মহাকাশে বিস্ময়কর ধূলিমেঘের সন্ধান

0
843

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) স্পিৎজার দূরবীক্ষণ যন্ত্র (স্পেস টেলিস্কোপ) ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন অত্যন্ত ঘন একটি ধূলিমেঘ৷ পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই ধূলিমেঘ এযাবৎকালের গভীরতম ছায়ার সমষ্টি বলে জানিয়েছে নাসা৷

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিস্ময়কর ধূলিমেঘটি সুবিশাল, এটির ব্যাসই প্রায় ৫০ আলোকবর্ষ৷ আর ওই স্থানের ভর সাত হাজার সূর্যের মোট ভরের সমান৷ ঘন মেঘের ছায়া সেখানে তৈরি করেছে ‘কালোর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি কালো’ অঞ্চল৷ ওই ধূলিমেঘ আমাদের ছায়াপথের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কম বয়সী তারকাগুচ্ছগুলোর একটি হিসাবে বিকশিত হতে পারে৷ সবচেয়ে ঘন গুচ্ছগুলো সেখানকার বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে৷ ও-টাইপ স্টার নামের এসব তারকার গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো ধাঁধার মধ্যে রয়েছেন৷ এসব প্রকাণ্ড নক্ষত্র আশপাশের পরিবেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান তৈরিতেও ভূমিকা রাখে৷
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইকেল বাটলার ওই ধূলিমেঘ অনুসন্ধানবিষয়ক একটি গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে দি অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স সাময়িকীতে৷ বাটলার বলেন, ধূলিমেঘের গঠনের মানচিত্র এবং ঘনত্ব দেখে প্রকাণ্ড তারকা ও নক্ষত্রমণ্ডলের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়৷

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

mohakas মহাকাশে বিস্ময়কর ধূলিমেঘের সন্ধান

সম্ভবত আমাদের সূর্যসহ মহাবিশ্বের অধিকাংশ নক্ষত্র ওই ধূলিমেঘের আশপাশের পরিবেশ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন৷ কম ভরের তারকাগুচ্ছ খুবই পরিচিত এবং এসব নিয়ে গবেষণাও হয়েছে বিস্তর৷ কিন্তু বেশি ভরের নক্ষত্রগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা তুলনামূলক অস্পষ্ট৷ তাই এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নতুন গবেষণা করাটাও তুলনামূলক কঠিন৷ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষক জোনাথান ট্যান বলেন, স্পিৎজার একটি বিরল ও প্রকাণ্ড নক্ষত্রমণ্ডলের গঠনপ্রক্রিয়ার ছবি তুলেছে৷ এটি সম্ভবত ওই তারকাগুচ্ছের সবচেয়ে প্রথম পর্যায়ের অবস্থার দৃশ্য৷

ও-টাইপ নক্ষত্র থেকে নীলাভ সাদা আলো পাওয়া যায়৷ এ তারকার ভর সূর্যের ১৬ গুণ এবং এটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অন্তত ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ আশপাশের গ্রহ-উপগ্রহের ওপর এ ধরনের নক্ষত্রের প্রভাব অনেক৷ তবে এ রকম নক্ষত্রের আয়ু তুলনামূলক কম এবং এগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়৷ ও-টাইপ নক্ষত্রে কীভাবে আমাদের সূর্যের চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ ভর সঞ্চিত থাকে এবং তা ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে পড়ে না, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন৷ ট্যান বলেন, এসব প্রকাণ্ড নক্ষত্র কীভাবে গঠিত হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা ব্যাখ্যা বা তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন৷

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − 9 =