শিগগিরই অনুমোদন পাচ্ছে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়

0
250

শিগগিরই অনুমোদন পাচ্ছে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার পর বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। খসড়া আইনে বেশ কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। এখন খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানো হবে। এরপর জাতীয় সংসদে ‘ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হওয়ার পরই অনুমোদন পাবে বহুল প্রত্যাশিত ‘ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়’। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের হাইটেক পার্কসংলগ্ন খাসজমিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। এটিই হবে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণা করা হবে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনার্স পর্যায় থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সর্বনিম্ন পদ হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি/সমমানের ডিগ্রিধারী সহকারী অধ্যাপক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। সরকার ইচ্ছা করলেই নির্ধারিত সময়ের আগে ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষকে অপসারণ করতে পারবে না। তাদের জন্য থাকবে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো যাতে দেশী-বিদেশী শিক্ষক ও গবেষক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। তাদের নিয়োগ দেয়া হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে বিশেষায়িত। বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে সব অত্যাবশ্যক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পরিপূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির খসড়া এখন চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার পথে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হবে গাজীপুরের হাইটেক পার্কসংলগ্ন সরকারি জমিতে। এখানে প্রায় ১০০ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। দেশী-বিদেশী নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার ব্যাপক সংযোগ থাকবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত গবষণাকর্ম দেশীয় উৎপাদন এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সব শিক্ষক ও গবেষক একটি চলমান মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অধীনে থাকবেন যে কেন পর্যায়েই তাদের জ্ঞান আহরণ, বিতরণ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির উদ্যোগ থমকে না যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও এ জাতীয় অন্যান্য কাজ হবে সত্যিকার অর্থেই প্রযুক্তিনির্ভর হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পাঠাগার অবশ্যই সর্বাধুনিক ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হবে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আবাসিক সুযোগ-সুবিধাসহ সম্মানজনক হারে বৃত্তি ও ভাতার ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় গবেষণার ওপর সমগুরুত্ব আরোপ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গবেষণাকর্ম উৎসাহী করার স্বার্থে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং গবেষণার ফল দেশী-বিদেশী সম্মেলন/কর্মশালায় উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক অনুদান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রদানের ব্যবস্থা খাকবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ বিশেষ গুরুত্বসহ পাঠদান এবং মৌলিক ও প্রায়োগিক বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জমিসংক্রান্ত ঝামেলার কারণে এত বিশ্ববিদ্যালয়টি কোথায় প্রতিষ্ঠিত হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সমপ্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওইসভায় গাজীপুরের প্রস্তাবিত হাইটেক পার্ক এলাকায় খাসজমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। জমিটিতে আগে অবৈধ বসতবাড়ি ছিল। বর্তমানে তা প্রায় দখলমুক্ত করা হয়েছে। ইউজিসির যুগ্ম সচিব (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) ফেরদৌস জামান বলেন, আমরা খসড়া আইন জমা দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনটি পাস হবে। শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান। খসড়া আইনের ওপর কিছু কাজ করেছি। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছি। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছি।

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

8 + eight =