আপনার তথ্য নিয়ে গোপনে গবেষণা করেছে ফেসবুক

0
308

গোপনে ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে গবেষণা করার সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। আপনার তথ্য নিয়ে গোপনে গবেষণা করেছে তারা। এটি এমন এক গবেষণা, যাতে যেকোনো বিষয়েই ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনোভাব বদলে দিতে পারে।

৬ লাখ ৮৯ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে গোপনে এই গবেষণা চালিয়েছে ফেসবুক। মানুষের মেজাজ মর্জি কীভাবে ফেসবুক পোস্টের কারণে পরিবর্তিত হয়, তা নিয়ে এই গবেষণা। ফেসবুকের এই গোপন গবেষণা নিয়ে প্রযুক্তি-বিশ্বে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভোটের রাজনীতিতেও কাজে লাগানো হতে পারে ফেসবুকের গোপন গবেষণার ফল। বিষয়টি নিয়েই দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশ করেছে একটি প্রতিবেদন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

আপনি যদি ফেসবুক ব্যবহারকারী হন, তবে একা আছেন, নাকি কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, কোন স্কুলে প্রথম গেছেন, আপনি কি পছন্দ করেন, তার সবই জানে ফেসবুক। তবে বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটিকে এখন সমালোচনার ঝড় সইতে হচ্ছে। কারণ, ফেসবুক সম্প্রতি গোপনে এমন একটি গবেষণা চালিয়েছে যাতে কম্পিউটারের কয়েকটি স্ট্রোকেই আপনাকে খুশি করা বা দুঃখ দেওয়ার পদ্ধতিটি বের করে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আপনার তথ্য নিয়ে গোপনে গবেষণা করেছে ফেসবুক আপনার তথ্য নিয়ে গোপনে গবেষণা করেছে ফেসবুক

ফেসবুকের বিশাল এই গবেষণায় ৬ লাখ ৮৯ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর হোমপেজের তথ্য নিয়ে বিশাল পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে কোন পদ্ধতিতে মানুষের আবেগ কোন দিকে ধাবিত করা সম্ভব, সে তথ্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। এই গবেষণা করতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর নিউজ ফিড ফিল্টার করে তাতে মানুষের মন্তব্য, ভিডিও, ছবি ওয়েব লিংক শেয়ার করার বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বড় ধরনের আবেগসংক্রান্ত বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে কোনো বন্ধুর অনলাইনে প্রকাশ করা আবেগের বিষয়টি অন্যদের প্রভাবিত করতে দেখা যায়।

ফেসবুকের গোপন এই গবেষণা নিয়ে আইনজীবী, ইন্টারনেট-কর্মী, রাজনীতিবিদ অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন এবং সমালোচনা করছেন। আবেগ নিয়ে খেলা করা বা আবেগ নিয়ে প্রতারণার করার এই বিষয়টিকে অনেকেই কলঙ্কজনক, ভুতুড়ে ও বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন।

গত রোববার যুক্তরাজ্যের একজন জ্যেষ্ঠ সাংসদ ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো মানুষের আবেগ ও মানসিক সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো কীভাবে পরিবর্তন করে দেয়, সে বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় তদন্ত করার কথা বলেছেন।

যুক্তরাজ্যে এই বিষয়ে তদন্তের জন্য নির্বাচিত কমিটির সদস্য জিম শেরিডান বলেছেন, ‘যদি মানুষের চিন্তা-চেতনাকে এভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তবে তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন এবং অন্তত তাদের জানিয়ে এসব কাজ করা উচিত। এটি শক্তিশালী একটি বিষয়, আর এ-বিষয়ক কোনো আইন নেই। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় তারা বদল করে দিচ্ছে। আমি রাজনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা পাল্টে দেওয়ায় ফেসবুক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।’

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কী বলছে? গবেষণা প্রসঙ্গে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সেবা উন্নত করতে, প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট দেখাতে ও ব্যবহারকারীকে আরও বেশি ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এই গবেষণা করেছি।’

গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে। ফেসবুকের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, এই গবেষণার বড় একটি অংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের ক্ষেত্রে মানুষ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটা জানা। ব্যবহারকারীর বন্ধুর পোস্ট করা কোনো খবর বা অনুসরণ করা পাতায় কোনো খবরে নেতিবাচক নাকি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকে, সেটা জানার প্রয়োজনে এ গবেষণা।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়ার কথা বলে এ গবেষণার কারণ ব্যাখা দিলেও অনেকেই তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ফেসবুকের এই প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে কোনো বিশেষ দলকে জয়ী হতে সাহায্য করতে পারে কিংবা ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের ধরে রেখে তাদের কাছে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখতে ব্যবহূত হতে পারে।

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve − four =