বিটিসিএলের ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

0
254

tibবিদেশি কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিটিসিএলে দুই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে টিআইবির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদানের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা এবং কল রেকর্ড টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ১৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত বিটিসিএলঃ সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিটিসিএল পলিসি অনুযায়ি আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদানের জন্য বিদেশি ক্যারিয়ারগুলোর কাছ থেকে জামানত হিসেবে মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিসিএলের আন্তজাতিক শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেরাই বিদেশি কোম্পানি সেজে দেশে বসে এ ব্যবসা পরিচালনা করে। তারা মার্কিন ডলারে ব্যাংক গ্যারান্টি না দিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়। পরবর্তিতে এসব কোম্পানি কিছু দিন ব্যবসা করে বেশি অংকের বিল জমা করে তা পরিশোধ না করে অফিস ফেলে চলে যায়।

আবার এ কোম্পানিগুলো নতুন নাম ব্যবহার করে পুনরায় কাজ শুরু করে। আর বিটিসিএলের আন্তজাতিক শাখা এ বিষয়গুলো জেনেও অবৈধ অর্থ গ্রহণ করে তাদেরকে কাজ করার সুযোগ দেয়।

এ অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিটিসিএল কল আদান প্রদান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের কাছে ৯শ ৬৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে ৫শ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও তা আদায়যোগ্য নয়। এই টাকাগুলো ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিসিএলের আন্তজাতিক শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ দেখিয়ে ফোন কলের রেকর্ড টেম্পারিং চালু করা হয়। কিন্তু ২০১১ থেকে ১২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কলের কোন রেকর্ডই পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময়ের মধ্যে দিনে কত মিনিট বিদেশি কল আদান প্রদান হয়েছে তারও কোনো হিসেব নেই।

এদিকে খোঁজ নিয়ে দেখ যায়, মহাখালীর আইটিএক্স এর সিডিআর ( যেখানে কল ডিটেইল্ড রিপোর্ট দেখানো হয়) পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় দু বছর ধরে এই সিডিআর নষ্ট বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাই প্রতিদিন গড়ে আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ মিনিটের বেশি। সেখানে কল সংখ্যা মুছে দেওয়ার কারণে গড় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ মিনিট।

আর এ কারণে কল রেকর্ড টেম্পারিং ও অন্যান্য আই সি এক্স ও মোবাইল কোম্পানিগুলোর পাওয়না বাবদ বিটি সি এলের প্রায় ১৫শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব হারিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া কল টেম্পারিং এর জন্য বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৭০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।

সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগাম ম্যানেজার-রিসার্চ এন্ড পলিসি’র দিপু রায়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন টি আইবির নির্বাহি পরিচালক ড ইফতেখারুজ্জামান এবং টি আইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজ উদ্দিন খান প্রমুখ।

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − 5 =