ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে একটু দেখে নিন

0
917
ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে একটু দেখে নিন

আহমেদ ওয়াহিদ

কম্পিউটার, প্রযুক্তি এবং প্রোগ্রামিং ভালোবাসি অনেক। ধন্যবাদ।
ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে একটু দেখে নিন

বর্তমানে দামী দামী মোবাইল সেট গুলোতে অনেক ভাল মানের ক্যামেরা দেয়া থাকে যেগুলো দিয়ে আপনি বাজারের অন্যন্য ডিজিটাল ক্যামেরার সমান সুবিধা পেতে পারেন। তবে তার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তাছাড়া অনেকে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলতেও পছন্দ করেন না। আর যাদের মোবাইলের ক্যামেরার ক্ষমতা কম তাদের কথা নাই বা বললাম। তবে ডিজিটাল ক্যামেরা হাতে নিয়ে ঘুরা এখন একটা ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে। যেকোন অনুষ্ঠানে যেতে হলে ক্যামেরাতো চাই। কিন্তু কিভাবে কিনবেন? কি কি সুবিধা পাবেন? এগুলো আজ জানাবো। আর আপনারা যারা এখনও জানেন না ক্যামেরা কেনার সময় কি কি বিষয় দেখতে হয় এবং কোনটি দ্বারা কি বুঝায় তাদের জন্য এই পোস্ট।

মেগাপিক্সেল: আমার মনে হয় না এটি বুঝেন না এমন কেউ আছেন। যত মেগা পিক্সেল বেশী, ছবির মান তত ভাল হবে। মেগা পিক্সেল দ্বারা আসলে ক্যামেরার সেন্সরের ক্ষমতা বুঝায়। আপনি কি শখের বসে ছবি তুলবেন নাকি অনুষ্ঠানের মূহুর্তগুলো তুলে রাখবেন সেটি আগে ঠিক করতে হবে। যদি আপনি প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফী করতে চান তাহলে DSLR ই কেনা ভাল। সাধারণত ১০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরই যথেষ্ঠ। তবে যেহেতু কিনবেন সেহেতু একটু বেশী দেখেই কিনুন।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

অপটিক্যাল জুম: দূরের বস্তু কত সূক্ষ্ণ ভাবে তুলতে পারবেন এটি দ্বারা সেটিই পরিমাপ করা হয়। মানে অপটিক্যাল জুম যত বেশী হবে তত বেশী দূরের বস্তু তুলা যাবে। এটি ছবির মান অক্ষুণ্ন রেখে ছবি জুম করে।

ডিজিটাল জুম: ডিজিটাল জুম কম বেশী এটা কোন ব্যাপার নয়। এটি ডিজটাল ইমেজকে জুম করে। ফলে ছবির কোয়ালিটি হ্রাস পায়।

ইমেজ সেন্সর: এটি অপটিক্যাল ইমেজকে ডিজিটাল সিগনাল এ কনভার্ট করে। সেন্সরের উপর ছবি তুলার মান নির্ভর করে। এটি দুই ধরনের হয়- CCD (Charge Couple Device) এবং CMOS (Complementary Metal Oxide Semiconductor)। CMOS সেন্সর অনেক ফাস্ট এবং কম ব্যাটারী চার্জ খরচ করে।

শাটার: শাটার আলো আটকে রাখার কাজ করে। লেন্স ও সেন্সরের মাঝে থাকে শাটার, যা শাটার রিলিজ বাটনের প্রেস করার সাথে সাথে খুলে আলো সেন্সরে পাঠায় এবং সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। শাটার খোলা ও বন্ধের মাঝের সময়টুকুই হলো শাটার স্পীড, অর্থাৎ শাটার কতক্ষন খোলা থাকবে সেটিই হলো শাটার স্পীড। শাটার স্পীড কম হলে ছবি ঘোলা আসে অনেক সময়। যেমন চলন্ত গাড়ির ছবি কম শাটার স্পীডের ক্যামেরা দিয়ে তুললে ঘোলা আসবে। আর যাদের ছবি তোলার সময় হাত কাঁপে তাদের জন্য বেশী শাটার স্পীডের ক্যামেরা কেনাই শ্রেয়। শাটার স্পীডকে 1/90, 1/125, 1/250, 1/500, 1/1000, 1/1500 সেকেন্ড হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

লেন্স: লাইটকে ফোকাসের কাজে লেন্স ব্যবহৃত হয়। ছবি তোলার সময় লেন্সের মাধ্যমে সেন্সরে ছবি আসে। কয়েকটি কোম্পানী আছে যারা নিজেরাই লেন্স প্রস্তুত করে, যেমন- Nikkon, Canon। আবার কিছু আছে যারা অন্য কোম্পানীর লেন্স ইউস করে, যেমন- Sony, Panasonic ইত্যাদি।

ফেস ডিটেকশান: ফেস ডিটেকশান টেকনোলজীর মাধ্যমে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা ফেস ডিটেক্ট করতে সক্ষম। যার ফলে আপনি ফোকাস ও রেড আই ডিটেকশন সহ আরো অনেক ধরনের ইফেক্ট দিতে পারবেন।

ডিসপ্লে: ক্যামেরা ও ছবি ম্যানেজমেন্ট ও ছবি দেখার জন্য ডিসপ্লে থাকে ক্যামেরাতে। সাধারনত এটি আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি সাইজের হয়ে থাকে।

রেড আই রিডাকশন: ছবি তোলার সময় অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় চোখের রেটিনাটি লাল রংয়ের হয়ে গেছে। সাধারণত কাছে থেকে ছবি তোলার সময় এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। যদিও বর্তমানে গ্রাফিক্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই লাল রংটি সরিয়ে ফেলা যায় তবুও আজ প্রায় অনেক ক্যামেরাতেই অটো রেড আই রিডাকশন প্রযুক্তি থাকছে।

স্যুইপ প্যানোরামা: ধরুন আপনার বাম পাশে আপনার এক বন্ধু দাঁড়িয়ে আছে আর ডান পাশে এক বন্ধু। এখন আপনি তাদের দুই জনের ছবি একসাথে তোলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন ডিজিটাল ক্যামেরার এই নতুন প্রযুক্তি স্যুইপ প্যানোরামা। বিস্তৃত পরিসরে ছবি তোলার জন্য ব্যবহার হয় স্যুইপ প্যানোরামা। যার মাধ্যমে আপনি বাটন প্রেস করে ক্যামেরা হরিজন্টাল ভাবে ঘোড়ানোর মাধ্যমে আপনি আপনার ছবিতে তুলে আনতে পারবেন সাধারন ছবির তুলনায় অনেকবেশী অংশ একসাথে।

মেমরী: ক্যামেরার ইন্টারনাল মেমরী ও এক্সটার্নাল কত পর্যন্ত লাগানো যাবে এবং কোন কোন মেমোরী কার্ড সাপোর্ট করবে, বাজারে তা সহজলভ্য কিনা ও দাম কেমন এসব জিনিস জেনে নিবেন।

ইউএসবি ক্যাবল: ইউএসবি ক্যাবল সকল ক্যামেরাতে থাকে যা দিয়ে আপনি কম্পিউটারে ছবি নিতে পারবেন মেমরি কার্ড বের করা ছাড়াই।

ব্যাটারী ও চার্জার: ব্যাটারী চার্জেবল কিনা এবং বাজারে সহজ লভ্য কিনা এসব জিনিস দেখে নিবেন। ব্যাটারী খুলে চার্জ দেয়ার সিস্টেম থাকে যাতে এবং ব্যাটারী যাতে লিথিয়াম আয়ন হয় সেটিও দেখে নিবেন কারন তাতে আপনি একটা এক্সট্রা ব্যাটারী কিনে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে পরে ইউসের জন্য রেখে দিতে পারবেন। আর চার্জার তো সাথে নিবেনই।

ক্যামেরা কেনার পূর্বে এসব বিষয় জানা থাকলে ক্যামেরা কেনার সময় প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 4 =