অনুষ্ঠিত হলো চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড

0
225
হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য শ্রেণীকক্ষের শিক্ষার বাইরে নিয়মিত বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করা প্রয়োজন। দেশের বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংস্পর্শ পেলে একদিকে শিক্ষার্থিদের সামনে নতুন জড়তের দ্বার খুলে এবং অন্যদিকে তারা বিজ্ঞানী-শিক্ষকদের সংস্পর্শে আসতে পারে। এই অভিমত উঠে এসেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং ঢাকা জেলার চয়টি বিদ্যালয়ে আয়োজিত চিলড্রেন সাইন্স ওয়ার্ল্ড শীর্ষক বিজ্ঞান বক্তৃতায় এ অভিমত জানা যায়।
হলো চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠিত হলো চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড

চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড হচ্ছে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানের বিভিন্ন মজার বিষয় এবং বিখ্যাত সব বিজ্ঞানীর জীবন এবং কাজ নিয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান বক্তৃতা। জাপানভিত্তিক বিজ্ঞানসংস্থা এনপিও সায়েন্স ফোরাম ২১ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি যৌথভাবে এই আয়োজনটি করেছে। আর এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জাপানের পাই নেট ও কাকেগাওয়া ইংলিশ কনভারসেশন সার্কেল।

চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের প্রথম দুটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে এবং নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমেকেল কৌশল বিভাগের শিক্ষক খন্দকার সমাহার সালেম “দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন” বিষয়ে বক্তব্য দেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন কীভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, সেটি এই বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

টুথপেস্ট থেকে শুরু করে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে চলেছে। প্রসাধন সামগ্রী কিংবা সাবানের মতো নিত্য ব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন এবং ব্যবহারের প্রতিটি পর্যায়েই আছে রসায়ন। এছাড়া দেখানো হয় রসায়ন না থাকলে আমাদের জীবন আসলে কী রকম হতো সেটি নিয়ে মজার ভিডিও ক্লিপ। বক্তৃতা শেষে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্বে সেরা প্রশ্নকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।

দ্বিতীয় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরের টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজে। অনুষ্ঠানে বুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের শিক্ষক সৌমিত্র রায় জয় “ফাইবার অপটিক্স : কানেক্টিক দ্যা ওয়ার্ল্ড উইথ লাইট” বিষয়ে কথা বলেন। আড়াইশোর বেশি শিক্ষার্থীকে অপটিক্যাল ফাইবার কীভাবে কাজ করে, কীভাবে আলোকে ব্যাবহার করে আমরা দেখার পাশাপাশি শুনতেও পাই, অপটিক্যাল ফাইবারের বিভিন্ন ব্যবহারসহ এটির বিভিন্ন মজার দিক দেখানো হয় । এছাড়া এসপিএসবির একাডেমির সদস্যরা আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন এবং অপটিক্যাল ফাইবার কীভাবে কাজ করে তা হাতেকলমে দেখানো হয়।

তৃতীয় আয়োজনের ভেন্যু ঢাকার কিশোরী লাল জুবিলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে তাপায়ন তত্ত্বের জনক এবং ওই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মেঘনাদ সাহার জীবন এবং কাজ নিয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ পর্বে বক্তব্য রাখেন মুনির হাসান। প্রায় সাড়ে তিনশো শিক্ষার্থী বক্তৃতাটি উপভোগ করেন।

নক্ষত্রের বর্ণালি ব্যাখ্যা করার সমীকরণের আবিষ্কারক হলেন মেঘনাদ সাহা, যে সমীকরণটি সারা পৃথিবীতে “সাহা সমীকরণ” নামে পরিচিত। মেঘনাদ সাহাকে বলা হয় জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের জনক। মেঘনাদ সাহার জন্ম ঢাকার কাছে শেওড়াতলী গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে হলেও নিজের মেধা, অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং গবেষণার প্রতি তুমুল আগ্রহ তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

১৯১৯ সালে তিনি নিজে নিজে যেসব গবেষণা করেছেন, সেটার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩৫ ও ৩৬ সালে, পরপর দুবছর মেঘনাদ সাহার নাম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হয়, যদিও তিনি পুরস্কার পাননি।

মুনির হাসান বলেন, মেঘনাদ সাহার নামে ভারতে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রতিষ্ঠানই নেই। কে এল জুবিলী স্কুলে তাঁর নামে অবশ্য একটি বিজ্ঞানাগার আছে। আমাদের উচিৎ তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর কাজকে সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়া।

ঢাকার বিসিএসআইআর হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পঞ্চম পর্ব। এই পর্বে তিন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন বসু, জগদীশ চন্দ্র বসু আর অমর বসুকে উপস্থাপন করেন মুনির হাসান। সত্যেন বসুর নামে মহাবিশ্বের অর্ধেক কণার নাম দেয়া হয়েছে বোসন। কাজেই যখন হিগস বোসন কণাটির সম্ভাব্য আবিষ্কার নিয়ে হইচই হয়, তখন পিটার হিগসের নামের সঙ্গে উচ্চারিত হয় আমাদের সত্যেন বসুর নামও! বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিকস, বোস গ্যাস, বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট নামে তাঁর নামে আছে বেশ কিছু যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক ধারণা। তিনি তাঁর জীবনের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন আমাদেরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই।

মুনির হাসান বলেন, এই তিন বাঙালি বিজ্ঞানীর উত্তরাধিকার হচ্ছে আজকের ছেলেমেয়েরা। তাদের উচিৎ, এই বিজ্ঞানীদের পথ অনুসরণ করে নিজেদেরকে গবেষণায় নিয়োগ করা, নতুন কিছু নিয়ে ভাবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং দেশের জন্য কাজ করা।

একইদিনে চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড এর ষষ্ঠ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার লেক সার্কাস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই পর্বে “প্রকৃতি অনুপ্রাণিত মাইক্রো ইঞ্জিনিয়ারিং” নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মো. নুরুজ্জামান খান।

তিনি বিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণাগুলা কীভাবে আমাদের চারপাশের প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত সেই সব উদাহরণ তুলে ধরেন। আধুনিক গবেষণায় যে স্মার্ট ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার বাড়ছে সেটিও তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মন্তব্য দিন আপনার