আপনি কি জানেন? আমরা সচরাচর যেসব ঘড়ি ব্যবহার করি সেগুলো নিখুঁত সময় দিতে পারে না

0
568

সাধারণত আমরা ধরে নেই ঘড়িতে দেখানো প্রত্যেকটি সেকেন্ডের সময়সীমা সমান অর্থাৎ একটি সেকেন্ডের সাথে এর পরবর্তী সেকেন্ডের সময়ের কোনও পার্থক্য নেই। আসলে কিন্তু আমরা সচরাচর যেসব ঘড়ি ব্যবহার করি সেগুলো নিখুঁত সময় দিতে পারে না। আমাদের চোখে এত সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো ধরা পড়ে না, কিন্তু আসলে এসব ঘড়িতে দেখা যায় একেকটি সেকেন্ডের সময়ে কিছুটা হলেও তারতম্য রয়েছে। একেবারেই নিখুঁত ঘড়ি অর্থাৎ যেটি চুলচেরা নিখুঁত সময় দেবে, সেটি তৈরি করার জন্য গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। সম্প্রতি আমেরিকার NIST এর একদল পদার্থবিদ তৈরি করেছেন একজোড়া অ্যাটমিক ক্লক। তাদের দাবি অনুযায়ী এগুলো এতটাই নিখুঁত যে এমনকি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বয়সের সমান সময় ধরে এরা সঠিকভাবে সময় দিতে সক্ষম।

আমরা সচরাচর যেসব ঘড়ি ব্যবহার করি সেগুলো নিখুঁত সময় দিতে পারে না আপনি কি জানেন? আমরা সচরাচর যেসব ঘড়ি ব্যবহার করি সেগুলো নিখুঁত সময় দিতে পারে না

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

নতুন এই ঘড়িগুলোর নাম হল “ইটারবিয়াম অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লকস” ।
বলা হয়েছে এগুলো স্থায়িত্বের দিক দিয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে যা পরিমাপ করা হয় এর প্রতিটি সেকেন্ডের সময়সীমার মিল থেকে। এক কুইন্টিলিওন (একের পেছনে ১৮ টা শুন্য) টি সেকেন্ডের মাঝে একটি সেকেন্ডে এর গড়বড় হতে পারে। এই পরিমাণটি ইতোপূর্বে তৈরি হওয়া ঘড়িগুলোর চাইতে ১০ গুণ বেশি নিখুঁত। “হাই পারফর্মেন্স টাইমকিপিং এর ক্ষেত্রে এই ঘড়িটি অনেক ভালো ভূমিকা রাখতে পারে”, বলেন NIST এর পদার্থবিদ অ্যান্ড্রু লুডলো।

গবেষকদের মতে, শুধু টাইমকিপিং নয়, বরং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে সময়ের তারতম্য হয় কি না এ ব্যাপারে আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এই ঘড়িটি। এছাড়াও, নেভিগেশন, কমিউনিকেশন এবং গ্লোবাল পসিশনিং এর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে এই ঘড়িটি।

ঘড়ি চলে দোলন বা অসিলেটর (oscillator) প্রক্রিয়া ব্যাবহার করে। এর উদাহরণস্বরূপ পেন্ডুলাম এর কথা উল্লেখ করা যায় যেটি নিয়মিত দিক পরিবর্তন করে। ইটারবিয়াম অ্যাটমিক ক্লকের কেন্দ্র হিসেবে ব্যাবহার করা হয় একটি ইটারবিয়াম পরমাণু। লেজার রশ্মি এসে এর ভেতরের একটি ইলেকট্রনকে উত্তেজিত (excited) করে এবং এই পরমাণুটির Excitation এবং Non-excitation হওয়ার দশা কাজ করে একটি পেন্ডুলামের মতই।

ইটারবিয়াম একটি নমনীয় এবং ঘাতসহ মৌলিক ধাতু যা দেখতে উজ্জ্বল রূপালি রঙের। এর রাসায়নিক প্রতীক হল Yb এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৭০ এবং এটা দিয়ে তৈরি করা সম্ভব শঙ্কর ধাতু, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং চৌম্বক পদার্থসমূহ।

অতীতে ব্রিটেনে সময় ঠিক রাখার জন্যে ব্যবহার করা হত সিজিয়াম ফাউন্টেইন ক্লক এবং একেই ধরা হত পৃথিবীর সবচাইতে সঠিক টাইমকিপার হিসেবে। গবেষণা থেকে জানা যায় ওই ঘড়িটি ১৩৮ মিলিওন বছরে এক সেকেন্ড গড়বড় হবে। কিন্তু ইটারবিয়াম অ্যাটমিক ক্লকের কার্যকরিতা তার থেকেও বেশি। প্রায় ১৩.৮ বিলিওন বছর আগে সংঘটিত বিগ ব্যাং এর সময় থেকে যদি এই ঘড়িটি চালু থাকতো তবে আজ নাগাদ এতে এক সেকেন্ডের বিচ্যুতি ঘটত মাত্র, বলেন ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি এর একজন পদার্থবিদ।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × three =