ক্যামেরা কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে অবশ্যই ক্যামেরা কেনার আগে পোস্টটি পড়ুন

0
375

কেনা ক্যামেরা কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে অবশ্যই ক্যামেরা কেনার আগে পোস্টটি পড়ুনছবি তুলতে সবাই পছন্দ করে। ছবির প্রতি ভালোবাসাও জন্মে যায় কখনও। আর এখন তো ফেসবুকের কল্যানে নিজের তোলা ছবিকে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ারও করা যায়। বন্ধুরা দেয় নানা রকমের কমেন্ট। যা দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। ভেবে বসি, মনে হয় হয়ে গেলাম ফটোগ্রাফার। হয়ত ছবিটি সাধারণ কোনো ক্যামেরা দিয়ে তোলা। কিন্তু তারপরও সাধারণ ক্যামেরায় হাত যদি পাকা হয় তবে তো ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে দূর্দান্ত সব ছবি তোলা সম্ভব।

শুরু করি ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি। কোন ক্যামেরাটা কিনবো? দামের দিকে তাকিয়েও ভুরু কুচকাতে হয়। তারপরও শখের দাম লাখ টাকা। সমস্যা তো নেই।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

যারা অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার তাদের মতে, কমপক্ষে তিন চার বছর সাধারণ ক্যামেরা দিয়েই ছবি তুলে হাত পাকাতে হয়। ফ্রেমিং বুঝতে হয়। এবং ডিএসএলআর ক্যামেরা আসলেই প্রয়োজন কিনা সেটা নিয়েও ভাবতে হয়। আবার অনেকেই বলেন, ছবি ভালো তুলতে পারলেই হলো। সেটার জন্য প্রফেশনাল ক্যামেরার কোনো প্রয়োজন নেই।

কত কিছু ভাবা উচিত এক ছবি তোলা নিয়ে। তারপরও নিজের পকেটের পয়সা খরচ করার আগে কয়েকটি বিষয় নজর দেওয়া জরুরী বলে মনে হয়। সেসব নিয়েই এ লেখা।

কেমন ছবি তুলতে চান?

ক্যামেরা কেনার আগে নিজেকে আবিষ্কার করুন। ঠিক কোন ধরনের ছবি আপনি তুলতে পছন্দ করেন। কিংবা আপনার হাতে কোন ধরনের ছবি ভালো ওঠে। ফ্রেমিং ঠিক মত করতে পারছেন কিনা। এমনও হতে পারে, আপনি বিয়ের ছবি ভালো তুলছেন। কিংবা ঘরোয়া কোনো আড্ডার ছবি বা যে কোনো উৎসবের ছবি তুলে ফেলার জন্য আপনার হাত পাকা। তখন মনে রাখবেন, ক্যামেরা কেনার পাশাপাশি হাতে একটা ভিডিও ক্যামেরাও রাখলে ভালো। কারণ, যে কোনো ইভেন্ট মানেই হলো সময়কে ধরে রাখা। যখন আপনি ভিডিও করবেন তখন পরে ছবি নিয়ে খেলা করতে বেশি আনন্দ পাবেন। কারণ, এডিটে বসে ছবির প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

তবে আলাদা করে ভিডিও ক্যামেরা না কিনলেও চলবে। ডিএসএলআর ক্যামেরাতে এমনিতেই ভিডিও অপশন থাকে। যদিও বেশি ভিডিও করলে ক্যামেরার সেন্সরের উপর চাপ পড়ে।

ক্যামেরা কেনার সময় মনে রাখবেন আপনার ভালো একটা ক্যামেরার ব্যাগ কিনে নেওয়াটা খুবই জরুরী। অবশ্যই সূর্যের আলো, কিংবা বৃষ্টির পানি যেন ভেতরে ঢুকে আপনার লেন্সের ক্ষতি না করতে পারে এমন ব্যাগ।

অনেকেই সাংবাদিকতা করার জন্য ক্যামেরা কিনেন। মনে রাখবেন, যদি ফটো জার্নালিস্ট হতে চান তবে আপনাকে মেধাবী হতে হবে। মুহূর্তেই ফ্রেমিং বুঝে ছবি তুলে আনতে হবে। হয়ত আপনার হাতে সময় আছে ১ মিনিট এ সময়ের মধ্যেই কাঙ্খিত ছবিটি তুলে আনতে হবে। এজন্য প্রচুর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তাই ফটো জার্নালিস্ট হতে চাইলে শুরুতেই দামি ক্যামেরা না নিয়ে সাধারণ ক্যামেরা দিয়ে চর্চা শুরু করে দিন।

শখে বা অর্থ আয়?

অনেকেই মনে করেন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হতে চাইলেই বুঝি ডিএসএলআর প্রয়োজন। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, প্রফেশনালদের অনেক সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অনেক প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার আছেন যারা ৩৫মিমি ফিল্ম ক্যামেরা দিয়েও ছবি তুলে অভ্যস্থ।

আপনি যদি নতুন ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তবে আগেভাগেই উত্তেজিত হয়ে দামি ক্যামেরা কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো। অন্তত একবছর চর্চা করা দরকার সাধারণ ক্যামেরা দিয়ে। পয়েন্ট, শুট, টাইম, ফ্রেমিং, লেন্স কনসেপ্ট, শাটারের কাজ, আইএসও এ বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নিন। চর্চার এক পর্যায়ে ভালো ক্যামেরার দিকে তাকানোই শ্রেয়।

ক্যামেরার যত্ন নিন:

মনে রাখবেন, ডিএসএলআর মোটেও কোনো খেলনা না। যত্ন করতে হবে মন থেকে। সবসময় ক্যামেরার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন খেয়াল করবেন ক্যামেরার সবকিছু ঠিক আছে কিনা। লেন্সগুলো পরিস্কার রাখতে হবে, সেন্সরে কোনোভাবেই ধুলোবালি ঢুকতে দেওয়া যাবে না। মোট কথা ধুলোবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।

যখনই ক্যামেরা কিনবেন তখনই ব্যাগ ও সেন্সর ক্লিনিং কিট কিনে ফেলবেন। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে শিখে নিবেন কিভাবে পরিস্কারের কাজটি করতে হয়।

দাম

দামটাই তো আসল। যখন সিদ্ধান্ত নিবেন ডিএসএলআর কিনবেন তখন গুগল করা ভালো। বাংলাদেশের বাজারগুলো ঘুরে দেখুন। একইসঙ্গে কি ধরনের ছবি তুলবেন সেটার জন্য কেমন লেন্স দরকার সেটা খোজ নিন। প্রয়োজনে পরামর্শও নিতে পারেন। তারপর একটা বাজেট প্ল্যাট করুন। শুরুতেই বলেছি, বাজেটে অবশ্যই ব্যাগ ও লেন্স, সেন্সর ক্লিনিং কিট রাখবেন।

যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ, বাজারে গেলে এবং ওয়েবসাইটগুলোতে নিত্য নতুন লেন্স কিনে কনফিউশনে পড়ার সম্ভবনা আছে। কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে আপাতত যা দরকার সেটার দিকে নজর দিন। শুরুতে, ওয়াইড লেন্স, প্রাইম লেন্স কেনা সুবিধাজনক। তারপর ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী কি লেন্স কিনতে হবে সেটা আপনিই বুঝে ফেলবেন।

সবশেষে বলতে চাই, ক্যামেরা কেনা মানেই হলো আপনি একটা হাতি কিনে ফেলেছেন। এবার সে হাতিকে পালার দায়িত্ব আপনার। তবে এও ঠিক বই পড়ে যেমন কেউ দেউলিয়া হয় না, ঠিক তেমনি শখের বসে ক্যামেরা কিনে আপনি দেউলিয়া হবেন না। বরং হাত যদি পেকে যায় এবং আপনার ছবি যদি কথা বলতে জানে তবে দিনে ১০-৫০ হাজার টাকাও উপার্জন করা সম্ভব। তবে এর জন্য অবশ্যই প্রয়োজন চর্চা। এ পথিবীতে চর্চা ছাড়া কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব না।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × two =