ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোন কোন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া যেতে পারে

0
333

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোন কোন ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া যেতে পারেসময় পরিবর্তিত হচ্ছে। আর একই সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের পেশাকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা। অনেক তরুণরাই এখন ধাবিত হচ্ছে বিভিন্ন গ্ল্যামারাস পেশার দিকে। আর এ ধরনের পেশার তালিকায় বর্তমানে যে ক্ষেত্রটি সবার আগে উঠে আসছে তা হলো গণমাধ্যম বা মিডিয়া।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্যারিয়ারে খ্যাতি, সুনাম, সুপরিচিতির পাশাপাশি রয়েছে উজ্জ্বল জীবনের হাতছানি। আর এর ক্ষেত্র এখন শুধু টেলিভিশন চ্যানেলেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে এফএম রেডিও, অনলাইনভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন পত্রিকায়ও। তাই বিশ্বব্যাপী তো বটেই, বাংলাদেশেই রয়েছে এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার বিশাল ক্ষেত্র।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

টেলিভিশন চ্যানেলঃ

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বড় ক্ষেত্র হলো টেলিভিশন চ্যানেল। ক্যারিয়ারের বড় ক্ষেত্রও এটি। দেখা ও শোনার কাজটি একই সময়ে ঘটে এখানে। ভিজুয়াল মিডিয়ার দরুন চ্যানেলে কাজ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বেশ কিছু বিভাগে কাজ করা যায়। যেমনঃ নিউজ বিভাগ, প্রোগ্রাম বিভাগ, এডিটিং বিভাগ, ব্রডকাস্টিং বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, অ্যাডমিন বিভাগ ইত্যাদি।

নিউজ বা বার্তা বিভাগ-

নিউজ বা সংবাদসংশ্লিষ্ট সব কাজ এই বিভাগের মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রতিনিয়ত যা ঘটছে সেসব ঘটনা সংবাদের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলে এ বিভাগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ। যেমনঃ

প্রধান বার্তা সম্পাদক (চিফ নিউজ এডিটর)

সংবাদে উপস্থাপিত হবে এমন সব বিষয় নির্বাচন, উপস্থাপন কৌশল, মাঝে মধ্যে বার্তা সম্পাদকদের মধ্যে সমন্বয়সাধন, প্রতিবেদকদের প্রতিবেদন নির্বাচন, সম্পাদকীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয় দেখে থাকেন প্রধান বার্তা সম্পাদক।
সাংবাদিকতায় বা যেকোনো ক্ষেত্র থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার আলোকে চিফ নিউজ এডিটর হতে পারেন।

বার্তা সম্পাদক (নিউজ এডিটর)

বার্তা বিভাগের প্রধান হলেন বার্তা সম্পাদক। তিনি বার্তাকক্ষে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিবেদন তৈরির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক, ক্যামেরাম্যান ও অন্যদের সাথে সমন্বয় করে স্ক্রিপ্ট, সংবাদচিত্র অনুমোদন করেন। কোনো ঘটনা ঘটলে প্রতিবেদককে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া এবং সংবাদ সম্প্রচারের কাজটিও তিনি করে থাকেন।

প্রার্থীর সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে ভালো। তবে অন্যান্য বিষয় থেকেও আসা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর অবশ্যই বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। কয়েক বছরের রিপোর্টিংয়ের যোগ্যতা প্রয়োজন।

সংবাদ প্রযোজক (নিউজ প্রডিউসার)

সংবাদ প্রযোজক পর্দার বাইরে থেকে সংবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়ের যোগান দেন। ছবি, গ্রাফিক্স, তথ্য- এগুলোর সমন্বয় করে থাকেন তিনি। প্রয়োজনে সংবাদ স্ক্রিপ্ট, সংবাদের সূচনা তাকেই লিখতে হয়। সংবাদ প্রযোজকরা সংবাদটিকে গ্রাহকের সামনে উপস্থাপনের সব বিষয় ঠিক করে দেন।

সংবাদ প্রযোজক হতে হলে টেলিভিশনের বিভিন্ন দিক জানা ছাড়াও সংবাদ এবং এডিটেও দক্ষ হতে হয়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞরা কাজ করতে পারেন। সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে ভালো।

প্রতিবেদক (রিপোর্টার)

প্রতিবেদক বা রিপোর্টারই চ্যানেলের প্রাণ। তিনি ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেন। তথ্য সংগ্রহ, যোগাযোগ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অনেক সময় নিজের কণ্ঠে সংবাদ উপস্থাপন করতে হয়। সে কারণে তাৎক্ষণিক সাবলীল উপস্থাপনার কৌশল ও কথায় শুদ্ধতা আবশ্যক।

রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতে সুন্দর উপস্থাপনের পাশাপাশি ইংরেজি ও ইন্টারনেটে দক্ষ হতে হয়।

নিউজরুম এডিটর

বিদেশী খবরের জন্য বিভিন্ন ফিড সার্ভিস থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা এবং সে আলোকে প্রতিবেদন তৈরি করা নিউজরুম এডিটরের কাজ। দেশের বাইরে কোনো প্রতিবেদক থাকলে তার পাঠানো ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরি এবং তার সাথে যোগাযোগের কাজটিও নিউজরুম এডিটর করেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নাতক ডিগ্রিধারীরা কাজ করতে পারেন।

নিউজ প্রেজেন্টার বা সংবাদ উপস্থাপক

দর্শকের সামনে সংবাদ পরিবেশন করেন নিউজ প্রেজেন্টার। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট উপস্থাপন, রিপোর্ট উপস্থাপনের আগে সে সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেয়া এবং অনেক সময় সরাসরি প্রতিবেদকের সাথে কথা বলা তার কাজ। সুন্দর উপস্থাপন কৌশল, স্পষ্ট কণ্ঠস্বর এবং আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি থাকলে সংবাদ উপস্থাপন করা যায়। যেকোনো পেশায় থেকেও সংবাদ উপস্থাপক হওয়া যায়।

অনুষ্ঠান বিভাগ-

অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রাম বিভাগ নিউজের বাইরে অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। এ বিভাগে দুই ধরনের কর্মী কাজ করে থাকেন-সৃজনশীল কর্মী ও কারিগরি কর্মী। সৃজনশীল কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন প্রযোজক, সহকারী প্রযোজক, স্ক্রিপ্ট লেখক।

প্রযোজক

টিভি ও চলচ্চিত্রে প্রযোজকদের অনেক ধরন আছে। যেমন- এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রডিউসার, স্টাফ প্রডিউসার, লাইন প্রডিউসার এবং প্রডিউসার হাইপেনেটস নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান সমন্বয়কারীই হলেন প্রযোজক। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, শুটিং ও সম্পাদনা করে প্রচারের উপযোগী করেন তিনি। তার অধীনে সবার কাজের তদারকি ও প্রয়োজনীয় সম্পাদনা তিনি করে থাকেন।

স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এ বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে কাজ করা যায়। সৃজনশীলরাই এখানে ভালো করেন।

সহকারী প্রযোজক

অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রযোজকের কাজে সাহায্য করেন সহকারী প্রযোজক। অনুষ্ঠান পরিচালনায় দরকারি সব জিনিস এলো কি না, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কি না- এগুলো তদারকি করেন সহকারী প্রযোজক। প্রডিউসারের নির্দেশনা অনুষ্ঠান প্রচারকার্যক্রমে অগ্রগতির তদারকিও তিনি করে থাকেন।

প্রার্থীকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং সৃজনশীল হতে হয়।

স্ক্রিপ্ট রাইটার

স্ক্রিপ্ট রাইটার টিমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। চ্যানেলের অনুষ্ঠানগুলোর পাণ্ডুলিপি রচনা তার প্রধান দায়িত্ব। ভাষার ওপর চমৎকার দখল থাকতে হবে। স্ক্রিপ্ট রাইটার হন ক্রিয়েটিভ। তিনি প্রযোজনা প্রজেক্টের স্ক্রিপ্ট লিখেন। সেটাকে আমরা বলি ট্রিটমেন্ট।

স্ক্রিপ্ট রাইটারের গুণাবলিসম্পন্ন যে কেউ হতে পারেন।

কারিগরি কর্মী

অনুষ্ঠান পরিচালনায় কারিগরি কর্মী আবশ্যক। এরা হলেন- ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি, রাইটিং ডিরেক্টর, ক্যামেরা অপারেটর, আর্ট ডিরেক্টর বা সিনিক ডিজাইনার, টেকনিক্যাল ডিরেকটর, এডিটর, অডিও ইঞ্জিনিয়ার, ভিডিও ইঞ্জিনিয়ার বা ল্যাবরেটরি কালার টাইমার। এ ক্ষেত্রে জনশক্তি আরো কম বা বেশি হতে পারে। এটা নির্ভর করে অনুষ্ঠানটি কতটা বড় বা ছোট, এর বাজেট ইত্যাদির ওপর।

ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি

তিনি মূলত আলোক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকেন। এ ছাড়া ক্যামেরার সৃজনশীল ব্যবহারের দায়িত্বও পালন করেন। আলোর নান্দনিক ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ক্যামেরাম্যান, সহকারী ক্যামেরাম্যান ও ক্যামেরা অপারেটরদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।

ক্যামেরা অপারেটর

ক্যামেরা অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করে ভিডিও ক্যামেরার কার্যক্রমকে। শুটিংয়ের সময় তাৎক্ষণিকভাবে ক্যামেরার অবস্থান পরিবর্তন, ফোকাস, ডেপথ অব ফিল্ড ইত্যাদি দেখেন।

ভিডিও এডিটর

টিভির পর্দার প্রতিক্ষণের নাচ, গান, নাটক, সিনেমা, মিউজিক ভিডিও নিউজ ইত্যাদি সুন্দরভাবে সম্পাদনা করে তাকে দৃষ্টিনন্দন ও দর্শনযোগ্য করাই ভিডিও এডিটরদের কাজ। এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞ সৃজনশীল ব্যক্তি কাজ করতে পারেন।

ফটোগ্রাফি, ফ্রেম, কালার ইত্যাদি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

মার্কেটিং বিভাগ-

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এডিটর, রিপোর্টার, ফটোগ্রাফার, প্রডিউসার ইত্যাদির বাইরেও মার্কেটিং বিভাগে কাজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। মার্কেটিং বিভাগ বলা চলে অনেকটাই বিজ্ঞাপননির্ভর। বিজ্ঞাপনদাতা ও বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ। সেগুলো হিসাব-নিকাশ মার্কেটিং বিভাগকেই রাখতে হয়।

এ বিভাগে কাজ করতে বিবিএ এমবিএধারীদের প্রাধান্য দেয়া হয়।

ক্যারিয়ার সম্ভাবনাঃ

আমাদের দেশে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাই আগ্রহ, যোগ্যতা আর সৃজনশীলতা থাকলে সহজেই এক্ষেত্রে স্থান করে নেয়া সম্ভব। সাংবাদিকতা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা না করেও যে-কেউ ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি তথা ডিজিটালাইজেশনে যত আপডেট থাকা যায়, এখানে সফলতার পাল্লা তত ভারী।

পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ:

সাংবাদিকতায় পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে অনেক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসেও পড়া যায়। প্রশিক্ষণ দেয় এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হলো- প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি), সেন্টার ফর মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এমআরটি), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম), বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বিশ্ব কলাকেন্দ্র, কিংবদন্তি মিডিয়া হাউজ, সেন্টার ফর অ্যাডভান্স মিডিয়া (ক্যাম), ঢাকা ফটোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন, চঞ্চল মাহমুদ স্কুল অব ফটোগ্রাফি ইত্যাদি।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − three =