টেলিযোগাযোগ আইনকে গ্রামীণফোনের বৃদ্ধাঙ্গুলি

0
252

টেলিযোগাযোগ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বহুজাতিক মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন কোম্পানি লিমিটেড। সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নিয়ম নীতিকে অগ্রাহ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে এ কোম্পানিটি আদায় করে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ। ফলে এ মোবাইল ফোন অপারেটরের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের লোকসানের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, বহুজাতিক বিদেশি কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড গত বছরের অক্টোবর মাসে থ্রিজি সেবা চালু করেছে। কিন্তু থ্রিজি প্যাকেজের রেট মন্ত্রণালয়ে অনুমতি ছাড়াই নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি। এক্ষেত্রে থ্রিজি প্যাকেজের রেট সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের চেয়েও অধিক নির্ধারণ করা হয়েছে।

Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

এছাড়া সেবাটি চালূ করার আড়ে কোম্পানিটি শুধু বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে অনুমোদন নিয়েই তা দ্রুত চালু করেছে। নিয়ম থাকলেও মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেয়নি কোম্পানিটি।

টেলিযোগাযোগ আইনে বলা হয়েছে, যেকোনো প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়ে অনুমোদন দেয়ার মালিক একমাত্র সরকার। বিটিআরসির অনুমোদন দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। আর এ কারণে এখনো অবৈধভাবে চলছে কোম্পানিটির থ্রিজি প্যাকেজ রেট।

বিটিআরসির এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দেশের অপারেটরগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অপারেটর টেলিটকের প্যাকেজের মূল্য সবচেয়ে কম। তারা ১ জিবিপিএস গতির ১ জিবি ব্যান্ডউইথের মূল্য নির্ধারণ করেছে ০.২০৪ টাকা। অপর দিকে গ্রামীণফোন মূল্য ধরেছে ০.৩৮৩ টাকা।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, শুধু অবৈধ অনুমোদনই নয়, গ্রামীণফোনের থ্রিজি রেট দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অপারেটর টেলিটকের চেয়েও বেশি। এতে গ্রাহকেরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মোবাইল ফোন অপারেটররা বিটিআরসির কাছে দেয়া প্রস্তাবনায় ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের থ্রিজি প্যাকেজের তুলনা করেছে। সেখানে তারা দেখিয়েছে, ভারতীয় এয়ারটেল ২ জিবিপিএস গতির ১ জিবি ব্যান্ডউইথের মূল্য নিচ্ছে ০.১৯৯ সেন্ট। আর বাংলাদেশ একই গতির সমপরিমাণ ব্যান্ডউইথ পেতে গ্রামীণফোনের গ্রাহকের খরচ করতে হয় ০.৬৭৩ সেন্ট।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি গ্রামীণফোনের মানব সম্পদ উন্নয়ন শাখার পরিচালক কাজী শাহেদকে। তবে গ্রামীণফোনের করপোরেট কমিউনিকেশন শাখার ডেপুটি ডিরেক্টর তাহমিদ আজিজুল হক প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে জানান, তারা নিয়ম অনুসারে সরকারের অনুমোদনের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে প্যাকেজ প্রস্তাবনা পাঠায়। কিন্তু বিটিআরসি সরকারের কাছে না পাঠিয়ে গত অক্টোবরে নিজেরাই তা অনুমোদন করে দেয়।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে সেটি ভূতপূর্ব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে।

এ সম্পর্কে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হোসনুল মাহমুদ খান প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে জানান, সম্প্রতি বিটিআরসি অনেক কিছুতে নিজেরাই আগবাড়িয়ে অনুমোদন দিয়ে ফেলছে। পরে সরকারের কাছে আসে ভূতপূর্ব অনুমোদনের জন্য। এর মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নিজদের কাজ হাসিল করে নিতে চাইছে। তিনি বলেন, গ্রামীণসহ অনান্য মোবাইল অপারেটরদের থ্রিজি প্যাকেজ রেট সংক্রান্ত বিষয়টি এরই মধ্যে মন্ত্রনালয় অবগত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিটিআরসির কেউ কিছু বলতে রাজি হননি। তবে একজন ডেপুটি পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিটিআরসি আইন দ্বারা সৃষ্ট একটি কমিশন। তারা আইন ভাঙবে এটি মেনে নেয়া কষ্টকর।

টিউনারপেজের নতুন টিউন আপনাকে ইমেইল করব?
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting
Unlimited Web Hosting

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

eight − 2 =