পৃথিবী বদলে দেয়া ১০টি আবিষ্কার

2
496

১০টা আবিষ্কার বা উদ্বাবন, যেগুলো পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে। যদিও তালিকাটা মার্কিনি, কিন্তু তাদের প্রভাব পড়েছে ‘হ্যাভ নট’দের তৃতীয় বিশ্বেও। যেমন মোটরগাড়ি।

১৯০৮ সালে আমেরিকার ডেট্রয়েট শহরে হেনরি ফোর্ড বানালেন ‘মডেল টি’। আমজনতার পকেট-উপযোগী প্রথম মোটরগাড়ি। চার আসনের, চার দরজার, মাথাখোলা ‘ট্যুরার’ গাড়ি প্রথমে বিক্রি হতো ৮৫০ ডলারে। এক লিটার পেট্রলে ১০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার। চার বছরের মধ্যে গাড়ির দাম এক ধাক্কায় কমে হলো ৫৫০। আরও দু বছর পর ৪৪০ ডলারে পাওয়া যেত ফোর্ড ট্যুরার। সেই যে সস্তার চাকা গড়াতে শুরু করল, পরের তিন দশকে আমেরিকা-ইউরোপে রাস্তাঘাট ভরে গেল গাড়িতে। গরিব দেশে আরও শ’খানেক বছর পর সেই গাড়ি বিপ্লবের এক ‘অ্যান্সিলিয়ারি বিপ্লব’ ঘটল, যার নাম ‘কার লোন’!

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

১৯২৮ সাল। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করলেন। তার আগে পর্যম্ত, একটু চুলকে দিলেও লোকে মরে যেতে পারত! ‘চুলকে ঘা করিস না’ কথাটার উৎপত্তি সেই সময়েই কি না, সেটা গবেষকরা বলবেন। তবে যেকোনো ধরনের ঘা, স্বভাবদোষের সিফিলিস থেকে অভাবের গ্যাংগ্রিন, বিষিয়ে গিয়ে প্রাণ নিয়ে টানাটানি হতো। সেই মারাত্মক সংক্রমণ ঠেকানোর মোক্ষম হাতিয়ার হাতে তুলে দিলেন ফ্লেমিং সাহেব। চিকিৎসায় অ্যান্টি-বায়োটিকের প্রয়োগ শুরু হল, ধড়ে প্রাণ এল গণপিটুনির ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা ডাক্তারদের!

পরের বোম ফাটানো ঘটনা পরমাণু চুল্লি। ১৯৫৪ সালে পরমাণু চুল্লি বানাল সোবিয়েত রাশিয়া। হিরোশিমা-নাগাসাকি লন্ডভন্ড করে দেয়ার এক দশক পর পরমাণু শক্তিকে গেরস্হালির কাজে লাগানোর পথ পাওয়া গেল। এখন সারা পৃথিবীর বিদ্যুতের চাহিদার ১৬ শতাংশ মেটায় পরমাণু শক্তি, এমনকি জাপানেও। তবে তিন বছর আগে সে দেশের ফুকুশিমায়, অথবা তিন দশক আগে রাশিয়ার চেরনোবিলে চুল্লি ফুটো হয়ে গিয়ে ফের বিকিরণের হাঁটুজলে আতঙ্কে হামাগুড়ি দিয়েছিল পাবলিক।

এর পর মহাকাশে জীবম্ত মানুষ! আমেরিকাকে টেক্কা মেরে ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিন-কে মহাকাশে নিয়ে গেল রাশিয়ার ভোস্তক-১। বিশ্বজুড়ে উপগ্রহ সঞ্চারের জাল বোনার সেই শুরু। এই যে লোকে মোবাইল ফোন থেকেও স্যাট করে চলে যাচ্ছে ওয়েবে, সাপের পাঁচ পা গজানোর শুরু সেই তখনই। তবে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’-এর জাল বিছানো হয়েছে আরও প্রায় তিন দশক পরে, ১৯৮৯ সালে। সেটাও নিঃসন্দেহে এক বিরাট লাফ। পাড়ার লাইব্রেরি থেকে ইন্টারনেটের জ্ঞান-সমুদ্রে। কিন্তু তারও ১০ বছর আগে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে সোনি কোম্পানি। তারা বাজারে এনেছে ‘ওয়াকম্যান’। চলতে ফিরতে গান শোনা যায়!

দম দেয়া কলের গান থেকে রেডিওগ্রাম, রেকর্ড থেকে ক্যাসেট, তার পরে সিডি-ডিভিডি, শুধু গান বা ছবি নয়, যে কোনও তথ্যকে ‘ডিজিটাইজ’ করে ফেলার এই যে কেরামতি, তার শেষ ভেলকি দেখালেন অ্যাপল এবং স্টিভ জোবস। ২০০১ সালে তারা বানালেন ‘আই পড’। এইটুকু এক চিলতে গ্যাজেটে দেড় হাজার গান! আইপড-উত্তর জমানায় স্টোরেজ ব্যাপারটাই বেমালুম বদলে গেল। অনেকে বলেন, প্রথম ক্লোন ভেড়া ডলির থেকেও বৈপ্লবিক ছিল জ্ঞানবৃক্ষের অ্যাপলে ওই এক কামড়!

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

one + eleven =