“কক্সবাজারে ভয়াল গুপ্তখাল- নিজে বাঁচুন অন্যকে সতর্ক করুন”

16
451
"কক্সবাজারে ভয়াল গুপ্তখাল- নিজে বাঁচুন অন্যকে সতর্ক করুন"

অস্পৃশ্য বন্ধু

বর্তমান যুগ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির যুগ...
আমি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি প্রেমী একজন অতি সাধারণ মানুষ...
ইন্টারনেট, কম্পিউটার এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে আবার প্রবল আগ্রহ...
আমার এই ইচ্ছাই আমার শক্তি...
তাই চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে টিজনার পেজে থাকতে...
আপনাদের একান্ত সহযোগিতা আমার কাম্য...

ধন্যবাদ
"কক্সবাজারে ভয়াল গুপ্তখাল- নিজে বাঁচুন অন্যকে সতর্ক করুন"

“আসসালামু আলাইকুম”

আমার চতুর্থ পোস্টে সবাইকে স্বাগতম। আমার এই পোস্টটি একটি সচেতনতামূলক পোস্ট। নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

সবার প্রতি অনুরোধ- লেখাটি সবার সাথে শেয়ার করুন। কক্সবাজার ভ্রমণে নিজে সতর্ক হোন এবং অন্যকে সতর্ক করুন।

জন্ম হলে মৃত্যু হবেই। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যু বোধকরি কারোই কাম্য নয়। এবার কক্সবাজার গিয়ে গুপ্তখালের কবলে পরে মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখলাম। সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লেখবার চেষ্টা করছি যা সকলের জানা উচিত।

কক্সবাজারে এই নিয়ে চতুর্থবার ভ্রমণ হলো। সম্প্রতি বিয়ের পরে এপ্রিল মাসে একবার গিয়েছিলাম। গত মাসে সস্ত্রীক কাছের দুই বন্ধু জয় এবং সাজ্জাদ সহ বান্দরবনে গেলাম। সেখানে একদিন থাকার পরে নীলগিরী যাবার প্ল্যান ছিল। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ প্রধান সেই দিনই সেখানে যাওয়ায় নীলগিরী যাবার সব পথ ছিল বন্ধ। তাই তড়িত সিদ্ধান্তে কক্সবাজার চলে এলাম। সেই দিন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আর পানিতে নামা হলো না। পরের দিন আবার বান্দরবনে যাব বলে সকাল ৬ টার দিকে ২ নাম্বার সুগন্ধা পয়েন্টে নামলাম। মোট ৪ জনের গ্রুপ যার মাঝে আমি একাই কেবল সাঁতার জানি না। সবকিছু ভালই চলছিল। প্রায় ১ ঘন্টা পানিতে দাপাদাপির পর এল সেই বিশেষ মুহুর্ত। বন্ধু জয় হঠাৎ আবিষ্কার করল একটু আগে যেখানে কোমর পানি ছিল তার ঠিক ডান দিকে যেতেই পুরো মাথা তলিয়ে যাচ্ছে। ভোলায় বড় হওয়া জয় বিষয়টি বুঝতে পারে নাই সাঁতরে সে জায়গাটি পার হয়ে যায় সাথে তার পিছু পিছু আরেক বন্ধু সাজ্জাদ-ও পার হয়ে যায়। আমিও ওদের কাছেই ছিলাম। একটু পর আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনতে পারলাম যে- “আদনান আমাকে ধর আমি দাড়াতে পারছি না।“ আমি ভাবলাম কোমর পানিতে কি আর হবে নিশ্চয়ই ব্যালেন্স করতে পারছে না। ওর কাছে এসে টেনে তুলে এক পা সামনে আগাতেই অবাক হয়ে খেয়াল করলাম ক্রমশ আমার পায়ের নিচে থেকে বালু সরেই যাচ্ছে। ২-৩ সেকেন্ডের মধ্যেই যেখানে আমার হাটু বরাবর পানির লেভেল ছিল তা আমার মাথার উপরে উঠে গেল। অন্যদিকে আমার স্ত্রীর পরণে ছিল ফতুয়া, পায়জামা আর ওড়না। সে সাতার জানে কিন্তু সেই মুহুর্তে তার পায়জামা আর ওড়না শরীরের সাথে জড়িয়ে গেল। অন্যদিকে আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি সেখানে পানির লেভেল আরো প্রায় ৬-১০ ইঞ্চি উপরে চলে যাওয়ায় আমি কোনমতেই শ্বাস নিতে পারছিলাম না। বেশ কয়েকবার পানিতে ডুবছিলাম আর ভাসছিলাম কারণ আমি বিন্দুমাত্র সাঁতার জানি না। আমার বন্ধুদ্বয় সেই জায়গাটা পার হবার সাথে সাথেই বুঝতে পেরেছিল আমরা এদিকে আসলে বিপদে পরতে পারি তাই জায়গাটা সাঁতরে পার হয়ে আমাদের সতর্ক করার জন্য মুখ ঘুরিয়েই দেখে আমি পানিতে ডুবছি আর ভাসছি। এরই মধ্যে প্রথমবার ডুব খাবার সাথে সাথেই জীবনের ভয়ংকরতম ভয় পেলাম। আমার মনে হচ্ছিল মৃত্যু অবধারিত। সাথে সাথে আবিদের মৃত্যুর কথা মনে পড়ায় আরো বেশী প্যানিক হয়ে গেলাম। আমি এই পানি খাওয়া আর বার বার ডুবে যাওয়ার মধ্যেই প্রায় ৩-৪ বার আমার বন্ধুর নাম ধরে জোরে জোরে ডাকলাম আর তীরের দিকে হাত উঠিয়ে সাহায্যের আশায় হাত নাড়ছিলাম। সেই সময় মনে হচ্ছিল আমার চিৎকার বুঝি কেউ শুনছে না, আর এতো সকালবেলাকেউ হয়তো আমাদের খেয়াল-ও করছে না। আর আমার স্ত্রী কাপড়ে জট লাগিয়ে সাঁতার পারা সত্বেও ক্রমাগত পানি খাচ্ছিল। আমাদের এই অবস্থা দেখে ভাল সাতার পারা বন্ধু জয় দ্রুত আমার স্ত্রীর কাছে আসতে থাকে, আর আরেক বন্ধু সাজ্জাদ তীরের লাইফ গার্ডদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত আমাদের উদ্ধার করতে অনুরোধ করতে থাকে। আমাদের বেহাল অবস্থা বুঝতে পেরে একজন ফটোগ্রাফার দ্রুত তীরে তার ক্যামেরা রেখে পানিতে ঝাঁপিয়ে পরে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে। কর্তব্যরত লাইফ গার্ডদের একজন সার্ফিং বোর্ড নিয়েও দ্রুত নেমে যায় আর একটি কিশোর ছেলে আমাকে উদ্ধার করে। আল্লাহর রহমতে খুব দ্রুত পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পাওয়ায় ক্রমাগত পানি খাওয়া থেকে দুইজনই রক্ষা পাই।

উদ্ধার পাবার পর লাইফ গার্ডের প্রথম প্রশ্ন ছিল এইদিকে গেলেন কেন? জানেন না এদিকে গুপ্তখাল আছে? পেপার পত্রিকায় এতোদিন সাগরের নীরব ঘাতক এইসব গুপ্তখালের কবলে পরে পর্যটকের মৃত্যুর খবর জেনেছি সেই দিন নিজে এর শিকার হয়ে এর ভয়াবহতাটুকু মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করলাম। এ এমন এক অভিজ্ঞতা যা থেকে সবাইকে সতর্ক না করলেই নয়।

পত্রিকা আর সিগাল হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার মারফত জানলাম প্রচণ্ড প্রতিভামান কণ্ঠশিল্পি আবিদের মৃত্যুর পর এবার কক্সবাজারে পর্যটকের আসা কমে গিয়েছে। ঈদের আগে ও পরের ১০ দিনে যেখানে ১০ লাখের উপরে পর্যটকের আগমন ঘটে সেখানে এবার নাকি ঈদের ৩-৪ দিনে পঞ্চাশ হাজারের মতো পর্যটক এসেছেন। আবিদের মৃত্যুর পর ভেবেছিলাম কক্সবাজারের সার্বিক ভয়াবহতার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ প্রচুর ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু আমার ভাবনায় ভুল ছিল-এ যে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ যেখানে অনিয়মই নিয়ম, প্ল্যানিং এর বড়ই অভাব।

পর্যটকদের নিরাপত্তা দেবার জন্য সরকার ইয়াসির লাইফ গার্ড এবং ওয়াচ বে লাইফ গার্ড নামক দুটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এরা প্রতিবছর শত শত মানুষকে উদ্ধার করছে। কিন্তু টোটাল সিস্টেমে অনেক গলদ আছে যার কয়েকটা বলছিঃ

* ১- লক্ষ্য করুন আমরা পানিতে নামতে যাই সকাল ৬ টার দিকে। এর আগের দিন খবর নিয়ে জেনেছিলাম সকাল হলো জোয়ারের সময় যা সমুদ্রে গোছলের জন্য নিরাপদ। সৈকতে গিয়ে দেখি এক দুইটি মাত্র সবুজ আর কিছু লাল পতাকা। আগের দিন প্রচুর পতাকা ছিল যার কিছুই সকালে চোখে পরে নাই। সেই ঘটনার পরে জানতে পারলাম লাইফ গার্ডরা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় ধীরে ধীরে তারা পতাকা লাগাতে থাকেন। তাহলে ভোরে সূর্যদয় দেখতে যারা আসবেন তারা যদি সাগরে নামতে চান তবে তাদের জন্য পতাকা কই? আর ২৪ ঘন্টার জন্য লাইফ গার্ডের ব্যবস্থা করতে সমস্যা কোথায়?

* ২- গত এক বছরের মধ্যে কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট পর্যন্ত উত্তর দক্ষিণে ১০ টির মতো কয়েকশ ফুট লম্বা ৬ টি গুপ্তখাল আর আড়াআড়িভাবে কয়েকটি পুকুর আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্ত আর খালগুলোর অস্তিত্ব ভাঁটার সময়ে খুব সহজেই চোখে পরে কারণ পানির লেভেল সেই সময় অনেক নিচে থাকে। সরকার কি পারে না মাত্র কয়েক লাখ টাকা খরচ করে এই বিশেষ স্থানগুলোকে বাঁশ বা জাল বা অন্য কোন ভাবে পুরোপুরি ঘিরে দিতে? তা না করে তীরের সোজা তারা ২টি লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নত করার ব্যবস্থা রেখেছে যা মোটেও যৌক্তিক নয়। কারন গোসলের সময় ঢেউয়ের তোড়ে অনেকেই ক্রমশ ডানে/বামে চলে যেতে থাকে। আমরা যেমন সুগন্ধা বীচ বরাবর সেফ জায়গায় নেমেছিলাম কিন্তু ঢেউয়ের সাথে সাথে কখন যে অনেকখানি ডানে চলে গিয়েছিলাম খেয়াল ছিল না। পরে উদ্ধার হয়ে ফেরত আসার সময় বিষয়টা চোখে পরে। তাই স্থায়ীভাবে জায়গাগুলো চিহ্নিত না করা গেলে যে কারো বিপদে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

* ৩– সেই দিন বিপদ থেকে বাঁচার পর হোটেল সাইমনে নাস্তা করতে যাবার পর ফ্রন্ট ডেস্কে একটা লিফলেট দেখলাম যা কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সৈকতে কিভাবে নিরাপদে গোসল করা যায়, বিভিন্ন রঙের পতাকার অর্থ কি, বিপদে পরলে কি করতে হবে-এসব বিষয়ে চমৎকার কিছু পরামর্শ ছিল। লিফলেটটি হাতে পাবার সাথে সাথে আমাদের চারজনের উপলদ্ধি ছিল এটি আগে হাতে পেলাম না কেন? কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসেন। তারা সবাই কোন না কোন হোটেলে উঠেন। প্রতিটি হোটেল আর গেষ্ট হাউসে যদি সেই লিফলেটটি দেওয়া হয় আর প্রতিটি নতুন গেষ্টের হাতে ধরিয়ে দিয়ে একবার করে হলেও পড়বার অনুরোধ করা হয় তাহলে অনেকগুলো প্রাণ নিঃসন্দেহে রক্ষা পেত।

* ৪- সৈকতের জনপ্রিয় ৩টি পয়েন্ট হলো যথাক্রমে লাবনী, সুগন্ধা আর কলাতলী। এই পয়েন্টগুলোর প্রতিটি মোড়েই যদি মাইকিং করে আর লিফলেট বিতরণ করে পর্যটকদের সতর্ক করা যেত তবে অনেকেই পতাকার গুরুত্ব বুঝতে পেতেন। ফলে দুই লাল পতাকা বরাবর স্থানে পানির নিচে যে চোরাবালি/গুপ্তখাল আছে তা তারা জানতে পারতেন। আমাদের মতো অনেকেই দুই লাল পতাকার মানে জানেন না কারণ শুধুমাত্র প্রচারণার অভাব।

* ৫- হঠাৎ করে কেউ কক্সবাজার গেলে অবাক হয়ে যাবেন সারি সারি নতুন নতুন হোটেল হচ্ছে। এসব হোটেল বানাতে প্রয়োজন পরছে বালুর। রাতের অন্ধকারে/দিনে দুপুরে সাগর থেকে বালু সরানো হচ্ছে যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন গর্ত-আবিদের মতো কত তরুণ প্রাণ আনন্দ করতে এসে মারা যাচ্ছে। প্রশাসন কি বিষয়গুলো দেখছে?

* ৬- সৈকতে রাতের বেলা ভুতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়। কোথাও কোন আলোর ব্যবস্থা নেই। সৈকতের মূল পয়েন্টগুলোয় সারা রাত আলোর ব্যবস্থা করতে খুব কি বেশী অর্থের প্রয়োজন?

* ৭- একটা ভয়ংকর তথ্য সবাই জানুনঃ ইয়াছির লাইফ গার্ড স্টেশনের পরিচালক ও নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডুবুরি মোস্তফা কামাল গত ১০ বছরে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে গোসল করতে নেমে ৮৫ জন পর্যটকের প্রাণহানি ও এক হাজার ২০০ জনকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান। কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় নিহত ৬২ পর্যটকের মধ্যে ৫১ পর্যটকের লাশ তাঁরাই উদ্ধার করেন। এই মৃত্যু আর দুর্ঘটনা থেকে আমরা কতটুকু সচেতন হয়েছি-সরকার কতটুকুই বা সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে?

আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে উপরে কিছু সমস্যা তুলে ধরলাম। এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত কিছু সাজেশন দেইঃ

* ১- কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে দেওয়া লিফলেটটি সব হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে থাকতে হবে। যখনই কোন নতুন গেষ্ট আসবেন তার হাতে সেটি তুলে দিয়ে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাতে হবে।

* ২- সৈকতে এ যাবত চিহ্নিত গুপ্তখালগুলো ঘিরে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। সাঁতার কেটে কেউ যেন বেশী দূরে না যেতে পারে সে জন্য নিরাপদ স্থানগুলো জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া যেতে পারে।

* ৩- ভাঁটার সময় পানিতে নামলে দণ্ডের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

* ৪- সৈকতের মূল পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী কোন নির্দেশমালা স্থাপন করতে হবে, যা দেখে সবাই সতর্ক হতে পারে।

* ৫- তীর থেকে দূরে বোটে করে টহল দেবার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সবাইকে সহজে নিরাপদ স্থানে থাকতে সতর্ক করা যায় আর কেউ বিপদে পরলে দ্রুত উদ্ধার করা যায়।

* ৬- একেবারে সাঁতার যারা জানেন না তাদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বেসরকারিভাবে যারা লাইফ জ্যাকেট/টিউব সরবরাহ করেন তাদের অতিরিক্ত চার্জের কারণে অনেকেই লাইফ সেভিং এসব জিনিস ব্যবহারে উৎসাহ বোধ করেন না।

* ৭- ২৪ ঘন্টা গার্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় খুব ভোরে/সন্ধ্যার পরে কেউ সৈকতে আসলে তার নিরাপত্তার জন্য কেউ থাকে না। ডুবুরি আর গার্ডের সংখ্যায় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল যা বাড়ানো প্রয়োজন।

* ৮- রাতের বেলা মূল পয়েন্টগুলোতে লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এনার্জি সেভিং লাইট লাগানো যেতে পারে।

কক্সবাজারে নিজে, সপরিবারে বা বন্ধুবান্ধব সহ যারা আসতে চান তাদের জন্য কিছু পরামর্শঃ

* ১- পানিতে নামবার আগে অবশ্যই জোয়ার ভাটা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিবেন। ভাটার সময় পানিতে নামবার চিন্তা ভুলেও মাথায় আনবেন না।

* ২- দুই লাল পতাকা মানেই হলো পতাকার অবস্থানের সোজা বরাবর গুপ্তখাল আছে। দুই পতাকা চিহ্নিত স্থান থেকে শত হাত দূরে থাকুন।

* ৩- পানিতে নেমে প্রাইভেসি খুঁজতে জাবেন না। যতোটুকু সম্ভব অনেক মানুষের সাথে পানিতে নামুন। যে কোন বিপদে সাহায্য পাবেন।

* ৪- অনেক তরুণ পানিতে নেমে বড্ড অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে পরেন-নিজের জীবন কে তুচ্ছ জ্ঞান করেন। একটু ভেবে দেখুন যে বাবা মা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন তাদের কতটুকু ফেরত দিয়েছেন। নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার আগে নিজের আপনজনের কথা আরেকবার চিন্তা করে দেখুন।

* ৫- ছোট বাচ্চারা সাথে থাকলে প্রতিটি মুহুর্ত তাকে চোখে চোখে রাখুন। আপনার মুহূর্তের অসতর্কতা তার বড় ধরনের বিপদের কারন হতে পারে।

* ৬- একদম সাঁতার না পারলে হাটু পানির বেশী এগুবেন না। সম্ভব হলে লাইফ জ্যাকেট/টিউব ভাড়া করুন।

* ৭- আমার আপনার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত লাইফ গার্ডদের নির্দেশ মেনে চলুন। মনে রাখবেন আমার আপনার থেকে তারা সমুদ্রের বিপদ সম্পর্কে অনেক ভাল জানেন,বুঝেন।

* ৮- বিপদে মাথা যতটুকু সম্ভব ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। সর্বদা লাইফ গার্ডদের সাহায্য নিন।

* ৯- মেয়েরা সালোয়ার,কামিজ আর ওড়না পরে পানিতে নামতে যাবেন না। কাপড়ে জট লেগে বিপদে পরার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে।

* ১০- খুব ভোরে/সন্ধার পর পানিতে নামবেন না। সবকিছু জেনে বুঝে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই পানিতে নামুন।

প্রতি দিন হাজার হাজার নতুন পর্যটকে মুখর হয়ে উঠে কক্সবাজার। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতে হাঙর বা অন্য কোন জলজ প্রাণী হানা দেয় না বলে এতো দিন এটি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। নিত্যনতুন হোটেলের নির্মাণ বলে দেয় ভ্রমণের স্থান হিসেবে কক্সবাজার আজ ও কতটুকু আকর্ষণীয়। আমরা চাই না আমাদের গর্ব এই সৈকতে কেউ এসে প্রাণ হারাক। আমি আর আমার স্ত্রী বেশ ভাগ্যবান হওয়ায় আল্লাহোর রহমতে বেচে গেছি। আমাদের মতো সৌভাগ্য অনেকের নাও হতে পারে। বেঁচে আছি বলেই আমার পক্ষে আজ এই লেখা লিখা সম্ভব হচ্ছে। সবার কাছে অনুরোধ কক্সবাজারে ভ্রমণের আগে নিজে সতর্ক হোন এবং অন্যকে সতর্ক করুন। কক্সবাজার সৈকত এখন সত্যিকার অর্থেই অনেক অনেক বেশী ঝুঁকিপূর্ন। আবিদের পরিচিতির কারণে গুপ্তখালের বিষয়টি এখন যেভাবে প্রচার পাচ্ছে এর আগে ততোটা পায় নি। অথচ বেশ কবছর ধরেই দুর্ঘটনার পরিমাণ কিন্তু বেড়েই চলছিল। হয়তো হোটেল ব্যবসায়ীদের চাপে এসব খবর জাতীয় পত্রিকাগুলোর পাতায় আসে না বা আসলেও অনেকের চোখে পড়ে না। তাই সার্বিকভাবে সবার সচেতনতা একান্তই প্রয়োজন।

সেই দিন বেঁচে যাবার সাথে সাথেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কক্সবাজারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আজকের এই লেখা সেই প্রয়াসের অংশ মাত্র। লেখাটি শেয়ার করে/লেখার বিষয়বস্তু সবাইকে জানিয়ে আমার প্রচেষ্টা সার্থক করবেন- সবার কাছে এই প্রত্যাশা।

লিখেছেন : স্পর্শের বাহিরে

ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

ভালো থাকবেন।
আজকের মত এই পর্যন্তই…
“আল্লাহ হাফেজ”

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

16 মন্তব্য

  1. কক্সবাজারের হোটেল গুলোতে সতর্কীকরণ লিফলেট থাকলেও সেগুলোতে অনেক প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীর অভাব রয়েছে । প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পেলাম এখান থেকে । এজন্য লেখককে ধন্যবাদ ।

  2. লেখা তা পরে আমার খুব উপকার হলো. অনেক কিসু জান্কাম ভাই.
    থাঙ্কস.

  3. দারুন লিখেছেন ভাই । তবে আমি সাতার জানি :) । সবারই সাতার শেখা দরকার । আর হ্যা সরকারের এব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমিও মনে করি

  4. খুব ভালো লাগলো …… সবাই সচেতন হলে এই লেখা সার্থক হবে…… চালিয়ে যান ……

  5. @all, shobaikei thanx…

    Apnara shomvoboto kisuta vul bujhsen…
    ghotonata amar jiboner noy ebong er lekhok o ami noi…
    Ami just apnader sathe bishoyta share koresi kisu word edit kore….

    লেখকঃ স্পর্শের বাহিরে,
    আর আমি অস্পৃশ্য বন্ধু
    Duijon alada bekti…
    :-)

  6. আল্লাহ রক্ষা করনে ওয়ালা।না হলে আপনি……। আবিদের মতো কাওকে আর হারাতে চাই নাহ।

  7. খুব প্রয়োজনীয় পোস্ট করেছেন বলে ধন্যবাদ ।
    আমি কিছু দিন সেখানে ক্যামেরা ম্যানের কাজ করেছি । লাবনী পয়েন্টে খাঁদে না পড়ে ও একটি মেয়ে পানি পান করতে করে ডুবছিল । ঢেউ এর সাথে সে মটেও পেরে উঠছিলনা ।আমি তাকে সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে যাবার পরামর্শ দিচ্ছিলাম কিন্তু সে বুঝে উথছিলনা । ওর মা হাউমাউ চিৎকার করছে । কিন্তু ওকে সাহায্য করছেনা । বাদ্ধ হয়ে ক্যামেরা অপরিচিত একজন কে দিয়ে । ওকে সাহায্য করে বকাবকি করলাম । ওর মাকেও বকলাম । পড়নে লাল কোটি ছিল বলে গন পিটুনি খায়নি । বকাবকি করেছি বলে ধন্যবাদ ও পায়নি ।
    মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা রাখতে না পারলে সাঁতার জেনেও লাভ হবেনা । সমদ্রের মজার ব্যপার হল । সারাদিন পানিতে ভিজতাম কিন্তু সর্দি লাগত না ।ভাটার সময় হাঁটু পানির নিচে না যাওয়ায় ভাল ।
    সেখানে ২০ থেকে ৮০ টাকা ঘণ্টা টিউব পাওয়া যায় । আসলে আমরা টিউব ভাড়া করে ২০ টাকা বাচিয়ে মনে মনে ভাবী অনেক টাকা বাছিয়েছি । আমাদের মনভাবের একটু উন্নুয়ন করা উচিৎ ।

    • আসলে আমরা সেফটি সম্পর্কে বড্ড অসচেতন ।আমরা সিনেমার পোস্টার খুব মন দিয়ে দেখি পড়ি কিন্তু লাবনী পয়েন্টে নামার আগে খুব সুন্দর করে জোয়ার ভাটার সময় সূচি ,সাবধানতা বানী লেখা আছে । কিন্তু পড়ে দেখিনা ।

      • দয়া করে আমার কথা গুলো নেগেটিভ ভাবে নিবেন না ভাই ।

  8. ভাই যদি সম্ভব হয় তাহলে আপনার লিফলেট তা একহানে upload দিবেন.

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 + fifteen =