এখনো উইন্ডোজ এক্সপি ব্যাবহার করছেন? তাহলে এই পোস্ট মিস করবেন না

0
774
এখনো উইন্ডোজ এক্সপি ব্যাবহার করছেন? তাহলে এই পোস্ট মিস করবেন না

আরিফ কামাল

ভালবাসি বাংলাদেশ এবং টিউনারপেজ সহ সকল প্রযুক্তি ব্লগ। মাঝে মাঝে লিখি সংগ্রহ করা খবর গুলো সবার কাছে পৌঁছে দেই আমি। নয়া দিল্লীতে থেকে ১০ বছর পরে পড়াশুনা শেষে এবার দেশের ছেলে দেশে ফিরেছি।
এখনো উইন্ডোজ এক্সপি ব্যাবহার করছেন? তাহলে এই পোস্ট মিস করবেন না

মানুষের মতো টেকনোলজিও নশ্বর; কাজেই পুরনো উইন্ডোজ এক্সপি-র মায়া যে কাটাতে হবে, তাতে আর অবাক হওয়ার কি আছে?

জেন-ওয়াই উইন্ডোজ ৮.১ :

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

মাইক্রোসফ্ট এতদিন পর্যন্ত অবশ্য ঠেকনো দিয়ে টিঁকিয়ে রেখেছিল উইন্ডোজ এক্সপি-কে! কিন্তু তার মধ্যেই বাজারে হাজির হয়ে গিয়েছিল নেক্সট-জেন উইন্ডোজ ৭। সেটা বড় হতে না হতেই আবার মাইক্রোসফ্টের আঁতুড় থেকে জন্ম নিল উইন্ডোজ ৮.১।

আর এই জেন-ওয়াই অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে কোনও দিক থেকেই পুরনো কোনও অপারেটিং সিস্টেমের তুলনা চলে না। বোতাম টেপা পুরনো মডেলের সেলফোন যেমন এখন আর কেউ ব্যবহার করেন না, উইন্ডোজ এক্সপি-র সঙ্গেও প্রায় সেটাই হতে চলেছে। ঝাঁ-চকচকে, স্মার্ট উইন্ডোজ ৮.১-এর পুরো ফিচারগুলো উপভোগ করতে হলে ওই টাচ স্ক্রিন মনিটর-ই ভরসা!

তাহলে? আর কী! দেখাই তো যাচ্ছে কীভাবে বিলুপ্তির দিকে এক-পা এক-পা করে এগিয়ে যাচ্ছে উইন্ডোজ এক্সপি। প্রযুক্তিবিদরা এই সংকটকেই বলছেন ‘এক্সপোক্যালিপস্’! অ্যাপোক্যালিপস্ বা সভ্যতার শেষ মুহূর্তের মতো উইন্ডোজ এক্সপি-র ধ্বংসকাল বোঝাতেই এমন নামের বাহার!

এখন উইন্ডোজ এক্সপি-র সমস্যা :

কিন্তু ধ্বংসের মুখে যেমন অনেকগুলো প্রশ্ন জন্ম নেয়, এখানেও ঠিক সেটাই হচ্ছে। উইন্ডোজ এক্সপি-র সঙ্গে তো আমাদের যোগাযোগটা নেহাত আজকের নয়। সত্যি বললে, বেশির ভাগ মানুষেরই কম্পিউটারে হাতেখড়ি উইন্ডোজ এক্সপি দিয়ে। চোখ বুজে কম্পিউটারের সেটিং মনে করতে হলেও শতকরা দশ জনের মধ্যে সাতজনের চোখে ভেসে উঠবে উইন্ডোজ এক্সপি-র ফরম্যাটই। ও দিকে, মাইক্রোসফ্ট আর দেরি করতে নারাজ! উইন্ডোজ এক্সপি-র উপর থেকে বরাভয় (পড়ুন সাপোর্ট) সরিয়ে নিয়েছে সে। মানে, আর দিন নেই!

এবার কেবল একটাই চিন্তা বাকি! যাঁদের মেশিনে উইন্ডোজ এক্সপি ইনস্টল করা রয়েছে, তাঁরা কী করবেন?

হ্যাকিং থেকে সাবধান :

প্রশ্নটা খুব সহজ হলেও উত্তরটা নয়। কেননা, ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের অনেক কাজই উইন্ডোজ এক্সপি দিয়েই চলে। যেমন ধরুন, ব্যাংক! পরিসংখ্যান বলছে, রিজার্ভ ব্যাংক তো বটেই, এমনকী ভারতের প্রায় সব ব্যাংকের এটিএম পরিষেবা উইন্ডোজ এক্সপি-নির্ভর। এখনও যদি সেই অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করা না-হয়, তবে হ্যাকিং-এর সম্ভাবনা রয়েছে ষোল আনার উপরে আঠেরো আনা। এই হ্যাকিং-এর চাপটা কিন্তু থেকে যাচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উইন্ডোজ এক্সপি সাপোর্টেড মেশিনেও।

আপগ্রেডের পন্থা :

পথ বলতে তাই একটাই! যত শিগগিরি হয়, মেশিনটা আপগ্রেড করে ফেলা। এই কাজটা সারা যেতে পারে দু’ ভাবে। হয় নতুন মেশিন কেনা, নয়তো পুরনো মেশিনটাই নতুন অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করে আপগ্রেড করা!

নতুন মেশিন কিনলে :

এই পথটা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ! একে তো মেশিনটা নতুন বলে অপারেটিং সিস্টেমটাও হালফিলের হবে। তাছাড়া হার্ডওয়্যারের স্ট্যান্ডার্ডটাও নতুনই হবে। কোনও দিক থেকেই ঝক্কি বলতে কিছু নেই।

আর দাম? সেটার ব্যাপারে ভেবে ভেবে কপালে ভাঁজ ফেলার দরকার নেই। উইন্ডোজ এক্সপি বন্ধ করে দিচ্ছে বলে মাইক্রোসফ্টকে ঘৃণা করবেন না। সে বেরহম হতে পারে, তবে বেশরম নয়। গ্রাহকদের সুবিধের কথা মাথায় রেখে হার্ডওয়্যারের দামে কিছুটা ছাড় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে নতুন মেশিন কিনে ফেলার আগে সামান্য ভাবনা-চিন্তা প্রয়োজন। উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহারের অভ্যেস থেকে সরাসরি উইন্ডোজ ৮.১-এ ঝাঁপ দিলে কী কী সুবিধে-অসুবিধে হতে পারে?

সুবিধে যা দেখা যাচ্ছে- অপরিসীম! প্রযুক্তির দুনিয়ায় সেই তো সব সময়ে এগিয়ে থাকে, যে সবার শেষে হাজির হচ্ছে। কিন্তু অসুবিধেটা হল নিছকই অভ্যেস-সংক্রান্ত। উইন্ডোজ ৮.১-এর ফরম্যাট একেবারেই অজানা বলে প্রথম দিকে কাজ করতে ভাল মতোই অসুবিধে হতে পারে। তাছাড়া যাঁরা আদপেই টেকনো-স্যাভি নন, তাঁরা উইন্ডোজ ৮.১ কিনে পড়ে যেতে পারেন বিশ বাঁও জলে।

চিন্তা নেই। সেক্ষেত্রে না-হয় উইন্ডোজ ৭ দিয়েই কাজ চালান! এই অপারেটিং সিস্টেমটার সঙ্গে সবাই এখন অল্পবিস্তর পরিচিত; মাইক্রোসফ্টের সাপোর্টও আছে ভালমতোই এই অপারেটিং সিস্টেমের পিছনে।

বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম :

যদি নতুন মেশিন কেনাটাই পছন্দের অপশন হয়, তাহলে আরেকটা দিকও ভেবে দেখা যেতে পারে। এত ঝক্কি যখন হচ্ছে, তখন উইন্ডোজের আওতায় থাকার দরকার কি? আরও কিছু বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম তো আছে। ম্যাক ওএস এক্স, লিনাক্স, ক্রোম- সবই উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম।

তবে এই বিকল্প অপারেটিং সিস্টেমগুলোর বেশিরভাগই ব্যয়বহুল। সেটার কথা মাথায় রেখেই তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভাল।

নতুন মেশিন না-কিনলে :

নতুন মেশিন কেনাটা তো সবার পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে! সে দিক থেকে দেখলে পুরনো মেশিনটা নতুন অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে আপগ্রেড করে নিলেই হল। সহজ আর চটজলদি মুশকিল আসান, তাই তো?

উঁহু! এখানে কয়েকটা খুচখাচ ব্যাপার সমস্যা তৈরি করবে। যদি সিপিইউ পাওয়ার পর্যাপ্ত না হয়, তবে নতুন অপারেটিং সিস্টেম ঠিকঠাক সুবিধে দেবে না। সমস্যা দেখা দিতে পারে র‍্যামের ক্ষমতা নিয়েও।

আসলে পুরনো মেশিনটার হার্ডওয়্যারটাও তো পুরনো অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে মানানসই। নতুন অপারেটিং সিস্টেম ওই সেটিং-এই ব্যবহার করলে তা কি আর অতটাও কাজের হবে?

মুশকিল-আসান :

সারা বিশ্ব জুড়েই প্রযুক্তিবিদরা তাই বলছেন একটাই কথা। টেকনো-স্যাভি না হলে উইন্ডোজ এক্সপি থেকে উইন্ডোজ ৮.১-এ ঝাঁপ দিয়ে কাজ নেই। তার চেয়ে বেছে নিন উইন্ডোজ ৭-কে! তাতে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না।

শুধু মন খারাপটা থেকেই যাবে হয়তো! উইন্ডোজ এক্সপি তো এতদিন ধরে আমাদের অভ্যেসে মিশে গেছে। এখন দিন কয়েক তাই ফাঁকা ফাঁকা লাগবে; নবাগত অতিথি উইন্ডোজের উপরে মাঝেসাঝে রাগও হতে পারে। আশ্চর্য কিছুই নয়।

কিন্তু সেটাও একদিন ঠিক গায়ে সয়ে যাবে। পিছিয়ে পড়া, থেমে যাওয়ার চেয়ে একটু হোঁচট খেতে খেতে হলেও এগিয়ে যাওয়াই কি ভাল নয়?

Advertisement -
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 − one =