে সরকারের সহযোগিতা

0
375

“দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বেশি বেশি প্রোগ্রামার তৈরি করতে হবে। দেশে যত বেশী প্রোগ্রামার তৈরি হবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কার্যক্রম তত জোরালো হবে। তাই ব্যক্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে আজকের এই সম্মাননা। আমরা চাই বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এগিয়ে যাক। এগিয়ে যাক আমাদের তারুণ্য।”

'প্রোগ্রামার তৈরিতে সরকারের প্রোগ্রামার তৈরিতে সরকারের সহযোগিতা

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সম্মানিত সচিব জনাব শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে শুক্রবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ সাল থেকে আইসিপিসি ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও প্রণোদনা এবং এবারের ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্সে অংশগ্রহণকারীদের অনুদান দেয়া হয়।

এরমধ্যে আইসিপিসি ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শীর্ষস্থান অধিকারী বিভিন্ন টিমের ৮০ জনকে সম্মননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও, সর্বশেষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন টিমের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে প্রণোদনা প্রদান করা হয়। আর প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্সে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে তাজিকিস্থানে অনুষ্ঠিতব্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের রাউন্ড-ট্রিপে বিমান ভাড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় বাবদ মোট ৫ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।

সম্মাননা ও অনুদান প্রাপ্তদের আরও অধ্যাবসায়ী ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, “প্রোগ্রামিং কনটেস্ট একটি কো-কারিকুলারএক্টিভিটি। এখানে সফল হতে হলে প্রয়োজন দ্রুত ও নিখুঁত কোডিং, জটিল সমস্যা সমাধান করার সক্ষমতা, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, ভালো টিম ওয়ার্ক, চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে সমস্যা সমাধানের ঝোঁক এবং সর্বোপরি আত্মবিশ্বাস ও ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা।”

এখন থেকে এই সম্মাননা ও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ সময় সবাইকে একযোগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ আহবান জানান।

প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করে আধুনিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন “গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় কোম্পানীগুলো ভালো প্রোগ্রামিং জানা তরুণ-তরুণীদের এবং যারা এসব প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ভালো করে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রোগ্রামিং জানা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। ভালো ক্যারিয়ার সৃষ্টিতে আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। কারণ আমরা বিশ্বস করি, দেশকে পরিবর্তনের ধারায় এগিয়ে নেবে তরুণরাই। আর তারুণ্যদীপ্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রোগ্রামিং অনন্য ভূমিকা রাখবে।”

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং আয়োজনের নাম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট বা আইসিপিসি। আইসিপিসি’র মূল আয়োজক হচ্ছে অ্যাসোসিয়েশন অব কম্পিউটার মেশিনারিজ বা এসিএম। এজন্য এই আয়োজনকে একসাথে এসিএম-আইসিপিসি বলে।

আইসিপিসি মূলত দুইটি ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রথম ধাপ আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা বা রিজিওনাল কনটেস্ট এবং দ্বিতীয় ধাপ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বা ওয়ার্ল্ড ফাইনালস । বর্তমানে অনেক জায়গায় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আগে অনলাইনে একটি বাচাই প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বা একাধিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে। আরো উল্লেখ্য যে, আইসিপিসিতে অংশ নিতে হলে কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী হতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই। প্রোগ্রামিং জানা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থী হলেই এতে অংশ নেয়া যায়।

সেক্ষেত্রে তিন জন মিলে একটি দল করেই অংশ নিতে হয়। মূল প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলকে দেয়া হয়া হয় একটি কম্পিউটার, এক সেট প্রোগ্রামিং সমস্যা ( ৯টি থেকে ১২ টি) এবং সে সমস্যাগুলো সমাধানে ৫ ঘণ্টা সময়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে দল সবচেয়ে বেশি সমস্যা সমাধান করতে পারে তারাই বিজয়ী হয়। সমান সংখ্যাক সমস্যার সমাধান করলে যারা কম সময়ে সমাধান করেছেন এবং যাদের পেনাল্টি কম (সমাধান ভুল হলে ২০ মিনিট পেনাল্টি) তারা র্যাঙ্ক লিস্টে উপরে থাকে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একবারই সেরা ২০ দলের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছিল, তা ১৯৯৯ সালে। সেবার বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে সেরা ২০ দলের মধ্যে ১১তম স্থান নিশ্চিত করেছিল।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + 15 =