সারফেস ট্যাব কি ল্যাপটপের বিকল্প হতে পারে?

    1
    539

    অনেকের দুটি পণ্যই আছে এবং আলাদা আলাদা কাজে তা ব্যবহার করেন। গত মঙ্গলবার মাইক্রোসফট বড় আকারের স্ক্রিনযুক্ত সারফেস ট্যাব বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে যা ট্যাব ও ল্যাপটপ উভয় পণ্য হিসেবেই ব্যবহার করা যাবে। ১২ ইঞ্চি মাপের স্ক্রিনযুক্ত সারফেস৩ ট্যাবটি বাজারের অন্যান্য ট্যাবের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বড়। মাইক্রোসফটের দাবি, ট্যাবলেটের বাজারে বড় মাপের স্ক্রিনযুক্ত এই ট্যাবটি জনপ্রিয় হবে। পেশাদার ও ব্যক্তিগত কাজের জন্য ট্যাবটি যুত্সই হবে।

    অ্যাপলের আইপ্যাডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই নতুন ট্যাবটি বাজারে এনেছে মাইক্রোসফট। এতে ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের কাজ সারা যাবে। বড় মাপের ডিসপ্লে থাকায় এতে অ্যাপ্লিকেশন চালানোর সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারী। সারফেস ৩ বাজারে ছাড়া প্রসঙ্গে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেন, ‘আমরা এমন পণ্য ও প্রযুক্তি চাই যার স্বপ্ন দেখে মানুষ এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারে।’

    Unlimited Web Hosting
    Unlimited Web Hosting
    Unlimited Web Hosting
    Unlimited Web Hosting

    মানুষের প্রয়োজনীয় কাজের উপযোগী ট্যাবলেট তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই ২০১২ সালে সারফেস ব্র্যান্ডের ট্যাব প্রথম বাজারে ছেড়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। আগের সংস্করণে ট্যাবলেটের মাপ ছিল ১০.৬ ইঞ্চি।

    laptops সারফেস ট্যাব কি ল্যাপটপের বিকল্প হতে পারে?

    সারফেসের নকশা নিয়ে অবশ্য প্রযুক্তি-বিশ্লেষকেদের প্রশংসা পেয়েছে মাইক্রোসফট। এই ট্যাবলেটের সঙ্গে ল্যাপটপের মতো কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড সুবিধার কভার থাকায় একে হাইব্রিড পণ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। অবশ্য সারফেস ট্যাবলেট প্রযুক্তি বিশ্বে আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি। এটি ব্যবসাসফলও হয়নি। মাইক্রোসফটকে সারফেসের জন্য লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাত্ জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে মাইক্রোসফটের টু-ই-ওয়ান পণ্য হিসেবে সারফেস ট্যাব বাজারের ১.৩ শতাংশ স্থান দখল করতে পেরেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, ট্যাবলেটের বাজারে সারফেসের অবস্থান সপ্তম। ৩২.৭ শতাংশ বাজার দখল করে বর্তমানে ট্যাবলেটের বাজারের শীর্ষ স্থানটি অ্যাপলের।

    নতুন ট্যাব হিসেবে সারফেস ৩ মডেলটির দাম ৭৯৯ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে মাইক্রোসফট যা আগের সংস্করণের চেয়ে ১০০ মার্কিন ডলার কম। গত বুধবার থেকে সারফেস ৩ পণ্যটির অগ্রিম ফরমায়েশ নেওয়া শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজারে ২০ জুন থেকে এ ট্যাব পাওয়া যাবে। অবশ্য, সারফেস ৩ বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়ার আগে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এবার সারফেস মিনি নামের ছোটো আকারের ট্যাব বাজারে আনবে মাইক্রোসফট। আইপ্যাড মিনির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ছোট ট্যাব বাজারে আনার কথা থাকলেও সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আরও বড় ট্যাবের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সত্য নাদেলা।

    মাইক্রোসফটের সারফেস টিম মনে করে, সফটওয়্যার সমর্থন না করায় ছোট আকারের সারফেস ট্যাব বাজারে এখনই ছাড়া সম্ভব নয়। মাইক্রোসফট এখনও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর টাচ-স্ক্রিন সুবিধার পণ্যের জন্য তাদের অফিস অ্যাপ্লিকেশন সম্পূর্ণ সংস্করণ তৈরি করতে পারেনি। ছোট আকারের পণ্য হলে বর্তমান অফিস অ্যাপ্লিকেশন চালানো কঠিন হবে বলেই মনে করেন মাইক্রোসফটের প্রকৌশলীরা। অবশ্য অ্যাপল পণ্যের জন্য অফিস সফটওয়্যারের একটি সংস্করণ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। সারফেসের সঙ্গে আইপ্যাডের তুলনা করা হলেও অনেক দিক থেকে পণ্য দুটির মিল নেই। আইপ্যাডের চেয়ে সারফেস৩ ওজনে ভারি। এ ছাড়া আইপ্যাডের চেয়ে সারফেসের দাম বেশি। অবশ্য মাইক্রোসফট দাবি করেছে, অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ার নামের হালকা-পাতলা ল্যাপটপের সঙ্গে তাঁদের এই ট্যাব প্রতিযোগিতা করবে। আইপ্যাড এয়ারের দাম ৮৯৯ মার্কিন ডলার। মাইক্রোসফটের সারফেস পণ্যের নির্মাতা প্যানোস প্যানি দাবি করেন, ট্যাব ও ল্যাপটপের আদর্শ সমন্বয় হয়েছে সারফেস ৩ ট্যাবে। তাঁর দাবি, এই ট্যাবটি ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করবেন।

    টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
    Unlimited Web Hosting
    Unlimited Web Hosting
    Unlimited Web Hosting
    Unlimited Web Hosting

    1 মন্তব্য

    একটি উত্তর ত্যাগ

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    two + nine =