নিজে নিজেই হয়ে উঠুন একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার (টিউটোরিয়াল)

1
462

নিজে নিজেই হয়ে উঠুন একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার (টিউটোরিয়াল)

এখন আমাদের দেশে তরুনদের মাঝে ফটোগ্রাফিটা পেশা এবং নেশা হিসেবে কতটা জনপ্রিয় তা আর বর্ণনা না করলেও চলবে। তাই সরাসরি কাজের কথায় চলে যাচ্ছি। আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য কিভাবে আরো একটু ভাল ফটোগ্রাফার হওয়া যায়? কিভাবে আরেকটু ভাল ছবি তোলা যায়। চিন্তা ভাবনা করে কিছু স্টেপ্স বের করলাম যেগুলো আসলেই অনেক কার্যকর ফটোগ্রাফিতে আরেকটু ঝানু হবার জন্য। খুব সহজ কিছু টিপস কিন্তু মনে থাকেনা সবসময় আবার অনেকেই হয়তো জানিনা। আবার এমনও হতে পারে দামী দামী সব ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছি ঠিকই কিন্তু এসব ব্যাপারে কোন আইডিয়া নেই। এধরনের ১০টি টিপস নিয়ে আমাদের ডিজিটাল ক্রিয়েটিভ সেকশনের আজকের পোস্ট।

১। একটি ভাল ক্যামেরাঃ

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

ফটোগ্রাফির মুল উপকরন একটি ভাল ক্যামেরা। আর সাধারনত প্রথমবার ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কনফিউশন থাকে আর অনেকেই ভুল করে এমন কোন ক্যামেরা কিনে ফেলি যেগুলো হয়তো আমাদের কোন কাজেই আসে না। তাই সঠিক ক্যামেরাটা বাছাই করা খুব প্রয়োজন। আর এজন্য দরকার হলে কারো সাহায্য নেয়াতেও পিছপা উচিৎ হবে না। তাদেরই সাহায্য যারা ইতিমধ্যে ক্যামেরা কেনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আর অনলাইনে আছে নানা রকম রিভিউ। বাজেটের মধ্যে কোন ক্যামেরা কেন ভাল, কোনটা দিয়ে কি করা যায়, কোন লেন্সটা ভাল এসব যাচাই বাছাই করেই ক্যামেরা কেনা উচিৎ। এমনও করতে পারেন, যদি কোন বন্ধুর কাছ থেকে বা কারো কাছ থেকে ক্যামেরা ধার করতে পারেন কয়েকদিনের জন্য, তাহলে, নিজে ক্যামেরা কেনার আগে ধার করা ক্যামেরাটা ব্যবহার করে দেখুন। তাহলে কিছু আইডিয়া আপনার মাথায় চলে আসবে। সব ক্যামেরাই ভাল না আর সব মডেলের ক্যামেরাই সব ফিচার থাকে না। ক্যামেরা কেনার আগে ক্যামেরা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাটা খুব জরুরী।

২। বেসিক ফটোগ্রাফিঃ

ফটোগ্রাফির কিছু বেসিক আছে এবং ফটোগ্রাফি প্র্যাকটিস শুরু করার আগে এসব বেসিক ব্যাপারগুলো আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। যেমন কম্পোজিশন, লাইটিং, ফোকাসিং, সাবজেক্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড, ডেপথ অব ফিল্ড, ফ্রেমিং – ইত্যাদি ব্যাপারগুলো নিজেই নিজেই আয়ত্ত করে নিতে পারেন। অনলাইনে নানা ওয়েবসাইটে আছে হাজারো টিপস। আর আমাদের এই টেক সাইটেও আছে অনেক ধরনের ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়ালস। এগুলোরও সাহায্য নিতে পারেন। শেখার আগে প্র্যাকটিসে না গিয়ে এসব বেসিক ব্যাপারগুলো জেনে নিয়ে এরপর শুরু করলেই ভাল।

৩। প্রস্তুত থাকুন সবসময়ঃ

ভাল ছবি তোলার সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ন অংশ হলো সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা আর তার চাইতে বড় ব্যাপার হলো সে জায়গায় হাতে ক্যামেরা নিয়ে রেডি থাকা। নিজের ক্যামারাটি সবসময় বহন করার চেষ্টা করুন আর ব্যবহার করুন। নানা রকম শট নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন। শুধু বহন করলেই হবে না।

৪। ছবির জন্য “সাবজেক্ট” খোজা বাদ দিন আর দেখতে শিখুনঃ

চোখ মেলে দেখতে শিখুন। ছবি তোলার জন্য সাবজেক্ট খুজলে আপনি সেই সাবজেক্ট খুজে পাবেন না। চারিদিকে চোখ মেলে ভাল ভাবে অবজার্ভ করতে শিখুন। কোথাও ছবি তুলতে গেলে সেই জায়গাটা ভালভাবে কয়েকবার হেটে দেখুন। চারিদিকে নজর দিন। দেখার চেস্টা করুন জায়গাটির কোন বৈশিষ্ট্য আছে কিনা। এবং কিছু না কিছু পেয়ে যাবেন। কালারগুলোকে খুজে বের করার চেষ্টা করুন। আকাশকে দেখার চেষ্টা করুন নানা এঙ্গেল থেকে। রিপিটিশন এবং রিদম খোজার চেষ্টা করুন। ভালভাবে দেখুন সেই জায়গায় কোন ব্যাপারটা আশে পাশের ব্যাপারগুলো থেকে সম্পুর্ন আলাদা। আলোর খেলাটা দেখার চেষ্টা করুন। ছায়া কিভাবে কিসের উপরে এসে পড়েছে দেখার চেষ্টা করুন। ইমোশন খোজার চেষ্টা করুন। লাইন এবং শেপ খুজে দেখুন। কোন ধরনের Texture খুজে পান কিনা দেখুন। সাদাকালো ছবির জন্য কোন শেপ বা কোন বৈশিষ্ট্য খোজার চেষ্টা করুন।

অনেকগুলো ব্যাপার থেকে কোন ব্যাপারটা সম্পুর্ন আলাদা সেটা দেখুন। সেই জায়গায় থাকার কথা না তাও আছে – এমন কোন কিছু খুজে পান কিনা দেখুন।

৫। Be Simple:

নিজের ছবিগুলোকে যতটা সম্ভব সিম্পল রাখার চেষ্টা করুন। সাবজেক্টের যত কাছে যাওয়া যায় যান। নিজের পা এবং যদি জুম লেন্স থেকে থাকে, তাহলে তার সঠিক ব্যবহার করুন। বার বার ভিউফাইন্ডারে দেখে নিজের কম্পোজিশন এবং ফ্রেমকে আরো ফাইন-টিউন করুন। আর ফ্রেম থেকে এমন সবকিছু বাদ দিন যা আপনার সাবজেক্টকে ফুটিয়ে তুলতে কোন দরকার হবে না।

৬। সেরাটি দেখানঃ

সারাদিনে হয়তো শত শত ছবি তুলতে পারেন কিন্তু সবাইকে দেখানোর সময় শুধু নিজের সেরা কাজটাই দেখান। ফেসবুকে ঘন ঘন ছবি আপলোড না করে চিন্তা ভাবনা করে ছবি শেয়ার করুন। আর ফটোগ্রাফি সাইটগুলো যেমন ফ্লিকার বা 500px এসব জায়গায় কোন ভাবে সব ধরনের ছবি শেয়ার করবেন না। দরকার হলে মাসে একটা করে ছবি শেয়ার করুন এবং সেরাটা করুন। এমন ছবি শেয়ার করুন যে ছবি আপনি অনেক চিন্তা ভাবনা করে একটা অর্থ ফুটিয়ে তোলার জন্য তুলেছেন। যা তুলেন তাই শেয়ার করলে একসময় আপনার ছবিগুলো সস্তা হয়ে যেতে পারে আর তার চাইতেও বড় কথা শত সাধারন ছবির মাঝে অসাধারন ছবিগুলো হারিয়ে যাবে, কেউ টেরই পাবে না। সুতারাং এই ব্যাপারটা মাথায় রাখুন যদি নিজের ছবি দিয়ে সবাইকে তাক লাগাতে চান।

৭। Criticism:

যদিও আমাদের দেশে ছবি শেয়ার করার পর ফেসবুকে বাবা না গ্রুপে Constructive Criticism এর বদলে Sarcasm খুব বেশী হয়। তবে ভাল সমালোচনাগুলো হজম করার চেষ্টা করুন কারন এগুলোই আপনাকে শেখাবে। অযথা তর্কে জড়িয়ে কোন লাভ নেই। কেউ বাজে কমেন্ট করলেও চুপ করে শুনে থাকুন আর নিজের কাজ নিজেই করে যান। আমি বিশ্বাস করি সবার ছবি কোন না কোন অংশে ভাল কারন যে ছবি তোলে সে কিছু না কিছু মাথায় রেখেই তোলে আর তার ভাবনাটা সবার মাঝে রিফ্লেক্ট করবে না এটাই সবাভাবিক। আমি এ কারনে কখনও কারো ছবিতে সমালোচনা বা কমেন্ট করিনা। তবে এটি আমার ব্যক্তিগত পয়েন্ট অব ভিউ। আপনাদেরটা অন্যরকমও হতে পারে।

৮। Inspiration:

নিজের ছবির একটি ধারা তৈরি করার চেষ্টা করুন। একটা প্যাটার্ন তৈরী করার চেষ্টা করুন। চিন্তা করে দেখুন কোন ধরনের ছবি আপনাকে ইন্সপায়ার করে। যেমন আমি আমার ছোট ভাই রিজভী ইমরানের কথা বলতে পারি। সে মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছে আর ফটোগ্রাফি করছে অনেক দিন ধরেই। আর সে যখন ছবি তোলে সে মানুষের হাসি খুজে বের করার চেস্টা করে বেশীরভাগ সময়ে। সবচেয়ে নেগেটিভ জায়গয়া থেকে সবচেয়ে পজিটিভ হাসিটি বের করে আনার চেষ্টা করে। আপনারা চাইলে তার ছবিগুলো তার নিজের ওয়েবপেজে গিয়েও ফেখতে পারেন। লিঙ্কটি হলো – http://www.rizveeimran.com/

৯। ছবির গল্পঃ

প্রতিটি ছবিকে একটি গল্প হিসেবে চিন্তা করুন আর ছবি দিয়ে নিজের গল্পটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। ছবিতে যেন থাকে একটি গল্প। হোক সেটা এক লাইনের বা হোক সে কোন প্রবন্ধ। কিন্তু ছবিটে এক্সপ্রেসিভ কিছু থাকতেই হবে। সাবজেক্ট লাইনে আপনার চিন্তার রিফ্লেকশন যেন থাকে। ফ্রেমিং এর ক্ষেত্রে গতানুওগতিক ধারা থেকেও বের হয়ে আসতে পারেন নতুন কোন গল্প ফুটিয়ে তোলার জন্য।

১০। Photography Community

যুক্ত থাকুন অন্যান্য ফটোগ্রাফারদের সাথে। নিয়মিত গ্রুপে পোস্ট করুন। অন্যান্য সমমনা ফটোগ্রাফারদের সাথে ফটো-ওয়াকে বের হোন। সময় নিয়ে তাদের কথা শুনুন। তাদের স্টাইলগুলো নীরবে দেখার চেষ্টা করুন। এরপর নিজেই একটা ট্রেন্ড বানানোর চেষ্টা করুন। কারন লক্ষ ছবির মাঝে আপনার ছবিটি আলাদা হবেই একভাবেই – সেখানে যদি থেকে থাকে আপনার নিজস্ব কোন স্টাইল বা ট্রেন্ড।

পোস্টটা একটু বড় হয়ে গেল। যারা ধৈর্য্য নিয়ে পড়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। আশা করি পোস্টটা একটু হলেও কাজে আসবে আপনাদের। আর পোস্টটি কেমন লেগেছে তা কমেন্টে লিখে জানালে বেশ ভাল লাগবে। আর যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাও কমেন্টে জানাতে পারেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করব জবাব দেয়ার জন্য। উল্লেখ্য এটা একটু মাথায় রাখবেন, আমি কোন ভাল ফটোগ্রাফার না – শখের ফটোগ্রাফার। আর হয়তো অনেকেই জানেন, সিনেমা বানানোই আমার মূল পেশা বা প্যাশন। সুতারাং আমার কথাগুলো সব ঠিক নাও হতে পারে তবে এগুলো আমার স্টাইল বা পদ্ধতি। 

ভাল থাকুন। হ্যাপি ক্লিকিং।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × four =